বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার আমি...
-Waliul Mostafa
আমার নাম সৃজন
বাবা মা মারা গেছেন ...বড় হয়েছি মামা মামির কাছে ।
পড়ছি বুয়েটের c.s.e. তে । পড়ালেখা নিয়ে
অনেক সময় দিতে হয় , সাথে দুটো টিউশনি ।
আর জীবন বলতে হোস্টেল লাইফ । ...আমি
কিছুটা চুপচাপ ...অবসরের সঙ্গী পুরনো
ভায়োলিন টা ।মন ভালো খারাপ এর সংজ্ঞা আমার জানা
নেই ... তবে যখন কোন কিছু করতেই ভালো
লাগে না,বসে যাই আমার ভায়োলিন টা নিয়ে
...হোস্টেলের বারান্দায় বসে বসে নিজের
মনে সুর তুলি...আর আকাশ কে দেখি... আচ্ছা
আকাশ কি আমার তোলা সুর শুনতে পায়...যদি না
পায়,আকাশ আমার দিকে তাকিয়ে থাকে কি করে???
আমাকে যদি বলা হয় আমার প্রিয় কাজ কি তাহলে
বলব রাতের বেলা তারা গোনা ...রাতের বেলায়
,অনেক রাতে কোন ওভার ব্রিজের রেলিং এর
উপর বসে তারা গোনা...
অতীত খারাপ হোক কিংবা সুখের ই হোক,
জীবনের পাতা উল্টাতে উল্টাতে মাঝেমধ্যে
অতীত ভ্রমণে বের হতে ভালই লাগে...মামার
বাসায় বুয়েট এ ভর্তি হবার পর আর তেমন যাওয়া হয়
না ।মামা বলেছে আমি বড় হয়ে গেছি ,এবার
নিজে চলতে শেখা দরকার ।
আমার চোখের মনি নীল ...
আমার আসলে নির্দিষ্ট কোন লক্ষ
নেই...জীবন বয়ে যাচ্ছে ...আমিও ভেসে
যাচ্ছি
আমার প্রিয় প্রশ্ন হল কেন কেন এবং কেন...।
আর আমার প্রিয় মানুষ হল যে এই প্রশ্নের সঠিক
উত্তর দিতে পারে...
দোস্ত,এইসব কি লিখছিস!!!!
- কেন...তুই তো বললি নিজেকে নিয়ে একটা
আর্টিকেল লিখতে...
-হ্যা,তা বলসি,বাট এসব কি লিখসস...এলোমেলো
-যা মনে আসসে লিখসি দোস্ত
-ভাল...চল তোকে একজনের সাথে পরিচয়
করিয়ে দেই
-ইরফান ,জানিস আমি বেশি মানুষের সাথে মিশতে
পারি না...
-আরে চল না...আমি আসি তো
ইরফান আমাকে যে বাসায় নিয়ে আসল সেটাকে
রাজপ্রাসাদ বললে ভুল হবে না...আমি কখনও
রাজপ্রাসাদ দেখি নি...হয়তোবা রাজপ্রাসাদ এমন ই হয়
...রেড কার্পেট আর বিশাল বিশাল ঝাড়বাতি...দেয়
ালে খুব সুন্দর কোন পেইন্টিং ...গ্রীক
দেবতাদের মূর্তি ...এত কিছু ছাপিয়ে আমার চোখ
আটকে গেলো ব্রিটিশ আমলের এক
দেয়ালঘড়ির দিকে,পেন্ডুলাম টা কেমন জানি
রহস্যজনক ভাবে দুলছে...আর আমি এক দৃষ্টিতে
তাকিয়ে আছি তার দিকে।।
- সৃজন,উনি ডাঃশারীফ...আমাদের দেশের এক
নাম্বার নিউরো সার্জন ...
