বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আর্তনাদ

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X - - সৃতির পাতায় আজ ধূলি মাখা,কোন নীল কাব্য নেই।আয়নায় জরুল ধূলি,মুছে দেওয়ার ব্যাক্তিত্বতাটাও কেউ নিতে চাইনি।স্বপ্নের মাঝে আর্তনাদের কষ্ট মাখা কিছু অসম্পূর্ণতা,বাস্তবতায় ভির করেছে অবহেলা নাম শব্দ এবং ঘৃণায় পরিপূর্ণ। এটাই জীবনের রুটিন,অনেকটা পথচারি ভিক্ষুকের মতো,কিন্তু ভিক্ষুকরা তো কোন ভাবে বেঁচে রয়েছে,আমি তো পারছি না,থমকে পড়ছি পা বাড়াতেই। - ২ বছর আগে→ --আচ্ছা তোরিয় আমায় তো কখনও ভূলে যাবে না?(তন্নি) --এটা কি কখনও সম্ভব?(তোরিয়) তুমি এত্তগুলা পচাঁ হয়ে যাচ্ছ.!!(তন্নি) --কিভাবে,আমি তো খুব ভালো একটা ছেলে,তুমিই তো বলো.!!(তোরিয়) --আজ থেকে বলব না,যাও বেশি কথা বলো না,বাদাম খাব বাদাম আনো.!!(তন্নি) --ও..এর এর জন্য আমি পচাঁ নাহ্.! (তোরিয়) হুম..দেরি করো নাতো যাও..!(তন্নি) --ওকে যাচ্ছি,তুমি বসো.!!(তোরিয়) অতঃপর→ -তোরিয় বাদাম আনল,দু'জন বসে বসে বাদাম খাচ্ছে,তন্নি খুব মিষ্টি করে বাদাম খায়,আর তোরিয় তা চেয়ে চেয়ে দেখে।তোরিয়'র খুব ইচ্ছে হয় বাদাম গুলো তন্নি খাইয়ে দিবে তাকে,কিন্তু ভাবনাগুলো ভাবনায়ই রয়ে যায়..! তার পর তারা উঠল,তন্নি বলল,বাসায় চলে যাবে,তার পর তন্নি চলে গেলো। আমি আরেকটু বসে রইলাম। হুট করেই একটা বাচ্চা আমার পাশে বসল..! --আমাকে আপনি বিয়ে করবেন?-[বাচ্চাটির বয়স ৫ বছর হবে,আমি ত হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলাম,কি কয়,তবে বাচ্চাদের আমি খুব ভালোবাসি]- --হুম করবতো আগে তুমি আরেকটু কিউট হও,তার পর.!!(আমি) --এ্যা আমি কিউট না,আম্মু আম্মু..!(বাচ্চা) --না না তুমি এত্তগুলা কিউট,কে বলে তুমি কিউট না..![ওরে বাবা,কি জ্বিন]-(আমি) --তাহলে কবে বিয়ে করবে আমায়,বলো?(বাচ্চা) --কাল তুমি অনেক কিউট হবে,তো কালেই.!! (আমি) --ওকে,কাল আসবে কিন্তু,নইলে আম্মু আম্মু..!(বাচ্চা) --এই না না..![কি আজব,তবে খুব মিষ্টি,ভালোই লাগছিলো,তাই একটু মজাও করলাম]_(আমি) অতঃপর বাচ্চাটি চলে গেলো,হয়তো আশে পাশে বাচ্চাটির আম্মু আছে..!! - অতঃপর→ আমি চলে এলাম,বাসায় এসে ঘুম দিলাম একটা,খুব ক্লান্ত লাগছিলো..! তার পর ফোনের শব্দে ঘুম ভাঙল,স্কিনে তাকিয়ে দেখি তন্নির ফোন,ফোনটা ধরলাম..! --হ্যালো..!(তোরিয়) --কই তুমি?(তন্নি) --ঘুমাই,তুমি?(তোরিয়) --কিহ্ ঘুম,মানেটা কি?কয়টা বাজে?(তন্নি) ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ৪ টা বাজে(বিকাল)....! ---সরি সরি সরি আমি এক্ষুনি আসছি.!!