বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমি মানেই তো তুমি

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X আজ বগুড়া ছাড়ছি রাত ১২ টার বাস। যদিও দিনটা অন্য সব দিনের মতোই ছিলো। কিন্তু কিছু সৃতি ফেলে যেতে হচ্ছে যা কিছু সময়ের জন্য তাকে নিয়ে ছিলো। সে আর কেউ না, তার নাম আদ্রি। ছোট থেকেই এক সাথে পথ চলা ছিলো আমাদের। সব কিছুতেই আদ্রিকে ছাড়া যেন চলতোই না ইমরানের । ঝগড়া , দুষ্টমী , আনন্দ সব কিছুতেই যেন মিশে ছিলো আদ্রি, ইমরানের মাঝে। সকালেই শেষ দেখা করে আসলাম যেয়েই দেখি আগেই এসে বসে আছে। অনেকটা অবাক হলাম, যাকে লেট হওয়ার জন্য এতো রাগ করতাম সেই আজ এতো আগে এটা ভেবে। আদ্রি:কেন ডাকসো বল? ইমরান:আজ চলে যাচ্ছি চিন্তা করো না আর তোমাকে জ্বালাতে আসবো না। আদ্রি:যাও, আটকে রাখছে কে তোমাকে। ইমরান:শুধু ভূলগুলোই দেখে গেলা একটু বোঝার চেষ্টাও করলা না? আদ্রি:কি বোঝার আছে সবটা তো নিজের চোখেই দেখলাম। ইমরান:চোখের দেখাও অনেক সময় ভূল হতে পারে তাই না । বিশ্বাসটা না হয় তোমার উপর ছেরে দিলাম ভাল থেকো। বলেই চলে আসলাম পিছু ফিরে তাকানোর সহসটা হলো না হয়তো ভালবাসার মাঝে বিশ্বাসটা যখন ভেঙ্গে যায় তখন হয়তো জীবনটা ফিকে হয়ে যায়। আদ্রিকে প্রথম ভালবাসার কথা জানিয়েছিলাম কোন এক বিষ্টির দিনে। হাতে ৫ টা গোলাপ নিয়ে ক্যাম্পাসের মধ্যে চিল্লিয়ে বলেছিলাম আদ্রি এই বিষ্টিতে তোমার হাত ধরে সারাজীবন হাটতে চাই। আর আদ্রিও না করেনি, সেদিন থেকেই ভালবাসার পথ চলা। খুনসুটি, ভালবাসা, অভিমান ভালই চলছিলো আমাদের মধ্যে তখন অনার্স ফাইনাল ইয়ারে ছিলাম দুজন। হটাৎ করেই আদ্রি ফোন দিয়ে বললো আজকে জরুরীভাবে দেখা করতেই হবে। আমিও টিউশনি শেষ করে দেখা করতে চলে গেলাম যেয়ে দেখি এখনো আদ্রি আসেনি। ফোনে ট্রাই করতে লাগলাম তার কিছুক্ষনের মাঝে এসে হাজির হলো। কেমন যেন চিন্তিতো লাগছিলো আদ্রিকে দেখে। আদ্রি:আজ বিয়ে করবো চলো। ইমরান:আরে বলো কি হটাৎ করে চাইলেই বিয়ে করা যায় নাকি। কি হইছে বলো?? আদ্রি: এতো কথা শুনতে চাই না আজ বিয়ে করলে আমায় পাবা নয়তো হারাবা, এবার তুমি ঠিক করো কি করবা? ইমরান:এভাবে বলছো কেন? আচ্ছা ঠিক আছে আজকের দিনটা সময় দাও কালকে কিছু একটা ব্যবস্থা করছি। আদ্রি:তুমি কি করবা জানি না, বাসায় কাল আমায় দেখতে আসবে যদি কাল কিছু না করতে পারো তাহলে সারাজীবনের মতো আমায় হারিয়ে ফেলবে। এই বলেই আদ্রি চলে গেল। এমনি বেকার তার উপর বিয়ে। অনেক চিন্তা ভাবনা করে ইমরান তার মামাকে ফোন দিয়ে সব খুলে বললো। এদিকে তো বাড়িতে অগ্নিকান্ড কেউ মেনে নিবে না বিয়ে করলে আব্বু বাসায় বলে দিয়েছে। অবশেষে মামার বুঝানোতে পারিবারিক ভাবেই বিয়েটা হলো আদ্রির সাথে । ভালই চলছিলো সাংসারিক জীবন। এর কিছুদিন পর আমিও ছোটখাটো একটা চাকরী পেয়ে গেলাম। তেমন একটা সময় দিতে পারতাম না