বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

# আত্মতৃপ্তি #

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আর ঠিক পাঁচদিন পর যূথির বিয়ে।বাসায় আত্মীয়স্বজনের আসাযাওয়া শুরু হয়ে গেছে।সবাই খুব আনন্দে আছে কিন্তু যুথির মনে রাজ্যের চিন্তা।ছোট থেকে একটা পরিবারে কত আদরে বড় হয়েছে এখন শ্বশুরবাডিতে নতুন পরিবেশে যুথি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে তো।কেমন যেন একটা অজানা ভয় কাজ করছে মনে।যুথির বর ইংল্যান্ড থেকে সবেমাত্র ইন্জীনিয়ারিং পাশ করেছে।বিদেশি একটি কোম্পনীতে ভালো বেতনের চাকরি করে।দেখতে সুদর্শন,লম্বাতে ছয় ফুটের কাছাকাছি।এরকম একটা ছেলের জন্য যখন তার বাবার বন্ধু শফিক সাহেব যুথির বাবা আকমল খানের কাছে তার মেয়ের জন্য প্রস্তাব নিয়ে আসল আকমল খান না বলার কোন কারন খুঁজে পেলেননা।যুথি বিবিএ ফাইনাল ইয়ারে পড়ছে,দেখতে ভাল,ছিপছিপে গড়ন,খাড়া নাক,পাতলা ঠোঁট,গায়ের রংটা একটু চাপা হলেও চেহারাতে অনেক মাধুর্য।যুথির বর সাকিবের সাথে তার প্রতিদিনই ফোনে কথা হয়।এই অল্পকিছুদিনের মধ্যে সাকিব যুথিকে তার পরিবারের সবার সম্পর্কে একটা ধারনা দিয়ে ফেলেছে।সাকিব বলেছে ওর আম্মু খুব কড়া,আম্মুকে সবাই ভয় পায়,আব্বুও আম্মুর উপর কোন কথা বলেনা।তাদের ঘরে সব ডিসিশান আম্মু নেয়।আব্বু বিদেশে থাকে,তাই ছোটবেলা থেকে আম্মুর সাথেই বেশি সময় কেটেছে তার।আব্বু কাছে না থাকাতে আম্মুর আদর শাসনেই বড় হয়েছে সাকিব। শ্বশুরবাড়িতে যুথির এক মাস হতে চলল।নিয়মশৃংখলার জীবন মেনে চলতে চলতে যুথির একঘেয়ে লাগতে লাগল।তারা একটু রাত করে বাসায় আসলে শ্বাশুডি আনোয়ারা বেগম তাদের উপর রেগে যায়।সাকিব একা বাইরে গেলেও বেশি রাত করে ফিরলে তার মা বকা দেয়।সকালে একটু দেরিতে উঠলেও শ্বাশুডি রাগ করে।সাকিবের বন্ধুরা অনেকে সিগারেট খায়,মজা করার জন্য সাকিবকে একটান দিয়ে দেখতে বললে সাকিব বলে মা তার মুখে গন্ধ পেলে মেরে ফেলবে।তাদের চলাফেরা,খাওয়াদাওয়া সবকিছুতে শ্বাশুডির হস্তক্ষেপ করাকে যুথি মেনে নিতে পারছেনা।যুথি সেদিন ভাবল সাকিবকে সংগে নিয়ে মার্কেটে গিয়ে কিছু জামাকাপড কিনবে।পরদিন দেখে শ্বাশুডি তার জন্য কয়েক সেট জামা কিনে নিয়ে আসছে।খুব খুশী হয়ে বলছে,'আমার কোন মেয়ে নাই।সারাজীবন মেয়েদের জামাকাপড দেখে খুব আফসোস হত কেন মেয়ে নাই,মেয়েদের সুন্দর সুন্দর কাপড় দেখলে কিনতে ইচ্ছে হত।এখন আর আমার সেই দুঃখ নাই।যুথি বুঝতে পারছেনা খুশি হবে না অখুশি হবে।নিজের কাপড় ওকি শাশুড়ির পছন্দমতো পড়তে হবে।আর শ্বাশুডি ভাবে যুথি নিশ্চয় অনেক খুশী হয়েছে।ছেলে আর বউকে নিয়ে তার যত চিন্তা।তারা ছাড়া আর কে আছে তার।সাকিব আস্তে আস্তে কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায়।যুথিকে খুব একটা সময় দিতে পারেনা।শ্বাশুডির সাথে যুথিকে বেড়াতে হয়।তিনি যেখানে যান যুথিকে নিয়ে যেতে যান।শ্বাশুডির উপর যুথির খুব বিরক্তি আসে,সাকিবকে মায়ের কথা কিছু বললে সে শুনতে চায়না।যুথির উপর বিরক্ত হয়।বাবা মাকে এসব কথা বলে যুথি ওদের টেনশন দিতে চায়না।তাই যুথি মনের দুঃখ বোঝানোর জন্য বান্ধবী চৈতিকে ফোন দেয়।