বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আলোজ্বালানোর গল্প

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X জলেশ্বরী ইউনিয়নের এক কোণে অবস্থিত একটি প্রত্যন্ত গ্রাম—চরঘাট। গ্রামের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একটি ছোট্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাম—চরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙাচোরা টিনের চালা, কাঁচা মেঝে আর ঘুণপোকায় খাওয়া বেঞ্চগুলোর মাঝেই প্রতিদিন জড়ো হয় আশপাশের গ্রামের পঞ্চাশ-ষাটটি শিশুর দল। তাদের চোখে স্বপ্ন—নতুন কিছু শেখার, জানার, বড় হয়ে কিছু একটা হওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে আছে শত বাধা—বিদ্যুৎ নেই, পানির ব্যবস্থা অনিয়মিত, স্যানিটেশন নেই বললেই চলে। সবচেয়ে বড় কথা—তারা কখনো কম্পিউটার বা ইন্টারনেটের নাম শুনেছে, কিন্তু চোখে দেখেনি। এই স্কুলেরই একজন শিক্ষক, নাম আব্দুল হাই স্যার। বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েছে, কিন্তু চোখে এখনো দীপ্তি—শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে চান গ্রামের প্রতিটি শিশুর কাছে। তিনি বিশ্বাস করতেন—"বিদ্যালয় মানেই শুধু বইয়ের পাঠ নয়, বিদ্যালয় মানেই একজন শিশুকে জীবনের জন্য তৈরি করে তোলা।" তাঁর এই বিশ্বাসই তাঁকে একদিন নিয়ে গেল উপজেলা অফিসে। তিনি যখন অফিসে গিয়ে বললেন, “আমার স্কুলে বিদ্যুৎ নেই, ইন্টারনেট নেই, পানির ব্যবস্থা অনিয়মিত, মেয়েদের আলাদা স্যানিটেশন নেই—আমরা কীভাবে শিক্ষার মান বাড়াবো?” তখন সবাই মাথা নিচু করে চুপ করেছিল। “স্যার, আপনি যদি প্রকল্প গ্রহণ করে দেন, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে পারি,” বললেন এক কর্মকর্তা। এই কথাটি শোনার পর হাই স্যার ফিরলেন না—পরের কয়েক দিন-রাত কেটে গেল পরিকল্পনা তৈরিতে। তিনি বিদ্যালয়ের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা লিখে ফেললেন—যেখানে উল্লেখ ছিল বিদ্যুৎ সংযোগ, কম্পিউটার ল্যাব, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, ছেলে-মেয়েদের জন্য পৃথক টয়লেট, হাত ধোয়ার জন্য সাবান-পানির ব্যবস্থাপনা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য র‍্যাম্প, ব্রেইল বই ও অনুকূল পরিবেশ। এই সময়েই হাই স্যার পাশে পেলেন আরেকজন শিক্ষককে—রুবিনা ম্যাডাম। তরুণ, সাহসী, শহর থেকে ট্রেনিং নিয়ে সদ্য গ্রামে বদলি হয়ে এসেছেন। রুবিনা বললেন, “স্যার, আমরা চাইলে এই স্কুলকে বদলে দিতে পারি। সরকার চাইছে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে—আমরাও তো সেই অংশ।" তারা একসঙ্গে একাধিক দপ্তরে যোগাযোগ করলেন, আবেদন করলেন ইউএনডিপি’র এক প্রকল্পে, যেখানে বলা হয়েছিল—"টেকসই বিদ্যালয় উন্নয়ন ও শিক্ষায় আইসিটি সংযোজন"-এর কথা। এই আবেদনটি গৃহীতও হল এক সময়। এরপর গ্রামের চেহারা বদলাতে শুরু করল। প্রথমেই এল বিদ্যুৎ সংযোগ। ঝকঝকে সাদা দেওয়ালে টাঙানো হল সোলার প্যানেল। ছাদে রোদে চার্জ হচ্ছে ব্যাটারি, আর ক্লাসরুমে জ্বলছে আলো, চলছে ফ্যান। এরপর এল দুটি নতুন কম্পিউটার—পুরোনো হলেও সচল। হাই স্যার নিজেই শেখেন কীভাবে শিশুদের টাইপ শেখাতে হয়, কীভাবে Paint বা Word ব্যবহার করতে হয়। রুবিনা ম্যাডাম শেখান ইন্টারনেট ব্রাউজিং, শিশুদের জন্য উপযোগী শিক্ষামূলক গেম। পরের মাসেই একটা বড় পদক্ষেপ নিলেন তারা—স্কুলের পাশে ডীপ টিউবওয়েল বসিয়ে ফিল্টার লাগানো হল। পাশেই নির্মাণ হল পৃথক ছেলেমেয়েদের স্যানিটেশন ব্যবস্থা, সঙ্গে সাবান, পানির ব্যবস্থা। র‍্যাম্প বানানো হল দুইজন শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুর কথা ভেবে, তাদের জন্য কেনা হল চিত্রভাষার বই। শুধু অবকাঠামো নয়, হাই স্যার নিজে গিয়ে জেলায় প্রশিক্ষণের আবেদন করলেন। তিনি বললেন, “আমরা যদি পড়ানোর পদ্ধতি না জানি, তবে এসব অবকাঠামোও ব্যর্থ হবে।” প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সাড়া দিল—স্কুলের সকল শিক্ষককে ICT, সমন্বিত পাঠদান ও প্রতিবন্ধীবান্ধব পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হল। শিক্ষকদের মধ্যে তৈরি হল নতুন উদ্যম। চরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ধীরে ধীরে মডেল স্কুলে পরিণত হল। বছরে দুইবার অভিভাবক সমাবেশ হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রজেন্টেশন দেয়, নিজেদের তৈরি গল্প শোনায়, পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেখে ও শেখায়। একদিন বিকেলে স্কুলের মাঠে বসে হাই স্যার বললেন রুবিনাকে, “দেখো, আমরা শুধু একটি স্কুল বদলাইনি—আমরা একটা প্রজন্ম বদলে দিয়েছি।” রুবিনা হাসলেন, বললেন, “স্যার, এটা শুধু শুরু—এই আলোর স্পর্শ অন্য গ্রামেও পৌঁছাতে হবে। আমরা শুরু করেছিলাম চরঘাট থেকে, শেষ করবো সারা তিতাস জুড়ে।” ________________________________________


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আলোজ্বালানোর গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now