বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
আয়াতের আয়নায় — (পর্ব: ২) তুমি আসলে কার জন্য দৌড়াচ্ছ?
X
আয়াতের আয়নায় — (পর্ব: ২)
তুমি আসলে কার জন্য দৌড়াচ্ছ?
একবার নিজেকে খুব সৎভাবে একটা প্রশ্ন করুন আপনি যে ভালো কাজগুলো করেন, সেগুলোর কতটা সত্যিই আল্লাহর জন্য?
প্রশ্নটা সহজ। কিন্তু উত্তরটা হয়তো সহজ নয়। কারণ আমরা অনেক সময় নিজের নিয়ত সম্পর্কেও নিজেদের কাছেই পুরোপুরি সত্যবাদী হতে পারি না।
কাউকে সাহায্য করি। ভালো লাগে।
কিন্তু সে যদি আমাদের ধন্যবাদ না দেয়, তখন মন খারাপ হয়।
কারও জন্য অনেক কিছু করি।
কিন্তু সে যদি একদিন আমাদের অবহেলা করে, তখন মনে হয় “আমি তার জন্য এত কিছু করলাম!”
কাউকে টাকা ধার দিই। কাউকে চাকরি খুঁজে দিই।
কাউকে বিপদের সময় পাশে দাঁড়াই।
কারও একটা কাজ করে দিই।
তারপর মনে মনে একটা ছোট্ট হিসাব খুলে বসি আমি তার জন্য এটা করেছি। ওটা করেছি।
এতবার পাশে দাঁড়িয়েছি।
সে আমার জন্য কী করেছে?
অদ্ভুত না?
আমরা অনেক সময় ভালো কাজও করি, কিন্তু তার বিনিময়ে মানুষের কাছ থেকে কিছু না কিছু আশা করে বসি।
হয়তো টাকা নয়। হয়তো শুধু একটা “ধন্যবাদ”।
হয়তো একটু সম্মান। হয়তো একটা ফোন।
হয়তো একটা পোস্টে mention।
হয়তো মানুষ যেন বলে “মানুষটা আসলেই অনেক ভালো।”
আর সেখানেই একটা সূক্ষ্ম বিপদ শুরু হয়।
কারণ কাজটা তখনও ভালো।
কিন্তু কাজের ভেতরে যে মানুষটা দাঁড়িয়ে আছে, তার উদ্দেশ্যটা হয়তো ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে।
একটা ছোট্ট ঘটনা কল্পনা করুন।
একজন মানুষ নিয়মিত মানুষের উপকার করত।
কেউ অসুস্থ হলে ছুটে যেত।
কেউ সমস্যায় পড়লে টাকা দিত।
কেউ চাকরি না পেলে পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলত।
মানুষ তাকে ভালোবাসত।
সবাই বলত “ভাই, আপনার মতো মানুষ পাওয়া কঠিন।”
সে হাসত। মনে মনে ভালো লাগত।
একদিন সে এমন একজনকে সাহায্য করল, যার কাছ থেকে সে কোনোদিন কিছু আশা করেনি।
লোকটা সাহায্য পেল। তারপর চলে গেল।
না কোনো ধন্যবাদ। না কোনো ফোন।
না কোনো কৃতজ্ঞতা। কিছুই না।
সেদিন রাতে মানুষটা অদ্ভুত একটা কষ্ট অনুভব করল।
সে নিজেকেই বলল “এত কিছু করলাম, একটা ধন্যবাদও দিল না!”
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর হঠাৎ তার মনে হলো “আমি কি সত্যিই তার জন্য কাজটা করেছিলাম?”
যদি সত্যিই আল্লাহর জন্য করে থাকি, তাহলে তার ধন্যবাদটা এত দরকার ছিল কেন?
