বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মোঘল সম্রাট বাবরের পুত্র সম্রাট হুমায়ূন
একবার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে খরস্রোতা নদীতে ঝাঁপ
দিয়েছিলেন।ফলে তার প্রান বাঁচানোই দায় হয়ে
পড়েছিল।তখন এক ভিস্তিওয়ালা তাকে সাঁতরে পাড়ে
উঠতে সাহায্য করেছিল।হুমায়ূন বলেছিলেন,’আমি
যদি দিল্লীর সিংহাসন পায় তবে তুমি দেখা
করবে,আমি তাই উপহার দেব যা তুমি চাইবে।‘যখন
হুমায়ূন দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করলেন সে সময়
এক ছেঁড়া ময়লা জামা পরিহিত কাঁধে ছাগল-চামড়ার
ভিস্তি নিয়ে ভিস্তিওয়ালা হুমায়ুনের ফটক প্রহরীকে
প্রস্তাব করলেন ‘আমায় বাদশাহের কাছে যেতে
দাও’।প্রহরী রাগান্বিত হয়ে তাকে গুপ্তচর বা
পাগল মনে করে আটকে রেখে বাদশাহকে জানাতেই
হুমায়ূন বললেন তাকে খুব সম্মানজনকভাবে আমার
কাছে নিয়ে এস।‘ভিস্তিওয়ালা হুমায়ূনের
রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করতেই হুমায়ূন ছুটে গিয়ে
তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন,’আমি আপনার
দ্বারা উপকৃত।বলুন আপনি কি চান?আমি
ইনশা’আল্লাহ বিনা দ্বিধায় আপনাকে তাই
দিব’ভিস্তিওয়ালা বললেন,’আমি চাই তোমাকে সরিয়ে
সিংহাসনে বসতে’।সমস্ত সভাসদ অবাক।হুমায়ূন
মাথার মুকুট খুলে ভিস্তিওয়ালার মাথায় পড়িয়ে দিয়ে
তাকে সিংহাসনে বসিয়ে সভাসদকে জানিয়ে
দিলেন,’আজ থেকে ইনিই বাদশাহ।আমি এর নগণ্য
খাদেম’।গোটা দিল্লীতে তোলপাড়।হুমায়ূন বহুভাবে
জিজ্ঞাসিত হলেন কেন তিনি এরকম করলেন?তিনি
উত্তর দিলেন,’পবিত্র কোরআনে আছে প্রতিশ্রুতি
ভঙ্গ করা অবৈধ।আমি তো ডুবে মরেই যেতাম,তার
উপকারে তিনি যা চাইবেন তাই বলে স্বীকার
করেছিলাম’।যাই হোক এক রাত্রি যাপনের পর
মহামান্য ভিস্তিওয়ালা হুমায়ুনকে আলিঙ্গন করে
তার মাথায় আবার মুকুট পড়িয়ে তাকে সিংহাসনে
বসিয়ে হাত তোলে দোয়া ও করমর্দন করে বলে
গেলেন,’আমি বড় পুরষ্কার পেয়েছি,তা হচ্ছে
আপনার মানবতা ও চরিত্রের দৃঢ়তা’।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now