রুমে আরও দুইজন সাদা চামড়ার বুড়ো লোক বসে
আছে...একজনের নাম লেনিন...আরেকজন
জিমেন...দুইজনই ডাক্তার।।অনেক বড়
মাপের...তাহলে বেপারটা কি দাড়াল...আমার বন্ধু ডি
এম সি ...ডাঃশারীফ ,ডাঃ লেনিন,ডাঃ জিমেন...এত
ডাক্তার এর সাথে আমার কি কাজ বুঝতে পারলাম
না...সবাই দেখছি আমার লেখা কাগজ টার চুলচেরা
বিশ্লেষণ করছে...আর ইরফান দাড়িয়ে আছে
চুপচাপ ।
বাবা সৃজন ,তোমাকে কয়েকটা প্রশ্ন আস্ক
করব...যত তারাতারি পারো উত্তর দিবে,কেমন...ডাঃ
শারীফ বললেন
ইরফান এর দিকে তাকালাম,ও আমাকে ইশারায় বুঝিয়ে
দিলো ভয় নেই
-তুমি নিজেকে নিয়ে যে আর্টিকেল টা লিখেছ
তার তিন নাম্বার ওয়ার্ড টা কি
-সৃজন
-কেন কথাটা কয়বার লিখেছ
-তিন বার
-থ্রি মাল্টিপল থ্রি
-নাইন
-নাইন কি প্রাইম নাম্বার
-নো
-তোমার নাম কি
-সৃজন
রুমের সবায় আমার দিকে বিস্মিত এর মত তাকিয়ে
আছে...সবায় নীরব
নীরবতা ভাঙল ইরফান...5 সেকেন্ড স্যার...দিস
কনভারসেশন ইজ অনলি 5 সেকেন্ড
ওর হাতের স্টপ ওয়াচ টা প্রথম নজরে পরল...মুঠি
করে ধরে ছিল,আগে দেখতে পাই নি
উই নীড হিম...বলল ডাঃ লেনিন
আমি কিছুটা ঘোরের মধ্যে চলে গেলাম...
কি হচ্ছে এখানে...!!!!
যখন সেন্স ফিরল দেখলাম শুয়ে আছি একটা বড়
বেড এ
আমার হাত পা ...এমনকি গলার অ্যাডামস অ্যাপেলেও
অসংখ্য তারের সমাবেশ...
হাত পা সব অবশ হয়ে আছে...ঘাড় ঘুরিয়ে রুমের
পরিবেশটা দেখার চেষ্টা করলাম...বিশাল বড় হল
রুম...অনেক দূরে দূরে সারিবদ্ধ কিছু বেড
...আমার মত শুয়ে থাকা অসহায় কিছু মানুস...রুমে খুব
বেশি আলো নেই ...হাল্কা নিওন আলো মিট মিট
করে জ্বলছে...।প্রতিটা বেড ঘিরে রয়েছে
নাম না জানা যন্ত্রের সমাহার...কি নাম এসব
যন্ত্রের...
বেশ কিছুটা সময় লাগল আমার পুরো দেহ
প্যারালাইসিস এটা বুঝতে...শুধু গলা থেকে মাথা
ভালো আছে...আর আমি চিন্তা করতে পারছি
নিজেকে নিয়ে
যান্ত্রিক ভাবে দরজা খোলার শব্দ পেলাম...ইরফান
আর কয়েকজন অ্যাপ্রন পরিহিত ভিনদেশী...মুখ
আটকান ছিল টেপ দিয়ে..কোন কিছু বলতে
পারলাম না...তারা সব কয়টা বেড দেখলো ...আমার
পাশে এসেও দাড়িয়ে থাকলো অনেকক্ষণ...
মেডিকেল টার্ম এ কিছু বললো ,বুঝতে পারলাম
না...একে একে সবাই চলে গেল...শুধু আমার
পাশে দাড়িয়ে থাকলো ইরফান...টান দিয়ে আমার
মুখের টেপ খুলে নিলো ...
-হাই দোস্তো,ভালাসো তুমি
আমি কোন কথা বললাম না ওর সাথে...
