বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমিও সে আদর্শে অবিচল থাকব”

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Raz Khan (০ পয়েন্ট)

X ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.)-এর স্ত্রীর একবার ইচ্ছে হলো কিছু মিষ্টি জাতীয় খাবার রান্না করে পরিবারের সবাইকে খাওয়াবেন। স্বামীকে এ ইচ্ছের কথা জানালেন। খলিফা সাফ জবাব দিলেন, মিষ্টির জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা আমার কাছে নেই। তিনি খলিফার সঙ্গে কথা আর না বাড়িয়ে সংসারের দৈনন্দিন খরচ থেকে অল্প অল্প করে রেখে মিষ্টি কেনার মতো পয়সা জমালেন। একদিন খলিফাকে তিনি আনন্দের সঙ্গে সংবাদটি দিলেন। কিন্তু এবার খলিফা গম্ভীর হয়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে রাজকোষে খবর পাঠালেন। রাজকোষের কর্মচারী খলিফার বাড়িতে এসে হাজির হলেন। খলিফাপত্নী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেন, খলিফা তার সঞ্চিত অর্থ রাজকোষের লোকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। স্ত্রীর সঞ্চিত অর্থ রাজকোষে জমা দিয়ে খলিফা আবুবকর সিদ্দিক (রা.) বললেন, এই সঞ্চয়ের ঘটনায় প্রমাণ হলো যে, এ পরিমাণ অর্থ বায়তুল মাল থেকে না তুললেও আমার সংসারের খরচ চলে যাবে। অতিরিক্ত সম্পদ আমি কিছুতেই রাজকোষ থেকে গ্রহণ করতে পারি না। আবু বকর রা. এর পর খলিফা নির্বাচিত হলেন উমর (রা)। বায়তুল মাল থেকে তিনি যে ভাতা নিতেন তাতে সংসার চলতো না। তার এ সমস্যার সমাধান কল্পে শীর্ষস্থানীয় সাহাবায়ে কেরাম পরামর্শ করে ভাতা বাড়ানোর চিন্তা করলেন। কিন্তু এ প্রস্তাব তারা সরাসরি খলিফার কাছে উপস্থাপন করার সাহস পেলেন না। শরণাপন্ন হলেন খলিফার মেয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর সহধর্মিনী হাফসা রা. এর কাছে। সুযোগ বুঝে হাফসা রা. এ প্রস্তাব ওমর রা. এর দরবারে পেশ করলেন। প্রস্তাব শুনে খলিফা ক্রুদ্ধ হলেন। কিছুটা রাগত আর কিছুটা বিষণ্ণ স্বরে প্রশ্ন করলেন, বলো তো হাফসা তোমার ঘরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সবচেয়ে ভালো পোশাক কেমন ছিল? উত্তরে হাফসা রা. বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যবহারের জন্য আমার ঘরে মাত্র দুটি হলুদ রঙের কাপড় ছিল। জুমার দিনে আর বিদেশি কোন মেহমান সাক্ষাত করতে এলে তিনি কাপড়গুলো পরিধান করে বের হতেন। ওমর রা. জিজ্ঞেস করলেন, বলতো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেযে ভালো খাবার কি খেতেন? হাফসা রা. বললেন, আমরা যবের রুটি খেতাম। একদিন ঘির পাত্রে যে তলানিটুকু ছিল তা গরম রুটিতে লাগিয়ে লাগিয়ে আমরা খেয়েছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও তা খেয়েছিলেন। উপস্থিত অন্যদেরকেও তা খেতে দিয়েছিলেন। এবার ওমর রা. প্রশ্ন করলেন,বল তো তোমার ঘরে রাসূলের সবচেয়ে ভালো বিছানাটা কেমন ছিল? হাফসা রা. উত্তরে বললেন, বিছানার জন্য একটি মোটা কাপড় ছিল। গরমের সময় কাপড়টি চার ভাঁজ করে বিছিয়ে দিতাম। শীতকালে অর্ধেকটুকু বিছিয়ে নিতাম আর বাকি অর্ধেক দিয়ে আমরা শরীর ঢাকতাম।এসব প্রশ্নোত্তরের পর খলিফা কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। তার চেহারায় প্রত্যয় ও আত্মবিশ্বাসের ছাপ ফুটে উঠল। আত্মবিশ্বাসের সুরে বললেন, “আমাকে আমার ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করে কোন লাভ নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর রা. যেভাবে সাদাসিধে জীবনাতিপাত করে গেছেনে আমিও সে আদর্শে অবিচল থাকব”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমিও সে আদর্শে অবিচল থাকব”

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now