বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আর কতদিন এই হৃদয়ের বৈশাখ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আর কতদিন এই হৃদয়ের বৈশাখ ========================= *** গরম কফিতে চুমুক দিয়ে ঠোঁট পুড়িয়ে ফেলল রিনি..একটা অস্ফুট শব্দও করল..আর তারপরই,কষে একটা ধমক লাগাল নিজেকে-"কি হচ্ছে কি রিনি?আজ সকাল থেকে যতসব উল্টাপাল্টা কাজ করেই যাচ্ছ!১০টা বাজে রেস্টুরেন্টে দেখা করার কথা,তুমি ৭টা থেকে ড্রেস বাছাই করা শুরু করলে,পুরো আলমারি ওলট-পালট.. ২টা চুড়ি!..২টা চুড়ি বাছতে পাক্কা পনের মিনিট নষ্ট করেছ তুমি..তারপর এই মেঘলা দিনে ছাতা না নিয়ে,বেড়িয়ে পড়লে তড়িঘড়ি করে..তাও আবার ঘরের স্লিপার পড়ে..ঘোরাও,মোড়ের মাথায় এসে আবার রিক্সা ঘোরাও..তারপর রেস্টুরেন্টে ঢুকতে গিয়ে ওয়েটারকে দিলে এক ধাক্কা..আর এখন?গরম কফিতে চুমুক দিয়ে ঠোঁট পুড়িয়ে ফেলছ..কি, দরকার কি এতো তাড়াহুড়া করার?আর এতো নার্ভাসনেসেরই বা মানে কি!..কি ভাববে এই সামনে বসা ছেলেটা?" পার্থ।রিনির সামনে যে বসে আছে,ওর নাম পার্থ।রিনির বাগদত্তা।পারিবারিক ভাবে ঠিক হওয়া বিয়ে।গত পরশু পার্থর মা এসে আংটি পড়িয়ে দিয়ে গেলেন।সেই আংটি আবার এক সাইজ বড়!আঙুলে ঢলঢল করছিল।আংটিটা ঠিক করাতে দিতেই আজ পার্থর সাথে দেখা করতে আসা।এই ফাঁকে কিছু কথাও বলে নেয়া যাবে।এর আগে যখন দেখা হয়েছিল,তখন ভাবী ছিল রিনির সাথে।আর পার্থর সাথেও ওর এক বন্ধু ছিল।কিন্তু এবার,দুজনেই একা। পার্থ বসে আছে বেশ সহজ স্বাভাবিক ভাবে। কিন্তু রিনি বেচারি,কিছুতেই বুঝতে পারছেনা..পার্থকে দেখলে ওর এমন হচ্ছে কেন!কিছু না কিছু ভুলভাল করেই যাচ্ছে!এভাবে একদিন দেখা করে আর দু' চারবার ফোনে কথা বলেই কি কেউ প্রেমে পড়ে যায় নাকি!নিজেকে ক্রমাগত বকে যাচ্ছে ও-"রিনিরে,তুই তো ক্যারেক্টার ঢিলা হয়ে গেলি!এতোদিন..এতোবছর কোন ছেলেকে দেখে তো এমন হয়নি তোর..কেউ এপ্রোচ করলেও ভদ্রভাবে ফিরিয়ে দিয়েছিস।আর পার্থও তো কোন রাজপুত্র মার্কা ছেলে না,যে চেহারা দেখে পাগল হয়ে গেছিস। তাহলে তোর হলটা কি!শেষ পর্যন্ত অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ করতে এসে প্রেমে পড়লি!বন্ধুরা কি বলবে!যতসব আবুল মার্কা কাজ-কারবার!" পার্থ গলা খাঁকারি দিল-কিছু ভাবছেন? রিনি-ন..নাতো! পা-শুধু কফিই খাবেন..আরও কিছু অর্ডার করি? রি-না না আমি একটু আগেই নাস্তা করে এসছি। ব্যাগ থেকে আংটির বক্স বের করে রিনি। রি-এক সাইজ ছোট করালেই হবে। বাইরে বজ্রপাতের আওয়াজ.. পার্থ-ভালো বৃষ্টি নামবে মনে হচ্ছে..বাঁচা গেল।যা গরম পড়েছে কিছুদিন ধরে.. রি-হ্যাঁ।বৃষ্টি চাইছিলাম খুব।কিন্তু একটা ভুল করে ফেলেছি যে..ছাতা আনিনি। পা-এই মেঘলা দিনে ছাতা না নিয়ে বের হয়ে গেছেন?আচ্ছা আমি নাহয় যাওয়ার পথে আপনাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে যাব। রি-না না তার দরকার হবেনা।এখান থেকে সোজা অফিস যাব আমি।এইটুকু তো পথ।বৃষ্টি নামার আগেই পৌঁছে যাব ইনশাল্লাহ। পা-ও হ্যাঁ।আপনার অফিস তো কাছেই।ভাবী বলছিলেন সেদিন। রি-হুম্মম.. কিছুক্ষন দুজনেই চুপ। মগ্নতা ভাঙে পার্থ-আসলে আমাদের বিয়েটা এতো তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে গেল..আপনার সাথে কথাও হয়নি সেভাবে।আপনি..