দিন রাতের হিসাব এখানে নেই...বুঝতে পারলাম
অনেক সময় কাটিয়েছি এই নিঃসঙ্গ রুমে...যে
জিনিষটা বুঝতে পারছি এরা আসলে কোন
ভিভিসেক্সান টিম...মানে মানুষকে জ্যান্ত কেটে
বা নিয়ন্ত্রন করে মানবদেহের বিভিন্ন জটিল
কার্যকলাপের বিশ্লেষণ করে এরা...জীবন্ত
পোস্টমর্টেম বলা যায়...এরা কাজ করছে আমার
নার্ভাস সিস্টেম এর উপর...ধীরে ধীরে আমি
হারিয়ে ফেলছি আমার জন্ম প্রদত্ত ক্ষমতা...বেশ
কিছু আগে হারালাম কথা বলার ক্ষমতা...গলা কেমন
জানি শুকিয়ে আসছিলো তখন...অনেক্ষন হ্যালো
বলার চেষ্টা করলাম...ফোনে কখনও খারাপ খবর
দিয়েছেন কাওকে...অথবা অতি প্রিয় জনের মৃত্যু
সংবাদ...ঠিক যেভাবে কাপা কাপা স্বরে হ্যালো
বলবেন তখন...সেরকম শব্দ বের হল...কিছু
পরে আর কোন শব্দ বের হোলোনা মুখ
দিয়ে ।
এখন ক্ষমতা বলতে শুধু ঘাড় ঘুরাতে পারি...আর
চোখ মেলে তাকিয়ে থাকতে পারি ।
কিছু পরে কয়েকজন লোক আসল রুম টায়...একটা
বেড এর চারিদিকে ঘিরে দারাল...পিছনে দেখলাম
ইরফান দাঁড়িয়ে আছে,চুপচাপ ।
কিছু পরে সবায় চলে গেল...শুধু যাবার আগে
মোটা মত একজন ওকে কিছু বলল...তারপর সেও
চলে গেলো...
ইরফান কে দেখছি...অসম্ভব রকম সুন্দর একটি
ছেলে...শার্ট এর ভেতর থেকে ফায়ার আরম টা
বের করে নিস্পলক চোখে শুট করলো বেড
এর মানুষটাকে ...
আমি যে ওর দিকে তাকিয়ে আছি..ও সেটা খেয়াল
করেছে...আমার দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে একটা ভি
চিহ্ন দেখালো...।তারপর চলে গেলো আগের
মত ।
এখন দেখি আমাকে ঘিরে প্রায়ই জটলা
হয়...বুড়ো লোকেরা কি নিয়ে জানি আলোচনা
করে...আমাকে নিয়েই বোধ হয়...ইরফান আশে
মাঝে মাঝে... শেষ বার এসেছিলো যখন আমার
ঘাড়ে প্রচণ্ড ব্যাথা হচ্ছিলো ...হারালাম ঘাড়
ঘুরানোর ক্ষমতাও
এখম শুধু চোখ মেলে রাখতে পারি...আর
ভাবতে পারি নিজেকে নিয়ে...আমি প্রতিটি মুহূর্ত
ভাবি...আমার ভায়োলিন টা কে নিয়ে...রাতের তারা
দের নিয়ে...আমার জগত নিয়ে
-সরি দোস্ত...কিছু বলার ছিলো
আমার চোখ তাকিয়ে থাকে শুন্য সিলিং এর দিকে
-দোস্ত জানস...আমার স্যার রা তোকে নিয়ে
অনেক খুশি... তারা যে এক্সপেরিমেন্ট টা
করসে তা তোর জন্নেই সফল হইসে
সিলিং টা কে আজ এত সুন্দর লাগছে কেন??