(তোরিয়) --থাক আসতে হবে না,আমি চলে আসছি..!(তন্নি) --আসলে খুব ক্লান্ত ছিলাম,তাই টের পাইনি,ক্ষমা করে দাও না প্লিজ?(তোরিয়) --এমন'টা আর হলে কিন্তু..!(তন্নি) --কিন্তু কি?(তোরিয়) --কিছু না,কাজ সময় মতো আসবে?(তন্নি) --হুম মিস হবে না সময়..!(তোরিয়) উফ্ বাঁচলাম,ঘুম'টা ত এখুনি আমার প্রেমের তের'টা বাজিয়ে দিচ্ছিলো..! - পরের দিন সকালে→ তন্নি ফোন দিয়ে একটা জায়গা নাম ট্রেক্স করে দিলে,সেখানে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি,নীল রঙের শার্ট,ঘড়ি,এরকম করে সাজার কারন,তন্নি তার বাবার সঙ্গে মিট করাবে আমাকে। অতঃপর→ রাস্তায় বের হলাম,রিক্সা ও খুব কম দেখছি,কি যে করি। কিছু দূর দেখা যাচ্ছে একটা রিক্সা আসছে,কেউ অবশ্য নেই। অতঃপর→ রিক্সা ফাকা থাকায় উঠে পরলাম সেই রিক্সাটায়। রিক্সায় উঠে মনটা আজ শিশির ভেজা,খুব খুশি,কাারনটা তো বলেইছি। - রিক্সা চলছে,ততো আমার খুশির আগমন...! কিছু দূর যেতেই দেখি অনেক মানুষের ভীর।রিক্সা থেকে সেখানে গেলাম,গিয়ে দেখি একটা বাচ্চা রক্তাত্ব অবস্হায় পড়ে আছে,ভিতরে যেই গেলাম,গিয়ে দেখি পার্কের সেই বাচ্চাটি,কিন্তু এখানে কেন?মানুষগুলো কি নির্বোধ,একটা বাচ্চা রক্তাক্ত অবস্হায় পড়ে আছে,আর এরা দেখছে। কি করব,আমিই হসপিটালে নিয়ে গেলাম, আর কিছুক্ষন থাকলে হয়তো অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে। ওই অবস্হায়ই বাচ্চাটিকে কোলে তুলে রিক্সায় নিলাম,তার পর হসপিটালে গেলাম। শার্ট তো রক্তাক্ত হয়ে গেলো। ২ঘন্টা সেখানে ছিলাম,তার পর ডাক্টার এলো,ডাক্টার জানাল সে এখন পুরোপুরি সুস্হ,আর কিছুক্ষ পরে আনলে হয়তো অনেকটা ক্ষতি হতো। - ইস্ আমার না তন্নির বাবার সাথে দেখা করবার কথা ছিলো,যাহ্ মনেই ছিলো না। অতঃপর→ পকেট থেকে ফোনটা বের করে দেখি,৭ বার ফোন করেছে।যাহ্ আজ মনে হয় কপালে দুঃখ আছে। ফোন দিলাম তন্নি কে..! --হ্যালো...!(তোরিয়) --আপনি কে?(তন্নি) --আমি কে মানে?চিনতে পারছো না,আমি তোরিয়..!(তোরিয়) --নাহ্ এ নামে আমি কাউকেই চিনি না,সরি রং নাম্বার..!(তন্নি) --রং নাম্বার মানে কি হুম..!(তোরিয়) --ফোন ধরোনি কেন?(তন্নি) --একটা বাচ্চা রাস্তায় পড়ে ছিলো রক্তাক্ত অবস্হায়,,তাই তাকে নিয়ে হসপিটালে নিয়ে যেতে হয়েছিলো,তাই টের পাইনি..!(তোরিয়) --ও..তো কবে থেকে মানব সেবায় নিয়োজিতো হলে?(তন্নি) --কেন একটা বাচ্চা চিকিৎসার অভাবে মারা যাবে,তাও আনার সামনে..?(তোরিয়) --মরে গেলে যাবে,তোমাকে দরদ দেখাতে কে বলেছে,হু?(তন্নি) --একজন মারা যাবে,আর আমি দেখব,তা কখনও নয়..!(তোরিয়) --দেখোনা,আর হ্যাঁ মানব সেবায়ই নিয়োজিতো থাকো কেমন,আমায় ভূলে যাও..!