বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এখন প্রতিরাতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমাতে হয় আমাকে।
ঘুমের ওষুধই যে এখন আমার একমাত্র সঙ্গী। মিরার সাথে নয়
বছরের সম্পর্ক! এই নয় বছরের হাজারও জমাট বাধা স্মৃতি আমার
বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে দেয়। রাত হলে যেন আরো
বেশি দুচোখের পাতায় ভেসে ওঠে মিরার প্রতিচ্ছবি।
.
মিরা আমাকে ভুলে গেলেও আমি আজও ভুলতে পারিনি মিরাকে।
সত্যি কথা বলতে আমার ভালবাসার মধ্যে কোনো খাদ ছিলোনা।
মিরারও ছিলোনা। আমি ওর মধ্যে এমন কিছু দেখিওনি।
কোনোদিন ভাবতে পারিনি ও আমাকে ভুলে যাবে। আমিতো
ওকে শুধু ভালই বেসেছিলাম। তবে কেন ও আমার হৃদয়টাকে
ক্ষতবিক্ষত করে চলে গেলো..!? সত্যিই এ প্রশ্নের উত্তর
আমি আজও খুঁজে পাইনি!
.
আজকের চাঁদটি অদ্ভুত রকমের সুন্দর লাগছে..! কেন যেন
মনে হলো ঘুমের ওষুধটা খাওয়ার আগে ছাদে গিয়ে চাঁদ
দেখে আসি আর কিছুক্ষণ জোৎস্না উপভোগ করে আসি।
ফ্রিজ থেকে এক বোতল ঠান্ডা পানি, টেবিল থেকে
সিগারেটের প্যাকেট, দিয়াশলাই আর কিছু ঘুমের ট্যাবলেট নিয়ে
ছাদে গেলাম।
.
নয় বছরের স্মৃতি কি খুব সহজেই ভুলা যায়..!? যাকে হৃদয়ের সবটুকু
ভালবাসা দিয়ে ভালবেসেছিলাম, তাকে ভুলে যাওয়া আসলেই খুব
কঠিন। মিরা নামটি যেন আমার রক্তের সাথে মিশে আছে।
তাইতো আমাকে এত অবহেলা করার পরও মিরাকে ভুলতে পারছিনা
আমি।
.
এই চাঁদকে দেখলে মিরার কথাগুলো যেন স্পষ্ট কানের কাছে
বাজতে থাকে..! কত রাত পার করেছি ছাদে বসে মিরার সাথে
মোবাইলে কথা বলে..! দুজনে চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকতাম
আর কথা বলতাম।
.
একদিন মাঝরাতে হঠাৎ ফোন করে মিরা বললো... "আমি এখন
ছাদে। তুমিও ছাদে যাও। দেখো আজকের চাঁদটা কত সুন্দর..!"
আমি ছাদে গিয়ে দেখলাম সত্যিই অদ্ভুত সুন্দর লাগছে
চাঁদটাকে..! চাঁদের সে সৌন্দর্যের কথা ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা।
দুজনে চাঁদের দিকে তাকিয়ে ফোনে কথা বলে সারারাত পার
করে দিয়েছিলাম। এভাবে কত রাত যে কাটিয়েছি তার হিসেবে
নেই।
.
সেই চাঁদকে সাক্ষী রেখে মীরা বলেছিলো... "এই চাঁদের
জোৎস্না যেমন পবিত্র। তেমনি আমার ভালবাসাও পবিত্র। এই চাঁদ
যতদিন থাকবে তুমিও আমার থাকবে..।" কি সুন্দর কথা তাইনা..!? অথচ
আজ চাঁদ আছে, আছে জোৎস্নাও। কিন্তু মীরা নেই! সে
এখন অন্য কাউকে নিয়ে চাঁদ দেখায় মত্ত..!
.
আচ্ছা এই চাঁদ কি শুধু আমার জীবনেরই হাজারো স্মৃতির সাক্ষী
হয়ে আছে..!? নাকি আমার মতো আরও কেউ আছে..!
তাদেরও কি আমার মতো বুকের ভেতর জমাট বাধা কষ্ট
আছে..!? তাদেরও কি এমন স্মৃতি আছে..!? যে স্মৃতির সাক্ষী
হয়ে আছে এই চাঁদ..!? অবশ্যই আছে। চাঁদটা তো কারো একার
নয়..!
.
