বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আপনার বৃষ্টি ভালো লাগে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X "আমার মোবাইলটা কোথায় গেল?" - মেয়েটি বের হয়ে গিয়েছিল, এক মিনিটও হয়নি, মোবাইলের খোঁজে আবার ফিরে এসেছে। আমি অসময়ে রেস্টুরেন্টে রুটি বসে খাচ্ছিলাম। আর কেউ ছিলও না। মেয়েটি আমার দিকে ফিরল, বলতে পারেন একরকম বাধ্য হয়ে - "আমার মোবাইলে একটু কল করবেন, খুজে পাচ্ছি না।" অপ্রস্তুতভাবে আমি মোবাইল বের করলাম, বলতে যাচ্ছি নাম্বার, কিন্তু বলার আগেই মেয়েটি দ্রুত তার নাম্বার বলতে লাগলো, "জিরো ওয়ান সিক্স সিক্স ফাইভ থ্রী......" "একটু আস্তে, সিক্স ফাইভ? তারপর?" এবার মেয়েটি ধীরগতিতে নাম্বারটি সম্পূর্ণ করল। কল করার পর দেখা গেল ক্যাশিয়ারের টেবিলে ফোনটি বাজছে, মেয়েটি প্রায় এমনভাবে ফোনটি তুলে নিল যেন হারানো অমৃত ফিরে পেয়েছে। তাৎক্ষণিক আরো একটি ফোন আসলো, "হ্যালো বাবা, রওনা হয়েছি। হ্যাঁ খেয়েছি, বাসটেন্ডের সামনে রেস্টুরেন্টে। হ্যাঁ টিকিট কেটেছি, ৫ মিনিট পরে বাস, আচ্ছা বাই।" ততক্ষণে আমি রুটির শেষ টুকরোটি শেষ করে বিল পে করতে গেলাম। মেয়েটি মোবাইল রাখা মাত্র বললাম, "কোথায় যাবেন? ঢাকা?" "হ্যাঁ" মেয়েটি বলল, আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু তার আগেই আমি বলে ফেললাম, "আমিও।" "ও, যাই হোক, ধন্যবাদ।" "এখানে ধন্যবাদের প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না।" আমি বললাম, "চলুন, বাসে উঠতে হবে, নয়তো যে ভিড় আজ, আমাদের জন্য অপেক্ষা করবে বলে মনে হয় না, সুতরাং দেরি করলে আর আপনার আর ঢাকা যাওয়া হবে না।" "শুধু আমার? আপনার নয়?" একটু হেসে বলল সে। তার প্রশ্ন ও হাসির বিপরীতে আরেকটি হাসি ছাড়া কোন উত্তর আমার জানা ছিল না, ঐ অনন্য উত্তরটি মহোদয়া সমীপে পেশ করে বললাম, "চলুন..." বাসে উঠার পর আমি আমার সিট খুঁজে বের করলাম, দেখি একজন লোক আমার সিটে বসে আছে, লোকটিকে বললাম, "এটা মনে হয় আমার সিট, প্লিজ অন্য কোন সিটে বসুন।" আমাকে অপ্রস্তুত করে লোকটি বলল, "কি বলছেন? এটা আমার সিট F3, এই যে টিকিট।" আমি আবার নিজের টিকিটের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, না F3 নয়, আমার সিট নাম্বার E3। ঘুরে আমার সিটের দিকে তাকালাম, হ্যাঁ খালি আছে। তারপর ঐ লোকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে আমি আমার সিটে বসতে গেলাম। কিন্তু বসা হল না...না এবার কোন বাধা আসে নি। পাশের সিটে ঐ মেয়েটি বসে আছে। আমি আবার অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম, এবার মেয়েটি মনে হয় লক্ষ্য করেছিল ব্যাপারটি, আমি ঠিক জানি না। আমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, "সিট খুঁজে পাচ্ছেন না?" "না, মানে, ইয়ে...আপনার পাশের সিটটাই।" "ও, কি করার আছে, বাকি সব সিট অলরেডি ফিল-আপ হয়ে গেছে। বসে পড়ুন।" এই নিয়ে আর গোলমাল না করে বসে পড়লাম। বাস ছাড়ল, ৫ মিনিট দেরিতে। ছাড়ার কিছুক্ষণ পর নিজের বাকশক্তিকে সংযত রাখতে পারলাম না। "আপনার নামটা তো জানা হল না।" "অহনা।" তারপর আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসল, ঠিক হাসি ছিল কিনা জানি না, আমার মনে হল সে হাসল। "আমি জিসান। ঢাকাতে কি বেড়াতে যাচ্ছেন?" "না, বেড়াতে এসেছিলাম। আপনি?" "আমি এখানকার স্থানীয়, বুয়েটে পড়ি, বাড়ি এসেছিলাম, আবার যাচ্ছি।" "কোন ডিপার্টমেন্ট?" "সিএসই - ৫ম সেমিস্টার।" "আমি মেডিকেলে ফার্স্ট ইয়ারে।" "ঢাকা মেডিকেল?" "হ্যাঁ" এলোমেলো হয়ে যাওয়া চুলগুলোকে আবার ঠিক করে নিল সে। আর বলার কিছু না পেয়ে থেমে গেলাম আমি, চুপচাপ বসে আছি। দূর আকাশে মেঘের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। তো