বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমি আর মায়াবতী পর্ব ১

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আমি আর মায়াবতী পর্ব ১ . . মানুষ এর জন্য ঘুম খুবই গুরুত্ব পুর্ন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একদল গবেষক কয়েক জন কয়েদির উপর একটা এক্সপেরিমেন্ট চালান।তাদের সবাই কে একটা রুমে আটকে রাখা হয় পর্যাপ্ত অক্সিজেন সাপ্লায় খাবার সরবরাহ করা হয়।এক প্রকার গ্যাস রুমে স্প্রে করা হয় সেটা ঘুমনিরধক।তাদের কথা শুনার জন্য একটা মাইক্রোফোন লাগানো ছিলো। এক সপ্তাহ ভালো থাকার পরই সব কিছু আস্তে আস্তে বদলে যায় তাদের কথাবার্তা অনেক কমে যায়।১৪দিন পর কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে রুমে গিয়ে দেখা যায় তাদের চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে একজন আরেক জনএর মাংস খাওয়া শুরু করছে।এই ভয়ংকর এক্সপেরিমেন্ট জানার পর ঘুম এর ব্যাপারে আমি অনেক সতর্ক। ।সেদিন রাত্রে ঘুমুচ্ছি নাকে হাল্কা হাল্কা সিগারেট এর ধোয়ার গন্ধ আসছে।চোখ বুজেই ব্যাপার টা বুঝার চেষ্টা করলাম।আমি ছাড়া রুমে আর কেও নেই পাশের রুমে দুইজন থাকে।আমার রুমের দরজা সাধারনত আটকানো থাকে। বাহিরে জোসনা খা খাঁ করছে।জানালা খুলা জোসনা এসে গায়ে পড়ছে। ঝি ঝি পোকা অনবরত ডেকেই যাচ্ছে যাকে বলে ক্লান্তিহীন। চেয়ারে কেও বসে আছে চেহারা টা লম্বাটে সাদা আলখেল্লা পড়াহিত লোক।চোখ কচলে ভালো করে তাকালাম না একজন মানুষ। আমার দিকে পিঠ দিয়ে টেবিলের উপর বই খুলা হাতে সিগারেট অবাক না হয়ে পারলাম না। গলা খাঁকারি দিলাম।কিন্তু তার ভিতরে কোন সাড়া পরলোনা যেনো এটা হওয়ারি ছিলো। কি অভ্র সাহেব ঘুম ভাংলো নাকি? হা কিন্তু আপনি আমার রুমে এই গভীর রাত্রে কি করছেন? দুঃখিত আপনাকে না বলে ঢুকে গেছি নিজ গুনে ক্ষমা করবেন।আসলে আমি একজন অসুস্থ বলতে পারেন বোকাও বটে।বোকা না হলে অন্তত এই ভয় টা ভিতরে জাগতো এতো রাত্রে না জানিয়ে কারো রুমে ঢুকে পড়া। ঘুমের মাঝে বিরক্ত করছে আবার বড় বড় কথা বলছে মেজাজ টাই বিগড়ে গেলো। আপনি কি আমায় চেনেন? নাহ আমি আপনাকে চিনবো কি করে।এক সময় চিনতাম যখন আপনার মতো চলাফেরা করতাম। কেন এখন চলাফেরা করেন না? নাহ আরে সেদিনই ত মারা গেলাম। আজব আপনিও ত আমার জানাজা পড়েছেন। লোক টা চেয়ার থেকে উঠে দারিয়েছে।মনে হয় রেগে গেছে।আমার দিকে বড়বড় চোখে তাকিয়ে আছে।অমনি ঘুম থেকে জেগে উঠলাম।সুইচ অন করলাম নাহ কেও ত নেই।জানালা খুলা কিন্তু ঘুটঘুটে অন্ধকার জোসনার কোন লেশ মাত্র নেই।তার মানে এতো ক্ষন স্বপ্ন দেখছিলাম।ঘুমানোর আগে এক লোকের আত্বিয়ের সাথে কথা বলছিলাম।ঘুমের মাঝে অবচেতন মন তাকেই নিয়ে এসেছে। কি বিদঘুটে চেহারা পাচ টনি ট্রাকের নিচে পড়ে মাথা চেপ্টা হয়ে যায়।