বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

(আসহাবে কাহফ):::

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Raz Khan (০ পয়েন্ট)

X (আসহাবে কাহফ)::: আমাদের আজকের গল্পের বিষয় আসহাবে কাহফ। গল্প বলছি বলে যেনো একে শুধু কল্পকাহিনী বা গল্পই মনে করো না। এ হচ্ছে সত্য কাহিনী। ঘটনাটি ঘটেছিল এফিসুস নগরীতে এখানে ডায়না দেবীর পূজা হতো। ডায়নার সুবিশাল মন্দিরকে সেই যুগের দুনিয়ার অত্যাশ্চর্য বিষয় বলে মনে করা হতো। এশিয়া মাইনরের লোকেরা তার পূজা করতো। রোমান সাম্রাজ্যও ডায়নাকে পূজনীয় দেবী হিসেবে গ্রহণ করে। হযরত ঈসা (আ.)-এর আগমন ও তিরোধানের পর তার দাওয়াত যখন রোম সাম্রাজ্যে পৌঁছাতে শুরু করে তখন অনেকের মতো এ শহরের কয়েকজন তরুণ যুবক শিরক থেকে তওবা করে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে। তারা ছিল সাতজন অবিবাহিত যুবক। তাঁদের ধর্মান্তরের কথা শোনে কাইজার ডিসিয়াস তাদের ডেকে পাঠায় নিজের কাছে। রাজ দরবারে। কাইজার যুবকদের জিজ্ঞেস করে তোমাদের ধর্ম কি? যুবকরা জানতো কাইজার ঈসার (আ.) ঘোর দুশশন এবং তাঁর অনুসারীদের রক্ত পিপাসু। কিন্তু যুবকরা অন্তরে কোনো প্রকার ভয়ভীতি না রেখে পরিষ্কার বলে দিল “আমাদের রব তিনিই যিনি আকাশ ও পৃথিবীর রব। তিনি ছাড়া অন্য কোনো মাবুদকে আমরা ডাকি না। আমরা তাঁর সাথে কাউকে শরিক করি না ...” কাইজার চিৎকার করে উঠলো। ভীর্ষণ ক্রুদ্ধ হয়ে বললো “তোমাদের মুখ বন্ধ করো নইলে এখনই তোমাদের হত্যা করবো।” যুবকরা থেকে গেলো। কাইজার কিছুক্ষণ অগ্নিদৃষ্টিতে সত্যের সেনানী এই তরুণ কয়টির উজ্জ্বল দীপ্তিমান মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। তার পর বললো “তোমারা এখনও শিশু তাই তোমাদের দয়া করলাম। তোমাদের তিনদিন সময় দিলাম। ইতোমধ্যে যদি তোমরা মত বদলে ফেলো। জাতির ধর্মের দিকে ফিরে আসো। ডায়না দেবীর পূজা দাও- তার সেবক হয়ে যাও, তাহলে তো ভালো- আর তা যদি না করো তিনদিন পর তোমাদের শিরচ্ছেদ করা হবে।” তারা তাদের মহল্লায় ফিরে এসে কি করা যায় তার পরামর্শ করে। তাদের আত্মীয়-স্বজনরা তাদের দেবী ডায়নার আশ্রয়ে ফিরে আসতে বলে। কিন্তু তারা কিছুতেই কুফরীর দিকে ফিরে যেতে রাজি হয় না। তিনদিনের অবকাশের সুযোগে তারা শহর থেকে বেড়িয়ে পড়ে। পাহাড়ি পথ ধরে তারা চলতে থাকে। পথে একটি কুকুর তাদের সাথে চলতে থাকে। তারা কুকুরটিকে তাদের পিছু নেয়া থেকে বিরত রাখার জন্য অনেক চেষ্টা করে। কিন্তু কুকুরটিকে তারা কিছুতেই ফেরাতে পারে না। অবশেষে একটি বড় বিস্তৃত গুহায় তারা আত্মগোপন করে। আরবিতে বড় গুহাকে বলে কাহফ। কুকুরটি গুহার মুখে বসে পড়ে। দারুণ কান্ত পরিশ্রান্ত হওয়ার কারণে যুবকরা প্রায় সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়ে। এই ঘটনা ঘটে ২৫০ খ্রিস্টাব্দে। আর ১৯৭ বছর পর ৪৪৭ খ্রিস্টাব্দে তারা জেগে ওঠে। তখন ছিল কাইজার দ্বিতীয় থিয়োডোসিসের শাসনামল। রোম সাম্রাজ্য তখন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিল এবং এফিসুস শহরের লোকেরাও মূর্তিপূজা