বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

“আমাদের কোন গান নাই কেন?”

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X ফান্টা খাচ্ছিলো টিনটিন। বাবলসের আচমকা খাপছাড়া প্রশ্নে ভুররর করে ওর মুখ থেকে ফান্টা ছিটকে বের হয়ে যায়! অগ্নুৎপাতের মতো কমলা রঙের ধারা গিয়ে পড়ে সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া সাদা জামা পড়া এক মেয়ের গায়ে… “সান অফ আ বিচ!! আমার নতুন জামা!!!!” মেয়েটা চিৎকার করে ওঠে! টিনটিন থতোমতো খেয়ে পকেট থেকে ওর আধ ময়লা রুমালটা বের করে মেয়েটার গায়ে পড়া ড্রিঙ্ক মুছে দিতে গিয়ে বোঝে আরে...কটা ভুল করে ফেলেছে। যেই জায়গায় ড্রিংটা পড়েছে… সেইখানে হুট করে রুমাল দিয়ে ঘষাঘষি করতে যাওয়াটা অত্যন্ত অসামাজিক ও অসমীচীন কাজ হয়ে গেছে। বিশেষ করে একটা বাস স্টপেজের সামনে দাঁড়িয়ে। তাও আবার নিজের গার্লফ্রেন্ডের সামনে। কিন্তু ঘটনাটা কয়েক ন্যানো সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে গেছে, যে সে- বাবলস আর মেয়ে… তিনজনই ঠিক ঠাক বুঝে উঠতে পারে না কোত্থেকে কি হয়ে গেলো! মেয়েটা সম্বিত ফিরে পেতেই আবার গালিগালাজ শুরু করে, “ব্লাডি পার্ভার্ট!!!! তুই… তুই…” (মেয়ে ভাষা হারিয়ে ফেলে) “প্লিজ কিছু মনে করবেন না। আ’ম রিয়েলি সোওওওওও সরি! আসলে, আমার বয়ফ্রেন্ড একটু… ইয়ে মানে…” কথা বলতে বলতে সে মেয়েটার কাঁধে হাত দেয়। তারপর টিনটিনকে একটা চোখ টিপ দিয়ে মেয়েটার কাঁধ ধরে হাঁটতে থাকে সামনের দিকে। টিনটিন দেখতে পায় বাবলস খুব হাত টাত নেড়ে কি কি যেন বলতে থাকে মেয়েটাকে…… একটু পর দেখে মেয়েটাকে একটা সিএনজি ডেকে সিএনজিতে তুলে দিলো বাবলস। আবার হাত নেড়ে বললো, “ওকে, টাটা! পৌছে একটা মিসকল দিয়ে দিও! বাইইইই…”তারপর নিমিষেই ওর হাসি কোথায় মুছে যায় টিনটিনের দিকে চোখ পড়তেই! সে গনগনে চোখে ওর দিকে তাকিয়ে হেঁটে হেঁটে কাছে আসে। এসেই শুরু হয়ে যায়… “খুব না? খুউউউউউব!!! রাস্তাঘাটেও এখন শুরু করে দিসো? তাও আমার সামনেই??? বাহ বাহ বাহ!” “কি করসি আমি? তোর জন্যই তো! তুই-ই তো আমাকে হেঁচকি উঠায় দিসিলি!!” “তো?? হেঁচকি উঠাইলেই মেয়েদের অজায়গা-কুজায়গায় হাত দিতে হবে? কই কয়দিন আগে যে আমি কাঁদায় পড়ে গেসিলাম হোঁচট খেয়ে, তখন তো এই সুপার সনিক স্পীড দেখি নাই!!” “আরে!! দেখ তুই শুধু শুধু আমার উপর দোষ চাপাচ্ছিস!! তাছাড়া মেয়েটা তো তোর চেনা।” “আমার চেনা???” “চেনা না? পৌছায়ে মিসকল দিতে বললি যে? আবার সিএনজি ডেকে দিলি যে?” “আরে ঐটা তো তোকে বাঁচানোর জন্য! মেয়ে তো পুলিশ ডাকতে চাইসিলো। আমি অনেক কষ্টে বুঝাইসি, ছেলেটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, ওর আইকিউ বিলো টোয়েন্টি ফাইভ! আর মেয়েকে জলদি সিএনজিতে না উঠাইলে তো লোকজন দিয়ে তোরে মাইর খাওয়াইতো… তাই না বুদ্ধি করে কাজটা করলাম। আর মিসকলের কথা এমনিই অভ্যাসবশে বলে ফেলসি!” “বাপ রে! তোর এতো