আপনার দিক থেকে কোন আপত্তি নেই তো? রি-এখন আর আপত্তি করে কি হবে বলুন,এনগেজমেন্ট তো হয়েই গেছে! পা-না না আপনার অন্য কোন পছন্দ থাকলে এখনো নির্দ্বিধায় বলতে পারেন আমাকে।আর আপনি এতো চুপচাপ থাকেন..আমার একবার মনেও হচ্ছিল,ফ্যামিলির চাপে পড়ে বিয়েতে রাজী হয়েছেন কিনা.. হেসে ফেলে রিনি-না পার্থ,আমার ফ্যামিলি খুবই সাপোর্টিভ।না ওঁরা কখনো আমাকে জোর করেছেন,না আমি কখনো তাঁদের অবাধ্য হয়েছি।এ বিয়েতে আমার পূর্ণ মত আছে।শুধু বিয়ের আগে আপনাকে কিছু কথা বলার ছিল।বলাটা কতটুকু জরুরী আমি জানিনা।কেনোনা আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতে এর কোন প্রভাব নেই,কখনো পরবেও না।কিন্তু অতীত..পার্থ আমার একটা অতীত আছে।এতোটাই অতীত যে স্মৃতিগুলো ঝাপসা লাগে মাঝেমাঝে।তবুও..তবুও আপনাকে সেসব বলতে চাই আমি। আমার বন্ধুরা বলছিল,শুধু শুধু এ প্রসঙ্গ তোলার মানে কি!কিন্তু আমার মন বলছে,আপনার জানার অধিকার আছে। পা-দেখুন আপনার ইচ্ছা হলে আপনি বলতে পারেন।কিন্তু আমি জোর করবনা একটুও। রি-আমি বলি পার্থ..আজ থেকে প্রায় বছর দশেক আগে,ইন্টারমেডিয়েট ফার্স্ট ইয়ারে আমি তখন..আমার প্রানের বন্ধু ছিল সিয়াম।আমার মত একটা ইনট্রোভার্ট মেয়ের জীবনে আসা প্রথম ছেলে বন্ধু।আর সেই বন্ধুত্বের হাতটা আমিই আগে বাড়িয়েছিলাম।তখন আমার মনে অন্য কোন চিন্তা ছিল না সত্যি।কিন্তু সময়ের সাথে সাথে,আমার মনে হল..হয়তো এটা বন্ধুত্বের চেয়েও বেশী কিছু..হয়তো একেই বলে ভালোবাসা! মোবাইল ছিলনা আমাদের..কলেজ কখন শুরু হবে এ চিন্তায় বিভোর হয়ে থাকতাম।কলেজ ছুটি হলে মনে হত আরও কিছুক্ষন থাকি।সিয়াম তো সেই সকাল থেকে ক্যাম্পাসে এসে অপেক্ষা করতো আমার জন্য।ও বলতো,আমি এলে নাকি কোথা থেকে একরাশ দমকা বাতাস এসে ওর সবকিছু উড়িয়ে নিয়ে যায়!আমিও মানতাম,বিশ্বাস করতাম ওর কথা।বয়সটা বড় রঙিন ছিল পার্থ..বাতাসকেও ভালোবাসার দাস বানানো যেতো নিমিষেই! তারপর একদিন ও আমাকে 'আই লাভ ইউ' বলল..আর সেদিনই প্রথম,একটা বড়সড় ধাক্কা খেলাম আমি।কাউকে বুঝতে দিইনি..আমাদের যে ছোট্ট,কিউট ফ্রেন্ড সার্কেলটা ছিল..সারাদিন একসাথে বসে আড্ডা দিতাম,তাদের কাউকে বলিনি..সিয়াম কে তো নয়ই।কিন্তু নিজের কাছে লুকাব কি করে! ও যখন আমাকে 'আই লাভ ইউ' বলল..আমার ভেতরটা ভীষণ ফাঁকা লাগছিল..ভীষণ অনুভূতিশূন্য।কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা না তাইনা?এই কথাটা শোনার জন্য সবাই কত মরীয়া হয়ে থাকে।আমি শুধু একটা শুকনো হাসি ঝুলিয়ে রেখেছিলাম মুখে।ভালোবাসার একটা অনুরণনও খুঁজে পাইনি সেদিন এই হৃদয় খুঁড়ে! এদিকে সিয়াম জানতো আমি ওকে মনেমনে পছন্দ করি,আর এটা জেনেই ও আমাকে প্রপোজ করেছিল।তাই তখন ওকে ফিরিয়ে দেয়ার কোন মানেই হয়না।কিন্তু ধরেই বা রাখি কি করে!নিজের কাছেই ভীষণ ছোট হয়ে গেলাম সেদিন।বারবার নিজেকে প্রশ্ন করলাম,কেন এমন হচ্ছে? ধীরে ধীরে এ সম্পর্কের নেগেটিভ দিকগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে এলো আমার সামনে।সিয়ামের বাচ্চামী,ইমম্যাচিউরিটি..ফ্রেন্ড হিসেবে ঠিক ছিল।কিন্তু লাইফ পার্টনার হিসেবে প্রতিটা মেয়েই বোধয় একটু বেশী কিছু চায়।মেয়েটা চায় কেউ ওর নামে একটা বাজে কথা বললেও ওর বয়ফ্রেন্ড প্রতিবাদ করুক..