বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আলোর_পথে

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X রাত্রি তিনটা।হঠাৎ এক ভয়ংকর স্বপ্নে ঘুম ভেঙ্গে গেলো আমার।স্বপ্নে দেখছি আমাকে এক বিশাল দানব পা ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে পাথরের মধ্যে দিয়ে।সাথে আমাকে প্রচন্ড প্রহার করা হচ্ছে।আমার শরীর বেয়ে রক্ত ঝড়ছে। দেখলাম আমাকে এক বিশাল আগুনের কুন্ডুলির কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।আমাকে এখন আগুনে ফেলে দেওয়া হবে এমন সময় আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।স্বপ্নে এই রকম দৃশ্য দেখে আমি পুরা ঘেমে গেছি।ভয়ের কারণে টেবিলের উপর থাকা বোতলের অবশিষ্ট পানিটুকু এক নিমিষেই পান করলাম। এইরকম স্বপ্ন দেখার কারণ বুঝতে পারলাম না।আমি অনিক।বাবা মা অবাধ্য ছেলে।মা বাবার কোনো কথা শুনি না।সারাদিন ঘুরে বেড়াই আর মেয়ে দেখলে তাদের বিরক্ত করি।মা আমাকে এই সব করতে বারণ করেছে।কিন্তু আমি তো তার কোনো কথা শুনি না।এইসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম।সকালে ঘুম ভাংলো রাফির ফোনে। --তুই এখনো ঘুমাচ্ছিস।তোর কি মনে নেই আজ কলেজের ফাংশন।ওখানে অনেক মেয়ে আসবে। --মনে আছে।তুই আধা ঘন্টা দেরি কর।আমি আসছি। --তরাতারি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হলাম।এরপর হাল্কা নাস্তা করে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।সারাদিন কলেজের মেয়েদের পিছনে ঘুরে কাটালাম। আজও একটা মেয়ে ও পাত্তা দিলো না।কি আর করা মন খারাপ করে বাসায় চলে আসলাম। --এইরকম খারাপ কাজ আর কতদিন করবি?তোর জন্য তো আর আমাদের মান সম্মান থাকলো না।(মা) --আমি আবার কি করলাম? --গতকাল তুই আমাদের পাশের বাসার আফসার সাহেবের মেয়েকে কি বলেছিস? --"আমি তোমাকে ভালোবাসি" বলেছি। --ঐ মেয়ে আজ এসে তোর বাবার কাছে বিচার দিয়েছে।তুই কি ওকে প্রতিদিন বিরক্ত করিস। --না তো। --তোকে নিয়ে আমাদের কত স্বপ্ন ছিল।আর তুই তো আমাদের স্বপ্ন পূরণ করলি না,সাথে মান সম্মন টাও রাখলি না। --এইরকম কথা প্রায় দিনই বলে।তাই কিছু মনে না করে শুতে গেলাম। গতরাতের মতো আজও একই স্বপ্নে ঘুম ভেঙ্গে গেলো।আজকে আরও বেশি ভয় পেয়েছি।বাকি রাতটুকু আর চোখের পাতা এক হলো না।সকালে ঘুমিয়ে পরেছি।ঘুম ভাঙ্গে সকাল দশ টায়। প্রতিদিনের রুটিন মাফিক আজও বাইক নিয়ে বের হয়েছি।ফোনে কথা বলতে বলতে বাইক চালাচ্ছি।হঠাৎ পেছন থেকে একটা বাস এসে আমাকে ধাক্কা মারে।এরপর আর আমার কিছুই মনে নেই।