বুদ্ধি! উফফ… আমি আসলেই লাকী তোকে পেয়ে…” “মাগী, চাপাবাজি করার আর জায়গা পাশ না? পাম দিয়ে লাভ নাই। আমি তোর উপর খুবই রেগে আছি!” “আর আমি সম্ভবত পৃথিবীর প্রথম এবং একমাত্র ছেলে যাকে তার গার্লফ্রেন্ড মাগী বলে ডাকে!” বিমর্ষ মুখে টিনটিন বলে। রাতে চ্যাটবক্সেঃ bubbles_girl: তুই কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর দিস নাই… tintin_boy: কি প্রশ্ন? bubbles_girl: আমাদের গান নাই কেন? tintin_boy: হোয়াট আমাদের গান আমাদের গান? তুই কি মুভি পাইসিস নাকি?? এইটা রিয়েল লাইফ! রিয়েল লাইফে গান আসবে কোত্থেকে? আর আমি গান জানি?? আমাকে কি রেজোয়ানা চৌধুরী বন্যা মনে হয়?? bubbles_girl: একটা দুই ঘন্টার মুভিতে যদি পাঁচটা গান থাকতে পারে, আমাদের এতোদিনের রিলেশান, আমাদের একটা গান থাকতে দোষ কি? দরকার হইলে দুইজন মিলে বানাই… তুই গান লেখ, আমি গাই! tintin_boy: কে গাবে? bubbles_girl: কেন আমি? tintin_boy: গান পড়বি? bubbles_girl:মানে? tintin_boy: তোর গানের গলা সম্পর্কে তোর কোন আইডিয়া আছে? রাস্তার সব কুত্তা দল বাইন্ধে সুইসাইড খাবে তুই যদি গান গাস। bubbles_girl: হিহিহিহিহিহিহিহিহিহিহি!! সম্ভাবনা উড়ায় দেয়া যায় না… tintin_boy: গান ফান মাথা থেকে ঝেড়ে ফেল। bubbles_girl: না না না না… গান থাকতে হবে। আমি লিখবো। দরকার হয় তুই গাবি। tintin_boy: আমি? আমার ভয়েজে দুই তিনটা ফ্রিকোয়েন্সী একসাথে কাজ করে! আমি গান গাবো? তাও আবার প্রেমের গান? যেইটা তুই লিখবি?? bubbles_girl: আরে! আমার যদি কখনো মেমোরী লস হয়? যদি আমি তোকে না চিনি? তখন তুই গান গায়ে আমাকে মনে করায় দিবি না তোকে? tintin_boy: আর ইউ ক্রেইজি? তুই আমাকে ভুলে গেলে ভাবসিস আমি ভুলেও চেষ্টা করবো তোকে মনে করায় দিতে, যে তুই আমাকে কি পরিমান টর্চার করসিস? bubbles_girl: হাহাহাহাহাহা… ভালোও তো বাসছি। আদরও তো করসি। tintin_boy: টর্চারের কাছে ঐগুলা কিচ্ছু না… দুধ ভাত! bubbles_girl: আচ্ছা যাহ… তোকে কিছু করতে হবে না। আমিই করবো যা করার… অনেক চেষ্টার পর বাবলস একটা গান লিখেঃ “আচ্ছা ঠিক আছে আমার মাথা একটু গরম কিন্তু আমি কতো জোস কতো চরম এইটা তোকে বুঝতে হবে… তুই বুঝিসও আমি জানি… তুই অনেক বেশি ‘মা’ ‘মা’ ওওওও টিনটিন মাম্মা… তুই অনেক কিউট আর অনেক খবিশ গোসল করিস না শুধু ডিও ঘষিস আমি বুঝি তুই অতো খারাপও না তাই তো তোকে কখনো ছেড়ে যাবো না তোর যদি ইচ্ছা হয় আমাকে ছেড়ে যা না… কাঁনতে কাঁনতে ফিরে আসলে চটকনা ছাড়া আর কিছুই পাবি না… তোকে ভালোবাসি কারন তুই অনেক বেশি ‘মা’ ‘মা’ ওওওওও টিনটিন মাম্মা… আমরা একটু কেমন জানি অনেক বেশি খাপছাড়া কিন্তু তুই ছাড়া আমার লাইফ একেবারেই চাপছাড়া কোন স্ট্রেস নাই, প্যানিক নাই, এক্সাইটমেন্টও নাই… তাই শুধু তোকে তোকে তোকেই পাশে চাই… তোর সাথে এতো ঝগড়া হয় কারন তুই অনেক বেশি ‘মা’ ‘মা’ ওওওওও টিনটিন মাম্মা……” বাবলস গানটা লিখে যারপর নাই খুশী! ওর ধারনা হয় খুবই উঁচুমানের লিরিক্স হয়েছে। সে সারা রাত জেগে একটা সুরও দিয়ে দেয় (নিজের ইচ্ছামতো সুরটা ইমাজিন করে নিতে হবে, যত weird হবে ততোই এগজ্যাক্ট!)