বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঘুমের ঘোরে কোলবালিশটাকে শক্ত
করে জড়িয়ে ধরলাম। লেপের ভেতরে
উষ্ণ শরীরে ঘুমিয়ে থাকতে ভালই
লাগছে। কিছুক্ষণ পরে বুঝতে পারলাম
কোলবালিশ নড়াচড়া করছে!
কোলবালিশ তো নড়াচড়া করে না।
কাহিনি কি! চোখ খুলে দেখলাম এটা
কোলবালিশ না! একটা মেয়ে আমাকে
জড়িয়ে ধরে রাখছে। ভাল করে দেখে
বুঝলাম এটা আমার বউ। কালকে আমার
বিয়ে হয়েছে!
.
চোখ খুলে বুঝলাম সকাল হয়ে গিয়েছে।
দরজায় ধাক্কা শুনে ঘুম ভেঙে
গিয়েছে। মুন্নির দিকে তাকালাম।
এখনো ঘুমাচ্ছে। ঘুমানোর সময় মানুষকে
সবচেয়ে নিষ্পাপ লাগে। ওর মুখে
রাজ্যের সব সৌন্দর্য এসে ভিড় করেছে।
তাকে জাগানোর ইচ্ছা হচ্ছে না।
কিন্তু দরজায় শব্দের কারনে বেশিক্ষণ
ওকে দেখতে পারলাম না। তাকানোর
সাথে সাথে আমার চোখে চোখ পরল।
মুচকি হেসে বলল
-শুভ সকাল।
-শুভ সকাল।
-তুমি শুয়ে থাক। আমি দরজা খুলে
দিচ্ছি।
.আরে আপনাদের পরিচয়ই তো দেইনি।
আমি জাকির।এরার অনার্স শেষ করে একটা জব করছি।
আর যাকে বিয়ে করলাম ও হলো মুন্নি।
যাইহোক
মুন্নি বিছানা ছেড়ে উঠে শাড়ি
ঠিক করল। রাতে নিজেই ওর কুচি ঠিক
করে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন সেটা
নেই। আমি লেপের মধ্যে শুয়ে ওইএ
দেখছি। দরজা খুলে দিতেই দুই ভাবি
ভেতরে ঢুকল। আমার আপন কোন ভাবি
নেই। তবে ফুপাত, মামাত ভাবি আছে
কয়েকটা। দুইজন ভাবি বিছানার কাছে
এসে বলল
-দেবর! এখনো ঘুমাচ্ছ!
-হুম। ঘুমাতে দাও।
-রাতে অনেক ধকল গিয়েছে। তুমি
ঘুমাও।
কথা শেষ করেই হেসে উঠল। আরেক
ভাবি তার সাথে তাল মিলিয়ে
হাসতে থাকল। চোখ খুলে মুন্নির দিকে
তাকালাম। সে কিছুটা লজ্জা
পেয়েছে।
.
-একি! তুমি দাঁড়িয়ে কেন! এখানে বস। মুন্নি বিছানায়
বসল। ভাবি কিছুক্ষণ চুপ
থেকে বলল
-তুমি শাড়ি পড়তে পার!
-না।
-তাহলে রাতে কিভাবে পড়েছিলে!
-ও পড়িয়ে দিয়েছিল।
মুন্নি মাথা নিচু করে আছে। নতুন
মানুষের সামনে লজ্জা পাওয়া
স্বাভাবিক। ভাবি আমাকে খোঁচা
মেরে বলল
-একি দেবর! এখনি শাড়ি করে দিতে শুরু
করেছ! এখন তাহলে তুমি পড়িয়ে দিবে
নাকি আমরা!
পাশ থেকে অন্য ভাবি বলল
-আরে নাহ। এখন সে পারবে না। চলো
আমরা পড়িয়ে দেই।
.
দুই ভাবি মুন্নিকে সাথে নিয়ে
ওয়াশরুমে ঢুকল। সে এখনো ফ্রেশ হয়নি।
যাওয়ার আগে ব্রাশ নিয়ে গেল। আমি
শুধুই চুপচাপ শুয়ে আছি। এখন আমাকে ঘুম
থেকে উঠে পড়া উচিত। ফ্রেশ হয়ে
বাইরে যাওয়া লাগবে। লেপ ছেড়ে
উঠে লুঙ্গি ঠিক করে পড়লাম। গায়ে
একটা চাদর জড়িয়ে রুম থেকে
বেড়িয়ে আসলাম।
.
-এতক্ষণে উঠলি! আমি তো ভাবছিলাম
তুই উঠবি না আজ।
পিছনে তাকিয়ে দেখলাম, আমার
ছোট চাচাত ভাই তাকিয়ে আছে।
মুচকি মুচকি হাসছে। ওকে কাছে
ডেকে বললাম
-উঠব না কেন!
