বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাবা

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ফজরের আযান দেয়ার ঘন্টাখানেক আগে মিলির সঙ্গে কথা বলা শেষ হলো রাকিবের। আগামী পরশু থেকে রোজা শুরু। মিলি বলেছে, রমজান মাসে রাতের দিকে এভাবে আর লুকিয়ে লুকিয়ে কথা বলা যাবে না। তার মা রাতে ঘুম থেকে উঠে ভাত রান্না করে টেবিল সাজান। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও কম-বেশী জেগে থাকে। তাই আজ রাতের পর থেকে আগামী একমাসের জন্য রাতেরবেলা কথা বলা বন্ধ। রাকিব মন খারাপ নিয়ে শুতে গেছে। শোবার কিছুক্ষণ পরই চোখে ঘুম চলে এলো। মানুষের মন খারাপ থাকলে সহজে ঘুম আসতে চায় না। রাকিবের উল্টোটা হয়। সেদিন আরও তাড়াতাড়ি ঘুম চলে আসে। ধপ! ধপ! ধপ! ধপ! ঘুমের অতল সমুদ্র থেকে ধড়মড় করে জেগে উঠলো রাকিব। বাবা দরজা থাপড়াচ্ছেন। 'হারামজাদা! এত বড় দামড়া পোলা হইয়া এখনও আযানের সময় ঘুমায়। নামাজ-কালাম নাই? উঠ কইলাম।' ধপ! ধপ! ধপ! আবারও জোরে জোরে দরজায় বাড়ি পড়লো। 'কিরে, কথা কানে যায় না? বাথরুম থেকে একবারে অযু করে বাইর হ।' রাকিব রাগে গজগজ করতে করতে বিছানা ছাড়লো। এক ঘন্টাও ঠিকভাবে ঘুমাতে পারেনি। মসজিদে প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়তে যাবার আগে দরজা ধাক্কিয়ে রাকিবের ঘুম ভাঙ্গান রাকিবের বাবা শেখ ফরায়েজ উদ্দিন। আচ্ছা, ও কি এখনও সেই আগেরমত ছোট্টটি আছে? কতবড় হয়ে গেছে না? এমবিএ শেষ করে বেশ নামকরা একটা প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্ন হিসেবে আছে। রাকিব যদি ভালো কাজ দেখিয়ে কোম্পানিটার জেনারেল ম্যানেজারকে ইমপ্রেস করতে পারে, তাহলে ওই কোম্পানিতেই ওর স্থায়ী একটা ব্যবস্থা হয়ে যেতে পারে। আর এর জন্য প্রয়োজন ভালো ঘুম। বাবা যে কি না.. ধ্যাৎ! রাগে গজগজ করতে করতে বিছানা ছাড়লো রাকিব। 'কই? উঠছোস?' - উঠছি, আব্বা। 'ঠিক আছে, অযু কইরা তাড়াতাড়ি মসজিদে আয়। এমনেই দেরী হইয়া গেছে।' (২) 'কি হলো, তুমি রানীক্ষেত রোগাক্রান্ত মুরগীগুলার মত ঝিমাচ্ছো কেন?' - ধুর, একদম ঘুমাইতে পারি নাই। সারাদিন অফিসে ইন্টার্নগিরির ধকল। তারপর আবার জ্যাম ঠেলে তোমার সঙ্গে দেখা করতে আসা। 'ও আচ্ছা! এখন আমার সঙ্গে দেখা করতে আসাটাও ধকলের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে?' - এই যে, সামান্য কথাতেও তুমি গাল ফুলাও। আমি অইটা মিন করছি নাকি? 'বাদ দাও। শোনো, তোমার সাথে আমার কিছু জরুরী কথা আছে।' - কি কথা? বলে ফেলো। 'এভাবে ঝিমালে হবে না। মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।' - বলুন, মহারানী। 'ফাজলামি রাখো। বাসা থেকে আমার বিয়ের জন্য পাত্র দেখছে।' - এ আর নতুন কি! তুমি ইন্টারে ওঠার পর থেকেই তো দেখছে। 'তখন দেখতো না, শুধু প্রস্তাব আসতো।' - আর এখন? 