এই প্রশ্নটা হয়তো আমাদের অনেকের জন্যও প্রযোজ্য।
আমরা ভালো কাজ করি। কিন্তু কেউ দেখুক এটাও চাই।
আমরা দান করি। কিন্তু আমাদের নামটা যেন কেউ জানে সেটাও ভালো লাগে।
আমরা কাউকে সাহায্য করি। কিন্তু সে যেন মনে রাখে এটাও চাই।
আমরা ইসলামিক কথা লিখি। মানুষ যেন বলে “ভাই, সুন্দর লিখেছেন” এটাও ভালো লাগে।
আমরা ইবাদত করি। কখনো কখনো আমাদের মন চায় মানুষ যেন আমাদের ধার্মিক মানুষ হিসেবে দেখে।
আর এখানেই কুরআন আমাদের থামিয়ে দেয়। একটি আয়াত সামনে এনে জিজ্ঞেস করে তুমি আসলে কার জন্য করছ?
আল্লাহ নেককার বান্দাদের একটি কথা উল্লেখ করেছেন:
إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا
অর্থ: “আমরা তো তোমাদেরকে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আহার করাই; আমরা তোমাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চাই না।”
— সূরা আল-ইনসান, ৭৬:৯
আয়াতটির দৃশ্যটা খুব সুন্দর। তারা কাউকে খাওয়াচ্ছে। কিন্তু যার কাছে খাবার দিচ্ছে, তার কাছ থেকে কোনো প্রতিদান চাইছে না।
এমনকি ধন্যবাদও না। কারণ তাদের চোখে আসল প্রাপক সেই মানুষটি নয়। আসল প্রাপক আল্লাহ। মানুষটি শুধু মাধ্যম। কী গভীর একটা চিন্তা!
আপনি যদি সত্যিই আল্লাহর জন্য কাউকে সাহায্য করেন, তাহলে সেই মানুষটি আপনাকে মনে রাখল কি না তা আপনার আমলের মূল্য নির্ধারণ করবে না। সে আপনাকে ধন্যবাদ দিল কি না তা আপনার সওয়াবের মালিক নয়। সে আপনার উপকার স্বীকার করল কি না তা আপনার রবের কাছে আপনার কাজের মূল্য কমিয়ে দেয় না। কারণ আপনি তার জন্য করেননি। আপনি আল্লাহর জন্য করেছেন। এই একটা জায়গা যদি মানুষ বুঝে ফেলতে পারে, তাহলে মানুষের আচরণ তাকে এত সহজে ভাঙতে পারবে না।
কেউ আপনাকে ধন্যবাদ দিল—আলহামদুলিল্লাহ।
দিল না—তবুও আলহামদুলিল্লাহ।
কেউ আপনার কাজের প্রশংসা করল—ভালো।
কেউ আপনাকে ভুলে গেল—তবুও ভালো।
কারণ আপনার হিসাবটা মানুষের সঙ্গে ছিল না।
আপনার হিসাবটা ছিল আল্লাহর সঙ্গে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“কাজগুলো নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে।”
— সহিহ আল-বুখারি, হাদীস ১
এই হাদীসটি আমরা এতবার শুনেছি যে হয়তো এর ভয়াবহ গভীরতাটা আর অনুভব করি না। একই কাজ। দুইজন মানুষ। বাইরে থেকে দুজনকেই একই রকম মনে হচ্ছে।
দুজনেই দান করছে। দুজনেই মানুষকে সাহায্য করছে।
দুজনেই ভালো কথা বলছে। কিন্তু আল্লাহর কাছে তাদের অবস্থান এক নাও হতে পারে।
কারণ আল্লাহ শুধু দেখছেন না—কাজটা কী।
তিনি দেখছেন—কেন।
এখানেই মানুষের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।
কারণ কাজটা মানুষ দেখতে পারে।
নিয়ত দেখতে পারে না।
আপনি একটা ভালো কাজ করলেন।
মানুষ বলল, “মাশাআল্লাহ, কী ভালো মানুষ!”
কিন্তু আপনার হৃদয়ের ভেতরে কী চলছে সেটা তারা জানে না।
আপনি নিজেও হয়তো পুরোপুরি জানেন না।
কখনো কখনো আমরা নিজেরাই নিজের নিয়তকে ভুল বুঝি।
ভাবি, “আমি তো আল্লাহর জন্যই করছি।”
কিন্তু একটু গভীরে গেলে দেখা যায় মানুষের প্রশংসার একটা ক্ষুধাও সেখানে লুকিয়ে আছে।
এটা বুঝতে একটা খুব সহজ পরীক্ষা আছে। আপনি যে ভালো কাজটা করছেন, সেটা যদি এমনভাবে করতে বলা হয় যেখানে পৃথিবীর কোনো মানুষ কখনো জানতে পারবে না তাহলে কি আপনি এখনও কাজটা করবেন?
