বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি তখন ক্লাস থ্রি তে পড়ি। পিতার সরকারী চাকরির কারনে ছিলাম তখন কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে। আমার বড় ফুফার এক আত্মীয়র বাসা ছিলো নীলগঞ্জ গ্রামে। যেখানে বাংলার প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর সমাধি রয়েছে। আমার বড় ফুফার সেই আত্মীয়রা আবার ছিল প্রাচীন জমিদার বংশের লোক। উনাদের বাড়িটা অনেক বড়। ঘরের ভিতর অনেক রুম। ঘাট পালং গুলিও ঘুব বড় বড়। বাড়িতে অনেক বড় বড় সিন্দুক রয়েছে। চন্দ্রাবতীর বাড়ি টাও অনেক বড়। উনার ২ টা সমাধিও অনেক উচুঁ। যাই হোক, কিশোরগঞ্জে থাকার সময় আমার বড় ফুফার সেই আত্মীয়রা আমাদের বাসায় এসে আমাদের কে উনাদের বাসায় নিয়ে যায়। এতো সুন্দর বাড়ি আমি আগে কখনো দেখি নাই। বাড়ির ভিতর লিচু, আম গাছ থেকে শুরু করে বড় পুকুর সব ছিল। তবে উনাদের বংশে দোষ আছে। উনাদের আপন ভাই ক্লাস নাইনে পড়ার সময় গাছ থেকে পড়ে মারা যায়। উনাদের আপন বোন বি.এ. পড়ার সময় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। বাসায় ছিল তখন ২ ভাই ও তাদের মা। যাই হোক আমি বাড়ির সৌন্দর্যে এতই মুগ্ধ হয়েছিলাম যে দীর্ঘ ৮ বছর পর নটর ডেম কলেজে পড়া অবস্থায় আমি আবার সেই বাসায় যেতে চাই। আমার বড় ফুফার সাথে যোগাযোগ করে তাদের নাম্বার নিলাম।
তখন আমরা ছিলাম নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানায়। আমার ইচ্ছা ছিল উনাদের বাসায় ২ দিন থেকে কেন্দুয়ায় চলে যাবো। কিশোরগঞ্জ থেকে কেন্দুয়া যেতে ১ ঘন্টা সময় লাগে। যাই হোক আমি একদিন বিকালে উনাদের বাসায় আসলাম। বাড়ির অবস্থা আগের মতই আছে। তবে মসজিদটার অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। কারন মসজিদে শুধু ইমাম সাহেব আর মুয়াজ্জিন ছাড়া আর কেও নামায পরতে আসে না। রাত্রে ঘুমাবার সময় আমি যে রুম টায় থাকতে চাচ্ছি, তার মা কিছুক্ষন পর পরই তার ছেলেদের বলছে- ফারাবী একে একে রুমে থাকবে ভয় পাবে নাতো ? তার ছেলেরা কিন্তু কিছু বলছে না তখন। আমি সাথে সাথে বললাম, না ভয় পাবো কেন? আমি নিয়মিত নামায পড়ি। ফযরের সময় উঠে যাবো। প্রথম রাতটায়
কোন সমস্যা হয়নি। দ্বিতীয়ত রাতে ঐ মহিলা মানে তাদের মা আবার বলছে- ফারাবী একে একে রুমে থাকবে ভয় পাবে নাতো ? ২ ছেলেরা কিন্তু সেই রাতেও কিছু বলছে না। আমার একটু ঘটকা লাগলো। বার বার একই কথা কেন ? যাই হোক রাতে ঘুমালাম ঘুমানোর দোয়া টা পড়ে। ফযরের ১ ঘন্টা আগে এক অবিশ্বাস্য কান্ড ঘটলো ! আমি তখন আধা ঘুম আধা জাগরনে। দেখি আমার সামনে ঘুব ভয়ংকর চেহারার এক মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মানুষ কে এসিড মারলে তাদের চেহারার যে অবস্থা হয়, মেয়েটির চেহারের ঠিক সেই অবস্থা। আলিফ লায়লায় মাঝে মাঝে জ্বিনরা যেই চেহারায় আসতো, ঠিক সে রকম। মেয়েটি তার নখ দিয়ে বার বার আমাকে আঘাত করতে চাচ্ছিল, কিন্তু আমার কাছে আস্তে পারছিলোনা। এক অদৃশ্য বাধা যেন তার ও আমার মাঝে ছিলো। আমি তখন বুঝতে পারি যে আমি আর ঘুমন্ত অবস্থায় নেই। আমি জাগ্রত। কিন্তু কাউকে ডাকতেও পারছিনা। ভয়ে গলা আটকে গেছে। সেই চেহারাটা প্রায় ২০ মিনিট আমার সামনে ছিল। তখন মনে মনে দুরুদ শরীফ পাঠ করতে থাকি। আস্তে আস্তে মেয়েটা খুব হিংস্র ভাবে ভয়ংকর অঙ্গাভংগি করে বিদায় নিলো। এর পর বুকে হাত দিয়ে দেখি বুক ধরফর করছে। একটু পরে ফযরের আযান দিলো। ফযরের নামায পড়েই ঐ বাসা থেকে দূর। বাসায় এসে পিতাকে সব খুলে বললাম। পিতা বললো আমার দাদা নাকি অনেক আগেই আমাদের না করে দিয়েছিল আর ঐ বাসায় না যেতে। কারন বাড়িটা নাকি অভিশপ্ত। তাদের পূর্বপুরুষ রা এক সময় অনেক অত্যাচার করেছিলো সেই এলাকার লোকদের উপর। নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে সব রকম। এই জন্যই ঐ বৃদ্ধ মহিলা ২ রাতেই বলেছিলো- ফারাবী একে একে থাকবে ভয় পাবে নাতো ? তবে যাই হোক বাড়িটা খুব সুন্দর সেই সাথে বাংলার প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর সমাধিটা। আপনারাও ঘুরে আসতে পারেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now