যখন আমার জ্ঞান ফেরে তখন নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করি। --আমাকে এখানে কে এনেছে? --এই মেয়েটা।(ডাক্তার) --তাকিয়ে দেখি বোরকা পড়া একটা মেয়ে।তার মুখ আমি দেখতে পারিনি।তবে চোখ দুটো দেখেছি।কেমন যেন মায়া আছে চোখ জোড়াতে।ডাক্তার চলে গেলো রুম থেকে। -আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাকে হাসপাতালে আনার জন্য। -আমাকে ধন্যবাদ দেওয়ার দরকার নেই।আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন আপনাকে বাচিয়ে রেখেছে সেই জন্য।আচ্ছা আমি তাহলে আসি।(মেয়েটি) -আচ্ছা। প্রায় এক মাস লাগে সুস্থ হতে।এর মাঝে রাতে প্রায়ই সেই ভয়ংকর স্বপ্ন দেখতাম।কাউকে স্বপ্নের কথা বলিনি। একদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি।হঠাৎ তাকিয়ে দেখি একটা মেয়ে এদিকের রাস্তা আসছে।মেয়েটা বোরকা পড়ে ছিলো।মেয়েটার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখি চোখ জোড়া চেনা চেনা লাগছে।আমি মেয়েটার দিকে এগিয়ে গেলাম।মেয়েটা চলে যাচ্ছে।আমি মেয়েটাকে ডাক দিলাম। --এইযে শুনছেন? -আমাকে বলছেন?(মেয়েটি) -জ্বি আপনাকে। -কিছু বলবেন? -আমাকে কি আপনি হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন? -হ্যা।কিন্তু আপনি আমাকে কিভাবে চিনলেন? -আপনার চোখ দেখে। -আপনি তো আজব মানুষ।চোখ দেখে চিনে ফেললেন। -হুমম।আপনার নামটা কি জানতে পারি? -কেন? -আপনি আমার অনেক বড় উপকার করেছেন।তাই আপনার নাম জানাটা দরকার। -আমি রিয়া।আপনার নাম কি? -আমি অনিক হাসান। -আমার কাজ আছে এখন আমাকে যেতে হবে। মেয়েটা চলে গেলো। -বন্ধুরা বললো,কতদিন ধরে? -তেমন কিছু না।আমাকে এই মেয়েটা আমার অ্যাক্সিডেন্টের পর হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। --ওহ!এই মেয়ে। --হুম। --দোস্ত যাই বলিস মেয়েটা মনে হয় সুন্দরি।তোর সাথে ভালোই মানাবে। কিছুক্ষণ বাসায় চলে আসি। --তোকে বলেও তো নামাজ পড়াতে পারি না।আজ তো শুক্রবার।জুম্মার নামাজটা গিয়ে পড়ে আয়।(মা) --মা,তুমি তো জানো আমার নামাজ পড়তে ভালো লাগে না।তারপরও বলছো? --তুই কি কখনো ভালো হবি না? --ভালো সেটা আবার কি? --তোর মতো শয়তান ছেলে থাকার চেয়ে না থাকা ভালো।তোর বন্ধু রাসেল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় করে।আর তুই সারাদিন মেয়েদের পিছনে ঘুরিস। --মা,রাসেল একটা ক্ষ্যাত ছেলে।ওর সাথে আমাকে তুলনা করছো? --তোর যা ইচ্ছা কর গিয়ে।মরার পর আমাকে দায়ী করতে পারবি না।যে আমি তোকে নামাজের আদেশ দেই নাই। --মা,এমন কথা প্রায়ই বলে।তাই কিছু মনে করিনি। কিছুদিন পর,রাস্তায় দাড়িয়ে সিগারেট ফুকছি।