আদ্রিকে একে তো নতুন জব তাই ছুটিও নিতে পারছিলাম না। এর মাঝেই কেন জানি আদ্রির মনে সন্দহো ঢুকে গেলো। অফিসে থাকা কালিন বার, বার ফোন দিয়ে খোজ নেয়। কি করছি, কার সাথে আছি, কোন মেয়ে কলিগ এর সাথে কথা বলি কি না এসব। প্রথমে এগুলো কেয়ারিং ভেবে উড়িয়ে দিতাম। কিন্ত এখন একটু বেশী সন্দেহো করা শুরু করে দিছে। অফিস থেকে আসলেই শার্ট চেক করা , ফোন বন্ধ পেলেই অফিসে চলে আসা , হটাৎ করেই ভডিও কল করার অবদার এই আরকি। এগুলোকে ভালবাসার অংশ হিসেবে দেখলেও আদ্রির আচারনে সন্দেহো মনে হতো। এরমাঝেই একদিন নিধি নামের ইমরানের এক কলিগের বাচ্চার অপারেশন তাই রক্তের প্রয়োজন। `ও` নেগেটিভ রক্ত লাগবে আর ও` নেগেটিভ রক্ত পাওয়াও রেয়ার। তাই অফিসের সব কলিগদের অনুরোধ জানায় যদি কারো গ্রুপ মিলে যায় সে যেন সাহায্য করে। আর ইমরানেরও মিলে যায় তাই রক্ত দিয়ে চলে আসার সময় নিধিকে রিক্সায় তুলে দেয়। কারন আরো এক ব্যাগ রক্ত লাগবে আর এই সময়ই আদ্রি দেখে ফেলো যদিও সামনে আসেনি। বাসায় যেয়ে তুমুল ঝগড়া শুরু করে দেয়। এক পর্যায়ে ডিভোর্স দেয়ার কথা বলে বাসা ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যায়। সেই থেকেই বাবার বাসাতেই থাকে এর মাঝে কেটে যায় ৪ মাস। অনেকবার বুঝানোর চেষ্টা চালিয়েছি তাতে লাভ হয়নি। এর মাঝেই একটা ভাল জব অফার পেয়ে যাই তাই বগুড়া ছেড়ে ঢাকা চলে যাচ্ছি। যেন আদ্রি শান্তিতে থাকতে পারে । আজ কেন জানি সময়টা খুব তাড়াতাড়ি চলে যাচ্ছে হয়তো সময়টাও বুঝতে পেরেছে বিদায়ের সময় চলে এসেছে। বিকেলে নতুন একটা সীম তুলে আনলাম সব পুরাতন সৃতিকে মুছে ফেলে নতুন করে বাচতে শিখতে হবে। যার কাছে ভালবাসার দাম নেই তাকে কিবা বুঝানো যায়। রাতে কাউন্টারে এসেই অনেকটা অবাক হয়ে গেলাম আদ্রিকে দেখতে পেয়ে। আদ্রি: পালিয়ে যাওয়ার কারনটা জানতে পারি? ইমরান:পিছুটান রেখে কি লাভ তাই একাই নিজের পথ দেখে নিচ্ছি। আদ্রি:তাহলে আমার কি হবে? ইমরান:সেটা তুমি ভাল জানো। আদ্রিgjorry আসলে সেদিন মাথা ঠিক ছিলো না তোমাদের দেখে। পরে তোমার কলিগদের কাছে সব জানতে পারি। কিন্তু ভেবেছিলাম কিছুদিন না হয় তুমি কতোটুকু ভালবাসো তা দেখি, তা নয় তুমি তো পালিয়ে যাচ্ছো। ইমরান:অবিশ্বাস দিয়ে ভালবাসা হয় না তুমি চলে যাও। আদ্রিgjorry এইতো কান ধরলাম আর কোনদিন ভূল বুঝবো না তোমায়।(বলেই কান্না করা শুরু করে দিলো) ইমরান:এবারের মতো মাফ করলাম সমনে যদি কখনো এমন করো তাহলে একবারে হারাবে মনে থাকে যেন। বিদ্রুপ:- ভালবাসা বেচে থাকেই বিশ্বাসে। যদি বিশ্বাস হারিয়ে যায় তখন সম্পর্কটা হারিয়ে যেতেও সময় লাগে না । তাই যাকে ভালবাসবেন তাকে একটু বিশ্বাস করতেও শিখুন দেখবেন জীবনটা সুন্দর হবে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমি মানেই তো তুমি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now