-দোস্ত বুঝিস ই তো...আমার পরিবারের আর্থিক
অবস্থা কত খারাপ...তার মধ্যে আয়েশ আমেজ
করতে টাকা লাগবে...বাপের তো নাই...নিজেই
নেমে গেলাম
আর জানিস ই তো কিছু পাইতে গেলে কিছু পে
করা লাগবে...।আমি আর কি পে করব...তোকে
বিক্রি করে দিলাম...স্যাররা কয়য়েকজন অতিরিক্ত
মেধাবী চাচ্ছিলেন ...তাদের চিন্তা শক্তির সাথে
নার্ভাস সিস্টেমের কোঅরডিনেসন দেখার
জন্যে...আমি দেখলাম তুই তো আছিস ই...গড
গিফটেড প্রতিভা...এত দামি জিনিস থাকতে কি করে
টাকার কষ্টে থাকি বল
আমি এখনও ওর কোন কথা শুনছি না...ইরফান
প্রত্যেকটা কথা হাসতে হাসতে বলছে...আমার
খুব বলতে ইচ্ছা করছে...দোস্ত তোর হাসি টা
আমাকে দিবি...অনেক দিন হাসি না
- সৃজন,তুই আমার ডগ...তোদের মত অনেক ডগ
কে বিক্রি করে আমি অনেক বড়লোক হয়ে
যাবো...কিন্তু প্রবলেম হল তোর মত কোন
ডগ একদিন আমাকে কামড়ে দিবে...হাহাহাহা
আজ তোকে মেরে ফেলতে হবে
রে...আমিই মারবো ...ব্যাথা লাগবে না...চিন্তা
করিস না...
রুমের দরজা খুলে গেল...তিন সদস্যের টিম টা
চলে এলো সৃজন এর কাছে
আই লাইক টু এক্সামিন হিজ আয়েজ ফার্স্ট...
লোকটা আমার চোখ দেখে কেমন জানি শক
খেলো ...
তারপর আবার আমার চোখের দিকে তাকালো
লোকটা
আমি শুয়ে শুয়ে এই জগত টাকে তৈরি
করেছি...সাজিয়েছি অরফিউস এর সঙ্গীত দিয়ে...
অপূর্ব স্বপ্নময় এক জগত...আকাশের সব কয়টি
তারা কে ভাসিয়ে দিয়েছি শান্ত পানিতে...আমি
লোকটিকে ধীরে ধীরে এই জগতে
প্রবেশ করালাম...আবার করালাম না...।তাকে এই
জগতে আসার বাঁধার সাথে পরিচয় করালাম...এই
জগতে প্রবেশের দ্বাররক্ষী দের দেখালাম
মেরে ফেলো ওদের...মেরে ফেলো
লোকটি আমার চোখ থেকে চোখ সরিয়ে
নিলো... পাঁচ বার বুলেট বের হবার শব্দ শুনলাম...।
বুঝতে পারলাম রুমের সবাই মারা গেছে...শুধু বাকি
আমরা দুইজন
লোকটা আমার চোখের দিকে তাকানোর আবার
চেষ্টা করল...চোখ বন্ধ করে
রাখলাম...লোকটা পাগলের মত হয়ে উঠছে...জানি
জগত টা মাদকের মত...এই জগত থেকে যেয়ে
অন্য কোন জগতে বাস করা সম্ভব না কার পক্ষে
লোকটি নিজেকেও শুট করলো...
এখন আমি একা...আমার বেড এর পাশের মনিটর টা
বন্ধ হয়ে গেছে...রুম এ কোন আলো
নেই...
বুঝতে পারলাম কোন মিস শুটে আমায় ঘিরে থাকা
যন্ত্রটা বন্ধ হয়ে গেছে
আরও অবাক হলাম আমার হাত পা এর শক্তি ফিরে
আসছে!!!
বুঝতে পারলাম আমাকে এত দিন নিয়ন্ত্রণ
করেছে আমাকে ঘিরে রাখা এই যন্ত্রটা ...এটা
বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমার দেহের উপর তাঁর সব
নিয়ন্ত্রণ ও শেষ
আমার পায়ের কাছে পড়েছিল ইরফানের লাশ
...জলদি ওর জামা কাপর পড়ে ফেললাম ...ছুটে
বের হয়ে এলাম এই বদ্ধ ঘর থেকে...কি করে
জানি বাইরের এক্সিট টাও পেয়ে গেলাম...
অনেক দিন পর মুক্ত আকাশের নিচে...মুখে
একটুখানি হাসি..
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now