বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"""আত্মার বাড়ি"""
•
প্রতিদিনের মত আজও তাওহীদের মায়ের ডাকে ঘুম ভাংগে। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে মসজিদে যায়, সেখানে আসরের নামাজ পড়ে। মসজিদ থেকে বের হয়ে নদীর পাড়ে আসে, তারপর সেখানে বন্ধু ও ছোট ভাইদের সাথে আড্ডা মারতে থাকে।
এই আড্ডার মাঝেই হঠাৎ তাওহীদ বলে, চল আমরা কোনো ভৌতিক জায়গা থেকে ঘুরে আসি। সবাই তার কথাতে সায় দেয়, কারণ প্রত্যেকেরেই এই একটা ইচ্ছা ছিল।
রাতে সবাই চিন্তা করে কোথায় যাবে? কখন যাবে? কিভাবে যাবে? পরদিন তারা ঠিক করে কোথায় যাবে, কখন যাবে এবং কিভাবে যাবে। পরদিন সবাই মিলে আলোচনা করে বাসা থেকে কি বলে বের হবে।
•
তারপর প্রত্যেকেই একটা মিথ্যা কথা বলে, বাসা থেকে বের হয়।
তারা মোট পাঁচ জন ছিল, তাওহীদ ও তার দুই বন্ধু(চাঁদ, আকাশ) আর তার দুই ছোট ভাই(আবির, নিলয়)
তাদের গ্রামের আরও দুইটা গ্রাম পরে একটা ভৌতিক বাড়ি আছে, ঐ বাড়িটাতেই তারা যাচ্ছে।
ঐ বাড়িটাতে যাওয়ার জন্য তাদের অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল। তাদের সেই ইচ্ছাটা পূরণ হতে চলেছে।
বাড়িটার বর্তমান নাম হল আত্মার বাড়ি, কিন্তু বাড়িটার এই নাম ছিল না। এই বাড়িটা ছিল জমিদার বাড়ি। তার একটা সুন্দর নাম ছিল, সেই নামটা হল শান্তির নীড়।
এই বাড়িটাকে নিয়ে তারা অনেক কথা শুনেছে, কিন্ত নিজের চোখে দেখতে পায়নি, তাই তারা ঠিক করেছিল নিজ চোখে দেখবে।
•
আত্মার বাড়ির কাছে যেতেই; এক লোকের সাথে তাদের দেখা হয়। সেই লোকটা বলে, বাবারা তোমরা কোথায় যাচ্ছ? তখন তাওহীদের বন্ধু চাঁদ বলে, আমরা ঐ বাড়িটাতে যাচ্ছি।
লোকটা বলে, তোমরা ঐ বাড়িটাতে যাইয়ো না, যাওয়ার পর মনে হয় ফিরে আর আসতে পারবে না।
কারণ অনেকেই দেখতে এসেছিল, তাদেরকেও না করেছিলাম, কিন্তু তারা কথা মানেনি, পরে তারাও আর ফিরে যেতে পারেনি।
আবির ছিল একটু ভীতূ টাইপের এ কথা শুনে, সে সবাইকে যেতে না করে। আবার তার বন্ধু নিলয় ছিল, তার থেকে সাহসী। সে বলে, আমরা যাবই কারো কোনো কথা শুনব না।
তখন তাওহীদের বন্ধু আকাশ বলে, তোদের আর ঝগড়া করতে হবে না, আমরা যাবই। তখন লোকটা আর কিছু বলেনি, যাওয়ার সময় একটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে যায়।
এই হাসিটা আবার কেউ দেখেনি, শুধু তাওহীদ দেখে। তাওহীদ আবার একটু অন্য রকমের, সে এই লোকের হাসিটার মানে খুঁজতে থাকে, কিন্তু খুঁজে আর পায় না। কে এই লোক! কেন হাসল! কেন এসব বলব!