করতো না। রোম সাম্রাজ্যে তখন মূর্তি পূজা বন্ধ হলেও তাদের ঈমানের মধ্যে অনেক ত্রুটি ঢুকে গিয়েছিল। তারা অনেকেই মৃত্যুর পরের জীবন এবং কিয়ামতের দিন হাশরের মাঠে সমস্ত মানুষকে একত্রিতকরণ ও হিসেব নিকেশ হওয়া সম্পর্কে মতবিরোধ করছিল। তৎকালীন কাইজার ছিলেন ন্যায়পরায়ণ এবং অত্যন্ত ধার্মিক ব্যক্তি। আখেরাত অস্বীকারের ধারণা দেশের লোকদের মন থেকে কিভাবে দূর করা যায় এবং কিভাবে তাদের মনকে আখেরাতমুখী করা যায় এ বিষয় নিয়ে কাইজার বেশ চিন্তিত ছিলেন। একদিন তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, “হে মহান রব! আমার দেশের মানুষদের আপনি এমন একটি নিদর্শন দেখান যাতে তারা আখেরাতের প্রতি বিশ্বাসী হয়।” ঠিক এ সময়েই এই যুবকরা জেগে ওঠে। জেগে উঠেই তারা একজন আর একজনকে জিজ্ঞেস করে আমরা কতোক্ষণ ঘুমিয়েছি? আল কুরআনের ভাষায়, “আর এমনি বিস্ময়কর আমি তাদের উঠিয়ে বসালাম। যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। তাদের একজন জিজ্ঞেস করলো : বলোতো কতক্ষণ এ অবস্থায় আছি? অন্যেরা বললো হয়তো একদিন বা এর থেকে কিছু কম সময় হবে। তারপর তারা বললো “আল্লাহই ভালো জানেন, আমাদের কতটা সময় এভাবে অতিবাহিত হয়েছে। চলো এবার আমাদের মধ্য থেকে কাউকে রূপার মুদ্রা দিয়ে শহরে পাঠাই এবং সে দেখুক সবচেয়ে ভালো খাবার কোথায় পাওয়া যায়। সেখান থেকে সে কিছু খাবার নিয়ে আসুক; আর তাকে একটু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আমাদের এখানে থাকার ব্যাপারটা সে যেন কাউকে জানিয়ে না দেয়। যদি কোনোক্রমে তারা আমাদের নাগাল পায় তাহলে হয় প্রস্তারাঘাতে হত্যা করবে অথবা আমাদের জোর করে তাদের ধর্মে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে আর এমন হলে আমরা কখনো সফলকাম হতে পারবো না। (সূরা কাহফ-১৯-২০) এরপর তারা তাদের মধ্য থেকে জেন নামে একজনকে কয়েকটি রূপার মুদ্রা দিয়ে খাবার কিনতে শহরে পাঠায়। আরো বলে, ‘‘জেন সাবধান, খুব সতর্কভাবে যাবে। লোকেরা যেনো তোমাকে চিনতে না পারে। কেউ জানতে পারলে আর উপায় নেই। কাইজার তো আমাদের হন্যে হয়ে খুঁজছে। নিশ্চয়ই এতক্ষণ আমাদের ধরার জন্য কাইজারের সৈন্যরা ঘুরছে।” আর একজন বললো, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, ডায়নার ভক্তরাও আমাদের দেখলে ছাড়বে না।” জেন ভয়ে ভয়ে শহরে পৌঁছে অবাক হয়ে গেলো। দেখলো দুনিয়া একদম বদলে গেছে। জনগণ সব ঈসায়ী হয়ে গেছে। ডায়না দেবীর নাম গন্ধও কোথাও নেই। একটা দোকান থেকে সে কিছু খাবার কেনে। দোকানদার তার পোশাক দেখে অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। জেন খাবার কিনে দোকানদারকে একটি রূপার মুদ্রা দেয়। এ মুদ্রার গায় কাইজার ডিসিয়াসের ছবি ছাপানো। বিস্ময়ে হতবাক দোকানদার। সে জিজ্ঞেস করে, এ মুদ্রা কোথায় পেলে?” জেন বলে “এ আমার নিজের টাকা অন্য কোথাও থেকে নিয়ে আসিনি।” দোকানদার বলে “দুইশ’ বছর আগের এই টাকা তোমার হয় কি করে?” বিস্ফোরিত চোখে জেন বলে “তার মানে? কি বলছ তুমি?” দোকানদার বলে “আমারও তো সেই কথা কি