বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আসিফের সারাদিন কিছুই করার ছিল না। অনেক দিন পর দুপুরে টানা ঘুম দিল। ঘুম থেকে জেগে৷ উঠে মনে হল। লীনার সঙ্গে শেষবারের মত দেখা করে এলে কেমন হয়। এই চিন্তাও দীর্ঘস্থায়ী হল না। লীনার কাছে যাওয়া মানেই এমন অনেকের সঙ্গে দেখা হওয়া, যাদের সঙ্গে তার ভাল লাগে না। তারচে লীনা নেই, এই ধরনের বিরহ ভাল লাগছে।
বেনু যত্নের চূড়ান্ত করছে। দুপুরে সাত-আট পদের রান্না করেছে। এর মধ্যে জিরা-মাংসও ছিল। খেতে মোটেই ভাল হয়নি, তবু আসিফ যখন বলল, বাহ, এরকম কখনো খাইনি তো! এতেই বেনুর চোখে পানি এসে গেল। বড় ভাল লাগল আসিফের।
ঘুম ভেঙে বিছানায় উঠে বসবার আগেই বেনু এসে উপস্থিত। ট্রেতে করে চা-লুচি হালুয়া নিয়ে এসেছে। তার মুখ হাসি হাসি। তাকে দেখে কে বলবে এই মেয়ে সকালে কেঁদে কেটে কি কাণ্ড করেছে।
চায়ে চিনি মেশাতে মেশাতে বেনু বলল, এইবার আপনাদের নাটক দেখব ভাইজান।
অবশ্যই দেখবেন। আমি নিয়ে যাব।
আপনাকে কতবার বলছি ভাইজান, আমারে তুমি করে বলবেন। আপনারে আমি বড় ভাইয়ের মত দেখি।
আচ্ছা বলব। তোমাদের ঝগড়া মিটে গেছে?
বেনু জবাব দিল না। লজ্জিত মুখে হাসল।
লুচিটা গরম গরম ভাঁজছি ভাইজান। একটু খান।
পেটে একদম জায়গা নেই।
কিছু হবে না ভাইজান, খান। একটা খান। একটা লুচিতে কি হয়? কিছু হয় না। সন্ধ্যা মেলাবার পরপরই আসিফ রিহার্সেলে উপস্থিত হল। আজ একটা ফুল রিহার্সেল হবার কথা। কাটায় কাটায় সাতটায় রিহার্সেল শুরু হবে, এর রকম কথা।
আসিফ দেখল। সবাই প্রায় এসে গেছে। সবার মুখই বেশ গম্ভীর। বজলু বললেন, বিরাট প্রবলেম হয়েছে আসিফ।
কি প্রবলেম?
ঐ মেয়েকে নিয়ে প্রবলেম। পুষ্প।
কি প্রবলেম?
মেয়ে জানিয়েছে অভিনয় করবে না।
সে কি!
এইসব চেংড়ি-ফেংড়ি নিয়ে এখন তো দেখছি গভীর সমুদ্রে পড়লাম। কি করা যায় বল তো?
অভিনয় করবে না কেন?
তাও তো জানি না। মীনা ফিরে আসার পর আমি নিজেই গেলাম, বুঝলে–আমরা যেমন অবাক, ওদের বাসার লোকজনও অবাক। আমার প্রায় কেঁদে ফেলার মতো অবস্থা, বুঝলে। আমার অবস্থা দেখে পুষ্পের বাবা নিজেই বললেন, শেষ সময়ে তুমি তাদের অসুবিধায় ফেলছি, এটা তো ঠিক না। অন্যায়। খুবই অন্যায়।
পুষ্প কি বলল?
কিছুই বলে না। মাথাটা বাঁকা করে দাঁড়িয়ে আছে। কিছু বললেই বলে–না। আমার ইচ্ছা! করছিল চড় দিয়ে বাঁদীর নখরামী ঘুচিয়ে দিই।
বজলু রাগে চিড়বিড় করতে লাগলেন। থমথমে গলায় বললেন, তুমি একটু আমার সঙ্গে বারান্দায় আসতো। আড়ালে তোমার সঙ্গে দু’একটা কথা বলব।
আসিফ বারান্দায় গেল। বজলুসাহেব তিক্ত গলায় বললেন, তুমি একবার যাও। তুমি গেলে আসবে।
আমি গেলে আসবে কেন?
তুমি গেলে সে কেন আসবে সেটা তুমি নিজেও জানো, আমিও জানি। খামোখা কথা বাড়িয়ে লাভ আছে? তুমি তাকে নিয়ে আস–তারপর এই শোটাি পার হলে মেয়েটাকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলেই হবে। এই যন্ত্রণাটা পার হোক। যাও, জলিলের গাড়ি আছে। গাড়ি নিয়ে যাও।
আজি থাক। আরেক দিন যাব।
আজই যাও। এটা ফেলে রাখার ব্যাপার না। তুমি এক্ষুণি যাও।
যাওয়াটা কী ঠিক হবে?
ঠিক হবে না বেঠিক হবে এটা নিয়ে পরে বিচার-বিবেচনা করা যাবে। তুমি কথা বাড়িও না, যাও।
পুষ্পের বাবা আসিফকে বললেন, আপনি বসুন, আমি দেখি মেয়েকে আনা যায় কি না। সে দরজা বন্ধ করে বসে আছে। মেয়েকে অভিনয় করতে পাঠিয়েও এক যন্ত্রণার মধ্যে পড়লাম।
আসিফ বলল, আমি খুব লজ্জিত, আপনাদের অসুবিধায় ফেলালম। অবস্থা এমন যে, পুষ্প না এলে আমাদের নাটক বন্ধ করে দিতে হবে। চালিয়ে নিতে পারে, এ রকম দ্বিতীয় কেউ নেই।
বসুন চা খান। দেখি কি করা যায়।
হুমায়ূন আহমেদ
( চলবে )
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now