যেটা সিয়াম করেনি,কোনদিন করেনি।হেসে এড়িয়ে গেছে সবকিছু।সেই বখাটে ছেলেগুলোর সামনে রুখে দাঁড়াবার মত পরিণত ছিলনা ও। সিয়ামের মা,আমাদের সম্পর্কে জানতে পেরে একদিন ফোনে অনেক কথা শুনালেন আমাকে।না,আমি সিয়ামকে বলিনি সেসব।তবু ও কিভাবে যেন জানতে পারে। সেদিনও আমার হয়ে একটা কথাও বলেনি সে।একটা সরিও না।সবকিছু হেসে উড়িয়ে দিত। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সিরিয়াসনেস দরকার..ব্যাপারটা জানা ছিলনা ওর। আমাদের দুই পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদায় অনেক বেশী ফারাক ছিল..যেটা আমি ওভারলুক করতাম।কিন্তু পড়াশোনার বেহাল অবস্থা..ওভারলুক করি কি করে।হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতাম।ইন্টারে একটা ভালো রেজাল্ট না করলে..ভাল কিছুতে চান্স না পেলে কি জবাব দেব বাবা মা কে?-এসব কথা চিন্তা করে রাতে ঘুম হতোনা আমার..চোখের নিচে কালি জমে গিয়েছিল।ক্লাসমেট,টিচার,যে কেউ আমাদের দুজনকে একসাথে দেখলেই আমি তার চোখে,নিজের জন্য শুধু ভৎর্সনা দেখতে পেতাম।মনে হত,মাত্র সতের বছর বয়সে এ কী করছি আমি!কিন্তু সিয়ামকেও তো দোষ দেয়া যায়না।বন্ধুত্তের হাতটা যে আমিই প্রথম বাড়িয়েছিলাম! তারপর..একদিন আর সহ্য করতে না পেরে,সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিলাম।শুধু বন্ধুদের দিয়ে একটা চিঠি পাঠিয়ে দিলাম ওর কাছে- "সিয়াম, পারলে ক্ষমা করে দিও।ভুল আমারই।কিন্তু প্রেম আর পড়াশোনা,দুটো একসাথে চালিয়ে যেতে পারছিনা আমি।যেকোনো একটাকে বেছে না নিলে,আমার পক্ষে বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে যাবে সিয়াম।আর..আমাদের দুই মাসের প্রেমের চেয়ে আমার বাবা মায়ের ১৭ বছরের প্রত্যাশার পাল্লা অনেক ভারী আমার কাছে। কষ্ট যখন দেবোই,তোমার চোখে খারাপ যখন হবোই,তবে আর দেরী কেন?হয়তো পরিস্থিতি পরে আরও খারাপ হয়ে যাবে।তুমি আরও কষ্ট পাবে..প্লিজ ঠিকমতো পড়াশোনা কোরো আর অবশ্যই অবশ্যই আমাকে ভুলে যেও। রিনি।" একটু থামল রিনি। পা-তারপর? রি-তারপর..সিয়াম কিছুদিন চেষ্টা করেছে আমার সাথে দেখা করতে,কথা বলতে।আমি এড়িয়ে যেতাম..বেশ রুক্ষভাবেই।কারণ,খারাপ ব্যবহার না করলে এ সম্পর্কটা ভাঙতে দিতোনা ও।নানারকম পাগলামি করতো।ওর পরীক্ষাটা খারাপ হত..আমার জন্য আমার বন্ধুর এতো বড় ক্ষতি হোক,আমি চাইনি পার্থ।খুব ভালো একটা ফ্রেন্ড ছিল ও আমার।নাহয় ওর চোখে একটা ছলনাময়ীই হয়ে থাকলাম।আমাকে ঘৃণা করে ও ওর লাইফে সামনে এগিয়ে যাক,নতুন কাউকে খুঁজে নিক.. এটাই চেয়েছিলাম আমি। পা-আর আপনার কি হল? রি-আমার?ভয়াবহ ভাবে কাটল এর পরের বছরটা..সারাক্ষনের গিল্ট..কারো চোখের দিকে তাকাতে পারতাম না আমি।মনে হত,সবাইকে ধোঁকা দিয়েছি,কোন না কোনভাবে..সিয়ামকে,আমার বাবা-মাকে..কি কষ্ট করে যে নিজের মনকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ইন্টার পরীক্ষা দিলাম,ভর্তি পরীক্ষা দিলাম,আর ভালো জায়গায় চান্সও পেলাম..সে সব শুধু আমিই জানি।আর তারপরই মানসিক ভাবে ভীষণ ভেঙে পড়লাম আমি।যেন এতোদিনের জমানো কষ্টগুলো শুধু পরীক্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিল।অদ্ভুত কিছু সমস্যা দেখা দিলো আমার মধ্যে।মানুষের ভিড়,হৈ চৈ দেখলেই ওখান থেকে পালাতাম..