বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমার রাজকন্যা!

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান R.H (dangeor-virus) (০ পয়েন্ট)

X সবাই তার স্বপ্নের রাজকন্যাকে হয়তো নীল শাড়িতে অনুভব করতে চায়। হয়তো হুমায়ূন আহমেদের রূপা ইফেক্ট। কিন্তু আমি তোকে প্রথম দেখেছিলাম কালো শাড়িতে। হ্যাঁ, অবশ্যই কোনো এক একুশে ফেব্রুয়ারি। প্রেমে পড়ার মতো কোনো সাজ তোর ছিল না। ছিমছাম একটা মেয়ে। তারপর থেকে সে আমার অনুভূতিতে সেই কালো শাড়ি পরা রাজকন্যাই। সেই প্রথম দেখা। তুই ছিলি শান্ত একটা মেয়ে, ক্লাসের এক কোনায় চুপ করে বসে থাকা। আজ তুই চঞ্চল, কথায় কথায় তোর দুষ্টুমি, বাদামের খোসাগুলো দিয়েও চলে তোর খুনসুটি। আমার দেখা তুই ছিলি ভাবগম্ভীর অন্যভাবে বলা যায় প্রেমে পড়বি না এমন টাইপ, আর আজ সেই তোর আমার মাঝেই বিচরণ। যুক্তিবিদের মতো তোর কথার যুদ্ধে আমি কখনোই জয়ী হতে পারিনি। আর আজ তোর অযৌক্তিক কথার যুক্তি আমার কাছে নেই। মনের ‘বাচ্চামি’ লুকিয়ে রাখা তুই আজ বাচ্চাই হয়ে গেছিস। হ্যাঁ, সে আমার জীবনের প্রথম ও শেষ, অরোরা। প্রেম করেছি সাত বছর। আর বিয়ের বয়স হলো পাঁচ। আমার অরোরাকে আমি আমার মতোই সাজিয়েছি। জানি, সে আর পাঁচটা মেয়ের মতো স্বাভাবিক না। আমরা যখন থার্ড ইয়ারে পড়ি, তখন একটা ঘটনায় ওর মাথায় আঘাত লাগে। চিকিৎসা করানোর কেউ ছিল না। আমিও করাতে পারিনি। সেই অপরাধবোধ আমি আজও মুছতে পারিনি। তারপর আস্তে আস্তে কয়েক বছর ধরে ওর অস্বাভাবিক হয়ে যাওয়া। যখন বিয়ে করি আম্মা-খালারা বলেছিল, এই মেয়ে তো পাগল। এর বোঝা জীবনে নিচ্ছিস কেন? আমি বলেছিলাম, নিজের জীবন কখনো নিজের কাছে বোঝা হয় না। এরপর আছি ওর সঙ্গে। কাজ সামলানো আর তারপর আমার অরোরাকে সামলানো—এই তো আমার জীবন। আগে যখন আমরা দেখা করতাম, অরোরা সব সময় আমার চুলগুলো ঠিক করে দিয়ে বলত—এই তোর চুলগুলো এমন কেন রে? আর আজকে আমিই ওর চুল বেঁধে দিই। ঝুম বৃষ্টিতে ভেজা মেয়েটা আজকে বৃষ্টি ভয় পায়, রাতবিরাতে ঘুরতে চাওয়া মেয়েটা আজকে অন্ধকার ভয় পায়। এখন তার একটাই আশ্রয়—আমি। এখন চিকিৎসা চলছে। আমার অবুঝ বউটা আমাকে এখন চা বানিয়ে খাওয়াতে পারে। কথাগুলো গুছিয়ে বলতে শিখেছে, জেদ ছেড়েছে। বিকেলবেলা হাঁটতে গেলে সে এখন হাত ধরেই হাঁটে। একা একা চোখে কাজল পরতে পারে। প্রতিদিন কোলে শুইয়ে যখন ঘুম পাড়িয়ে দিই, একটাই প্রার্থনা করি—তুই যেমনই হোস, যা-ই হোস, তুই শুধু আমায় ছেড়ে যাস না কখনো। আমার জীবনে কোনো আফসোস নেই। হবেও না কখনো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমার রাজকন্যা!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now