বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আত্নকথন 1

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আবরার রাহমান (০ পয়েন্ট)

X লেখক : ফাহিম শাহরিয়ার (আবরার) আজকে একটা নতুন ধরনের গল্প পড়ি চলুন ....আমি আরহাম.....আমি সিরিয়ার একটি সাধারন মুসলিম পরিবারের সদস্য ........সিরিয়া আমার জন্মভূমি ........ .....আমার সিরিয়া .....আমাদের সিরিয়া .....তবে সেটা ছিলো বললেই ভালো হয়....আমাদের পরিবারের পাঁচজন সদস্য ......সেটাও এখন ছিলোই বলতে হবে....কেননা এখন সবকিছুই কষ্টদায়ক অতীত.... আমি আজ লিখছি ....মনখুলে লিখছি....আমার লেখার সামগ্রী হলো কয়লা আর বিস্তীর্ণ দেয়াল....এ কিন্তু কোনো সাধারন কয়লা নয়...আমার সদ্য জ্বালিয়ে মারা বাবার শরীরেরই কোনো অংশের হবে হয়তো এটা.....কয়লাটা বড্ড গরম...আর হবেনাই বা কেন??? একটু আগেই যে গায়ে পেট্রোল ঢেলে দেয়া হলো তার জ্বালিয়ে দেয়া হলো তার শরিরের প্রতিটি কনিকা....মৃত্যুর পূর্বে আমি তার চোখের দিকে তাকিয়েছিলাম শুধু একবার......আমি তার চোখের চাহনীর অর্থ বুঝতে পারিনি.....কারণ ঐ চোখে কোনো আশা ছিলো না শুধু ছিলো হতাশা আর ক্রোধের মিশ্রণ..... আমি শুধু তাকিয়ে দেখলাম তার জ্বলে যাবার দৃশ্য ..........তার প্রতিটি অস্থিকণিকার পুড়ে যাবার দৃশ্য ...... অনেকক্ষণ পর এই আবদ্ধ ঘরটাকে ভালোভাবে দেখলাম যেখানে আটকে রাখা হয়েছিলো আমাদের......মাঝে অনেকটা সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে....হয়তো জ্ঞান হারিয়েছিলাম.....যাইহোক এখন আমার অনেক কাজ আছে......বাবার ভষ্মিভূত হওয়া শরীরটাকে একজায়গায় করি তারপর তার জানাযা করি ......এই জানাযাটাও বাবাই আমাকে শিখিয়েছিলো......আর গতদুইদিনে আমি মোট চারখানা জানাযা পড়েছি......... এখন তো সিরিয়ার মানুষরা মোট ছয় ওয়াক্ত নামায পড়ে সাধারন নামায সাথে জানাযা.......আগের সবগুলো জানাযা আমার বাবাই পড়িয়েছে .....কিন্তু আজ দায়িত্বটা আমার উপর......আমার জীবনের সবথেকে বড় দায়িত্ব ....... জানাযা শেষ......আমার পাশে আমার ছোটভাই আবরার শুয়ে আছে.....ওহয়তো কিছুই বুজছে না.....আসলে আমিওতো কিছুই বুঝছি না.....আমার কোনো কষ্ট হচ্ছে না......বাবার জ্বলে যাবার মূহুর্তেও আমার চোখে কোনো পানি ছিলো না.....হয়তো আমি ধীরে ধীরে পাথর হয়ে যাচ্ছি......হ্যাঁ হয়তো সেটাই....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২১২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সিলিন্ডারের আত্নকথন
→ আত্নকথন 2
→ আত্নকথন 1

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now