বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আঁখি এবং আমরা ক'জন (৫)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (০ পয়েন্ট)

X মামুন হচ্ছে আমাদের সায়েন্টিস্ট কিন্তু সে আসলে একটু গাধা টাইপের মানুষ। পরের দিন ক্লাসে সে হেড স্যারকে বলল, “স্যার পানি ফেললে ইলেকট্রিসিটি হয় না। ইলেকট্রিসিটি তৈরি করতে হলে চুম্বকের মাঝে কয়েলকে ঘুরাতে হয়।” হেড স্যার ভুরু কুঁচকে বললেন, “কী বললি? অ্যাঁ?” মামুন একটু ঘাবড়ে গিয়ে বলল, “না মানে-ইয়ে–” হেড স্যার এগিয়ে এসে বললেন, “অ্যাঁ বেশি বড় মাতবর হয়েছিস?” মামুন চি চি করে বলল, “না স্যার হই নাই।” হেড স্যার খপ করে মামুনের কান ধরে একটা ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন, “কান টেনে ছিঁড়ে ফেলব অ্যাঁ বেয়াদপ ছেলে। আঁ!” কানটা শেষ পর্যন্ত ছিঁড়েন নাই কিন্তু টেনে যে একটু লম্বা করে দিয়েছেন সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। মামুন বেঞ্চে বসে গজগজ করতে লাগল, ফিসফিস করে বলল, “কিছু জানেন না বুঝেন না–আর হয়েছেন হেড মাস্টার!” কাজেই নোট বই যদিও এক্সপার্ট হেড মাস্টাররা লিখে থাকে কিন্তু তারা যদি আমাদের হেড স্যারের মতো হেড মাস্টার হয়ে থাকেন তা হলে সেগুলো পড়ে কোনো লাভ নেই, আম্মুকে সেই কথা বলাও যাবে না। বাসায় তা হলে অশান্তি শুরু হয়ে যাবে। . আমার বাসায় যেরকম শান্তি নেই স্কুলে সেরকম শান্তি নেই। লেখাপড়ার মাঝে কোনো আনন্দ নেই কিন্তু স্কুলে লেখাপড়া করতে হয়। লেখাপড়া মানেই হচ্ছে মুখস্থ, বেশি মুখস্থ কম মুখস্থ আর মাঝারি মুখস্থ, মনে হয় মুখস্থ করতে করতে একদিন জানটা বের হয়ে যাবে। আমাদের ক্লাসে শান্তা নামে একটা মেয়ে পড়ে। সে একদিন আমাকে বলল, “বুঝলি তিতু, আমার সবচেয়ে বেশি রাগ কার উপর?” “কার উপর?” ”বেগম রোকেয়ার উপর।” আমি অবাক হয়ে বললাম, “কেন?” “বেগম রোকেয়াই তো নারী শিক্ষা নারী শিক্ষা বলে আমাদের সর্বনাশ করেছে। যদি না করতো তা হলে আমাদের লেখাপড়া করতে হত না। মুখস্থ করতে হত না। ঘরে বসে দিনরাত টিভি দেখতাম। ইস ভগবান! কী মজাই না তা হলে হত।” শান্তা মনে হয় কথাটা ভুল বলে নাই। কিন্তু ক্লাসের মেয়েগুলো বেগম রোকেয়ার কারণেই হোক আর অন্য কারণেই হোক লেখাপড়া করতে এসে আমাদের ঝামেলা করে দিয়েছে। স্যার-ম্যাডামরা যখন যে হোমওয়ার্ক করতে দেন তারা সেগুলো ঠিকঠাক করে আনে আর সেই জন্যে আমাদের বকাবকি শুনতে হয়। বকাবকি আমি মোটামুটি সহ্য করে ফেলি কিন্তু যখন খপ করে কান ধরে একটা হ্যাঁচকা টান দেন কিংবা একটা বেত দিয়ে হাতের মাঝে সপাং সপাং করে মারতে থাকেন তখন সেটা সহ্য করতে পারি না, যতটুকু ব্যথা লাগে তার থেকে বেশি লাগে অপমান। আমাদের স্কুলের বিল্ডিংটা অনেক বড়, অনেক ক্লাস রুম, অফিস, সামনে বড় মাঠ কিন্তু কোনোখানে কোনো আনন্দ নেই। একটা বড় লাইব্রেরি আছে কিন্তু সেটা সবসময় তালা মারা থাকে। জানালার ফাঁক দিয়ে