এসব ভাবতে ভাবতে বাড়ির গেইটের কাছে চলে যায়। গেইটটা খুলে ভিতরে যেতেই একটা হালকা গরম ও ঠান্ডা বাতাস তাদের শরীরে বয়ে যায়।
•
তারা প্রত্যেকেই ভাবে এটা তাদের মনের ভুল। ধীরে ধীরে তারা বাড়ির কাছে যেতে থাকে, একটু পর পর সেই গরম ও ঠান্ডা বাতাসটা আসতে থাকে।
কখনো বাড়ির ভিতর থেকে, কখনো বাড়ির বাহির থেকে, মাঝে মধ্যে আবার একটা মেয়ের হাসি ও কান্নার আওয়াজ আসতে থাকে।
আবার বাড়ির পাশে ছিল বড় বড় গাছ, সে গাছ থেকেও বিভিন্ন ধরনের শব্দ আসতে থাকে।
এ-সব দেখে ও শুনে আবির বলে, তোমরা যাও আমি যাব না। আমাকে ছেড়ে দাও! আমি বাড়ি চলে যাব। তাকে শান্তনা দেওয়ার জন্য প্রত্যেকেই বলে, এসব কিছু না, সব আমাদের মনের ভুল। কিছুক্ষণ পরেই আবার সব উদাও হয়ে যায়।
কিন্তু তাওহীদের মনে একটা অজানা ভয় কাজ করতে থাকে, হঠাৎ ঐ বাড়ির ছাদে তাকাতেই ঐ লোকটাকে দেখে, যে লোকটার সাথে কথা হয়েছিল। এটা দেখে সে চমকে ওঠে; তার মনের মাঝে অজানা ভয়টা আরও বাড়তে থাকে।
প্রথমে দূর থেকে বাড়িটাকে মনে হয়েছে, অনেক অপরিষ্কার। কিন্তু বাড়িটার কাছে যেতে থাকে, বাড়িটাকে পরিষ্কার মনে হতে থাকে।
তারপর তারা বিকালের সময়টাতে, বাড়ি ও বাড়ির চারপাশটা ঘুরে ঘুরে দেখে। ঘুরার সময় কিছু জিনিস দেখে অনেক ভয়ও পায়।
চাঁদ একটু ভীতূ টাইপের ছিল, এতক্ষণ সে চুপ করেই ছিল; কিন্তু এ-সব দেখে সে বলে, চল আমরা বাড়ি চলে যায়। তা না হলে আজকে আমাদের কিছু একটা হয়ে যাবে!
তাকে আকাশ ও নিলয় থামিয়ে রাখে। আর তাওহীদ এসব বিষয় নিয়ে মনে মনে ঘাটতে থাকে।
•
পূর্ব আকাশে সূর্য অস্ত হতে থাকে, মসজিদে আযান দিতে থাকে, এদিকে আত্মার বাড়ির রূপ ও পরিবর্তন হতে থাকে। সন্ধার সাথে সাথেই একটা ভয়ংকর শব্দ শুরু হতে থাকে।
কখনো বাড়ির ছাদ থেকে, কখনো বাড়ির বাহির থেকে, কখনো আবার বাড়ির বিভিন্ন রুম থেকে।
এই শব্দের সাথে সাথে একটা মেয়ের কখনো কান্নার আওয়াজ, কখনো হাসির আওয়াজ, কখনো নৃত্যের আওয়াজ আসতে থাকে, তার সাথে বাড়ির রং ও পরিবর্তন হতে থাকে।
এ-সব দেখে ও শুনে তারা কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। তার কিছুক্ষণ পরেই সব কিছু থেমে যায়।
তখন আবির ওয়াশ রুমে যায়। রুমে যাওয়ার পরেই দেখে, তাওহীদ তার দিকে ভয়ংকর রূপ নিয়ে তাকিয়ে আছে। আবিরকে দেখিয়ে দেখিয়ে হাসে-কাঁদে আবার গলা ও ঘুরাতে থাকে, তা দেখে সে চিৎকার করতে চায় কিন্তু পারেনা, রুম থেকে বের হতে চায় তাও পারে না। কিন্তু এটা যে আত্মার আত্মা; সে বুঝতে পারছে না।
চাঁদ একটা মেয়েকে দেখে সব ভুলে গিয়ে ছাদে যেতে থাকে, মেয়েটা তাকে বলতে থাকে, আসো চাঁদ! আসো, আসো চাঁদ উপরে আসো।
কিন্তু এটা যে, আত্মার আত্মা; বুঝতে পারছে না। উপরে যেতেই তার লীলাখেলা দেখাতে থাকে।
তাওহীদ এই আত্মার রহস্য বের করতে বের হয়ে পরে, বাড়ির প্রত্যেকটা রুমে খুঁজতে থাকে, যদি কিছু পায়। নিলয় আর আকাশ বসে বসে তাদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।