ভীষণ ভয় করতো।আর ছেলেদের দিকে তো ভুলেও তাকাতাম না। তারপর একদিন মেলায় গিয়ে ভীষণ শ্বাসকষ্ট শুরু হল আমার..ওই যে বেশী মানুষের ভয়..শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেল,কোন সমস্যা নেই।আসলে সমস্যাটা ছিল মানসিক।সাইকিয়াট্রিস্ট দেখালাম,নিয়মিত ওষুধ খেলাম,পরিবার পরিজনদের সাথে সময় কাটালাম।আস্তে আস্তে আমি আবার নরমাল হয়ে গেলাম।পরে তো ক্যাম্পাসের প্রোগ্রামে স্টেজে উঠে গানও গেয়েছি!মানুষের ভিড়ে আর ভয় পাইনা এখন।বন্ধুদের তালিকায় ছেলেরাও আছে.. শুধু কারো কাছে ভুলেও এমন কিছু বলিনি,যাতে তার ধারণা হয় যে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছাড়াও কিছু হতে পারে।সাফ বলে দিয়েছিলাম সবাইকে,আমি অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ করব।আর তদ্দিন নো অ্যাফেয়ার।আমার লাইফে কক্ষনো আর কাউকে আসতে দেইনি আমি। সিয়াম একদিন আমার হাত ধরেছিল..কিন্তু আবার?না..আমি এমন নই পার্থ।এতো সহজলভ্য নই যে বারবার ভুল মানুষের হাত ধরব।নিজের কাছে প্রমিস করেছিলাম,একা চলব..ততদিন পর্যন্ত যতদিন না আমার লাইফপার্টনার আসে আমার জীবনে। পা-দেখুন,অ্যাফেয়ার করাটা তো আর দোষের কিছু না..তাছাড়া ১৭/১৮ বছর বয়সে ভুল করাটা খুবই স্বাভাবিক।অনেকের জীবনেই এমন হয়।তার জন্য বারবার আপনি ভুলই করবেন,এটা জরুরী তো না! রি-জানিনা পার্থ।আমি নিজেকে গুটিয়ে ফেলেছিলাম..আপন ভুবনে.. হৃদয়ের বৈশাখে আর স্বপ্নের খরায়!.. আর এভাবেই কাটিয়েছি গত দশটা বছর..সময়টা খুব খারাপ কেটেছে তাও কিন্তু না।ভালই ছিলাম শুধু মাঝে মাঝে একাকীত্বটা যখন জেঁকে বসত.. "এক্সকিউজ মি স্যার,আর কিছু লাগবে?"-ওয়েটার এসে দাঁড়াল ওদের টেবিলে। মাথা নামিয়ে বসে আছে রিনি..ওকে এক পলক দেখে নিয়ে বলল পার্থ-নো থ্যাংকস। ওয়েটার চলে গেলে আবার কথা শুরু করল-আচ্ছা,রিনি..আপনি আমার সম্পর্কে কিছু জানতে চাইলেন না তো? রি-আপনারও কি এমন কোন স্টোরি আছে নাকি? পা-না সেরকম না..তবে একটু দুষ্টু প্রকৃতির ছেলে ছিলাম আমি।টিনএজের কথা বলছি..তখন আমার সারা দিন কাটতো পাড়ার ক্লাবে ক্যারাম খেলে কিংবা চায়ের দোকানে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে।দোকানে বা ক্লাবের বারান্দায় ঠোঁটে সিগারেট ঝুলিয়ে বাবু সেজে বসে থাকা,আর মেয়েদের নিয়ে কমেন্ট করা ছিল আমাদের প্রাত্যহিক রুটিনের অংশ। এটুকু বলে আবার রিনির দিকে তাকাল পার্থ।কি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে মেয়েটা!.. পা-না না আমি এতোও খারাপ ছিলাম না!বন্ধুদের সাথে থাকলেও আমি নিজে কখনো কোন মেয়েকে নিয়ে বাজে কথা বলিনি।কিন্তু..অন্যায়ের সাথে থাকাটাও কি কম অন্যায় বলুন?আমাদের পাড়াতেই খুব সুন্দরী একটা মেয়ে ছিল।লাবনী।প্রতিদিন ওর কলেজে যাওয়া আসার সময় ওকে টিজ করতো আমার বন্ধুরা।ও চুপচাপ সহ্য করতো..মেয়েরা যেমন করে আর কি। কিন্তু একদিন..একদিন মেয়েটা ঘুরে দাঁড়ালো আমাদের সামনে।কিছু একটা বলতে চাইছিল ও..বোধয় প্রতিবাদ কিংবা অনুনয়.. শেষ পর্যন্ত আর সাহস ধরে রাখতে পারলনা।কেঁদে ফেলে এক ছুটে পালিয়ে গেল...ব্যাস আমার বন্ধুরা সবাই আরও মজা পেয়ে,বিশ্রী সব কথাবার্তা শুরু করে দিলো। কিন্তু এসব দেখে ভেতরে কিছু একটা হয়ে গেল আমার।