চৈতি তার ছোটবেলার বান্ধবী,যুথি সবকথা চৈতিকে নির্দ্বিধায় বলতে পারে।চৈতি সব শুনে যুথিকে বলে,সে যেন শ্বাশুডিকে এডিয়ে চলে,উনি উনার মত একা থাকুক তখন আর কারো উপর নজরদারি করতে পারবেনা,যুথি যেন সারাদিন রুম বন্ধ করে নিজের রুমে থাকে।সাকিব আসলে তখন শুধু বের হবে।বানধবীর কথামত যুথি শ্বাশুডির সাথে আর আগের মত ভালো ব্যবহার করেনা।শ্বাশুডি কোথাও তার সাথে যেতে বললে কোন অজুহাত দিয়ে এডিয়ে যায়।শ্বাশুডির সাথে বসে গল্প করেনা,সারাদিন নিজের রুমে তার নিজের মত করে থাকে।এসবে শ্বাশুডির মনে একটু কষ্ট হয় তারপরেও কিছু বলেনা।তারপরও তিনি যুথি ঠিকমত খেয়েছে কিনা তার খোঁজ নেন।কিছু লাগবে কিনা তা খেয়াল রাখেন।কিন্তু যুথির এই মহিলাকে একদম সহ্য হয়না।একদিন ঘুম থেকে উঠে শুনে তার শাশুড়ির অনেক জ্বর,বিছানা থেকে উঠতে পারছেনা।যুথি যেন মনে মনে খুশিই হল।ভাবল এই কয়টা দিন সে শান্তিতে থাকবে,তার ব্যাপারে কেউ নাক গলাবেনা।আনোয়ারা বেগম ভাবল বউমা তার মাথার কাছে বসবে।তার জন্য নিজহাতে খানা নিয়ে আসবে।অন্তত তার এই অসুস্হ সময়ে নিজের রুমে বসে না থেকে তার কাছে থাকবে।যুথি সকালে একবার শুধু তার রুমে উঁকি দিয়ে দেখে গিয়েছিল,সারাদিন কোন খবর নাই।কাজের বুয়া রহিমা একটু পর পর এসে তাকে দেখে যায় কি লাগবে না লাগবে।তার খাবার নিয়ে আসে,সামনে বসে থেকে খাইয়ে দেয়।এদিকে সাকিবের অফিসে কি নিয়ে যেন একটা ঝামেলা হয়েছে।সে খুব টেনশনে আছে সেটা নিয়ে।ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে তার বউয়ের কথাগুলো বলতে ইচ্ছা হয়না।মনে মনে ভাবে,এই কয়দিনে ছেলের মুখটা কেমন শুকনা হয়ে গেছে।হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিজের হাতে রান্না করেন ছেলের জন্য।এখন রহিমার হাতের রান্না নিশ্চয়ই খেতে পারছেনা তার ছেলে,তাইতো মুখটা এমন শুকনা দেখাচ্ছে।অসুখের মধ্যেও ওদেরকে নিয়েই তার চিন্তা।দশদিন ধরে রোগে ভোগার পর সুস্হ হয়ে আনোয়ারা বেগম তার নিয়মমাফিক দৈনন্দিন জীবনে ফিরে যায়। যুথির গর্ভে সন্তান আসে।সেই খবর শুনে আনোয়ারা বেগমের খুশীর সীমা নাই।সেই খুশীতে তিনি কাজের লোক,দারোয়ান,ড্রাইভার সবাইকে মিষ্টি খাওয়ালেন,বখশিশ দিলেন।প্রথম তিনমাস ভালো কাটল,কোন সমস্যা দেখা দেয়নি।চার মাসে পরতেই যুথির শরীর খারাপ হতে লাগল,খুব মাথা ঘোরায়,দুর্বল লাগে শরীর।ডাক্তার বলেছে প্রেশার অনেক লো।এরই মধ্যে চৈতি একদিন ফোন করে অনেক কান্না করে তাকে বুঝাল,তার বর জাহেদ প্রায়ই রাত করে বাসায় ফিরে,তাকে অনেক খারাপ ভাষায় গালাগালি করে।সিগারেট তো সে আগে থেকেই খেতো,এখন মাঝে মাঝে মদও খেয়ে ঘরে আসে।তার শ্বাশুডির কাছে সে নালিশ করেছে।শ্বাশুডি উল্টা বলে,ছেলেমানুষরা এসব করে,এটা এমন কোন ব্যাপার না,এসব তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এত মাতামাতির কি দরকার।মার প্রশ্রয়ে সে দিন দিন খারাপ হচ্ছে।এগুলা নিয়ে জাহেদের সাথে প্রায় প্রতিদিনই তার ঝগড়া হচ্ছে।ঝগড়ার সময়ে শ্বাশুডি কোথায় তাকে সাপোর্ট করবে,তা না করে উল্টা বলে,এখনকার মেয়েরা অনেক খারাপ,স্বামীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে।চৈতি বুঝতে পারেনা এটা কোন ধরনের স্বাধীনতা যেখানে চরিত্র নষ্ট হচ্ছে দিন দিন।