এমন সময় কে যেনো আমাকে ডাক দিলো।তাকিয়ে দেখি রিয়ার মতো লাগছে। --আমি রিয়া।আপনি সিগারেট খান? --হ্যা।ক্যানো? --সিগারেট খাওয়া ভালো না। --কিন্তু আমার খেতে ভালো লাগে। --মন ভরে খান। --আমার কথায় আপনি কি রাগ করেছেন?আচ্ছা এখন খাবো না।ফেলে দিলাম। -আসলে আমার সিগারেটের গন্ধ সহ্য হয় না। -আপনি কিসে পড়েন? --অনার্স প্রথম বর্ষে।আপনি? --অনার্স শেষ করছি।এদিকে কোথায় গিয়েছিলেন? -এক বান্ধবির বাসায়।আমাকে বাসায় যেতে হবে। -আচ্ছা জান তাহলে। মেয়েটি চলে যাচ্ছে।মেয়েটার কথায় মায়া আছে। বিকেলে বাসায় আসছি। -ভাইয়া আমাকে একটু হেল্প করতে পারবি?(তানিয়া আমার ছোট বোন) -ন্যাকামো বাদ দিয়ে বল আমাকে কি করতে হবে? -আমাকে একটু আমার বান্ধবির বাসায় নিয়ে যেতে পারবি? -আচ্ছা,তুই কি রেডি? -হুমমম। -দেরি কর।আমি বাইকটা নিয়ে আসছি। -তোর বান্ধবির বাসা কোনটা? -এইতো সামনে থামা। তানিয়া নেমে ভিতরে চলে গেলো।আমি চলে যাবো এমন সময় ও এসে বললো,ভাইয়া ভিতরে চল। ভিতরে এসে আমিতো তো আবাক।একটা সুন্দরি মেয়ে বসে আছে।মেয়েটা আসলেই অনেক সুন্দরি।তবে মেয়েটার চোখ জোড়া কেমন যেনো চেনা চেনা লাগছে? তবে কি এই মেয়েটি রিয়া? আমার ভাবনার ঘোর কাটলো মেয়েটির ডাকে। -আপনি? -আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না। -আমি রিয়া,তানিয়ার বান্ধবি।আপনি তো চোখ দেখে চিনতে পারন।এখন আমাকে চিনতে পারলেন না। -আসলে আমি ভাবছিলাম আপনি রিয়াই হবেন। -ভাইয়া তুই রিয়াকে আগের থেকে চিনিস। -চোঁখ চিনি।তবে আজই প্রথম মুখ দেখছি।আমার বাইক আ্যাক্সিডেন্টের পর রিয়াই হাসপাতালে নিয়েছিলো। -ওহ! -কিছুক্ষণ ওদের সাথে কথা বলে আমি চলে আসি। তবে আমি রিয়াকে যতটা সুন্দরি ভেবেছি,তার চেয়ে অনেক বেশি সুন্দরি। মনের একটাই দোষ।সুন্দরি মেয়ে দেখলে প্রেম করতে ইচ্ছা করে।তবে এখনো কোনো মেয়েকে পটাতে পারি নাই।রিয়া অবশ্য অন্য সব মেয়ের মতো না।তবে রিয়াকে দেখার পর থেকে মনে হয়েছে ওকে আমার প্রেমে ফেলতে সময় লাগবে। রাত্রে রুমে সুয়ে আছি।এমন সময় তানিয়া আসলো। -কতদিন ধরে চলছে ভাইয়া? -কিসের কতদিন? -আমাকে না বলে আমার বান্ধবির সাথে প্রেম করবা এটা আমি মেনে নিবো না। -প্রেম করতে গেলাম কখন?শুধু তো কথা বলছি।তবে তোকে সত্যি কথাটা বলি।রিয়াকে আমার ভালো লাগে। -বল ভালোবেসে ফেলেছি। -হ্যা,ভালোবেসে ফেলেছি।এখন আমাকে ওর নাম্বারটা দে না প্লিজ। -নাম্বার পেতে হলে খরচ করতে হবে। -কত নিবি? -১০০০ টাকা লাগবে। -আমার কাছে ৫০০ টাকা আছে। -হবে না। -আমার লক্ষী বোন দে।কাল তোকে ফুচকা খাওয়াবো। -আচ্ছা ভাইয়া এই নে নাম্বার। -থ্যাংকু।