বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আত্নমগ্ন কথামালা

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রামীম (০ পয়েন্ট)

X নিয়মিত অসামজিক হয়ে উঠি। শিরায় শিরায় ছুটে চলা রক্তে আবার নতুন করে ছড়িয়ে যাইতেছে অসামাজিকতার আমেজ। পৌনঃপুনিক দিনযাপন কইরা চলি। সকাল দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা, রাত। যে কাজগুলা না করলেই না সেগুলা নিয়েই বিজি। অফিস-বাসা-অফিস। একই রুট, একই লাইটপোস্ট, একই চেহারা। এই বৃত্ত থিকা বেরইতে ইচ্ছা করতেছে বড় বেশী কইরা। সময়টাই মনে হইতেছে হঠাৎ প্যাঁচ খাইয়া গেছে। মাথার ভিত্রে লেখা-টেখা কিলবিল করতেছে। এয়ার টাইট কৌটার মত আটকায়া রাইখা দিতেছি। বাতাসের অভাবে অভাবে একদিন ঠিকই মইরা যাইবো। আমি সেই মইরা শুটকি লাগা লেখা গুলারে দেইখা বিভৎস আনন্দ পামু। আহ! ভাবতেই কেমন মজা লাগতেছে। কি জানি? এইটারো মনেহয় কোনো সাইকোলজিকাল নাম আছে। সাইকোলজি বড়ই মজার একটা জিনিস। একটা বয়েসে পড়নের খুব শখ হইতো। শখ মিটাবার জন্য পড়ছিও কয়েকদিন। তারপর চিরাচরিত চ্রিত্রে ফিরা আসতে সময় লাগে নাই। এখন মাইনষের মুখের দিকে চাইয়া তাদের এক্সপ্রেশন বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করতে খুব ভালো লাগে। সেকেন্ডে সেকেন্ডে এক্সপ্রেশন চেঞ্জ হয়। তয় এইটারও একটা প্যাটার্ণ আছে, যেইটার ব্লু-প্রিন্ট তৈরী করনের ট্রাই দিতেছি বাট হইয়া উঠতেছে না। যাউক হাবিজাবি অনেক গেজাইলাম নিজের লগে। দেখি কোনো উন্নতি হয় নাকি।কোনো ভন্ড মানুষরে কেন যে ভন্ড বলতে পারি না, সেইটা একটা প্রবলেম। একান্ত নিজস্ব প্রবলেম। একবার বলে এইটা আমার পছন্দ না, আবার ঠিক তার পরের মিনিটেই সেই অপছন্দের জিনিস করবার স্বপক্ষে যুক্তিও মারায়। তার চোখে এইটাই জগতের সেরা যুক্তি। উদাস দৃষ্টিতে তাকাইয়া তার ভন্ডামী দেখি। আসলে উদাসী হইয়া যাওনের ভিতর মনেহয় মহান টাইপের ঝিলমিলি আছে। একেবারে রাইতের বেলা দূর থিকা বিয়াবাড়ির মরিচ বাতি গুলা দেইখা যেমন উৎসবের আমেজ আসে সেরকমই। লোকজন যখন বুঝতে ভুল করে, সেইটা বড়ই পেইনদায়ী। ফল? বিটকেলে টেস্টের কোনো একটা হইবো, যেইটা আমার ভাল্লাগেনা। যেরম- এলাচ কিংবা কাঁচা পিয়াজ কাঁচা রসুনের মিক্সড একটা ফ্লেভার আর টেস্ট। খুব কইরা চেষ্টা করতেছি একটা জিনিস খুঁজার, কিন্তু সবদিকেই কংক্রীটের দেয়ালে মাথা ঠুইকা যাইতেছে। নগরায়নের কুফল আর কি। তারপরেও চেষ্টা জারি রাখতেছি। দেখি কি হয়। সময় বড়ই অস্থির, একটু আগে একজন এসেমেসে গালি দিয়া গেলো। মানুষ মইরা গেলে পইচা যায়, বাইচা থাকলে বদলায় কইয়া। মানুষে আল্টিমেটলি বদলায় না, তার পুরান সেলফেরই ম্যাচিউরিটি আসে। বারুদে যতক্ষণ ঘষা দেয়া না হইতেছে, সে বুকের ভিতর আগুন জমাইয়াই রাখে। ঘষা দিলেই ফাঁৎ কইরা জ্বইলা ওঠে। অস্থিরতাটাকে কেমন জানি উপভোগের পর্যায়ে নিয়া চইলা গেছি। অস্থির না থাকলেই শালার কেমন কেমন লাগে। কে জানে? হয়তো সাইকোলজিতে এইটারও