'এখন প্রস্তাব আসার পাশাপাশি বাসায়ও ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। বাবা-মা দু'জনই এ ব্যাপারে বেশ সিরিয়াস।' - কেন? 'এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে? ক'দিন আগে না এলাকায় আমাকে নিয়ে বেশ বড় একটা ঝামেলা হলো।' - এলাকার মুরুব্বীরা বাবাকে থানায় কেস দিতে নিষেধ করেছিলেন। পঞ্চায়েত ডেকে সৌরভকে শাসিয়েছিলেন। শাসানি খেয়ে বেশ ভালোই ছিলো কয়েকদিন। এখন আবার আমাদের বাসার উল্টোদিকে এসে দাঁড়িয়ে থাকে। আমি বাইরে বের হলে ফলো করে। 'হারামজাদাটা!' প্রচন্ড রাগে রাকিবের মুষ্টিবদ্ধ হয়ে এলো। 'তুমি আমাকে ফোনে জানালে না কেন?' - এই, তুমি কিন্তু একদম রেগে যাবে না বলছি। ফোনে এ কারণেই বলিনি। তোমাকে তো আবার বিশ্বাস নেই। 'তাই বলে..' - এসব টেম্পোরারি সল্যুউশন রাখো। পারমানেন্ট কিছু একটা করার কথা ভাবো। 'পারমানেন্ট বলতে?' - বাবা-মা'র কথার ধাঁচে যা বুঝেছি, ঈদের পরেই উনারা আঁটঘাট বেঁধে নামবেন। বেশ কয়েকটা পাত্রের সিভিও বাছাই করে রেখেছেন। 'মিলি, তুমি রোজকার মত ফান করছো না তো?' রাকিব হঠাৎ মিলির হাত দুটো নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে ওঠে। - বাবু, তুমি এভাবে ভেঙে পড়ো না। তুমি ভেঙে পড়লে আমাকে সাহস যোগাবে কে? 'আমাকে কি করতে হবে বলো। আমি তোমার জন্য সব করতে পারি।' - আপাতত তোমাদের বাসায় আমাদের সম্পর্কের ব্যাপারটা জানাও। তোমাদের বনেদী ফ্যামিলি। তোমার বাবা-মা যদি প্রস্তাব নিয়ে আমাদের বাসায় আসেন, তাহলে হয়তো আব্বু-আম্মু উনাদের ফিরিয়ে দেবেন না। চকিতে রাকিবের মনের কোণে শেখ ফরায়েজ উদ্দিনের রাশভারী মুখটা উঁকি দিয়ে গেলো। ও প্রেম করছে জানতে পারলে বাবা ওকে কেটে টুকরো টুকরো করে বুড়িগঙ্গার পানিতে ভাসিয়ে দিবেন। তবু মিলিকে পেতে চাইলে বাবার মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়াতে হবে। তা না হলে চিরতরে মিলিকে হারাতে হবে। রাকিব মিলিকে হারাতে চায় না। প্রয়োজনে শেখ ফরায়েজ উদ্দিনের মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়াবে। তিনি যদি শেখ জুনায়েদ উদ্দিনের পুত্র শেখ ফরায়েজ উদ্দিন হয়ে থাকেন, তাহলে রাকিবও শেখ জুনায়েদ উদ্দিনের নাতি শেখ রাকিব উদ্দিন। দু'জনার ধমনীতে একই রক্ত বইছে। (৩) না, বাড়ি ফিরে রাকিব ওর বাবার মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস পায়নি। তার পরিবর্তে মাকে গিয়ে সব খুলে বলেছে। 'আম্মা, তুমি আব্বাকে বুঝায় বলো।' - তুই জানিস না, উনি কেমন? এসব প্রেম-ফ্রেমের বিয়ে উনি কখনই মেনে নিবেন না। আর ওই মেয়ের বাড়িতে প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। 