•
হঠাৎ তারা বুঝতে পারে যে, তারা শূন্যের মাঝে ভাসতেছে। নিচের দিকে তাকাতেই দেখে, ভয়ংকর দুটি বড় বড় চোখ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
সাথে সাথে তারা ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে, আবার যখন চোখ খুলে দেখে কোন কিছুই নেই, যেভাবে তারা বসা ছিল সেভাবেই বসে আছে।
এটা কি হল! এটা নিয়ে তারা ভাবতে থাকে। তখনেই শুনতে পায় ওয়াশ রুমে বিকট শব্দ হচ্ছে; ওয়াশ রুমের দিকে তাকাতেই দেখে, ওয়াশ রুমের দরজাটা ভেসে ভেসে আসতেছে। এই দরজার উপরে আবিরকে দেখে নৃত্য করতেছে। এটা দেখে তারা ভয়ে আরও চুপসে যায়।
এমন সময় ঘরের সব লাইট বন্ধ হয়ে যায়। তখন শুনে আবির কাঁদতেছে, হালকা আলোতে তার দিকে তাকাতেই দেখে, পানির বদলে চোখ থেকে রক্ত বের হচ্ছে। তা দেখে তারা ভয়ে কাপতে থাকে।
আবির বলে, কিরে তোরা ভয়ে কাপতেছিস! কই আমি তো ভয় পাইনা, আমার মুখ থেকে তো আগুন ও বের হচ্ছে, আবার চোখ থেকে তো রক্ত ও বের হচ্ছে।
কথাটা বলে হা হা হা করে হাসতে থাকে, তখন তার মুখ থেকে আগুন ও রক্ত এক সাথে বের হতে থাকে। তার কিছুক্ষণ পরেই সে মাটিতে লুটিয়ে পরে।
তখন ঘরের লাইট একবার জ্বলতে থাকে, আর একবার নিভতে থাকে। আবার আগের মত ঘরের রং পাল্টাতে থাকে।
এমন সময় দেখে, চাঁদ তার চোখ দুটু হাতে নিয়ে ও পা উপরে মাথা নিচে দিয়ে আসতেছে। তার মাথা থেকে রক্ত বের হয়ে পা পর্যন্ত ওঠে তারপর আবার মাটিতে পড়তেছে। এটা দেখে তারা আর ঠিক থাকতে পারেনি, জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
•
তাওহীদ একটা রুমের কাছে যাওয়া মাত্রই শুনে, ঐ রুম থেকে নৃত্যের শব্দ আসতেছে। সে আস্তে আস্তে রুমের দরজাটা খুলে কিন্তু দেখে রুমে কোনো কিছুই নেই। তখন পাশের রুম থেকে হাশির শব্দ আসতে থাকে, পাশের রুমে যাওয়ার পরেও কিছু পায় না।
আবার তার পাশের রুম থেকে কান্না ও হাসির শব্দ আসতে থাকে, এভাবে দেখতে দেখতে বাড়ির প্রত্যেকটা রুমেই দেখে, কিন্তু আত্মার খোঁজ আর পায় না। সে আস্তে আস্তে বাড়ির পিছনে যে চলে এসেছে, বুঝতেই পারেনি। হঠাৎ তার চোখ পড়ে একটা ঘরের উপর।
সেই ঘর থেকে একটা চাপা কান্নার আওয়াজ আসতে থাকে। সেই ঘরটাতে যাওয়ার জন্য দরজা খুঁজে কিন্তু দরজা আর পায় না। হঠাৎ ঘরের উপরের দিকে তাকাতেই দেখে, ঘরের উপর থেকে রক্ত পড়তেছে। এটা দেখে স্বব্ধ হয়ে যায়, একটু পরেই শুনে ঐ ঘরে হাসির শব্দ। এ-সব দেখে ও শুনে চলে যেতে চায়; ঠিক তখনেই দরজা খোলার শব্দ শুনে। পিছনে ফিরে রুমের দিকে তাকাতেই দেখে, কালো অন্ধকার রুমে একটা ছায়া মূর্তির মত কে যেন বসে আছে।
•
আসতে আসতে আকাশ, নিলয়, আবির ও চাঁদদের জ্ঞান ফিরতে থাকে। নিলয় আবিরের দিকে ভয় ভয় চোখে তাকিয়ে থাকে, আর আকাশ চাঁদের দিকে ভয় ভয় চোখে তাকিয়ে থাকে।