(তন্নি) --তুমি পারবে ভূলতে?আর কি বলছো এসব?(তোরিয়) --অলরেডি ভূলে গেছি,দেখতে চাও?(তন্নি) অতঃপর→ ফোনে একটা এম এম এস এলো,সেকানে ক্লিক করতেই একটা ছবি ভেষে উঠল,ছবিতে তন্নির সাথে একটা ছেলে,তন্নি কে ফোন দিলাম..! --এসব কি?(তোরিয়) --বললে না ভূলতে পারবে?তো তার একটা প্রভেদ,এটার সাথে অনেক আগে থেকেই ছিলো,মনে নেই পার্কে যেদিন তারাতারি চলে গেলাম,ওইযে ফোন করেছিলো,আর আমি তোমাকে বললাম বাবা ফেন করেছে..!(তন্নি) --এমনটা করলে কেন আমার সাথে?(তোরিয়) --একটু মজা নিচ্ছিলাম,সময় তো কাটে না,এটা অবশ্য বেষ্ট আইডিয়া সময় কাটানের জন্য..!(তন্নি) --বাহ্ ফাটিয়ে দিয়েছো,অভিনয়টা খুব জরুল..!(তোরিয়) --ও..হ্যাঁ ফোন দিবা না,না হলে হাত পা আস্ত রাখব না..!(তন্নি) কিছু আর বলিনি ডন্নি কে,বড় লোকের মেয়ে,ইচ্ছা মতো রঙ বদলায়,আমিও এই রঙের ভিরে কেউ। - আজ দু'টি বছর তন্নিকে ফোন বা তার আশে পাশে যাই নি,কারন তার বাবার অনেক নাম দাম,আমার ক্ষতি করতে তার একটুও সমস্য হবে না। তবে এটা ভেবে সামনে যাই নি,আমার পরিবার আছে,তারা আমাকে হাড়ালে অনেক কষ্ট পাবে,তাদের একমাত্র সম্বল আমি। তারা আমাকে কষ্ট করে মানুষ করেছে,তাদের কাছে আমি চির ঋৃণি। - যে বাচ্চাটিকে বাচিঁয়ে ছিলাম,তারাও বিত্তবান,সময়ের অভাবে তাদের বাচ্চা ইচ্ছা মতে খেলে,ঘুড়ে বেরায়,তাই রাস্তায় হঠাৎ এক্সিডেন্ট হয়।এখন তারাই আমাকে একটা চাকরি পাইয়ে দিয়েছে,খুব খুশি আমি,এবং আমার পরিবার। এখন মাঝে মাঝেই অনাথ আশ্রমে যাই,বাচ্চাদের জন্য খাবার,চকলেট, এসব নিয়ে যাই।মাসে তিন বার করে যাই,খুব ভালে লাগে যখন তারা, আমার দেওয়া চকলেটগুলা নিয়ে হাসি মাখা মুখটি নিয়ে আমাকে জরিয়ে ধরে,আহ্ এটাই অনেক শান্তি। - কিন্তু মাঝে মাঝেই বিষাদের আবরন আমায় গ্রাস করে নেয়,খুব মনে পরে তখন তন্নি কে।ভূলতে পারিনি আজও। তবে তন্নিকে হাড়িয়ে কিছু শিখেছি। আমি ভূল কাউকে ভালোবেসেছিলাম,সময় ক্রমে সেই মানুষটাই আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। তবে এসব তেমনটা ভাবি না,পরিবারের হাসিতে আমি মুগ্ধ থাকার চেষ্টা করি...!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অশুভ আত্মার আর্তনাদ
→ বুড়িমার আর্তনাদ
→ শিশু হারা মায়ের আর্তনাদ চিঠিতে!
→ "নিশীথের আর্তনাদ"
→ একজন পিতার আর্তনাদ
→ পামিরের আর্তনাদ
→ ছোটবেলার আর্তনাদ
→ আর্তনাদ
→ দেয়ালে বন্দী আর্তনাদ
→ খূলির আর্তনাদ-৫ শেষ
→ খূলির আর্তনাদ-৪
→ খূলির আর্তনাদ-৩
→ খুলির আর্তনাদ-০২
→ খুলির আর্তনাদ-০১
→ ভালোবাসার আর্তনাদ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now