ওই মেয়েটার অশ্রু ভরা চোখটার সামনে,একটা ঘৃণ্য কীট মনে হল নিজেকে।সেই প্রথম..আমি প্রতিবাদ করলাম..অন্যায়ের বিরুদ্ধে..অত্যন্ত দৃঢ় ভাবে।ফলাফল-কথা কাটাকাটি,অতঃপর মারামারি!বলাইবাহুল্য বেশিরভাগ মার আমি নিজেই খাই।তবুও বুকে একটা অদ্ভুত শান্তি নিয়ে ঘরে ফিরি সেদিন। কিন্তু তার পরদিনই পাড়ার দেয়ালে দেয়ালে দেখি আমার আর লাবনীর নাম লেখা।আর কার,আমার গুণধর বন্ধুদের কাজ!লাবণীর অনেক বদনাম হয় এতে।বাবা রেগেমেগে আমার গায়ে হাত তোলেন.."কুলাঙ্গার ছেলে,এসব দেখার জন্য বড় করেছি" ইত্যাদি ইত্যাদি..যদিও পরে উনি বুঝতে পারেন যে আমার কোন দোষ ছিলনা এতে।আমি লাবণীর বাড়ী গিয়ে ক্ষমা চাই।তারপর ব্যাগ-ট্যাগ গুছিয়ে ঢাকা চলে আসি।এক বছর ড্রপ দিয়ে নতুন কলেজে ভর্তি হই।হঠাৎ করেই জীবনটা পাল্টে যায় আমার।আর জীবনের মানেটাও..পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী হয়ে উঠি আমি। জীবনে তখন একটাই ধ্যান-জ্ঞান।বড় হওয়া..নিজের পায়ে দাঁড়ানো..বাবা মার সব আক্ষেপ দূর করে দেয়া।তাই এর পরের দশটা বছর শুধু ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটেছি। আর তার ফলাফল..আজকের আমি বিয়ের বাজারে অতি সুপাত্র এক পুরুষ!হা হা করে হেসে উঠল পার্থ। রিনি চুপচাপ-আর লাবণীর কি হল? পা-লাবনী?না ও সুখেই আছে।বছর চারেক আগে বিয়ে হয়ে গেছে ওর।মা'র মুখে শুনেছি,বেশ ভালো ঘরেই বিয়ে হয়েছে। রি-তো এই দশ বছরে কেউ আসেনি আপনার জীবনে? পা-না আসেনি।ভাববেন না,আমি লাবণীর প্রেমে পড়েছিলাম!ওই দিনটা জাস্ট একটা টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে এসেছিল আমার জীবনে।লজ্জা হয়েছিল নিজেকে নিয়ে।এরপর ভালো ছেলে হওয়ার সংগ্রামে,প্রেম-ভালোবাসা নামক জিনিসটাও আমার কাছে খারাপের তালিকাতেই চলে যায়!মেয়ে বন্ধু যাও ২/৪ জন ছিল তাদের নিয়ে অন্য কিছু ভাববার অবকাশ হয়নি কখনো।তারপর বিয়ের বয়স হল..ভাল ছেলেরা বিয়ে তো করেই!কয়েকটা সম্বন্ধ হতে গিয়েও হলনা।আমার হ্যাঁ/ না বিশেষ কিছুই ছিল না। বিয়েটা ছিল শুধু করার জন্য করা..কিন্তু এবার যখন আপনার সম্পর্কে জানলাম..ভালো লাগলো,বেশ ভালো লাগলো.. এই আমি সোজাসুজি বলে দিলাম কিন্তু! ব্যাখ্যা চেয়ে বসবেন না আবার!আমি নিজেও জানি না.. রিনি,এবার একটু বিব্রত।ভাবছে মনে মনে "এই লোকেরও কি ওইসব ফিলিংস হচ্ছে নাকি,যেগুলো আমার হচ্ছে!আচ্ছা এই বুড়ো বয়সে এসে এভাবে প্রেমে পড়ার মানে কি?!কি চাও তুমি ঈশ্বর?আবার খেলছ না তো আমাকে নিয়ে!" নার্ভাস হয়ে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে বারবার।এক গ্লাস পানি খেল রিনি।আবার ভাবছে "দশ বছর প্রেমের বংশও ছিলনা জীবনে।বেশ তো ছিলাম।কিন্তু এখন?এই কফিশপে বসে বসে,পার্থ বাবাজীর বকর বকর শুনতে কেন এতো ইচ্ছে হচ্ছে!" আমি বরং উঠি-রিনি বলল। আপনার অফিস টাইম কিন্তু আরও পরে,আমি জানি-মুচকি হাসি পার্থর মুখে! আস্ত বায়োডাটা মুখস্ত করে এসছে!-মৃদু স্বরে বলল রিনি। পা-কি?কিছু বললেন? রি-না মানে,যদি বৃষ্টি আসে?ছাতাও তো আনিনি..এখন যাওয়াটাই বোধয় ঠিক হবে। রিনি চলে গেল।ওঠার সময় ব্যাগের হ্যান্ডেলের সাথে আটকে টেবিলে রাখা গ্লাস দুটো দিল ফেলে!..তারপর 'সরি' বলে পালিয়ে বাঁচল যেন! পার্থ অবশ্য আরও কিছুক্ষন বসে ছিল,একটা দুষ্টুমি মাখা হাসি ঝুলিয়ে.. সকালে অফিস পৌঁছার পরপরই বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছিল।সেই বৃষ্টি চলছে এখনো।একটানা বৃষ্টিতে অফিসের সামনের রাস্তায় পানি জমে গেছে।পথচারীদের মুখে তবুও খুশী খুশী ভাব!হবেনা?কি আকুল হয়েই না বৃষ্টির অপেক্ষা করছিল,গরমে হাঁসফাঁস করতে থাকা এই শহরটা.. রেইনকোট পরে থাকা পরীর মত বাবু দুইটাকে নিয়ে রাস্তা পার হলেন এক মা।নোংরা পানিতেই প্লাস্টিকের বল নিয়ে নেমে পড়েছে দুই টোকাই।ফুটপাতে চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছেন এক ভদ্রলোক।সুন্দর একটা জুটি চলে গেল সামনে দিয়ে..মেয়েটার হাতে কদম ফুল.. অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে মন ভরে বৃষ্টি ভেজা চারপাশটা দেখছিল রিনি।নাহ এবার তো বেড়িয়ে পড়া উচিৎ।সহজে থামবে না এই বৃষ্টি।ইশশ..ছাতাটা না এনে কি ভুল যে করল।ময়লা পানিতে পা টাও যাবে ভিজে..একটা রিকশা পাওয়া গেলে,এখান থেকেই উঠে পড়ত..সব সমস্যার সমাধান। কিন্তু রিকশা পাওয়া যাবে কি?অপেক্ষা করতে করতে আবার নিজের মনে বলতে থাকল রিনি- "মা বারবার বলছিল ছাতা নেয়ার কথা।কিন্তু আজকাল তো হাওয়ায় ভাসছ তুমি।কোন কথা কানে গেলে তো!আচ্ছা এভাবে প্রেমে পড়ার কি মানে!হ্যাঁ প্রেমই এটা।সারাক্ষন অন্যমনস্ক হয়ে থাকা,বন্ধুরা পার্থকে নিয়ে ফাজলামি করলে লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়া,ড্রেসিং টেবিলের সামনে একটু বেশী সময় দেয়া!..আর একটু পরপরই হাতের আংটিটার দিকে তাকানো"..অভ্যাসবশত হাতের দিকে তাকাল রিনি।নাহ হাত খালি।পার্থ বাবু আংটিটা আবার বেশী ছোট না করিয়ে ফেলে। ওই যে একটা রিক্সা আসছে।ধ্যাত ভেতরে মানুষ আছে.. দেখে মন খারাপ করবে,আবার তাকাল রিনি..আরে ভেতরে পার্থ না?এখানে কি করে! রিনি-আপনি? পার্থ-নিতে এলাম আপনাকে.. রি-তার কি দরকার ছিল? পা-না মানে,আমি আসলে এক জায়গায় যাব।আপনার অফিসের সামনে দিয়েই যাচ্ছিলাম..আর সময়টাও মিলে গেল,তাই.. ভেতরে ভেতরে কি যে ভালো লাগছে।হার্টবিট যাচ্ছে বেড়ে।কিন্তু না,এসব একদম বোঝানো যাবেনা।ভাবলেশ একটা মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকে রিনি। পা-কি হল?উঠে পড়ুন।ছাতাও তো আনেননি বলেছিলেন। রি-না আমি আনি,এমনিতে সবসময় আনি।আজই কেন যেন ভুল করে.. রিকশা চলছে।এভাবে অপরিচিত কোন ছেলের সাথে কখনো এক রিকশায় চড়েনি রিনি।তার উপর হুড তোলা..সামনে পলিথিন।অস্বস্তি হচ্ছিল ভীষণ।আর বাড়ন্ত হার্টবিটের কথা বলার কি কোন দরকার আছে!পার্থ নির্ঘাত শুনতে পাবে এবার! পা-বৃষ্টি ভালো লাগে আপনার? রি-অন্নেক।শুধু মাঝ রাস্তায় জমে যাওয়া নোংরা পানিগুলো ছাড়া। কিছুক্ষন দুজনেই চুপচাপ।তারপর পার্থই ডাকল-রিনি.. আচ্ছা,এই মানুষটা এতো সুন্দর করে ডাকে কেন তাকে?...বিয়ের প্রপোজাল আসার পর,যখন দুই পরিবারের কোন দিক দিয়ে কোন আপত্তি নেই,শুধু পাত্র-পাত্রীর রাজী হওয়াটাই বাকি..ভাবী পার্থর নাম্বারটা ধরিয়ে দিয়েছিল ওর হাতে।আসলে বিয়েশাদী নিয়ে বেশী কিছু ভাবতো না রিনি।সেই যে উদাসীনতা।দুঃস্মৃতি আর আত্মগ্লানিতে ডুবে থাকা জীবন..এর আগের দুটো প্রপোজাল বাবা-মাই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।ওর পর্যন্ত আসেইনি ব্যাপারটা।কিন্তু এবার প্রথম থেকেই সবাই এতো খুশী সম্পর্কটা নিয়ে.. কি আর হবে,হ্যাঁ বলে দেবে।