বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
আয়াতের আয়নায় — (পর্ব: ৫) কষ্টের সঙ্গে সত্যিই কি স্বস্তি আছে?
X
রাতের বেলা মানুষ যখন একা হয়, তখন তার আসল চিন্তাগুলো সামনে আসে। দিনের ব্যস্ততায় যেটাকে আমরা ভুলে থাকি, রাতের নীরবতায় সেটাই এসে পাশে বসে। কারও চাকরি নেই। কারও বিয়ের বয়স চলে যাচ্ছে। কেউ বছরের পর বছর চেষ্টা করেও নিজের জায়গাটা তৈরি করতে পারছে না। কেউ একজনকে হারিয়েছে, অথচ তার শূন্যতাটা কাউকে বোঝাতে পারছে না। কেউ বাইরে থেকে স্বাভাবিক।
কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে শুধু একটা প্রশ্ন করছে “ইয়া আল্লাহ, আর কত?”
এই প্রশ্নটা হয়তো আপনি কখনো মুখে বলেননি। কিন্তু আপনার চোখের পানি, আপনার দীর্ঘশ্বাস, আপনার সিজদা সবই হয়তো এই প্রশ্নটা করেছে।
ঠিক তখন কুরআন এসে এমন একটি কথা বলে, যেটা খুব ছোট; কিন্তু একজন ভেঙে পড়া মানুষের জন্য পুরো পৃথিবীর চেয়েও বড়।
فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
“নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি আছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি আছে।”
—সূরা আল-ইনশিরাহ, ৯৪:৫–৬
খেয়াল করেছেন? আল্লাহ বলেননি কষ্টের পরে স্বস্তি আছে। বলেছেন কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি আছে।
আমরা সাধারণত স্বস্তি বলতে বুঝি সমস্যাটা চলে যাবে, টাকা চলে আসবে, অসুস্থতা ভালো হয়ে যাবে, হারানো মানুষটা ফিরে আসবে, আটকে থাকা কাজটা হয়ে যাবে।
কিন্তু আল্লাহর দেওয়া স্বস্তি সবসময় সমস্যাটাকে সরিয়ে দিয়ে আসে না। কখনো স্বস্তি আসে সমস্যার মাঝখানে একজন বান্দার হৃদয় বদলে দিয়ে।
আগে যে মানুষটা বিপদে পড়ে মানুষের দরজায় ছুটত, সে এখন সিজদায় পড়ে। আগে যে মানুষটা নিজের যোগ্যতার ওপর ভরসা করত, সে এখন বলে “আল্লাহ, আমি পারছি না। আপনি পারেন।”
আগে যে মানুষটা দেরি হওয়াকে অভিশাপ মনে করত, সে এখন বুঝতে শেখে আল্লাহর সময় কখনো ভুল হয় না। কষ্ট তখনও আছে। কিন্তু মানুষটা আর আগের মানুষ নেই। এটাই হয়তো সেই “স্বস্তি”, যেটা আমরা অনেক সময় সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দেখতে পাই না।
রাসূল ﷺ বলেছেন, একজন মুমিনের ওপর ক্লান্তি, অসুস্থতা, দুঃখ, কষ্ট কিংবা কোনো বিপদ আসে এমনকি কাঁটার খোঁচাও তবুও আল্লাহ এর মাধ্যমে তার কিছু গুনাহ মাফ করে দেন। (সহিহ বুখারি, ৫৬৪১–৫৬৪২; সহিহ মুসলিম, ২৫৭৩)
তাহলে যে রাতটাকে আপনি শুধু কষ্টের রাত মনে করেছিলেন, সেটাই হয়তো আপনার জন্য মাফের রাত ছিল। যে অপেক্ষাটাকে আপনি জীবনের সবচেয়ে বাজে সময় মনে করেছিলেন, সেটাই হয়তো আপনাকে আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছিল।
আর যে দরজাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আপনি কেঁদেছিলেন হয়তো সেই দরজার ওপাশে এমন কিছু ছিল, যা আপনার জন্য ভালো ছিল না।
আমরা শুধু ঘটনাটা দেখি। আল্লাহ পুরো গল্পটা দেখেন। তাই আজ আপনার জীবনে যদি কষ্ট থাকে, তার মানে এই নয় যে আল্লাহ আপনাকে ছেড়ে দিয়েছেন।
হয়তো আপনি এখনো স্বস্তিটা দেখতে পাচ্ছেন না। হয়তো সেটা আপনার পরিস্থিতিতে নয় আপনার হৃদয়ে নেমে এসেছে।
হয়তো আপনার চোখ এখনও ভিজে যায়, কিন্তু সেই চোখ এখন আল্লাহকে খোঁজে। আর একজন বান্দার জন্য এর চেয়ে বড় স্বস্তি আর কী হতে পারে?
তাই আজ রাতে যদি মনে হয় “আমার আর সহ্য হচ্ছে না”, তখন শুধু আয়াতটা মনে করুন। “নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি আছে।” দুইবার বলা হয়েছে।
সম্ভবত আপনার মতো ভেঙে পড়া মানুষ যেন একবার শুনে বিশ্বাস করতে না পারলে, দ্বিতীয়বার শুনে অন্তত থেমে যায়। কারণ কষ্ট আপনার জীবনের শেষ অধ্যায় নয়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now