বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-হ্যালো মোহিত
-হ্যা বল। এত রাতে ফোন দিলি যে
-না এমনি। কাল একটু বাসায় আসতে পারবি?
-কেন কোন সমস্যা হইছে?
-আসিস বন্ধু খুব দরকার প্লিজ না করিস না
-ঠিক আছে। কিন্তু কেমন যেন মনে হইতেছে বড় কোন সমস্যায় আছিস। বলবি
-কাল আসিস সব খুলে বলবো
-ঠিক আছে যাব নে
,
ওপাশে মিরন ছিল। ছোট বেলার বন্ধু। ওর কথায় মনএ হলো কিছু একটা ঝামেলা হইছে। দেখি কাল গিয়ে কি হয়। আর যেহেতু বন্ধু বলে কথা। বন্ধু বলতে তার চেয়ে বেশি কিছু। আমরা যা করি সব একসাথে করি। প্রেমটা পর্যন্ত একসাথে করছিলাম। তবে দুই জনে মিলে একজনকে ভালবাসতে পারি। কিন্তু একজন হইয়া কি আর দুইজনকে বাসা যায়! তাই আর কি আমিই পিছ পা হইছিলাম ওই দিন। বেটারে বলছিলাম না আমিও বাসি। নয়তো আমার মত ওও করতো হয়তো। মারামার কাটাকাটি সব মিলাইয়া ভালই আর দুইটা আমাদের মতো পাওয়া যাবো না।
,
গত কয়েক দিন ধরে ওদের বাসায় কম যাই। মিরন জিজ্ঞেস না করলেও ওর ছোট বোন ঠিকই জিজ্ঞেস করছে -'আগের মতো যাই না কেন'। মেয়েটা নাকি আমায় পছন্দ করে। এই ছোট্ট মেয়ে তার নাকি ভালবাসা। এখনকার মেয়েদের কান্ড দেখলে হাসি পায়। দাঁত না পরতে না পরতেই প্রেম করার জন্য ওইঠা পইরা লাগে। বেসরম।
,
কয়েক দিন আগে ঘুরতে যাব তো এখন মিরনরে দরকার। ফোন দিলাম
-মিরন কই রে তুই?(আমি)
-ভাইয়া তো একটু বাজারে গেলো আম্মার ঔষধের জন্য(মিরনের বোন)
-ওওও। আসলে বলিস ওরে রেডি হইয়া থাকতে আমি আসতেছি
-কে মোহিত ভাইয়া?
-হুম। ওকে বলে রাখিছ
-আচ্ছা ঠিক আছে। সব বলে দেব। আপনি আসেন
,
ওদের বাসায় গিয়ে মিরনের রোমে চলে গেলাম। গিটারটা নিয়ে টুং টাং করতেছিলাম। আর ওর বোন এসে হাজির
-ভাইয়া ভাল আছো? কখন আসলা?
-এইতো কেবল আসলাম। তুই ভাল আছিস?
-ভাইয়া আর কত দিন বলবো তোমায় তুই করে বলবা না আমায়
-হে হে! তাইলে তোরে কি বলবো আফনে কইরা?
-না তুমি করে বলবা। আর আপনি বা তুই কোনটাই বলবা না। তোমার সাথে আমার বয়সের এত্ত বড় ডিফারেন্স নাই যে আপনি বা তুই বলতে হবে। সুন্দর করে তুমি বলে ডাকবা
-কিরে মাথা ঠিক আছে তোর?
-একদম ঠিক আর সুস্থ। তুমি বলবা কি না বলো
-ওরে বাব্বাহ্। এইটা মনে হয় অর্ডার
-একদম তাই
-বললে আমার লাভ?
-কি চাও বলো সব হবে
-আমার বাসায় চাকরানীর কাজ করতে হবে। রাজি আছিস?
-এক পায়ে। না মানে রাজি
-হা হা হা,, যা থাকতে হবে না তুমি করেই বলবো
-থ্যানক্স ভাইয়া
-যা ভাগ এখান থেকে
বদের হাড্ডি একটা
,
সেই দিন গেলো। তার দিন কয়েক পরে যখন গেলাম তখন আবার শুরু। এক পর্যায়ে প্রপোজ কইরা বসলো। ইচ্ছা ছিল ঠাটিয়া মারি এক চর। কিন্তু মারলাম না ছেমরি আগেই কান্না কইরা দিসে। আর তারপর থেকে কম যাই। কি জানি যদি আবার পাগলামি করে তাই আর যাই না। তবে ঘটনাটা মিরনকে বলার সাহস হয় নাই যদি অন্য ভাবে নেয় যে আমি বাসি আর নাম দিতেছি আরিশার। দুই দিকেই বিপদ। কি যে করি!
,
কাল বলছিলো যেন আজ ওর বাসায় যাই। তো দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ করে চলে গেলাম মিরনের কাছে। ভয়ে আছি না জানি মেয়েটা কিছু করে বসে।
,
কলিং বেল চাপার সাথে সাথেই আরিশা খুলে দিল। মনে হয় অপেক্ষায়ই ছিল কখন আসবো আর কখন খুলে দিবে। পারেও বটে। জিজ্ঞেস করলো
-ভাইয়া ভাল আছো?