কেউ জানবে না। কেউ প্রশংসা করবে না। কেউ আপনার নাম নেবে না। কেউ আপনাকে ভালো মানুষ বলবে না। কেউ আপনার পোস্ট share করবে না। কেউ আপনাকে “ভাই, আপনি অসাধারণ” বলবে না।
তবুও কি আপনি করবেন? যদি উত্তর হয়—হ্যাঁ,
তাহলে হয়তো সেখানে আল্লাহর জন্য কিছু একটা সত্যিই আছে।
আর যদি মনে হয় “কেউ জানবেই না? তাহলে করে লাভ কী?”
তাহলে একটু থামা দরকার।
কারণ লাভ আছে। মানুষ না জানলেও আল্লাহ জানেন।
মানুষ ভুলে গেলেও আল্লাহ ভুলে যান না।
মানুষ আপনার নাম না জানলেও আপনার রব আপনার কাজ জানেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের চেহারা ও সম্পদের দিকে তাকান না;
বরং তিনি তোমাদের হৃদয় ও আমলের দিকে তাকান।”
— সহিহ মুসলিম, হাদীস ২৫৬৪
কী আশ্চর্য! আমরা সারাজীবন চেহারা ঠিক রাখার চেষ্টা করি। পোশাক ঠিক রাখি। প্রোফাইল সুন্দর করি। নিজেকে মানুষের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করি।
কিন্তু যার কাছে শেষ পর্যন্ত আমাদের দাঁড়াতে হবে, তিনি দেখবেন আমাদের হৃদয় এবং আমল।
এই কথাটা যদি সত্যিই হৃদয়ে ঢুকে যায়, তাহলে হয়তো মানুষের প্রশংসার জন্য আমাদের এতটা ক্ষুধার্ত থাকতে হবে না।
কারণ আমরা বুঝব মানুষের চোখে বড় হওয়া আর আল্লাহর কাছে বড় হওয়া এক জিনিস নয়।
একজন মানুষ হয়তো হাজার মানুষের কাছে বিখ্যাত।
কিন্তু তার হৃদয় আল্লাহ থেকে দূরে।
আর একজন মানুষ হয়তো পৃথিবীর কাছে একেবারেই অচেনা।
কেউ তার নাম জানে না। তার কোনো বড় পরিচয় নেই।
তার কোনো বড় অনুসারী নেই। কিন্তু সে রাতের অন্ধকারে এমন কিছু কান্না করেছে, এমন কিছু সিজদা করেছে, এমন কিছু ভালো কাজ করেছে যার খবর শুধু তার রব জানেন।
কে বেশি সফল? আমরা জানি না।
কারণ আমরা মানুষের জীবন দেখি।
আল্লাহ মানুষের অন্তর দেখেন।
তাই হয়তো কিছু ভালো কাজ পৃথিবীর কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা উচিত।
এমন কিছু দান, যার খবর শুধু আল্লাহ জানেন। এমন কিছু দোয়া, যা কাউকে বলা হয়নি। এমন কিছু কান্না, যার সাক্ষী শুধু জায়নামাজ।
এমন কিছু গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, যার কথা কেউ জানে না। এমন কিছু ক্ষমা করে দেওয়া, যার খবর কখনো প্রকাশ পাবে না।
এমন কিছু ভালো কাজ, যার শেষে নিজের নামটাও মুছে দেওয়া যায়।
কারণ তখন কাজটা মানুষের জন্য নয় আল্লাহর জন্য হয়ে ওঠে।
আর হয়তো এটাই ইখলাসের সৌন্দর্য।
ইখলাস মানে এই নয় যে আপনি কখনো মানুষের প্রশংসা শুনে খুশি হবেন না। মানুষের প্রশংসা আপনার ভালো লাগতেই পারে। কেউ আপনার ভালো কাজের প্রশংসা করলে হৃদয়ে আনন্দ আসতেই পারে।
সমস্যা তখন, যখন মানুষের প্রশংসা আপনার কাজের কারণ হয়ে যায়।
যখন আপনি ভালো কাজ করেন কারণ মানুষ আপনাকে ভালো বলবে।
যখন মানুষের হাততালি বন্ধ হয়ে গেলে আপনার ভালো কাজও বন্ধ হয়ে যায়।
তখন একটু ভয় পাওয়া দরকার, কারণ হয়তো আপনি
আল্লাহর সন্তুষ্টির বদলে মানুষের সন্তুষ্টিকে নিজের গন্তব্য বানিয়ে ফেলছেন।
আর মানুষের মন? সেটা কত অদ্ভুত!
