বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আকাশ দৌড়ে এসে রুমের
দরজা বন্ধ করে,
বউকে জড়িয়ে ধরে বললো,- আমি একটা
কাজ
করে ফেলছি জান!
বউ:- কি এমন মহৎ কর্ম সাধন করছো হুনি!
স্বামী:- আমি একজনরে খুন করছি!
বউ:- বলো কি ?
স্বামী:- হুম, মাইরা আমাদের পুকুর পাড়ে
মাটি চাপা দিয়া
রাখছি।
বউ:- চুপ, বাতাসেরও কান আছে, চুপচাপ
থাকো।
এবার আকাশ তার মায়ের কাছে এসে
ঘটনাটা বলতেই,
মায়ের হৃদয়টা হায়হায় করে উঠলো। মা
ভাবলো,- এই
কথা যদি জানাজানি হয়, তাহলে তো
আমার ছেলের
জেল ফাস হবে, আমি আমার সন্তানের সেই
কষ্ট
কিভাবে সহ্য করবো"। মা আকাশের হাত
মায়ের
মাথায় রেখে বললো,- দিব্যি করে বল, এই
কথা
আর কারো কাছে বলবি না"। আকাশ
মায়ের মাথায় হাত
রেখে দিব্যি করলো।
কিছুদিন পরে আকাশ তার মা আর বউ,
দুজনের সাথে
দুর্ব্যবহার করতে শুরু করলো। মা আকাশের
দেয়া
সমস্ত কষ্ট গুলো চোখের জলে ভাসিয়ে
দিয়ে, আকাশের মঙ্গল কামনা করলো।
কারণ প্রতিটি
সন্তান তার মায়ের কাছে চিরদিনই অবুঝ।
একদিন বউয়ের সাথে ঝগড়া বাধিয়ে
আকাশ বউয়ের
গালে একটা থাপ্পর মারলো। সঙ্গে সঙ্গে
বউ
একলাফে উঠোনে নেমে বললো,- ওরে
গোলমার পুত, আমার গায়ে হাত তুললি,
অনেক সহ্য
করছি, আর না, এবার একটা হ্যাস্তন্যাস্ত
কইরাই ছাড়মু।
আকাশ ইচ্ছা করেই বউয়ের গালে আবার
থাপ্পর
মারলো। এবার বউ ৭০০ কিলোমিটার বেগে
ছুটে
চললো থানার উদ্দেশ্যে। একটু পরেই
দারোগা
এসে আকাশের হাতে হাতকরা পরালো।
আকাশ
অবাকহয়ে দারোগাকে প্রশ্ন করলো,- কি
ব্যাপার
স্যার, আমার হাতে হাতকরা পরালেন
ক্যানো?।
দারোগা:- ও, এখন তুমি কিছুই যানোনা
চাঁদু !
আকাশ:- কি এমন ঐতিহাসিক কর্ম করলাম
আমি স্যার ?
দারোগা:- ঠান্ডা পরিবেশে পশ্চাতে
ডান্ডার পরস
দিলেই, শুর শুর কইরা সব মনে পইরা
জাইবোআনে
বাছাধন!
আকাশ:- একটু বলেননা স্যার।
দারোগা:- খুন কইরা পুকুর পাড়ে মাটিচাপা
দিয়া রাখছো,
মনে নাই।
আকাশ ফ্যালফ্যাল করে বউয়ের দিকে
তাকালো।
বউ ঠোঁট বেকিয়ে বললো,- এইবার বুঝবি
মজা
কপাল পোড়া, দারোগা বাবু থানায় নিয়া
যখন পেটের
চর্বি নিষ্কাশন করবে, তখন টের পাবি
আমার গায়ে হাত
তোলার মজা"। আকাশের মা এসে কান্নায়
ভেঙে
পরে দারোগাকে বললো,- আমার ছেলেকে
ছাইরা দেন স্যার, আপনার পায়ে পড়ি,
আমার ছেলে
এমন কাজ করতেই পারেনা, ওর কিছু হইলে
আমি
বাচমুনা স্যার"। আকাশের বউ দারোগাকে
নিয়ে পুকুর
পাড়ে এলো, যেখানে মাটিচাপা দেয়া
হয়েছিলো
সেখানো। দারোগা তার লোকদের মাটি
খোড়ার
নির্দেশ দিলেন। মাটি খোড়ার শেষে
বেরিয়ে
এলো একটি কুকুরের মৃত দেহ। সবাই অবাক।
দারোগা আকাশের হাতকরা খুলে, মুচকি
হেসে,
চোখের ইসারায় জানতে চাইলো, বিষয়টা
কি। আকাশ
বললো,- স্যার, বহুদিন আগে এক মুরব্বিকে
প্রশ্ন
করেছিলাম,- কার ভালোবাসা নিখুঁত,
মায়ের না
বউয়ের"। তিনিই আমাকে এই বুদ্ধি
দিয়েছিলেন,
যাতে আমি নিজেই প্রমাণ করে দেখতে
পারি। তার
কথামতো কুকুরটা মেরে মাটিচাপা
দিয়েছিলাম।
তারপরে জা ঘটলো, তা সবই তো আপনি
নিজের
চোখে দেখলেন স্যার। দারোগা আকাশের
কাধে চাপড় দিয়ে বললো,- আজ আবারও
তুমি প্রমাণ
করলে আকাশ, মায়ের ভালোবাসা নিখুঁত,
নির্ভেজাল,
সত্যিই আমি তোমার উপরে গর্বিত........।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now