তখন আবির ও চাঁদ এক সাথে বলে, আমরা এখানে কেন? আর তোমরা এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? তারা ভয়ে এখনো কিছু বলতে পারছে না। আকাশ আর নিলয় রুমের চারপাশটা চোখ বুলিয়ে দেখে যে, রুমের সব কিছু আগের মতই আছে।
মনে মনে বলে একটু আগে কি দেখলাম? আর এখন কি দেখছি! তখন চাঁদ বলে তাওহীদ ভাই কই? ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখে ১১ টা বাজে তারপর তারা তাওহীদকে খুঁজতে থাকে।
•
মনে মনে তাওহীদ ভাবে সে কি করবে! তখন দেখে ঘরটা ধীরে ধীরে হালকা আলোতে ভরে যাচ্ছে, তারপর দেখে ছায়া মূর্তিটা তার দিকে তাকিয়ে আছে।
সে দেখে যে, তার চোখ গুলো লাল বর্ণে পরিনত হচ্ছে। তারপর উঠে তার চারপাশে ঘুরতে থাকে, তাকে দেখতে থাকে। তাওহীদ কি বলবে! কি করবে! বুঝতে পারছে না, শুধু নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে।
আত্মাটা বলতে থাকে,
কিরে তোদেরকে মানা করেছিলাম না? এই বাড়িতে না আসতে তবুও কেন আসলি? তোকে ছাদ থেকে ইশারাও তো করেছিলাম না আসার জন্য তবুও কেন আসলি বল? এই চুপ করে থাকিস না, কথা বল। কথা বলছ না কেন?
ও তুই তো আত্মার রহস্য বের করতে এসেছিস তাই না! তা তোর আত্মার রহস্য বের হইছে? বলেই হা হা হা করে অট্ট হাসি দিতে থাকে।
তারপর তাকে গলায় ধরে শূন্যে তুলে তার চোখের দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তাওহীদ বলে, তোমার এই তাকানো আমি সহ্য করতে পারছি না, দয়া করে আমাকে মেরে ফেলো না হয় ছেড়ে দাও! এই কথা শুনে তার আরও রাগ ওঠে
তখন তাকে উপর থেকে ছুরে ফেলে দেয়। সে গিয়ে কাচের উপর পরে তাতে সে ব্যাথায় চিৎকার করতে থাকে।
•
তাওহীদ! তাওহীদ! ভাই বলে, তারা ডাকতে থাকে, কিন্তু তার কোনো খবর নেই। ডাকতে ডাকতে তারাও বাড়ির পিছনে চলে আসে। তারা আসার আগেই তাওহীদের শরীরে আত্মাটা ডুকে যায়। তারা আস্তে আস্তে দরজার সামনে চলে আসে, তারপর হালকা আলোতে দেখে তাওহীদ কাঁদতেছে।
তার ছোট ভায়েরা ও বন্ধুরা তার কাঁদে হাত রাখতেই বড় বড় রক্ত মাখা চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারা ভয়ে পিছনে চলে যায়, যখনেই কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনেই চার জনকে চারদিকে ছুরে ফেলে দেয়।
তারা ব্যাথায় চিৎকার করতে থাকে, তারা আবার আসলে আবার তাদেরকে ছুরে ফেলে দেয়।এভাবে অনেকটা সময় চলে যায়।
তারপর ভ্যাম্পায়ারের মত চিৎকার দিয়ে দাঁত বের করে এক এক জন করে চার জনেরেই গাড় থেকে রক্ত চুষে খায়।
তারপর তার দেহ থেকে আত্মাটা চলে যায়। তারপর আত্মাটা বলে, এখন তোর পালা। তাওহীদ স্বাভাবিক হয়ে দেখে ঘরে চারটা লাশ পড়ে আছে। তাদেরকে দেখে সে স্বদ্ধ হয়ে যায়। এমন সময় আত্মাটা তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে।
•
- আমাকে তো মারবেনেই তাই না? মারার আগে আমার দুইটা কথা রাখবেন!