বরের সাথে রাগ করে চৈতি কতদিন না খেয়ে থাকে,শ্বাশুডি খবরও নেয়না খেয়েছে কি খায়নি।একি ঘরে থেকেও তার যেন কোন অস্তিত্ব নাই এখানে,ঘরের টেবিল,চেয়ার ফার্নিচারগুলার মতই তার অবস্হান,এর চাইতে বেশি কিছু না।চৈতি সবকথার পর যে কথাটা বলল তা যুথির মনকে নাড়া দিল,'যুথি আজকে আমি তোর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি তোর শ্বাশুডিকে এডিয়ে চলার কথা বলার জন্য।উনাকে শ্রদ্ধা করা উচিত।আল্লাহ যেন এরকম শ্বাশুডি সবাইকে দেয়।আজকে তুই একটা আদর্শ বর পেয়েছিস,যে কিনা আদবকায়দা আর চরিত্রের দিক থেকে অনেক উন্নত।এটাতে তোর কোন কৃতিত্ব নাই,তোর শ্বাশুডির সারাজীবনের সাধনার ফল এটা।তিনি উনাকে আদর্শভাবে গড়ে তুলে তোর হাতে তুলে দিয়েছেন।মনে হচ্ছে তোর শ্বাশুডির মত যদি একটা শ্বাশুডি পেতাম।তোর কত খেয়াল রাখে,কি খাবি না খাবি,কি পরবি না পরবি সব নিয়ে চিন্তা করে,যেটাতে তুই বিরক্ত হচ্ছিস।আর আমাকে সেটা করছেনা দেখে আমার দুঃখ।আমরা বুঝতে পারিনি উনাকে।তোদের জীবনের প্রত্যেকটা বিষয়ে উনার মাথা ঘামানোটা আসলে তোদের প্রতি উনার অতিরিক্ত ভালোবাসা।উনার আত্মতৃপ্তি উনি তোদের মাঝেই খুঁজে পায়।এই ভালোবাসাটা হারাতে দিসনা বন্ধু।যার মাথার উপর এরকম ভালোবাসার ছাতা আছে তাকে কোন ঝড়,তুফান ছুঁতে পারবেনা।আমি অসুখ হয়ে মরে পড়ে থাকলেও কারো কিছু যায় আসেনা।'চৈতির কথাগুলো শুনার পর থেকে যুথির মনটা অনেক খারাপ হয়ে আছে।অপরাধবোধও কাজ করছে তার মধ্যে।চিন্তা করে দেখল ভাইয়া বাসায় দেরী করে আসলে আম্মু অনেক বকাবকি করে।বিয়ের আগে যুথি ঘুম থেকে দেরীতে উঠলে তার আম্মুও তাকে বকা দিত।আম্মুর পছন্দ করা কাপড়ই সে পরত।তখনতো তার এগুলাকে অস্বাভাবিক কিছু লাগেনি।সেই একি কাজগুলো যখন শ্বাশুডি করেছে তখন তার বিরক্ত লেগেছে।আসলে দোষ তার নিজেরই।সে শ্বাশুডিকে নিজের মায়ের মত করে ভাবেনি।তাকে তার মায়ের জায়গায় রেখে দেখলে ব্যাপারগুলা তার কাছে নরমাল লাগত।এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে যুথি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।ডাক্তার এসে দেখে গেছে।ইনজেকশন দিয়ে গেছে,কিছুক্ষনের মধ্যে জ্ঞান ফিরে আসবে বলে গেছে।আনোয়ারা বেগম সারাক্ষন যুথির মাথার কাছে বসে দোয়াদরুদ পড়ে পড়ে ফুঁ দিচ্ছেন।মনে মনে তিনি অনেক কিছু মানত করেছেন।খারাপ ভাল যেমনি হোক ছেলের বউ তো মেয়ের মতই।তার এই মেয়েকে তিনি হারাতে চাননা।যুথি চোখ মেলে শ্বাশুডির উদ্বিগ্ন মুখটা দেখতে পায়।সে দেখে অজিফা নিয়ে শ্বাশুডি তার মাথার কাছে বসে দোয়া পড়ছে।চোখ মেলতেই যুথিকে জড়িয়ে ধরে।তার এই মমতা দেখে যুথির চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে।যুথির চোখে পানি দেখে আনোয়ারা বেগমের চোখেও পানি চলে আসে নিজের অজান্তে।এই কান্নাতে শ্বাশুডি বউ দুজনের এতদিনের জমানো দুঃখ,কষ্ট,মান,অভিমান সব ঝরে যেতে থাকে।কিছু কান্না কষ্ট বাড়ায় আর কিছু কান্না কষ্ট কমায়,এ কান্না বড় আনন্দের কান্না। -Rupa Rahman


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আত্মতৃপ্তি
→ # আত্মতৃপ্তি #

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now