আজ যে মানুষ আপনাকে ভালো বলছে, কাল সে আপনার সমালোচনা করতে পারে।
আজ যে আপনার প্রশংসা করছে, কাল সে আপনাকে ভুলে যেতে পারে। আজ যে আপনার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে, কাল সে হয়তো আপনার ফোনও ধরবে না।
তাহলে যার নিজের মনও এত পরিবর্তনশীল, তার সন্তুষ্টির ওপর নিজের আত্মার শান্তি কেন রাখবেন?
আল্লাহর সন্তুষ্টি খুঁজুন। মানুষকে ভালোবাসুন।
মানুষের উপকার করুন। মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করুন।
কিন্তু আপনার হৃদয়ের সবচেয়ে বড় আশা যেন মানুষের কাছ থেকে না হয়।
কারণ মানুষকে খুশি করতে গিয়ে মানুষ কখনো কখনো এমন জায়গায় পৌঁছে যায়, যেখানে সে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে ফেলে।
আর তখন সে এমন একটা দামে মানুষের প্রশংসা কিনে, যে দামটা আসলে তার দেওয়া উচিত ছিল না।
একবার ভাবুন আপনি যদি জানতেন, আপনার একটা ভালো কাজ কেউ কোনোদিন জানবে না, কিন্তু আল্লাহ জানবেন তাহলে কি আপনি সেটাকে যথেষ্ট মনে করবেন? আপনি যদি জানতেন, আপনার করা কোনো ত্যাগের জন্য পৃথিবী আপনাকে কখনো সম্মান করবে না, কিন্তু আল্লাহ তা দেখেছেন তাহলে কি আপনার মন শান্ত হবে? আপনি যদি জানতেন, আপনার চোখের পানির কথা কেউ কোনোদিন জানবে না, কিন্তু আপনার রব জানেন তাহলে কি সেই কান্না আপনার কাছে মূল্যহীন?
না। হওয়ার কথা নয়।
কারণ একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর কিছু মুহূর্ত হয়তো সেগুলোই, যেগুলোর কোনো দর্শক ছিল না।
কোনো ক্যামেরা ছিল না।
কোনো applause ছিল না।
কোনো certificate ছিল না।
কোনো social media post ছিল না।
ছিল শুধু একজন বান্দা। আর তার রব। হয়তো আপনি আজ থেকে একটা ছোট অভ্যাস শুরু করতে পারেন।
প্রতিদিন এমন একটি ভালো কাজ করুন, যার কথা কাউকে বলবেন না।
কেউ জানবে না। আপনার নামও থাকবে না।
শুধু আপনি জানবেন এবং আল্লাহ জানবেন। হয়তো কাউকে চুপিচুপি সাহায্য করবেন। হয়তো কারও জন্য এমন দোয়া করবেন, যে জানে না আপনি তার জন্য দোয়া করছেন।
হয়তো কারও ভুল ক্ষমা করে দেবেন, কিন্তু তাকে বলবেন না যে আপনি ক্ষমা করেছেন।
হয়তো রাতে দুই রাকাত নফল পড়ে কাউকে না জানিয়ে ঘুমিয়ে যাবেন।
হয়তো কোনো গুনাহের সুযোগ সামনে এসেও শুধু এই কারণে সরে যাবেন “আল্লাহ দেখছেন।”
এই ছোট ছোট অদৃশ্য কাজগুলোই হয়তো একদিন আপনার হৃদয়কে বদলে দেবে।
কারণ মানুষ যখন আল্লাহর জন্য বাঁচতে শেখে, তখন মানুষের প্রশংসা তার প্রয়োজন থাকে না।
সে বুঝতে শেখে আমি সবার কাছে ভালো হতে আসিনি।
আমি আমার রবের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে এসেছি।
মানুষ আমাকে ভুল বুঝতে পারে। আল্লাহ জানেন। মানুষ আমার কাজের মূল্য না দিতে পারে। আল্লাহ জানেন।
মানুষ আমার ত্যাগ ভুলে যেতে পারে। আল্লাহ জানেন। মানুষ আমাকে একদিন ভুলে যেতে পারে।
আল্লাহ কখনোই আমার কোনো আমলকে অজ্ঞাত রাখেন না।
তাই আজ রাতে ঘুমানোর আগে নিজের হৃদয়ের সামনে বসুন।
খুব কঠিন কোনো প্রশ্ন নয়।
শুধু একটি প্রশ্ন
“আমি যে জীবনটা বাঁচছি, সেখানে আমি আসলে কার সন্তুষ্টি খুঁজছি?”