একটি সিগারেট দুই ঠোটের মাঝখানে বসিয়ে দিয়াশলাইয়ের
আগুন দিয়ে সিগারেটটিকে জ্বালিয়ে দিলাম। ইদানিং সিগারেটটা খুব
বেশি খাওয়া হচ্ছে আমার। আচ্ছা কষ্টের সাথে সিগারেটের কি
এমন সম্পর্ক যে কষ্ট পেলে সিগারেট খেতে হয়..!? আমিও
বা কেন খাই..!? এর কোনো সঠিক ব্যাখ্যা আমার জানা নেই।
.
এই সিগারেট খাওয়া নিয়েও মিরার সাথে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে
আছে। মিরা আমার সিগারেট খাওয়া কখনোই পছন্দ করতোনা।
কতবার যে ঝগড়া করেছি এই সিগারেট খাওয়া নিয়ে..! একদিন তো
বলেই ফেললো... "হয় সিগারেট ছাড়বা না হয় আমাকে ছাড়বা..!" কি
অদ্ভুত কথা..! মিরার ভালবাসার সাথে কি কখনো এই নিকোটিনের
তুলনা চলে..!? তাই সিগারেটটা ছেড়েই দিয়েছিলাম। তবে
অনেক কষ্ট হয়েছিল ছাড়তে..।
.
এখন সিগারেটের পর সিগারেট টেনে যাই নির্ভয়ে। বাধা দেবার
মতো কেউ নেই। কি করবো যার জন্য সিগারেট ছেড়ে
দিলাম, সে'ই আমাকে ছেড়ে গেছে। অনেক রাত হয়ে
গেছে। ভাবলাম দুটো ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে
তো আবার অফিস..!
.
দুটো ট্যাবলেট হাতে নিলাম। খেতে যাবো এমন সময়
মোবাইলে রিংটোন বেজে উঠলো। তাকিয়ে দেখি বাড়ি
থেকে ছোট বোন সুমি ফোন দিয়েছে.! আমি অবাক হলাম!
এতোরাতে সুমি ফোন দিলো কেন..!?
.
রিসিভ করে বললাম... "সুমি, এতোরাতে কল দিছিস কেন..?
কোনো সমস্যা হইছে..?"
.
ও বললো... "ভাইয়া, মা হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে কান্নাকাটি শুরু
করছে! তোমাকে কল দিতে বললো এখনই..! তাই কল দিলাম।
এই নাও মায়ের সাথে কথা বলো..।"
.
ওপাশ থেকে মা কান্নাভেজা কন্ঠে বললো... "ঘুমিয়ে ছিলাম।
হঠাৎ তোকে নিয়ে একটা খারাপ স্বপ্ন দেখলাম। খুব ভয় পেয়ে
গেছি..!"
.
আমি হেসে দিয়ে বললাম... "আরে ওসব কিছুনা। স্বপ্ন তো
স্বপ্নই।
.
"তোকে নিয়ে খুব চিন্তায় থাকিরে বাবা..! শহরে একা থাকিস
ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করিস কিনা দেখতেও পারিনা। তুই ভাল থাকলে
আমরাও যে ভাল থাকি!"
.
"মা, আমাকে নিয়ে এতো চিন্তা করোনা। আমি তোমাদের
দোয়ায় ভাল আছি।"
.
"শরীরের প্রতি যত্ন নিস বাবা। ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করিস। আর
সবসময় আল্লাহকে স্মরণ রাখিস।"
.
"আচ্ছা ঠিক আছে মা। এখন চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়..।" এই বলে
ফোনটা রেখে দিলাম।"
.
কেন যেন আজ ঘুমের ওষুধ খেতে ইচ্ছে করছেনা। রুমে
গিয়ে বিছানায় শুয়ে পরলাম। মায়ের কথা ভীষণ মনে পড়ছে। মা,
ভাই-বোন আমাকে নিয়ে কত চিন্তা করে..! অথচ আমি ওদের
কথা না ভেবে মিরাকে নিয়ে মেতে আছি..! যে কিনা আমার কথা
ভুলেও মনে করেনা এখন..! আর আমি..!? ওর কথা ভেবে
ভেবে প্রতিদিনই নিজেকে শেষ করে দিচ্ছি..!?
.লেখক,তুহিন(সপ্নের লেখক)
না এভাবে আর নয়। এখন থেকে আমিও ভাল থাকবো। আমাকে
ভাল থাকতে হবে। মায়ের জন্য। ছোট ভাই-বোনের জন্য। মিরা
যার কাছে গিয়ে সুখে থাকবে ভেবেছে, তার কাছেই
গিয়েছে। দোয়া করি ও সুখে থাকুক।
.
আচ্ছা আমি কি পারবো ভাল থাকতে..!? ইন-শা-আল্লাহ পারবো।
পারতে আমাকে হবেই...!!
•••
"আমিও পারবো"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now