আমরা মাঝে মাঝে তাকিয়ে দেখি, সারি সারি আলমারি বোঝাই বই, কিন্তু আমরা কোনোদিন সেই আলমারির বইগুলি ছুঁয়েও দেখতে পারিনি। একদিন আমি সাহস করে আমাদের বাংলা স্যারকে বললাম, “স্যার। আমাদের লাইব্রেরিতে আমরা যেতে পারি না স্যার?” স্যার বললেন, “কী বললি?” আমি আমতা আমতা করে বললাম, “লাইব্রেরি” “লাইব্রেরি? কী হয়েছে লাইব্রেরির?” “আমরা লাইব্রেরিতে যেতে পারি না স্যার?” স্যার অবাক হয়ে বললেন, “কেন? লাইব্রেরিতে কেন যাবি?” “বই পড়তে।” “বই পড়তে? পড়ার বই নাই? তোর পাঠ্য বই নাই? গাইড বই নাই?” “আছে স্যার। কিন্তু লাইব্রেরি থেকে অন্য বই পড়তে চাচ্ছিলাম।” স্যার চোখ পাকিয়ে বললেন, “আউট বই? আউল-ফাউল বই?” মামুন তখন আমাকে সাহায্য করার জন্যে বলল, “অন্য বইও পড়া যায় স্যার। জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই। মহাকাশের বই।” আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে চালাক-চতুর মেয়ে হচ্ছে রিতু, সে বলল, “কাজী নজরুল ইসলাম-রবীন্দ্রনাথের বইও পড়া যায়।“ বাংলা স্যার তো আর কাজী নজরুল ইসলাম আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়ে বাজে কথা বলতে পারেন না, তাই মুখ শক্ত করে বললেন, “তোদেরকে লাইব্রেরিতে ঢুকতে দেই আর তোরা বই চুরি করে লাইব্রেরিটা শেষ করে দিস?” আমি বললাম, “কেন স্যার? বই চুরি করব কেন?” শান্তা বলল, “আমরা বই পড়ব।” “আমি তোদের খুব ভালো করে চিনি, তোরা হচ্ছিস পাজি বদমাইশ আর চোর। সবাই একজন করে চোর। কেউ ছোট চোর কেউ বড় চোর। সুযোগ পেলেই তোরা বই চুরি করবি।” স্যারের কথা শুনে আমার খুবই রাগ হল, আমি বললাম, “যদি আমাদেরকে লাইব্রেরিতে ঢুকতে না দেন তা হলে স্কুলে লাইব্রেরিটা আছে কেন?” স্যার একটু থতমত খেয়ে গেলেন, তারপর প্রচণ্ড ধমক দিয়ে বললেন, “যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা? আমার তোকে কৈফিয়ত দিতে হবে লাইব্রেরিটা কেন আছে?” আমি ভয় পেয়ে বললাম, “না স্যার-মানে স্যার–” স্যার হুংকার দিয়ে বললেন, “পাঠ্যবই পড়ার মুরোদ নাই উনি লাইব্রেরি থেকে আউট বই পড়বেন। শখ দেখে বাঁচি না। বড় হয়ে হবি একটা সন্ত্রাসী না হলে ঘুষখোর কেরানি, আর লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়বি? নিজের কাজ করে নিশ্বাস ফেলার সময় পাই না আর এখন লাট সাহেবের বাচ্চার জন্যে আমায় লাইব্রেরি খুলে দিতে হবে। বদমাইশ ছেলে। জুতিয়ে তোকে লম্বা করে দেওয়া দরকার, জিব টেনে ছিঁড়ে ফেলা দরকার। আমার কপালটা খুবই ভালো স্যার শুধু গালিগালাজ করেই শান্ত হলেন, আমাকে পিটালেন না। বাংলা স্যার যখন পিটানো শুরু করেন তখন সেটা হয় ভয়ংকর। মাসুমের কানের পর্দা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন চড় মেরে। লাইব্রেরির কথা বলা খুবই ভুল হয়েছে–আমি জন্মেও আর লাইব্রেরির কথা বলব না। মরে গেলেও না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now