মোবাইলটা বের করে ফেসবুক চেক করলাম। নতুন কিছু নেই, প্রতিদিন যে কাজগুলো ভাল লাগত, আজ কোনটাই ভাল লাগছে না, গেম খেলা, বই পড়া কিছুই নয়। যে বই গতকাল আমি ১০ পৃষ্ঠা বাদে সবটা শেষ করেছি আজ যেন তার ৫ পৃষ্ঠা পড়ার ধৈর্য্য নেই। তাই মোবাইলের ই-বুক রিডার টা বন্ধ করে পকেটে রেখে দিলাম। আমার এই অস্বস্তিকে থামাতেই যেন অহনা এবার নিজে থেকেই কথা বলল, "বৃষ্টি আপনার কেমন লাগে?" "কেমন লাগে? পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে, সবকিছু ভাল থাকলে ভাল, আর খারাপ থাকলে খারাপ।" "মাঝে মাঝে এর ব্যাতিক্রমও হয়। যখন কিছুই ভাল লাগে না, তখন মানুষ বৃষ্টি প্রত্যাশা করে।" "ও, আপনার দেখি দার্শনিক গুণ আছে!" কথাটা বলে অহনার দিকে এই প্রথম ভালোভাবে তাকালাম। চোখ দুটি কেমন যেন, যেন কি বলতে চায়, চেষ্টা করলাম বুঝার, কিন্তু আমার ঐ বৈজ্ঞানিক মস্তিষ্ক মানুষের মন বুঝার জন্য নয়। "কি চিন্তা করছেন? আমি কি ভাবছি তা?" আমাকে অবাক করে দিয়ে প্রশ্নটা করল অহনা। "কি করে বুঝলেন? আপনার দেখি মনস্তত্ববিদ্যায় অনেক প্রতিভা!" কিছু না বলে শুধু একটু হাসল, তারপর আবার চুলগুলো ঠিক করল। আমি মনের গভীরে একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। "আমার বন্ধু হবেন?" প্রশ্নটি যেন আমি করিনি মনের ভেতর থেকে আপনা আপনি চলে এসেছে। "আমার কারও বন্ধু হতে হয় না, আমি এমনিতেই সবার বন্ধু।" মনে হল সে একটু হাসল। আমিও হাসলাম, সে বলল, "জানেন মেঘলা দিনগুলো আমার খুব বোরিং লাগে কিন্তু আজ লাগছে না।" "ও, আজকে বিশেষ কিছু নাকি?" "জানি না।" এমন সময় বাসটি ঝাঁকুনি দিল। কিছু বুঝে উঠার আগেই আকাশ বাতাস, চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেল, নিকষ কাল অন্ধকার, তারপর কিছু মনে নেই। . . . যখন চোখ খুললাম, দেখি গাছের নিচে শুয়ে আছি, একটা লোক বলে উঠল, "এ লোকটা চোখ মেলেছে!" মাথাটা কেমন ব্যাথা করছে। জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে, উত্তরে যা বলল তাতে সর্বপ্রথম আমার ঐ মেয়েটার কথা মনে পড়ল। "এক্সিডেন্ট হয়েছে? ও আচ্ছা, আমার পাশে যে বসে ছিল, সে কোথায়? ঠিক আছে তো?" উত্তরের প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছি, ১০ সেকেন্ড প্রতীক্ষার পর উত্তর মিলল, "স্যরি, তিনি মারা গেছেন, আপনার কেউ হয়?" কথাটা শুনে আমার হৃদয়ের একটি স্পন্দন যেন হারিয়ে গেল। নিথর লাগছে নিজেকে। তারপর ভাবলাম, কে হয় ও আমার? কেউ হয় না। তবুও তার জন্য এত কস্ট হচ্ছে কেন আমার, বুঝতে পারলাম তাকে ভালবেসে ফেলেছিলাম এই অল্প সময়ের মধ্যে। লোকটি আবার প্রশ্ন করল, "আপনার স্ত্রী?" "না, আমার কেউ নয়।" নিজের কথাটা যেন নিজেকেই আঘাত করল, তাই কথাটা সহনীয় করে নিলাম, "বন্ধু।" ও এখন কোথায়? জানতে পারলাম, এই একটু আগে এ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে গেল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাবে। কষ্ট করে উঠে দাড়ালাম, লোকটি জিজ্ঞেস করল, "আপনি ঠিক আছেন তো?" "হ্যাঁ, ময়মনসিংহ যাওয়া যাবে কিভাবে?" "সামনে অটো পাবেন।" এমন সময় বৃষ্টি নামল, লোকটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমি সেদিকে হাঁটতে লাগলাম, বৃষ্টির জন্য আমার চোখের জল দেখতে পেল না কেউ, কেউ জানল না মনের কষ্ট, কিন্তু মনে হল প্রকৃতি যেন আমার দুঃখ ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। আবার যখন স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মেয়েটির আবির্ভাব ঘটবে তখন কি বৃষ্টি আসবে? লিখাঃ মৃদুল হক


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আপনার বৃষ্টি ভালো লাগে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now