'আম্মা, তুমি যদি কোন ব্যবস্থা না নেও.. তাহলে আমি কিন্তু ভীষণ খারাপ কিছু একটা করে ফেলবো।' - বাপ আমার, মাথা গরম করিস না। তুই তো এখন বড় হয়েছিস। এখনও ছোটবেলার মত জেদ ধরলে কি মা আর পূরণ করার ক্ষমতা রাখি রে? নিজের অক্ষমতার কথা চিন্তা করে মিনারা বেগমের গলাটা ধরে এলো। বড় ছেলে শাকিব অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে গিয়ে ওখানেই সেটেল্ড হয়ে গেছে। সেটা নিয়ে অবশ্য মিনারা বেগমের খুব বেশী আক্ষেপ নেই। থাক, শাকিব হয়তো ওখানেই ভালো আছে। মেঝো মেয়ে শাহানার শ্বশুরবাড়িও চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দূরত্ব খুব বেশী না হলেও কালেভদ্রে আসে। বিয়ের পর পর খুব আসতো। ধীরে ধীরে আসা-যাওয়ার পরিমাণ কমে গেছে। বুকের ধন রাকিব তার কাছাকাছি থাকলেই তিনি খুশী। কেন জানি, সেই শুরু থেকেই শাকিব আর শাহানার চাইতে রাকিবের প্রতি টানটা তার বেশী। পেটমোছা সন্তান বলেই হয়তো! 'আম্মা, মিলিকে না পেলে আমি..' রাকিব কথা শেষ করতে পারে না। কান্নায় ওর গলা বুঁজে আসে। - কাঁদিস না, বাবা। দেখি তোর বাবাকে বলে বুঝানো যায় কিনা। (৪) রাকিবের বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ডটা ঢিপ ঢিপ করে লাফাচ্ছে। মা বাবাকে বলার জন্য লাইব্রেরিতে ঢুকেছেন। রাকিবের বাবা বই পড়তে ভালোবাসেন। নিজের বাড়ির একটা রুমে মিনি লাইব্রেরী গড়ে তুলেছেন। দিনের বেশীরভাগ সময় তিনি সেই রুমে বই পড়ে কাটিয়ে দেন। 'কি? কি বললা তুমি? একটা মেয়েকে না পেলে মরে যাবে?' লাইব্রেরী রুম থেকে বাবার মেঘগর্জন ধেয়ে আসে। 'এখনই বিয়ের শখ হয়েছে, না? হারামজাদাটা কই? দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে, তাই না? রাকিব.. অ্যাই রাকিব!' রাকিবের আর দাঁড়িয়ে থাকার সাহস হলো না। ঘুরে দাঁড়িয়ে এক ছুটে বাসা থেকে বাইরে বেরিয়ে এলো। রাকিব বাড়ি ফিরলো অনেক রাতে। বাবা ঘুমিয়ে পড়ার পর। মা বোধহয় ওর জন্য জেগেই ছিলেন। কলিং বেল না বাজিয়ে দরজায় হালকা ঠুক-ঠুক শব্দ করতেই মিনারা বেগম দরজা খুলে দিলেন। 'এত রাত পর্যন্ত কোথায় ছিলি? কাল থেকে রোজা, আর আজ তারাবীটাও পড়লি না।' - পড়ছি। 'আয়, খেতে আয়।' - আব্বা কই? 'ঘুমিয়েছে বোধহয়। জানিস, সন্ধ্যায় চেঁচামেচি শুনে তুই ভয়ে পালিয়ে যাবার পর মানুষটা কেমন যেন চুপ হয়ে গেলেন। রাতেও কিছু খাননি। বলেছেন, একবারে শেষরাতে খাবেন।' - তুমি খাইছো? 'হুম।' মিনারা বেগম ছেলের কাছে মিথ্যে বললেন। - তাহলে আমার খাবারটা প্লেটে করে রুমে নিয়ে যাই। আরেকটু দেরী করে খাবো। ডাইনিঙে সেহরী খেতে এসে বাবার মুখোমুখি পড়তে চাই না। 'আচ্ছা, নিয়ে যা।' (৫) রাকিব সেহরী করে মাত্র কয়েক মিনিট হলো শুয়েছে, তার কিছু সময় বাদেই দরজায় ধপ ধপ শব্দ শুরু হলো। শেখ ফরায়েজ উদ্দিন তার ছেলেকে নামাজের জন্য ডাকতে এসেছেন। রাকিব ধরে নিয়েছিলো, সন্ধ্যার ঘটনার পর বাবা আজ আর ওকে ডাকতে আসবেন না। 'রাকিব, অ্যাই রাকিব! হারামজাদা, এই রমজানেও তোর নামাজের হুঁশ নাই? আযানের সময় শুইলি কোন আক্কেলে?' রাকিব অবাক হলো। ও যে কিছুক্ষণ আগে শুয়েছে, বাবা জানলো কি করে! ধপ! ধপ! ধপ! আবারও জোরে জোরে দরজায় বাড়ি পড়লো। 