বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি একদিন শয়তানকে হারাবই
লেখক - সিহান রিদ
অনেকবার চেষ্টা করেছি পাঁচ ওয়াক্ত নামাযী হতে। কয়েকদিন ঠিক ঠাক সব পড়েছি কিছুদিন পর আবার ছেড়ে দিয়েছি। না ছেড়ে দিয়েছি বলে নাস্তিক হয়ে যাইনি শুধু শয়তানের সাথে যুদ্ধটা করে পারিনি। আমি বার বার হেঁরে গিয়েছি।
তবে হাল ছেড়ে দেইনি। আমি জানি আমাকে ফিরে যেতে হবে আমার সৃষ্টি কর্তার কাছে। কি করা যায়? কিভাবে হারাবো আমি শয়তান কে? বার বার ওর কাছে হেরে যাওয়ার কারন কি? কি করে হারাবো ওকে? শক্তিটা কোথায়?
ঠিক করলাম বড় কোন যুদ্ধে আমি ওর সাথে পারিনা। যুদ্ধটা ছোট করে নিতে হবে। গেরিলা হামলার মত ছোট ছোট আক্রমনে ওকে দূর্বল করতে হবে আমায়।
গেরিলা যুদ্ধ শুরু হলো। আমি এক ওয়াক্ত নামায বেছে নিলাম। ঠিক করলাম কোন নামাযটা আমার জন্য সব চেয়ে সহজ হবে। প্রতিজ্ঞা করলাম যত রকম শয়তানি আমি করি না কেন আসর নামায টা আমি পড়বই। মাত্র তো চার রাকাত। গোসল করার সময় অযু করে নিলে ওযুর অযুহাত টাও দূর হয়ে যাবে।
আমি জানি নামায পড়ে শয়তানি করলে সে নামায হয়ত কবুল হয়না কিন্তু আমি এও জানি স্কুলে রোজ হাজিরা থাকলে ছাত্র যত খারাপই হইনা কেন পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ আমার থাকবেই। এ প্লাস না হোক প্রতিদিন ক্লাস করলে পাশ নাম্বার অন্তত থাকবেই।
আমি আসরের নামায পড়তাম আবার মাঝে মাঝে রাতে ড্রিংক্স করতাম। যেদিন আমি রাতে ড্রিংক্স করতাম পরের দিন জায়নামাযে দাঁড়ালে আমার কলিজা কাঁপতো! নিজেকে নির্লজ্জ আর বেহায়া মনে হত। অযু করার পরেও মনে হত আমার সারা গায়ে যেন কাদা লেগে আছে।
এক সময় শুধু ওই এক ওয়াক্ত নামাজের জন্য আমি ড্রিংক্স করা ছেড়ে দিলাম। চার ওয়াক্ত নামায ছেড়ে দিচ্ছি ,পড়বো শুধু এক ওয়াক্ত। আর সেটাও যদি কবুল না হয় এত কষ্ট কেন!
জীবনে প্রথম বারের মত শয়তানকে হারানোর আনন্দটা আমি টের পেলাম। সে আনন্দ স্বর্গীয়। আমি যখন জায়নামাজে দাঁড়াতাম আমার মনে হত। আল্লাহ যেন বলছেন দেখো ফেরেশতারা আমার একটা তুচ্ছ মানব আজ ইবলিশের মত শয়তান কে হারিয়ে দিয়েছে। তোমরা ওকে অভিবাদন জানাও।
আমার যখন নামাজে আলসেমী হত আমি তখন শয়তানের সাথে আল্লাহর কথোপকথনের হাদীস টা মনে করতাম। মনে করতাম আল্লাহকে দেয়া শয়তানের চ্যালেঞ্জ। আমার মনে হত আমার অযু করা মানে ওই শয়তানের গায়ে আগুন ঢেলে দেয়া।
আমার সাথে শয়তানের যুদ্ধ টা আজও চলছে। এ যুদ্ধে সে জয়ী। আমাকে সে ফিরিয়ে রেখেছে বাকি চার ওয়াক্ত নামায থেকে। ফযরের আযান শুনে আমি যখন মাথার উপর বালিশ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। আমার কলিজাটা ঘুমের ভিতরে কাঁপতে থাকে। মনে হয় আমার আল্লাহ বেজার হয়ে আছেন, আর দূরে কোথাও ইবলিশ মুখ টিপে হাসছে।
আমি একদিন শয়তানকে হারাবই। আসর পড়ছি ফযরও পড়বো। আল্লাহ তৌফিক দিলে পাঁচ ওয়াক্ত পড়বো।
লাভের আশায় ডেস্টিনি করলেন। লাভের আশায় শেয়ার কিনলেন। একবার কি লাভের আশায় স্রোষ্ঠাকে ভালবেসে দেখবেন? খুব ছোট একটা অস্র নিয়ে শয়তানের দিকে ছুটে যান। এক ওয়াক্ত নামায দিয়ে শুরু করেন। বাকি পথ আল্লাহ করে দিবেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now