… এরপর গানটা টিনটিনকে মেইল করে দেয়! গানের লিরিক্স কতোটা চীপ হয়েছে আর কতোটা ফালতু এটা নিয়ে টিনটিনের সাথে তার সিরিয়াস ঝগড়া লাগে। এরপর দুইজনের কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়… এসএমএস ইনবক্সঃ (বাবলসের মোবাইলে, ড্রাফট মেসেজ) “Sorry! gaan ta cheap chilo, ami jani! r gaan niye ami onek barabari o korsi. plz tui r eita niye rege thakish na. 2 weeks hoye gese toke dekhi na! ekbar tor voice ta porjonto shuni nai….” এই এসএমএস ড্রাফট হিসাবেই থাকে। সেন্ড করা হয় না। যেটা সেন্ড করা হয় সেটা হচ্ছেঃ “Gaan ta moteo cheap na! r tor moto insensible manush kibhabe bujhbe ei gaaner mormo? tui r konodin amar shathe jogajog korbi na! I hate u!” (টিনটিনের মোবাইলে, ড্রাফট মেসেজ) “Sorry Babush! tui to janish e ami kemon insensible! tor gaan ta onek apon apon! ami everyday shuni! ami toke ektu chetaite chaisilam. tui jokhon khepe jash tor kando karkhana dekhte ki je moja laage……” যথারীতি এটাও সেন্ড করা হয় না। সেন্ট বক্সে ছিলো অন্য এসএমএসঃ “Oi chilla chillir naam jodi gaan hoy, r bosti marka kotha barta ek korlei jodi lyrics hoye jay, taile amar r kichui bolar nai! bhabtei bhalo lagtese je tui r amake jalabi na! I hate u too!” তিন চারদিন পরঃ বাবলস নিজেকে যতোটা টাফ মনে করে অতোটা আসলে সে না। দরজা বন্ধ করে লুকিয়ে কাঁদছিলো। আর একটা এসএমএস লিখে সেন্ড করবে কি না ভেবে মোবাইলটা হাতে ধরেই বসে ছিলো। তখনই আওয়াজ পায়, বারান্দা থেকে কে যেন ওর নাম ধরে ডাকছে। চোখ মুছে বারান্দায় গিয়ে দেখে ওদের বাড়ির লনে টিনটিন। পিছনে গিটার হাতে দুইটা অপরিচিত ছেলে। বাবলসকে দেখতেই টিনটিন ছেলে দুইটাকে ইশারা করে, আর ওরা গিটার বাজাতে থাকে। টিনটিন একটু গলা খাকাড়ি দিয়ে গাইতে থাকে… ~আমরা একটু কেমন জানি অনেক বেশি খাপছাড়া কিন্তু তুই ছাড়া আমার লাইফ একেবারেই চাপছাড়া কোন স্ট্রেস নাই, প্যানিক নাই, এক্সাইটমেন্টও নাই… তাই শুধু তোকে তোকে তোকেই পাশে চাই… তোর সাথে এতো ঝগড়া হয় কারন তুই অনেক বেশি ‘মা’ ‘মা’ ওওওওও বাবলস মাম্মা……~ বাবলসের চোখ থেকে টপটপ করে পানি ঝরতে থাকে। ঝাপশা চোখেই ও হাতের ধরা মোবাইল ফোনে সেন্ড বাটনটা প্রেস করে। যেই এসএমএসটা অনেকক্ষন ধরে লিখে রেখে দিয়েছিলো সেটা টিনটিনের কাছে পৌছায়। টিনটিন গান থামিয়ে পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখে এসএমএস। এক বাক্যের… “I love u!” Written By : Rakib Toufick


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ “আমাদের কোন গান নাই কেন?”

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now