'হারামজাদা, অযু করে মসজিদে নামাজ পড়তে আয়।' - আসতেছি, আব্বা। রাকিব মিনমিনে কন্ঠে কোনমতে বললো। রাকিব অযু করে দরজা খুলে বের হতেই ফরায়েজ উদ্দিনের সামনে পড়ে গেলো। আজ ফরায়েজ উদ্দিন একা একা মসজিদে না গিয়ে ছেলের জন্য অপেক্ষা করে আছেন। 'আব্বা, আ.আব..ব্বা! আপনে যান নাই?' - সব সময় তো একাই যাই। তুই পিছনের কাতারে নামাজ পড়ে কোন ফাঁকে ফুড়ুৎ করে চলে আসছ, টেরই পাই না। ভাবলাম আজ পহেলা রমজানের ফজরের নামাজটা পড়ার জন্য বাপ-বেটা একসঙ্গে মসজিদে যাই। 'চ.চ.চলেন!' ফরায়েজ উদ্দিন ছেলের একটা হাত ধরে বাইরে বেরিয়ে এলেন। রাকিব অবাক হয়ে তার বাবার মুখের দিকে তাকালো। বাবা কি অসুস্থবোধ করছেন? তা না হলে বাবা তো এভাবে ওর হাত ধরার কথা না! রাকিবদের বাসার কাছেই মসজিদ। হেঁটে যেতে দু'মিনিটও লাগলো না। মসজিদে ঢোকার আগে ফরায়েজ উদ্দিন রাকিবের কাঁধে একটা হাত রেখে বললেন, 'নামাজ পড়া শেষ হলে চলে যাস না। একসাথে বাসায় ফিরবো।' ফরায়েজ উদ্দিনের কন্ঠে কি যেন একটা ছিলো, রাকিব না বলতে পারলো না। বাবাকে এমন দূর্বল কন্ঠে এর আগে কখনও কথা বলতে দেখেনি রাকিব। নামাজ পড়া শেষ করে বাবার জন্য বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো রাকিব। ফরায়েজ উদ্দিন বেশ খানিকটা সময় নিয়ে দোয়া শেষ করে বাইরে বেরিয়ে এলেন। বেরিয়ে এসেই আবারও রাকিবের একটা হাত আঁকড়ে ধরলেন। 'বাবারে, এখনই যে বিয়ে করতে চাইছিস, বিয়ে করে বউকে খাওয়াবি কি?' - আমাদের কি কম আছে? তাছাড়া ইন্টার্ন করা শেষ হলেই তো আমি একটা চাকরী পেয়ে যাবো। ফরায়েজ উদ্দিনের দূর্বল কণ্ঠস্বর রাকিবের মনে জোর এনে দিয়েছে। 'তোর রেজাল্ট ভালো। হয়তো চাকরী পেতে বেগ পাইতে হবে না। কিন্তু মেয়ের বাবা কি একজন বেকার ছেলের হাতে তার মেয়েকে তুলে দিতে চাইবেন?' - আপনারা তো যাবেন আগে। মিলি বলেছে, আমাদের ফ্যামিলি বনেদী। তাই ওর বাবা-মা রাজী হয়েও যেতে পারেন। 'তোর মায়ের কাছে মেয়ের বাড়ির ঠিকানা দিস। কাল-পরশু যে কোন একদিন তোর মাকে নিয়ে আমি যাবো। আর মিলিকে বলিস যেন ওর বাসায় জানিয়ে রাখে।' - আব্বা, সত্যি আপনি যাবেন? আনন্দের আতিশয্যে রাকিবের ঠোঁট দুটো কাঁপতে থাকে। 'আমি কি এতই পাষাণ! চোখের সামনে ছেলেকে এইভাবে কষ্ট পাইতে দেখবো?' - আব.. কথাটা শেষ করার আগেই কান্নায় ভেঙে পড়লো রাকিব। কখন যে ফরায়েজ উদ্দিন রাকিবকে নিজের বুকে টেনে নিয়েছেন, রাকিব নিজেও জানে না। বাবাকে জড়িয়ে ধরে রাকিব সেই ছোট্টবেলার মত হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলো। (৬) শ্বশুরবাড়ি সম্পর্কে অনেক লোকমুখে অনেক ভীতিকর কথা শুনেছিলো মিলি। নিজেও বেশ কয়েকটা নৃশংস ঘটনার সাক্ষী। কিন্তু রাকিবদের বাসায় বউ হয়ে আসার পর শ্বশুরবাড়ি সম্পর্কে নিজের ধারণাটাই পাল্টে গেছে মিলির। এমন শ্বশুর-শাশুড়িও মানুষের হয়! মিলির নিজেকে বড় ভাগ্যবতী বলে মনে হয়েছে। নিশ্চয়ই নিজের অজান্তেই বড় কোন পূণ্যের কাজ করেছিলো, তাই এমন