- বল কি কথা
- আমার বাড়িতে খবর পাঠিয়ে বলবেন যে, আপনার ছেলে তাওহীদ মারা গেছে (ফারাহ এই কথাটা শুনে অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকে) আর আপনার এই আত্মার রহস্য কি! তখন সে দেখে ফারাহর চোখ দিয়ে জল পরতেছে, কি কারণে পরতেছে বুঝতে পারতেছে না।
- আমি কি কারণে কাঁদতেছি বুঝতে পারছো না! কি কারণে রক্ত চোখ জলে পরিনত হল বুঝতে পারছো না। তাহলে শুনো এই আত্মার কাহিনী আর এই বাড়িটা কেন হল আত্মার বাড়ি।
•
অনেক বছর আগে এক রাজার ছেলেকে ভালোবাসতাম। আমি বাবাকে বললে বাবা এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তাকে ভালোবাসি বলে আমাকে শাস্তি দিত।
কোনো এক কারণে তার বাবার সাথে আমার বাবার ঝগড়া হয়েছিল, তারপর থেকেই তারা একে অপরকে দেখতে পারত না। কিন্তু আমি সেটা জানতাম না, আমাকে শাস্তি দেওয়ার কথা শুনে; ঐ চলে আসে আমাকে নিয়ে যেতে। তার সাথে অনেক যুদ্ধ হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে পারেনি।
কারণ আমাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়েছিল,
তারপর আমাকে ও তাকে অনেক শাস্তি দিয়েছিল। আমার সামনে তাকে কত ভাবে যে কষ্ট দিয়েছে, তা বলে বোঝাতে পারব না, সে শুধু আমার চোখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করে নিয়েছে, আর চোখের জল ফেলেছে। শেষ পর্যন্ত আমার চোখের সামনে তাকে আগুন দিয়ে পুড়ে মেরেছে।
বাবাকে কতবার না করেছি; তাকে না মারতে, তাকে ছেড়ে দিতে, কিন্তু বাবা আমার কোনো কথাই শুনেনি, মানেও নি। তার এই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আমি আত্ম হত্যা করি।
তারপর আত্মা হয়ে সবাইকে মেরে ফেলি। পরে এই শান্তির নীড় হয়ে যায় আত্মার বাড়ি।
•
এসব কথা শুনে, তাওহীদের চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে। ঐ দিনেই শপথ করেছিলাম যেদিন তার নামের সাথে অন্য কোনো ছেলের নাম মিলবে এবং এই ভাড়িতে আসবে সেদিনেই আমার আত্মাকে মৃত্যু দেওয়া হবে। তারপর অসহায়ের মত তার দিকে তাকিয়ে বলে
তাওহীদ আমাকে একটু ভালবাসা দিবে! একটু ভালবাসা! আমি শুধু একটু ভালবাসার কাঙ্গাল, দিবে আমাকে একটু ভালবাসা! শুধু একটি বার তোমার কপালে চুমু খেতে চাই! তার বিনিময়ে চুমু পেতে চাই, আর শুধু একটি বারের জন্য তোমাকে জড়িয়ে দরতে চাই! দিবে না তাওহীদ, দিবে না বল?
তাওহীদ কি বলবে বুঝতে পারছে না, যদি না দেও তাহলে জোর খাঠাব না। তোমার সাথে না জেনে না বোঝে যে অন্যায় করেছি; তার জন্য নিজেই এখন অনেক কষ্ট পাইতেছি।
শুধু একটা আপসোসেই থাকবে তোমাকে একটি বারের জন্য মন থেকে স্পর্শ করতে পারলাম না।
তাওহীদ ফারাহকে ভেজা ভেজা চোখে ইশারা করতেই; তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে।
তারপর তার কপালে চুমু দেয় ও তার চোখ দুটু মুছে দেয়। তাওহীদ ও তার মত কপালে চুমু দেয় ও তার চোখ দুটু মুছে দেয়।
পাশে ফিরে দেখে তার দুই বন্ধু ও দুই ভাই বসে বসে তাদের কথা শুনতেছে আর কাঁদতেছে (তাদেরকে দেখে তাওহীদ অবাক দৃষ্টিতে ফারাহর দিকে তাকিয়ে থাকে, ফারাহ চোখেই সব বুঝিয়ে দেয়) ফারাহ হাতে ইশারা করতেই তারা কাছে যায়, সে তাদের চোখের পানিও মুছে দেয়।
তখন ফজরের আযান পড়তে থাকে, তাওহীদ ও তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সারা জীবনের জন্য আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেতে থাকে।
.
বিঃদ্রঃ গল্পটা কল্পনা থেকে নেওয়া হয়েছে।গল্প পড়ে যদি পাঠকরা গল্পটার দোষ গুণ ধরিয়ে দেয় তাহলে লেখক-লেখিকারা কিছু শিখতে পারে।আপনারা বেশী বেশী গল্প পড়েন আর লেখক-লেখিকাদের ভুল ত্রুটি গুলো ধরিয়ে দেন।
•
লিখাঃ MD Mahmudur Rahman Tauhid
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now