বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমি আর কখনও ফিরবোনা

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X . -- কিরে তুই এখনও রেডি হোসনি যে? তাড়াতাড়ি রেডি হ .... -- আমিতো রেডি ই আছি। -- তুই এই ছেড়া জামা টা গায়ে দিয়ে থাকবি? আজ তিতলির বিয়ের দিনে তুই এই পোষাক পরে থাকবি? -- তাতে কি? আমিতো এই ছেড়া পোষাক পরেই থাকি রোজ। -- কি বলিস? এরকম করছিস কেন শুভ্র? তুই কি এ বাড়ির চাকর? আমরা কি কখনও তোকে এ বাড়ির চাকরের মতো দেখেছি। -- চাকর হয়তো নই। চাকরের ছেলে। শুভ্রর চোখে অশ্রু টলমল করছে। শুভ্রের মুখে এরকম কথা শুনে আর চোখে জল দেখে তিতলির মা বললেন, -- কেউ কি তোকে কিছু বলেছে? তুই এমন করছিস কেন? -- আরেনা জেঠিমা আপনি শুধু শুধু টেনশন করছেন। আসলে তিতলি আর আমার ঝগড়া হতো সারাক্ষণ। এখন আর হবেনা। সেজন্যই একটু মন খারাপ হচ্ছে। -- তোর গাল লাল হয়ে আছে? সত্যি করে বলতো কি হয়েছে? -- ও কিছু না জেঠিমা .. গালে বিয়েবাড়ির প্যান্ডেলের বাশ লেগে লাল হয়ে গেছে। -- আচ্ছা .. তোর রুমে গিয়ে দেখ তোর জন্য নতুন কাপড় রাখা আছে। পরে তাড়াতাড়ি এইদিকে একটু আয়। অনেক কাজ আছে। -- আচ্ছা। . শুভ্র তার রুমে গেলো না। সরাসরি নিরুদ্দেশে হাটতে শুরু করলো। হাটতে হাটতে অনেক রাত হয়ে গেলো। এতক্ষণে তিতলির বিয়ে হয়ে গেছে। সে অন্যের বউ হয়ে এতক্ষণে চলে গেছে। তার কথাগুলো খুব কানে বাজছে ..... শুভ্র একটা ব্রিজ এর উপর শুয়ে পুরনো দিনের কথাগুলো ভাবলো। তিতলি যখন ছোট ছিলো, তখন বলেছিলো, -- এই শুভ্র, আমি তোর বউ হবো। তুই আমার বর হবি? -- হুম, আমিতো তোর বর ই। কেনো তুই জানিস না? -- সত্যিই? -- হ্যাঁ। -- তাহলে বউ এর একটা কাজ করে দিবি? -- কি কাজ? -- আমাকে তেঁতুল পেড়ে দিবি? -- তুই তেঁতুল খাবি? -- হুম। শুভ্র তেঁতুল চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে যায়। এরপর প্রচুর মাইর খেয়ে ফিরে আসে। -- আমার জন্য তোকে মাইর খেতে হলো রে!! -- না না, ও কিছু নয়। তোর জন্য দেখ কি নিয়ে এসেছি... শুভ্র পকেট থেকে একটা তেঁতুল বের করে দেয় তিতলির হাতে। তিতলির খুশি দেখে তেঁতুল চুরির মাইরের কথা ভুলে যায় শুভ্র। . এরপর তিতলি শহরের বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি হয়েছিলো। পড়ালেখা শেষ করে ফিরে আসে। ওর বিয়ে ঠিক হয়েছিলো, তাই। শুভ্রর ছোটবেলার খুনশুটিগুলো কেবলই খুনশুটি ছিলোনা। ভালোবাসায় রুপান্তরিত হয়ে গিয়েছিলো। তাই তিতলীর বিয়ের দিনে শুভ্র ঠিক করেছিলো তিতলিকে সব খুলে বলবে, -- তিতলী ... তোকে একটা কথা বলবো। -- যা বলবি তাড়াতাড়ি বল .... -- আমি তোকে ভালোবাসি। -- কি? তুই একটা চাকরের ছেলে হয়ে এই কথা বলার সাহস কিভাবে পেলি? -- ওওওহ ... তাহলে ছোটবেলায় যে আমাকে তোর বর বলতি? -- খেলার ছলে ওসব কত কথাই বলেছি। ঐসব তুই এখন তুলছিস কেন? আমি যাচ্ছি। -- যাস না তিতলী। -- হাত ছাড়? -- ছাড়বোনা ... তিতলী পা থেকে একটা জুতা খুলে শুভ্রের গালে মেরে বললো, -- চাকরের ছেলে চাকর। আদর করে বন্ধুত্বের আসন দিয়েছিলাম। তুই মাথায় চড়ে বসতে চাস? . এরপর শুভ্রের সাথে তিতলির মায়ের দেখা হয়। বাকীসব তো আপনাদের জানাই আছে। . শুভ্র তিতলীর কল্পনা থেকে বেরিয়ে আসে। তারপর অস্ফুটে বলে, -- ভালো থাকিস তিতলী, আমি আর কখনও ফিরবোনা। শুভ্র হাটতে থাকে, একসময় অন্ধকারে মিলিয়ে যায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমি আর কখনও ফিরবোনা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now