সংসার পেয়েছে। শ্বশুরবাড়িতে ওর দ্রুত খাপ খাইয়ে নেবার মূলে যে মানুষটা, সে রাকিব নয়। তিনি ফরায়েজ উদ্দিন। মানুষটা যেন জ্ঞানের বিশাল পাহাড়। মিলির বই পড়তে একদমই ভালো লাগতো না। মানুষটা তাকে হাতে ধরে বই পড়া শিখিয়েছেন। মানুষটা আজ নেই। কিন্তু তার শিখিয়ে যাওয়া অভ্যাসটা মিলি ধরে রেখেছে। নিয়ম করে নীলক্ষেত, নিউমার্কেট আর বইমেলায় গিয়ে ফরায়েজ উদ্দিনের লাইব্রেরীর জন্য বই কিনে আনে। পুরনো বইগুলো ঝাড়পোঁছ করে। প্রিয় বইগুলো আবার পড়ে। দেখতে দেখতে আরেকটা রমজান এসে গেলো। আগামীকাল থেকে রোজা শুরু। একদিক দিয়ে অবশ্য মিলিকে দূর্ভাগাই বলতে হবে। ওদের বিয়ের ছ'মাসের মাথায় ফরায়েজ উদ্দিন পরলোক গমণ করেন। রাকিবের ওই প্রতিষ্ঠানটাতেই চাকরী হয়েছে। রমজানের আগেরদিন কাজের চাপ থাকায় রাকিব একটু দেরীতে বাসায় ফিরলো। সন্ধ্যা রাতের খাবার একটু দেরীতে খেয়ে ওরা শুয়ে পড়লো। সেহরীর সময় আর খেতে উঠবে না। এক গ্লাস পানি খেয়ে নিবে। ফরায়েজ উদ্দিন চলে যাবার পর রাকিব আর এখন নিয়ম করে মসজিদে নামাজ পড়তে যায় না। ওর নামাজটা এখন শুক্রবারের জুমাকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। অন্যান্য সময় কাজের চাপে ভুলে যায়। ধপ! ধপ! ধপ! রাকিব ঘুমের মধ্যেও টের পেলো কে যেন ওদের ঘরের দরজাতে ক্রমাগত আঘাত করে চলেছে। 'ওই হারামজাদা, উঠ! বিয়া কইরা নামাজ-কালাম সব ভুইলা গেছস? এত বড় দামড়া পোলা হইয়া প্রথম রমজানের ফজরের আযানের সময় ঘুমাস। উঠ কইলাম।' রাকিব ধড়মড় করে শোয়া থেকে বিছানায় উঠে বসলো। ওর নড়াচড়ার কারণে মিলিরও ঘুম ভেঙে গেলো। 'এই কি হয়েছে? না ঘুমিয়ে এভাবে উঠে বসে আছো কেন? তোমার না সকালে অফিস আছে?' - মিলি, একটু কষ্ট করে দরজাটা বন্ধ করে দাও। আমি মসজিদ থেকে ফজরের নামাজটা আদায় করে আসি। 'ঘরে পড়লেই তো পারো, মসজিদে যাবার কি দরকার?' - তুমি বুঝবে না। আমাকে মসজিদেই নামাজ আদায় করার জন্য যেতে হবে। রাকিব বিছানা থেকে নেমে গায়ে একটা শার্ট চড়িয়ে বোতাম লাগাতে লাগাতে বাথরুমের দিকে এগিয়ে গেলো। ওর কানে এখনও ফরায়েজ উদ্দিনের কথাগুলো স্পষ্ট হয়ে বাজছে, 'কিরে, কথা কানে যায় না? বাথরুম থেকে একবারে অযু করে তারপর মসজিদে যা। সঙ্গে আমি নাই তো কি হইছে? আল্লাহ্‌র দরবারে আমার জন্য দোয়া তো করতে পারবি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৭১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ​“বাবার দেওয়া জমি” অধ্যায় - ২
→ ​“বাবার দেওয়া জমি” অধ্যায় - ১
→ আচরণের আয়নায় বাবা-মা
→ বাবা-মেয়ের অতৃপ্ত ভালোবাসা
→ আমার প্রিয় বাবা
→ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা
→ মায়ার মা আর বাবা
→ বাবা
→ বাবাকে হারিয়ে
→ বাবা ও ছেলের গল্প
→ বাবা
→ বাবা মা এখন আমাদের সন্তান
→ বাবা ও ছেলে
→ বাবা
→ বাবা দিবস

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now