বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
আরবি
"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান zami (০ পয়েন্ট)
X
ছোট্ট একটি বাচ্চা পঁাচ কি ছয় বছর হবে সবেই স্কুল ভর্তি হয়েছে।হঠাৎই আমার সৌভাগ্য হলো তাকে মেহমান হিসেবে পাওয়ার।যথা সময় আমি দস্তরখান বিছিয়ে তার খাবারের ব্যবস্থা করে খেতে দিলাম যদিও সে দাওয়াতের কথা শুনে এসেছে কিন্তু চেয়ার টেবিলে দেইনি বলে তার কাছে মোটেই দাওয়াত মনে হচ্ছিল না। ছোট্ট মানুষ নিস্পাপ মন মনে যা আসে তা মুখে আসতে দেরি হয় না। সে বলেই ফেললো
- এটাতো দাওয়াত না।
জিনিসটা বুঝতে পেরে আমি তাকে বললাম
- আম্মু এভাবে আমাদের নবীজি খেতেন।তাই এভাবে খাওয়া সুন্নত।
উত্তরে সে বললো
- নবী কে...? কার নাম নবী...?
জবাব শুনে আমি থমকে গেলাম কি বলবো কোন ভাষা খুজে পাচ্ছিলাম না।সেদিন সে চলে গেল। আমি তার পরিবারের লোকের কাছে জানতে চাইলাম কেন তারা বাচ্চাটিকে নবীজির কথা বলে না তাদের মতে এত ছোট বাচ্চাকে নবীজির কথা বললে ব্রেনে চাপ পরবে।
একদিন একজন আমাকে বললো সে একটি ছোট্ট মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতো। মেয়েটির বয়স সেই পঁাচ কি ছয় বছর।সবেই স্কুল ভর্তি হয়েছে।সব বর্ণগুলো শিখছিল।মেয়েটির মা তাকে এই বয়সেই পড়ালিখার পাশাপাশি নাচ ও ড্রয়িং ও শিখাচ্ছিল।যখন প্রাইভেটে তাকে বর্ণ শিখানো কিছুটা হয়ে এলো তখন তাকে আলিফ বা লিখতে দিল।পরদিন থেকে মেয়েটাকে আর আসতে দিল না প্রাইভেটে।
পরে খোজ নিলে তার পরিবার বললো আরবী এখন পড়াবোনা ব্রেনে চাপ পরবে।
এখানে তো শুধু দুটো ঘটনা বললাম এমন অনেকে আছে আরবী পড়াকে ও নবীর তরিকাকে ব্রেনে চাপ পরা বলে বাচ্চাদের তা থেকে দূরে রাখে।এমনও আছে যে ক্লাস ফাইভে পরে সমাপনী দিবে অথচ কোরআন পড়তে পারে না। আর নবীজির তরিকাতো দূরের কথা।ভাবে এগুলো বললে বাচ্চা ভয় পাবে সমস্যা হবে।
পঁাচ ছয় বছরের বাচ্চাটাকে যখন স্কুলে ভর্তি করানো হয়।তখন তার প্রথম পড়াটা থাকে বর্ণ শিখা।আমাদের চোখে তা যদিও অনেক সোজা পড়া হয় কিন্তু ওই বাচ্চাটার কাছে তা বড়ই কঠিন।মাত্রা টেনে বিন্দু দিয়ে ঘুড়িয়ে এনে আবার মাত্রার কাছে এনে অ একবার লিখাটাও তার জন্য বিশাল ব্যাপার। কিন্তু কম্পিটিসনের যুগ বসে থাকলে হবে না বার বার লিখতে হবে হাতের লিখাতেও তো মার্কস।তাই মার কত টেনসন লিখতে না চাইলেও জোর করে, আদর করে হলেও সারাদিন লিখাতে থাকে যতক্ষন না মনের মত লিখা হয়।
তখন ব্রেনে চাপ পরে না...?
শুধু আরবী আর নবীজির তরিকা শিখানোর সময়ই চাপ পরে...?
যখন একটা সোজা দাগ টানাও কস্টকর তখন আঁকাবঁাকা ড্রয়িং শিখলে ব্রেনে চাপ পরে না...?
বিভিন্ন অঙ্গ ভঙ্গি করে নাচ শিখার সময় ব্রেনে চাপ পরে না...?
সমাপনীতে সারাদিন প্রাইভেট ক্লাস সারারাত জেগে পড়া তখন ব্রেনে চাপ পরে না..?
শুধু আরবী শিখলে আর নবীর তরিকাগুলো শিখলেই ব্রেনে চাপ পরে!!!
দুই বছরের একটা বাচ্চাকেও দেখেছি যার মাথা থেকে টুপি পরে গেলে সাথে সাথে টুপি খুজে মাথায় দেয়।
চার বছরের একটি বাচ্চাকে দেখেছি দস্তরখান ছাড়া খাবার খায় না।
চার বছরের ছোট্ট একটি মেয়ে বাচ্চাকেও দেখেছি যে নামাজের শুরাগুলো সব পারে।
পাশাপাশি বর্ণ শিখছে।
ওরাও বাচ্চা এরাও বাচ্চা শুধু পার্থক্য এটা যে ওদেরকে দুনিয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে আর এদের কে আখিরাতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
আর যে আখিরাত চায় তাকে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াও দিয়ে দেন।
#স্কুল কলেজে পড়বে তবে আগে তাকে কোরআন শিক্ষা দিন।ঘরে তাকে সুন্নতি তরিকায় চলার শিক্ষা দিন।তবে সে স্কুল কলেজে পড়েও ধার্মিক হবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now