বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আয়াতের আয়নায় — (পর্ব:৪) আমরা কি সত্যিই কৃতজ্ঞ?

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Shariful Islam (০ পয়েন্ট)

X মানুষের একটা অদ্ভুত স্বভাব আছে। যেটা নেই, সেটার হিসাব সে খুব ভালো রাখে। কিন্তু যেটা আছে, সেটার হিসাব রাখতে ভুলে যায়। ব্যাংক ব্যালেন্স শুন্য বা কমে যেতে দেখলে আমরা চিন্তিত হয়ে যাই। কিন্তু চোখ দুটো দিয়ে পৃথিবীটা দেখতে পারছি সেটা নিয়ে কতবার ভেবেছি? একটা মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে গেলে আমরা রাতের পর রাত তার কথা ভাবি। কিন্তু যারা এখনও আমাদের পাশে আছে, তাদের উপস্থিতিটা শেষ কবে গভীরভাবে অনুভব করেছি? একটা সুযোগ হাতছাড়া হলে মনে হয় জীবনে আর কিছুই হলো না। অথচ আল্লাহ হয়তো এমন কত দরজা খুলে রেখেছেন, যেগুলোর দিকে আমরা তাকিয়েই দেখিনি। কুরআন আমাদের এই ভুলে যাওয়া স্বভাবটার দিকে খুব সুন্দরভাবে তাকাতে শেখায়। “আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা করলেন, ‘তোমরা কৃতজ্ঞ হলে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব; আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি কঠোর।’” —সূরা ইবরাহিম, ১৪:৭ আমরা সাধারণত মনে করি, শুকরিয়া মানে কিছু ভালো ঘটলে “আলহামদুলিল্লাহ” বলা। অথচ শুকরিয়া তার চেয়েও গভীর। শুকরিয়া হলো আল্লাহ যা দিয়েছেন, সেটাকে এমনভাবে দেখা যে, তার মূল্য বুঝতে শুরু করি। আজ আপনি হয়তো আপনার জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট নন। আপনার চেয়ে কম বয়সী কেউ আপনার চেয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। কারও ব্যবসা বড় হয়েছে, আপনারটা হয়নি। কেউ বিয়ে করেছে, আপনি করেননি। কেউ বিদেশে গেছে, আপনি যেতে পারেননি। কেউ নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছে, আর আপনি এখনও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন। আপনি হয়তো প্রতিদিন হিসাব করছেন “আমার কী নেই?” কিন্তু একবার কি উল্টো হিসাব করেছেন? আপনার মা-বাবা কি এখনও বেঁচে আছেন? আপনার শরীর কি এখনও আপনাকে সিজদায় নিয়ে যেতে পারে? আপনার চোখ কি এখনও কুরআনের অক্ষর দেখতে পারে? আপনার হাত কি এখনও নিজের জন্য, পরিবারের জন্য কিছু করতে পারে? আপনার এমন কেউ কি আছে, যে আপনার খোঁজ নেয়? আর সবচেয়ে বড় কথা আল্লাহ কি এখনও আপনাকে তাঁর দিকে ফিরে আসার সুযোগ দিচ্ছেন না? আমরা অনেক সময় নিয়ামত হারানোর পর তার মূল্য বুঝি। অসুস্থ হওয়ার পর সুস্থ শরীরের মূল্য বুঝি। বয়স চলে যাওয়ার পর যৌবনের মূল্য বুঝি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, সেগুলো হচ্ছে সুস্থতা এবং অবসর।” —সহিহ আল-বুখারি, ৬৪১২ কী আশ্চর্য! যে জিনিস দুটো আমাদের প্রতিদিনের জীবনে এত সাধারণ মনে হয়, সুস্থতা আর সময়, সেগুলোকেই আমরা সবচেয়ে বেশি অবহেলা করি। তাই আজ একটু থামুন। আপনার জীবনে যা নেই, তার জন্য দোয়া করুন। কাঁদুন। আল্লাহর কাছে চান। এতে কোনো দোষ নেই। কিন্তু যা আছে, তার জন্যও মন থেকে রবের শুকরিয়া আদায় করুন। কারণ হতে পারে, আপনি যে জীবনটাকে অসম্পূর্ণ ভাবছেন, অন্য কেউ সেই জীবনটাই পাওয়ার জন্য প্রতিদিন আল্লাহর কাছে কাঁদছে। আর হতে পারে, আপনি যে নিয়ামতটাকে “স্বাভাবিক” বলে ধরে নিয়েছেন, সেটাই একদিন আপনার সবচেয়ে বড় আফসোস হয়ে দাঁড়াবে, যখন সেটা আর থাকবে না। কিন্তু যদি সবকিছু থাকার পরও হৃদয়টা খালি লাগে? যদি নিয়ামত বাড়তেই থাকে, অথচ শান্তি না আসে? তাহলে সমস্যা কি সত্যিই আপনার জীবনে, নাকি আপনার হৃদয় অন্য কাউকে খুঁজছে? ইনশাআল্লাহ "আয়াতের আয়নায়" পঞ্চম পর্বে আমরা দেখার চেষ্টা করবো, কষ্টের সঙ্গে সত্যিই কি স্বস্তি আছে?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now