ওকে টাকা দিয়ে বিদায় করে রিয়াকে ফোন দিলাম।কিন্তু ওর নাম্বার বন্ধ। তানিয়া কি আমাকে ভুল নাম্বার দিয়েছে?ওতো আমার সাথে এমন করে না।হয়তো রিয়ার ফোনই বন্ধ।এরপর কিছুক্ষণ ফেসবুক চালিয়ে ঘুমিয়ে পরি। হঠাৎ রাতে ভয়ানক স্বপ্নে ঘুম ভেঙ্গে যায়।আজ একটু বেশিই ভয় পাইছি।কারণ স্বপ্নে সেই বিশাল দৈত্যটা আমাকে আগুনের মধ্যে ফেলে দেয়।এই দৃশ্য দেখে রাতে আর ঘুম হলো না। সকালে আবার ঘুমিয়ে পরলাম।ঘুম ভাংলো ছোট বোনের ডাকে। -ভাইয়া ওঠ।দুপুর হয়ে গেলো যে।তোর না আজ আমাকে ফুচকা খাওয়ানোর কথা। -উঠছি,এখান থেকে এখন যা। -যাচ্ছি। --- ঘুম থেকে উঠে দেখি প্রায় এগারোটা বেজে গেছে।হাত মুখ ধুয়ে নাশতা করে বের হয়েছি ওকে ফুচকা খাওয়াতে। ফুচকা খাচ্ছি এমন সময় দেখি রিয়া আসছে। -এসে বললো,আমাকে রেখে দুজন মিলে খাওয়া হচ্ছে। -আমাকে কি বলছিস তুই আসবি?(তানিয়া) -এখন তো এসেছি।(রিয়া) -মামা আরও এক প্লেট ফুচকা দেন তো।(আমি) ফুচকা খাওয়া শেষে রিয়াকে কে যেনো ফোন করেছে। -আমাকে তারাতারি বাসায় যেতে হবে।কিন্তু রিকসা তো পাচ্ছি না।(রিয়া) -ভাইয়া,তুই বাইকে করে রিয়াকে বাসায় দিয়ে আয়।আমি হেটে বাসায় চলে যাচ্ছি।(তানিয়া) -তা কি করে হয়?(রিয়া) -আমার বাসায় হেঁটে যেতে লাগবে ৫ মিনিট।আর তোর তো অনেক দূর।ভাইয়া তুই রিয়াকে বাসায় দিয়ে আয়।(তানিয়া) আমি বাইক নিয়ে দাড়িয়ে আছি।রিয়া এসে বাইকে বসলো।আমি বাইক স্টার্ট দিলাম।রিয়া আমার কাধে হাত রাখলো।তখন কেমন যে এক অনুভূতি হলো তা বলে বোঝাতে পারবো না।ইশ! এইরকম যদি সারা জীবন একসাথে চলতে পারতাম...। ---- রিয়ার ডাকে বাস্তবে ফিরলাম। আস্তে চালাবেন।আমার কিন্তু ভয় করে। -আচ্ছা। -আমি আপনার চেয়ে ছোটো।তাই আমাকে তুমি করে বলবেন। -আচ্ছা বলবো। রিয়াকে নিয়ে যাচ্ছি এমন সময় জুম্মার আযান দিলো। -আপনি নামাজ পড়বেন না? -"যদি বলি,আমি নামাজ পড়ি না তাহলে হয়তো আমার সাথে কথা নাও বলতে পারে"।তাই বললাম,পড়বো। আপনি কি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন? "এ কেমন মেয়ে?শুধু নামাজের কথা বলে।একে যদি বলি আমি এক ওয়াক্ত নামাজ পড়ি না তাহলে হয়তো আমার সাথে আর কথাই বলবে না।তাই বুদ্ধি করে বললাম মাঝে মাঝে পড়ি। -আমি নামাজি ছেলেদের পছন্দ করি।যারা নামাজ পরে না তারা বেয়াদব,শয়তান ইত্যাদি। -কেমন মেয়েকে ভালোবেসে ফেলেছি,একে যদি ভালোবাসার কথা বলি তাহলে নিশ্চই আগে নামাজের কথা বলবে।কি যে করি? ভাবতে ভবতে রিয়ার বাসার সামনে চলে আসছি।রিয়া নেমে গেলো। আমি চলে যাবো এমন সময় রিয়া ডাক দিলো। -বললো,নিয়মিত নামাজ পড়বেন। -আচ্ছা। তারাতারি বাসায় চলে আসছি।