এইতো এক সপ্তাহ আগেই এক্সিডেন্ট হয়েছিল। বালিশ এর নিচ থেকে সিগারেট এর প্যাকেট খুলে সিগারেট জ্বালালাম।রাত ৩টা এখন আর ঘুম হবেনা। জানালার কাছে গিয়ে বসে থাকবো সেই সাহস পাচ্ছিনা। ৪:৪৫মিনিট ফজরের আজান দিচ্ছে।ফ্রেস হয়ে নামাজ পড়ে। প্রাতঃভ্রমণ বের হলাম।আম্মার ফোন এতো সকালে সাধারনত ফোন করেনা। হ্যালো আম্মা কেমন আছো? হ্যা ভালো ঘুম ভেঙেছে? হুম অনেক আগেই। শরিল ঠিক আছে ত বাবা? হুম আম্মা আমি ঠিক আছি আচ্ছা রাখি এখন কাজ করতে হবে। হুম ফোন রেখে আবার হাটা শুরু করলাম। আস্তে আস্তে মানুষ এর চলাচল বাড়ছে। কেও অফিসে কেও বা ট্রেন ধরার জন্য খুব তাড়াতাড়িই পা ফেলে এগুচ্ছে।আমার তেমন কোন তাড়া নেই।হাটছি রুগীদের মতো আমার দৌরাতে একদমই ইচ্ছে করেনা।এর মাঝে দুদিন ধরে পেটে কি যেনো হয়েছে কিছুক্ষন পরপরই ব্যাথা করে।কুলাতে পারিনা।আমার মন বলে ইয়া বড় বড় পোকা হয়েছে যারা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে।হতে পারে জায়গা নিয়ে আবার খাবার ভাগাভাগি নিয়েও হতে পারে।পোকা হওয়া অসম্ভব এর কিছুনা ছোট বেলা আম্মার মুখে শুনছিলাম আমার এক দূর সম্পর্কীয় আত্বিয়ের পেটে বড় একটা পোকা হয়েছিল।পোকা নাকি ফুসফুসে আক্রমণ করেছিলো।তার চিতকারে হাসপাতালের অন্যান্য রুগিরা বিরক্ত হতো।তা ছাড়া পলেটিসিয়ান লোক কিছু বলাও যায়না।এক ডাঃবাদরামি করে নাকি বিশ খাওয়াই দিছিলো। এরপর পোকা মরে যায়।কিন্তু আমি এটা বিশ্বাস করিনি। আমার আশে পাশে কেও আছে কিনা সেটাও ভুলে গেছি।মাথায় পোকা নিয়ে সব গোলমাল পাকিয়ে ফেলছি।আমার একটা রোগ অনেক আগে থেকেই কিছু কথা যা একবার মাথায় ঢুজে গেলে আর বের করতে পারিনা।এই যেমন এখন মাথায় ঘুরছে পোকা।অন্য জিনিষ নিয়ে ভাবতে চেষ্টা করলাম নাহ কাজের কাজ কিছু হলোনা। কেও একজন পাশ থেকে বলছে আপনি কি কোন কারনে চিন্তিত? তাকিয়ে একবার চমকে উঠি এতো সুন্দর মেয়ে অনেক দিন ধরেই দেখিনা।চোখ গুলা খুব সুন্দর করে কাজল দেওয়া।সকাল বেলা এমন সাজুগুজু করার কি মানে হতে পারে? কি হলো? নাহ আচ্ছা মানুষ এর পেটে কি পোকা হওয়ার সম্ভাবনা আছে? মেয়েটি কেমন ঘার চুল্কাচ্ছে বুঝলাম ঘার চুল্কাচ্ছে তার মানে এখনো প্রশ্নের উত্তর খুজে যাচ্ছে। দু মিনিট নিরবতা এর পর বলে উঠে নাহ। এটা ত ফল ফুল না যে পোকা হবে। তাও ঠিক কিন্তু আমার পেটে মনে হয় তাহলে কাকরা জন্মায়ছে কেনো এমন মনে হচ্ছে? কিছুক্ষন পরপরই ব্যাথা করে তখন আর থাকতে পারিনা। আরেহ এটা কোন সমস্যা না।প্রতিদিন এক গ্লাস করে লেবুর রস দিয়ে শরবত খাবেন তাহলে ভালো হয়ে যাবে।আমার পেট ব্যাথা হলে এই কাজ করি। মেয়েটার কথা বলার ভঙ্গী দেখেই বলে দেওয়া যায় খুব চটপটে মেয়ে। . .চলবে.......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমি আর মায়াবতী পর্ব ১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now