বাবা-মার কথার উপর আর কোন ভাবনা ছিল না ওর মনে।বিয়ে একটা করতে হবে,করবে।সম্পর্কের দায়িত্বগুলো মাথা পেতে নেবে।আর স্বপ্নগুলো?থাকনা বাক্সবন্দী।ভালোবাসা আবার কি?ওসব তো ওই টিনএজেই হয়...পাত্রের নাম জানতো।বায়োডাটায় একবার চোখ বুলিয়ে নিয়েছিল।ব্যাস এটুকুই। খুব দায়সারা ভাবেই নাম্বার ডায়াল করে রিনি সেদিন। ওপাশে একটা সুন্দর ভরাট গলা.. -হ্যালো.. মুহূর্তের জন্য থমকে যায় রিনি।মনে পড়ে,স্কুল লাইফে বন্ধুরা যখন নিজেদের ড্রিমবয় নিয়ে গল্প করতো ও শুধু একটা কথাই বলতো -অনেক সুন্দর হবে ওর গলার স্বর।একবার ডাকবে আমাকে,আর হৃদয়ের গভীরে নাড়া দিয়ে যাবে.. এই ভদ্রলোক পার্থ,কি সুন্দর কণ্ঠস্বর.আচ্ছা,কি কথা বলবে ও উনার সাথে?নার্ভাসনেসের শুরু।কাঁপা গলায় বলে রিনি-হ্যা..হ্যালো? পা-রিনি? নিজের নামটাই অচেনা লাগল শুনতে।আর কি অদ্ভুত ভালো লাগায় চেয়ে গেল মনটা.."কি হচ্ছে কি এসব রিনি!"কিন্তু নিজের বকাঝকা থোড়াই কেয়ার করে ওর মন!! আজ আবার ডাকল পার্থ-রিনি শুনছেন? -হুউউ?..ভাবনা ছেড়ে বাস্তবে ফিরল রিনি। পা-আপনাকে কিছু কথা বলার ছিল.. রি-বলুন? পা-আসলে আজ সারাদিন,আমাদের নিয়ে ভাবছিলাম আমি.. সকালে যে কথাগুলো আপনাকে বলেছি,সেগুলোর যে আমার জীবনে এতোটা ইম্পরটেন্স আছে,হয়তো আমি নিজেই জানতাম না..অন্য কারো সাথে শেয়ার করার তো প্রশ্নই আসেনা।অথচ আজ আপনাকে বলার পর থেকে অনেক হালকা লাগছে নিজেকে।মনে হচ্ছে,এতদিন শুধু শুধু একটা বোঝা বয়ে নিয়ে চলছিলাম..ভুলেও কোন সম্পর্কে জড়াইনি।একঘেয়ে জীবন..জানেন তো..কারো সাথে রিকশায় বসে এভাবে বর্ষা দেখার সৌভাগ্য হয়নি আমার,পকেটমানি জমিয়ে জমিয়ে কারো জন্য গিফট কিনিনি কখনো,আর রাতে বারান্দায় গিয়ে ফিসফিস করে কথা বলা..সেটাও হয়ে ওঠেনি! হেসে ফেলল রিনি। পা-না সত্যি..আর আপনার ব্যাপারটাই ধরুন না।হ্যাঁ আপনি আপনার বন্ধুর প্রেমে পড়েছিলেন,এগিয়ে এসে তার হাত ধরেছিলেন,আবার আপনিই দুই মাসের মাথায় সে সম্পর্ক ভেঙে দেন।কিন্তু দোষটা কি পুরোটা আপনার?সিয়ামের মা ফোনে আপনাকে যে কথাগুলো শুনিয়েছিলেন,আপনার আত্মসম্মানে লাগাটাই কি স্বাভাবিক ছিলনা? আপনি আপনাদের ম্যাচিউরিটির ফারাকটা বুঝতে পারেন,অনেক দ্রুত..ওর ব্যাবহারে এক ধরনের কাপুরুষতা খুঁজে পান..যে বয়ফ্রেন্ড তার গার্লফ্রেন্ডের সম্মান রক্ষার্থে প্রতিবাদ করতে জানেনা,তার সাথে সম্পর্ক ভেঙে নয় বরং সম্পর্ক টিকিয়ে রেখে..নিজের সাথে কি পরিমান অন্যায়টা আপনি করতেন,ভেবে দেখেছেন কখনো?ওর মার কথা মেনে নিয়ে,পড়াশোনার কথা ভেবে,দুজনের ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটা অসম্ভব সম্পর্ককে বেড়ে ওঠার আগেই মুছে ফেলাটাই কি শ্রেয় নয়? হ্যাঁ আমি মানছি,আপনার এই 'না' আপনার বন্ধুকে কষ্ট দেয়..অনেক কষ্ট।কিন্তু বছরের পর বছর এ সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রেখে বিয়ের বেলায় যদি আপনি অন্য কাউকে বিয়ে করতেন,আমার দৃষ্টিতে সেটা হত ধোঁকা।তা না করে,মাত্র ১৭ বছর বয়সে আপনি যে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন,আর আজ ২৭ এ এসে আপনি যেভাবে আমার সাথে সবকিছু শেয়ার করলেন,তাতে আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা বহুগুন বেড়ে গেছে। কিন্তু এতদিন এ বৈরাগ্যের কোন দরকার ছিল না রিনি।জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দশটা বসন্ত কি ধূসর ভাবেই না কেটে গেল দেখুন.. এতো কষ্ট কেন দিলেন নিজেকে?কেন এতো আত্মগ্লানি আপনার,কেন এতো অপরাধবোধ?নাহয় চলত জীবন তার নিজের মত,সহজ স্বাভাবিক ভাবে,হয়তো আবার কেউ আসতো আপনার জীবনে..সব দুঃখ মুছে দিতে।অনেক হয়েছে.. এতো দুঃখ জমানো থাকবে,কান্না লুকানো থাকবে..আমার মনে হয়না জীবনটা এতো বড় রিনি..আর আপনি.. হঠাৎ খেয়াল করল পার্থ।রিনির কোলের উপর রাখা হাত দুটোয় টপটপ করে পানি পড়ছে.. পার্থ-আরে আপনি কাঁদছেন? রি-হুম্মম..বাচ্চাদের মত মাথা নাড়ে রিনি! ওহ গড!মেয়েটা এতো কিউট কেন?পার্থ চুপ করে তাকিয়ে থাকে ওর দিকে।চোখের পানি মুছিয়ে দেবে?না থাক..বিয়ের পরে!ভাবতেই ভালো লাগছে..এই লক্ষ্মী মেয়েটার সাথে বিয়ে হবে তার.. রি-আপনার কি ঠাণ্ডার সমস্যা আছে? না কেন?-হকচকিয়ে গেল পার্থ.. রি-আমি বৃষ্টিতে ভিজব..হুড খুলে। পা-শিওর.. মেয়েটা একটু পাগলও আছে!মনে মনে হাসল পার্থ.. বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে রিনি-পার্থর রিকশাটা জ্যামে এসে দাঁড়াল,একটা মোটরবাইকের পাশে।একটা পাঙ্কু মার্কা ছেলে,বাইকে বসা,ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে রিনির দিকে।এতক্ষনে খেয়াল করল রিনি..ভেজা কাপড় গায়ের সাথে লেপটে আছে ওর।ওড়নাটা জড়িয়ে নিল আরও ভালো করে..তবু অস্বস্তি হচ্ছে। হুড তুলে ফেলবে? কি ভাববে পার্থ,পাগল মেয়ে একবার রিক্সার হুড তুলছে একবার ফেলছে! হঠাৎ একটা হাত এসে,ঝট করে হুডটা তুলে দিল.. আসলে পার্থ খেয়াল করছিল পুরো ব্যাপারটা। রিনিকে আর কিছু বলতে হয়নি.. তখন একটা সাহসিকতার কাজ করে ফেলল রিনি! রি-পার্থ,আংটিটা কি ঠিক হয়েছে? পা-ও হ্যাঁ..আপনাকে তো দিতেই ভুলে গেছি।এই নিন,এক সাইজ ছোট করিয়ে এনেছি। হাত পেতে নিতে পারতো..কিন্তু তা না করে হাত বাড়িয়ে দিল রিনি..সাহস তো দেখিয়েছে,কিন্তু তারপরই আবার লজ্জায় লাল হয়ে চোখ নামিয়ে ফেলল। পার্থ হাসল একটু।তারপর চট করে পরিয়ে দিল আংটিটা। পা-এবার ঠিক আছে তো? রি-হুম্মম.. বাকি রাস্তাটা দেখতে দেখতে কেটে গেল।বাসার গেটের সামনে এসে তো রীতিমতো মন খারাপ হয়ে গেল রিনির।এতো তাড়াতাড়ি চলে গেল সময়টা..আর কোন রাস্তায় জ্যাম হলনা কেন আজ!ছোট্ট একটা বাই বলে নেমে পড়ল।হঠাৎ ওড়নায় টান.. পার্থর কোলে রাখা ব্যাগের নিচে আটকে গেছে ওড়নাটা.. রি-পার্থ,ব্যাগটা একটু সরাবেন?ওড়নাটা বোধয় আটকে গেছে.. পার্থ চুপ.. রি-পার্থ?? অবাক হয়ে ওর মুখের দিকে চাইল রিনি.. ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে আছে অন্য দিকে..যেন কিছুই শুনতে পাচ্ছেনা..মুখে সেই দুষ্টুমির হাসি.. দেখো কাণ্ড!এই ছেলেরও তো ক্যারেক্টার ঢিলা!হেসে আবার রিকশায় উঠে পড়ল রিনি। রিকশাওয়ালা-আপা নামবেন না? রিনি-না বৃষ্টি শেষ হয়নি তো..আজ আরেকটু ঘুরব আমরা.. সব বুঝে গেছে-এমন একটা হাসি দিয়ে প্যাডেল ঘোরায় রিকশাওয়ালা!.. - রাহনুমা কুমকুম


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৩৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আর কতদিন এই হৃদয়ের বৈশাখ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now