-নতুন বউ পেলে কেউ কি উঠতে চায়!
আমি চুপ করে ওর দিকে তাকিয়ে
থাকলাম। আমার এই ভাই বাশ দেওয়ার
জন্য যথেষ্ট। সে কথার মাধ্যমে আমাকে
বাশ দেয়। আছিলা সুন্দর একটা বাশ
দিয়ে চুপ করে থাকে। তবে ভাইকে
অনেক ভালবাসি।
.
রুমে ঢুকে দেখলাম মুন্নি ফ্রেশ হয়ে
বেড়িয়ে এসেছে। বিছানায় তিনজন
একসাথে বসে আছে। ভাবি তাকে
টুকটাক সাজিয়ে দিচ্ছে। ব্রাশ হাতে
ওয়াশরুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।
নিজেকে আয়নায় একবার দেখলাম।
কেন দেখলাম সেটা জানিনা।
.
বাইরে এসে দেখলাম বাবুর্চিরা
রান্না করছে। বাড়ি মোটামুটি উৎসব
মুখর হয়ে গিয়েছে। লোকজনের
আনাগোনা দেখছি। ছোটবেলায়
কারো বিয়ে দেখলে ভাবতাম, আমার
বিয়েতেও এমন করা হবে। আমার ছোট
মামা বলত, আমার একমাত্র ভাগ্নের
বিয়েতে অনেক মজা করা হবে।
.
-মুন্নি সকালবেলা কিছু খাইছে?
বড় আপু আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস
করে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল। আমি
খেয়েছি নাকি সেসবে কোন মাথা
ব্যাথা নেই! আমি বললাম
-জানিনা। ভাইয়ের খাওয়ার খবর না
নিয়ে ভাবির খাওয়ার খোঁজ নিচ্ছিস!
-তুই তো এই বাড়ির মানুষ। তোর ইচ্ছা মত
নিয়ে খেতে পারবি। ও নতুন এসেছে। ও পারবে না। বুঝিস তো।
-তুই ঘরে গিয়ে দেখ।
বড় আপু চলে গেল। আমি কিছুক্ষণ পরে
খেতে বসলাম।
.
আমার রুমে ঢুকে দেখি সেইরকম অবস্থা।
সবাই মিলিয়ে একরকম মিটং
বসিয়েছে। মুন্নি তাদের মিটিং এর
মধ্যমনী। ভাবি ডেকে বলল
-দেবর! নতুন বউ পেয়ে পুরাতন বউ দের
ভুলে যেও না।
-না গো। তোমাদের ভুলব না। তোমরা
হল পুরাতন ভাল বউ। নতুন বউ এত ভাল হয়!
মুন্নির দিকে তাকালাম। একটু অভিমান
করেই তাকিয়ে আছে। ভাবিদের
সাথে মজা করে কথা বলায় এমন
হয়েছে। ভাবি ওর দিকে আমাকে
বিছানায় বসতে বলল।
.
বিছানায় উঠে বসতেই আমাকে নিয়ে
আলোচনা শুরু হল। ভাবি মহলের সবাই
গোল হয়ে বসে আছে। আমি তাদের
আলোচনার মধ্যমনী হয়ে গেলাম। এক
ভাবি আমার ছোট বেলার গল্প শুরু করল।
আমার যখন মুসলমানি করানো হয়, তখন
উনি গোসল করিয়েছিল। গোসল শেষে
দাড় করিয়ে লুঙ্গি টান দিয়ে খুলে
দিয়েছিল। আমি অনেক কেঁদেছিলাম।
কথাগুলো বলেই সবাই হো হো করে
হাসতে শুরু করে দিল! মুন্নি লজ্জা
পেয়ে মুখ নামিয়ে আছে।
.
ভাবিদের মাঝে বেশিক্ষণ থাকা হল
না। তারা আমার যত হাসির কাহিনি
বলা শুরু করে দিয়েছে। আরো কিছুক্ষণ
থাকলে ইজ্জতের ফালুদা বানিয়ে
দিত। আমার তিনটা বোন খুব ব্যাস্ত।
বিয়ের আগে থেকেই তারা ব্যস্ত হয়ে
আছে। ভাইয়ের বিয়েতে কোনকিছুর
যেন কমতি না থাকে। বাবুর্চিদের
রান্নার কাছে বসলাম। বাবা
সেখানে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখিয়ে
দিচ্ছে। বাবার এক কথা
-আমার একমাত্র ছেলের বিয়ে।
কোনকিছুর কমতি যেন না থাকে।
সমাপ্ত
কেমন হলো জানাবেন।,,,,,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now