মনের মধ্যে বাজছে নিয়মিত নামাজ পড়বেন। কি আর করা প্রিয় মানুষের মন পেতে হলে একটু তো কষ্ট করতেই হবে। তাই ভাবলাম গোসল করে আজ নামাজ পড়তে যাবো।যেই ভাবা সেই কাজ।পাঞ্জাবি পরে নামাজ পড়তে যাচ্ছি। -পেছন থেকে মা ডাক দিলো।কে তুই? -মা,আমি তোমার ছেলে অনিক। -তুই কোথায় যাচ্ছিস? -নামাজ পড়তে। -আমি কি স্বপ্ন দেখছি? -মা,তুমি স্বপ্ন দেখছো।কারণ তোমার ছেলে প্রেমে পরে নামাজ পড়তে যাচ্ছে।(তানিয়া) -ভালোই হয়েছে।(মা) -আমি কিছু না বলে নামাজ পড়তে যাচ্ছি...।নামাজ শেষ করে বাসায় আসলাম।কেমন যানি মনের ভিতর ভালো লাগছে..। রিয়াকে ফোন করলাম। -আসসালামু আলাইকুম,কে বলছেন?(রিয়া) -এতো মধুর কন্ঠ!কি বলবো আমি?(মনে মনে) ওআলাইকুম আসসালাম,আমি অনিক। -ওহ্!আপনি।আমার নাম্বার কোথায় পেলেন? -তানিয়ার কাছ থেকে নিয়েছি। -কি জন্য ফোন দিয়েছেন? -তানিয়া কাল তোমাকে আমাদের বাসায় আসতে বলেছে।ওর ফোনে টাকা নাই।আমাকে বললো,তাই তোমাকে ফোন দিয়েছি।(মিথ্যা বললাম) -ওহ্! কখন আসতে হবে। -বিকেলে। -আচ্ছা -তানিয়া,কোথায় তুই? -এইতো,কি হয়েছে? -আমিতো রিয়াকে ফোন করছি। -তো কি হয়েছে? -তারপর কি বলবো খুজে পাইনি।অনেক কষ্টে ওকে বলেছি কাল আমাদের বাসায় আসতে। -আর কিছু বলিস নাই? -বলেছি তুই আসতে বলেছিস।তুই একটু ম্যানেজ করে নিস।তা না হলে আমি ফেসে যাবো। -আচ্ছা। -যাক নিশ্চিন্ত হওয়া গেলো। ---- রাতে শুয়ে আছি। হঠাৎ রিয়া ফোন করলো। হ্যালো রিয়া। আপনার নামে এগুলো কি শুনলাম?আপনাকে খুব ভালো মনে করেছিলাম। কি শুনেছো? -আপনি একটা বাজে ছেলে।রাস্তায় মেয়েদের বিরক্ত করেন।আর নামাজ তো পড়েনই না।আপনার মতো ছেলের সাথে কথা বলতে আমার ঘৃণা হচ্ছে। -রিয়া,তোমাকে কিছু কথা বলার ছিলো। -আমি আপনার কোনো কথা শুনতে চাই না। -প্লিজ আমাকে দুই মিনিট সময় দাও। আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।তুমি যদি বলো আমি সবকিছু ছেড়ে ভালো হয়ে যাবো। আমি সত্যি বলছি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। -আপনার মতো বখাটের মুখে ভালোবাসা মানায় না বলে ফোনটা কেটে দিলো। আসলে রিয়া ঠিকই বলেছে।আমার মতো বখাটে ছেলেকে কেনো ভালোবাসবে? ---- এই বখাটে শব্দটা শুনতে শুনতে আমার কান ব্যাথা হয়ে গেছে। আমাকে ভালো হতে হবে।আমার এই অন্ধকার পথ থেকে আলোর পথে আসতে হবে।আমার মা বাবার জন্য অন্তত ভালো হতে হবে।যাতে তাদের শুনতে না না হয় বখাটের মা বাবা...।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আলোর_পথে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now