মানুষের? নাকি আল্লাহর?
হয়তো উত্তরটা শুনতে আপনার ভালো নাও লাগতে পারে।
তবুও উত্তরটা শুনুন।
কারণ নিজের নিয়তকে ঠিক করার জন্য প্রথমে নিজের নিয়তকে চিনতে হয়।
আর হয়তো সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হলো নিয়ত নষ্ট হয়ে গেছে বুঝতে পারাও আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা সতর্কতা।
আপনি যদি আজ বুঝতে পারেন যে আপনি মানুষের প্রশংসা বেশি চেয়েছেন, তাহলে হতাশ হবেন না।
ফিরে আসুন। কাজটা বন্ধ করবেন না। বরং নিজের হৃদয়টাকে ঠিক করুন। আবার করুন। কিন্তু এবার মানুষের জন্য নয়। আল্লাহর জন্য।
কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ আপনার কতগুলো পোস্ট মনে রেখেছে, কতজন আপনাকে প্রশংসা করেছে, কতজন আপনার উপকার স্বীকার করেছে এসবের কোনোটা আপনার চূড়ান্ত পরিচয় নয়।
চূড়ান্ত প্রশ্নটা হবে অন্যরকম,
আপনি যে কাজগুলো করেছেন, সেগুলোর কতটুকু আপনার রবের জন্য ছিল?
আর সেই প্রশ্নের উত্তর হয়তো কোনো মানুষকে দিতে হবে না।
একদিন শুধু আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েই দিতে হবে।
সেদিন কোনো audience থাকবে না।
কোনো image থাকবে না।
কোনো reputation থাকবে না।
কোনো বাহ্যিক পরিচয় থাকবে না।
থাকবে শুধু আপনি। আপনার হৃদয়।
আপনার আমল। আর আপনার রব।
তাই আজ থেকেই এমন কিছু ভালো কাজ শুরু করুন, যেগুলোর কোনো দর্শক নেই।
কারণ কখনো কখনো মানুষের চোখ থেকে যে আমল লুকিয়ে রাখা যায়, সেটাই হয়তো হৃদয়ের সবচেয়ে সত্য আমল।
আর পরের পর্বে আমরা এমন একটি দরজার সামনে দাঁড়াব, যেটার সামনে দাঁড়িয়ে প্রায় প্রত্যেক মানুষ কোনো না কোনোদিন কেঁদেছে যে জিনিসটা আপনি প্রাণপণে চেয়েছিলেন, আল্লাহ যদি সেটাই আপনার জন্য না রাখেন তাহলে কি আপনি তাঁর সিদ্ধান্তে শান্ত থাকতে পারবেন? হয়তো পরের আয়াতটি আপনার জীবনের কোনো পুরোনো ক্ষতকে নতুন করে ছুঁয়ে যাবে।
ইনশাআল্লাহ "আয়াতের আয়নায়" সিরিজের তৃতীয় পর্বে আলোচনা করবো "যে জিনিসটা তুমি প্রাণপণে চেয়েছিলে, আল্লাহ যদি সেটাই তোমার জন্য না রাখেন?"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now