বলছ তুমি? আর তুমিই বা কে?” দোকানের সামনে লোকের ভীড় জমে ওঠে। একজন দৌড়ে যেয়ে শহরে কোতোয়ালকে খবর দেয়। কোতোয়াল সব শোনে বলেন, “নিশ্চয়ই এ লোক কোনো গুপ্তধনের খবর জানে। চলো, এই গুপ্তধন যেখান থেকে এনেছো সেইখানে আমাকে নিয়ে চলো।” জেন বলে, “কিসের গুপ্তধন? এতো আমার নিজের টাকা। কোনো গুপ্তধনের কথা আমার জানা নেই।” কোতোয়াল বলেন, “তোমার এ কথা তো মেনে নেয়া যায় না। কারণ তুমি যে টাকা এনেছো এতো কয়েকশ’ বছরের পুরানো। তুমি তো এক যুবক ছেলে আমাদের বাপ দাদাও এ মুদ্রা দেখেনি। নিশ্চয়ই এর মধ্যে কোনো রহস্য আছে। কাইজার ডিসিয়াস তো মারা গেছে প্রায় দুশ’ বছর আগে।... জেন বিস্ময়াভিভূত হয়ে বসে পড়ে। কিছুক্ষণ পর্যন্ত তার মুখ দিয়ে কোনো কথাই সরে না। তারপর আস্তে আস্তে বলে, “এই তো মাত্র কালই আমি এবং আমার ছয়জন সাথী কাইজার ডিসিয়াসের ভয়ে এই শহর থেকে পালিয়ে গিয়েছিলাম এবং ডিসিয়াসের জুলুম থেকে আত্মরক্ষা করার জন্য একটা গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলাম।” জেনের কথা শোনে কোতোয়াল এবং জনগণ যারপরনাই অবাক হন। কোতোয়াল জেনকে নিয়ে যেখানে তার কথামতো আরো ছয়জন লুকিয়ে আছে সেই গুহার দিকে যান। বিপুল সংখ্যক জনতা তাদের সাথে যায়। তারা যে যথার্থই কাইজার ডিসিয়াসের আমলের লোক সেখানে পৌঁছে এ ব্যাপারটি পুরোপুরি প্রমাণ হয়ে যায়। এই ঘটনার খবর কাইজার থিয়োডোসিসের কাছে পাঠানো হয়। কাইজার তার আমাত্যবর্গ নিয়ে তাদের সাথে দেখা করতে আসেন। জোর হাত করে বলেন, “আপনারা আমাদের পূর্ব পুরুষ এবং পূর্বসূরী। আপনারা সত্য ধর্ম গ্রহণ করে মুশরিক ডিসিয়াসের ভয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। মহান রব তাঁর নিদর্শন হিসেবে আমাদের সামনে আপনাদের উপস্থিত করেছেন। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করেন যেন আমরা আল্লাহ এবং আখেরাতের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাসী হই।” তারপর তারা সাতজন গুহার মধ্যে যেয়ে আবার শুয়ে পড়ে এবং মারা যায়। এই সুস্পষ্ট নিদর্শন দেখে লোকেরা যথার্থই মৃত্যুর পরে জীবন আছে বলে বিশ্বাস করে। এই ঘটনার পর কাইজারের নির্দেশে গুহায় একটি ইবাদাতখানা নির্মাণ করা হয়। মহান রাব্বুল আলামীন আল কুরআনে বলেন, “এভাবে আমি নগরবাসীদের তাদের অবস্থা জানালাম। যাতে লোকেরা জানতে পারে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামতের দিন নিশ্চিতভাবেই আসবে। সে সময় তারা পরস্পর এ বিষয়টি নিয়ে তর্কে লিপ্ত হয়েছিল যে এদের (আসহাবে কাহফ) ব্যাপারে কি করা যায়? কিছু লোক বললো “এদের ওপর একটি প্রাচীর নির্মাণ করো। এদের রবই এদের ব্যাপারটি ভালো জানেন। কিন্তু তাদের বিষয়াবলীর ওপর যারা প্রবল ছিল (রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাসীনরা) তারা বললো, “আমরা অবশ্যই এদের ওপর একটা ইবাদাতখানা নির্মাণ করবো।” (সূরা আল কাহফ-২১)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ (আসহাবে কাহফ):::

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now