কোনো গালভরা নাম আছে। যখন অস্থির থাকি ভিতরে, তখন বাইরে বাইরে খুব স্থির কুউউল একটা ভাব ধইরা থাকার চেষ্টা করি। মজাই লাগে। বেশ মজা। বহুতদিন ভিক্ষুকদের গ্রুপ ধইরা ভিক্ষা করতে দেখিনা। সবার মধ্যেই এখন ইন্ডিভিজ্যুয়ালিজম চইলা আসছে। দুইদিন আগে, হঠাৎ এক রাস্তায় দেখলাম তিনচার জন ভিক্ষুক সেই পুরানো স্টাইলে ভিক্ষা করতেছে। তবে আগের ভিক্ষুক গ্রুপের ভিতর যেই বৈচিত্র থাকতো, সেইটা এদের ভিতর নাই। সবাই একই রকমের। ভালোলাগলেও আসলে সেরম ভালোলাগেনাই। মাথার ভিতর ঘুরঘুর করতেছে। ভাল্লাগতেছে না। এই কথাগুলা এখন পুরানা হইয়া গেছে। নতুন কিছু ভাইবা নেওয়া দরকার। আলসিতে সেইটাও হইতেছে না। কয়দিন পর মন আবার ১৮০ ডিগ্রী ঘুরান দিবো কে জানে। ঐ মানুষটা আসলে একজন পুরুষই। আগেও বুঝছি, আজকে লিখাই রাখলাম। যতই মুক্তমনের দাবী করুক, ভিত্রে ভিত্রে টিপিক্যাল মানসিকতাই ধারণ করে। হাসি আসে, মুখের উপ্রে হাসলে কস্ট পাইবো ভাইবা আর হাসি না। হয়তো একটা ইনসিকিওরিটি কমপ্লেক্সও কাজ করে। যদি ফ্রেন্ডশীপ নস্ট হইয়া যায়??? স্বর্গফর্গ ইত্যাদি লইয়া চিন্তা ভাবনা বাদ্দিছি বহুদ্দিন হইলো। অনেক দিন আগের চিন্তায় স্বর্গটা বেশ রইদ ঝলমলা আছিলো। আইজ সন্ধ্যায় হাঁটতে হাঁটতে অফিস থেকে ফিরার পথে সংসদের পিছনে গ্লাডিওলা ফুলবাগান দেইখা সবার আগে মাথায় যেই শব্দটা আসলো, সেইটা হইতেছে স্বর্গীয়। প্রায় সবগুলা গ্লাডিওলা গাছে ফুল ধইরা আছে বিভিন্ন রঙ এর (মেজরিটি পার্পল রঙ)। সেই ফুলের বেডের উপরে পাশের ল্যাম্পপোস্ট থিকা হ্যালোজেন লাইটের ঝকঝকা নীলচে আলো ছড়াইয়া আছে। পাশের ডেকোরেশন গাছ টাইপের উপর হাল্কা হাল্কা আলোর ছোঁয়া পড়ছে, কেমন নীলচে-কালচে-সবুজ একটা রঙ দেখা যাইতেছে। চোখ পড়লো, আর মাথায় স্বর্গীয় শব্দটা লাফ দিয়া চইলা আসলো। মনে হইতে থাকলো, যদি আসলে স্বর্গ নামের কোনো স্থান থাইকাই থাকে তাইলে সেইটা বেশ চন্দ্রালোকিত গ্লাডিওলার বাগান টাইপের হইলে মন্দ হইতো না। একটু দূরে গাছের আড়ালে একটা বাংলো টাইপের বাড়ি থাকবো। সেইটা হইবো ঘুমানির যায়গা। যখনই ঘুম আসবো শুইয়া ঘুমায়া যামু। বিষণ্ণ থাকলে আমার বেশি সিগারেট টানতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু অন্যান্য রিস্কি কাজ করতে খুব বেশী ভালো লাগে। আজকে পলাশীর দিকে গিয়া আড্ডা দিতে ইচ্ছা হইতেছিলো। কিন্তু যার লগে আড্ডামু, সে পাগলের মতো বিজি। বিরক্ত করতে ইচ্ছা হইলো না। তাই সময় কাটানির লাইগা হাইটা বাসায় ফিরলাম। ফেসবুক নামের জিনিসটা আইজকা বেশ পেইনের মতো লাগতেছে। কিন্তু কষ্ট কইরা ডিএক্টিভও করতে ইচ্ছা হইতেছে না। থাকুক বেটা নিজের মতো, আমি না ঢুকলেই হইলো। দেখি নিজের ইচ্ছায় কতটুকু জোর। বাচ্চাকাচ্চাদের দেখলেই মনটাতে কেমন প্রশান্তি আসে। একঝাঁক বাচ্চাদের সাথে গল্প-খেলাধুলা করতে ইচ্ছা করতেছে এখন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আত্নমগ্ন কথামালা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now