কিছু না বলে না শুনার ভান করে চলে গেলাম মিরনের কাছে। মেয়েটাকে দেখে মনে হল কষ্ট পেল। পেলে পাক তাতে আমার কি। লাই দিলেই মাথায় ওঠবে। আর আমি বন্ধুত্ত্ব খুয়াতে চাই না।
,
-কিরে বল কি বলবি আসতে বললি যে(আমি)
-আরেহ বলিস না আমার বোন বায়না ধরছে তুই আসিস না কেন তোকে যেন আসতে বলি(মিরন)
-ওও,, এই কথা। আগে বলতি
-তুই তো জানসই আমি আবার ওর কথা ফেলতে পারি না। আর তুইও আসিস না কয়েকদিন ধরে। এতে এক কাজে দুই কাজ হয়ে গেল
-হুম বুঝলাম। কিন্তু এত লাই দেওয়া ভাল না
-কি করবো বল ছোট তো ও
-যতটা ভাবিস ততটাও না
-মানে!
-কিছু না। চল বাসার বাইরে চল খুলে বলি সব
-আরেহ এখানেই বল। আর যার জন্য আসতে বললাম তার সাথেই তো দেখা করলি না
-বাদ দে তো তোদের পাগলামি। পরে করিস ও সব। ভাই বোইনে গলা ধইরা করিস
-চল্
,
আমি আর ভেতরে রাখতে পারতেছিলাম না এত কিছু। এর একটা বিহিত করাই দরকার। মিরনকে সব বলতে হবে। নয়তো কাল আরও বড় কিছু আবদার করে বসবে। তাই সব খুলে বললাম মিরনকে। কিছুটা শান্তি ফিল করতেছি ভেতরটায়। কারন আমার কথা গুলো বিশ্বাস গেছে আর বলছে এর একটা মিমাংশা করবে ও।
,
নিশ্বচিন্তে বাসায় ফিরলাম। আমি জানি সব ঠিক করে নেবে ও। তাই এসেই খওয়া শেষ করা মাত্রই ঘুম।
,
মাঝ রাতে ফোন দিসে কে যেন। আর সময় পায় না ফোন দেওয়ার। এই সময়টাই বাইছা নিলো। ঘুম ঘুম চোখে দেখলাম মিরন। তার মানে সব ঠিক ঠাক। ভেবে ভাল লাগলো। তাই কেটে দিয়ে ঘুমের রাজ্যে যাব ঠিক তখন আবার ফোন। দ্বিতীয় বার আবার দিল মনে হয় দরকারে। রিসিভ করলাম
-হ্যালো মোহিত!!(হাপাইতেছে)
-কিরে কি হইছে
-তুই তারাতারি সিটি হাস্পিটালে আয়। আরিশা বিষ খাইছে
-কি বললি তুই!! বিষ খাইছে!!!
-তারাতারি আয় ভাই
-চিন্তা করিস না আমি আসতেছি। সব ঠিক হয়ে যাবে
,
এখন ওকে যাস্ট শান্তনা দেওয়ার ছিল। আমার মধ্যে তো আর এমন কোন জাদু নাই যে গেলাম আর ঠিক হইয়া গেল। তো বাসা থেকে চুপি চুপি বের হয়ে চলে গেলাম। দেখি কি হয়।
,
বাহ্ এখানে সবাই বন্যা বসাইয়া দিছে কান্না করতে করতে। চোখ মুখ সবায় ফুলাইয়া ফেলছে। বেটা মিরন তুই তো মর্দ মানুষ তুই তো নিজেরে সামলাবি। তা না মনে হয় ওই সব থেকে বেশি কান্না করছে।
,
তো গেলাম পায়ে পায়ে সবার সামনে। আরিশাকে হয়তো এখনও ডাক্তারেরা জেরা করতেছে ও.টি তে। আমাকে দেখে সবাই আমার দিকে তাকাইয়া আছে। না জানি আমি কি! নিজেরে এখন দুইটা জিনিস মনে হইতেছে। ১ চিড়িয়াখানার কোন জন্তু আর ২ আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সব ভাগ্য।
,
মিরনে টাইনা দূরে নিয়া গেলাম। কারন যে ভাবে সবাই তাকাইয়া আছে আমার পক্ষে সম্ভব না তাদের সামনে দ্বাড়াইয়া থাকা। তয় কেন তাকাইয়া আছে কারন্টা জানতে হবে। কিন্তু তার আগে বিষ খাইলো কেন সেইটা বড় বিষয়।
,
-কিরে কি হইছে(আমি)
-দেহস না কি হইছে(মিরন রাগের স্বরেই কথাটা বলল)
-কাহানিটা বল কি থেকে কি হল আর কেনই বা এমন কাজ করলো
-সব তোর দোষ
-আমার দোষ? আমি কি করলাম. ......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now