বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এক পরিচিত আত্মীয়ের ছোট ছেলেকে
একটা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলাম। উত্তরে
বলল, "আল্লাহই ভাল জানেন "। ছোট্ট
একটি ছেলে, জানি না পরিবার থেকে
আল্লাহ সম্পর্কে কতটুকু জানানো
হয়েছে। জিজ্ঞাসা করলাম, "তুমি
আল্লাহকে চেনো??" উত্তরে বলল
"আল্লাহ অনেক ভালো ". জিজ্ঞাসা
করলাম, "কিভাবে? ". উত্তরে বলল, "
আল্লাহ আমাদের ফুল, ফল, গাছপালা
সকল কিছুই দিয়েছে। আর তুমি আল্লাহ
সম্পর্কে এভাবে বলছো কেন? ".
.
এক ঘটনা পড়েছিলাম, বাবা তার ছোট্ট
রাজকুমারী মেয়েকে শিখিয়েছিল,
"যা কিছু ঘটে সবকিছু আল্লাহই ঘটান।
যা কিছু দেখছো সবকিছু আল্লাহই সৃষ্টি
করেছেন। যা কিছু হয় সবকিছু আল্লাহর
ইচ্ছাতেই হয়। "। সন্ধ্যায় সেই
রাজকুমারী মেয়েটি তার আব্বুকে ফোন
করে বলছে, "আব্বু আল্লাহর ইচ্ছাতেই
আমার জন্যে একটা চকলেট এনে দিও
প্লিজ"।
.
কোন এক পল্লীতে দুই ভাইবোন থাকত।
খুব শিশুকাল থেকেই পরিবারের সবার
মুখেই আল্লাহর নাম, গুন শুনে তাদের
মুখে সবসময় তার নামই উচ্চারণ হত।
একসময় তাদের মায়ের প্রচণ্ড অসুখ হয়।
তাদের বাবা শহরে অর্থ জোগাড়ের
জন্য যায়। তারা তার দাদীকে
জিজ্ঞেস করে, "আচ্ছা দাদী আল্লাহ
যদি সবকিছু করতে পারেন তাহলে কি
আমার আম্মুকেও সুস্থ করতে পারবে "
.
উত্তরে মাথায় হাত দিয়ে তাদের
দাদী বলেছিল, "হ্যা বাবা আল্লাহ
সবকিছু করতে পারেন। তোমার
আম্মুকেও সুস্থ করতে পারেন। "। অত:পর
ভাইবোন চিঠিতে লিখতে লাগল, " হে
আল্লাহ, আমার মা খুব অসুস্থ। আমার
বাবা শহরে গেছে। আমাদের অর্থের খুব
অভাব। আমার মাকে আমরা খুব
ভালবাসি। আমার মাকে আপনি সুস্থ
করে দিন। উপহার হিসেবে কিছু
বেলীফুল আপনাকে দিলাম। "
.
স্বচ্ছ কাছের মত শিশুদের মন। আল্লাহর
প্রতি অগাধ বিশ্বাস। বাইরের প্রকৃতি,
গাছগাছালি, পাখপাখালি সকল কিছুই
তাদেরকে আল্লাহকে স্মরণ করে শুধু
তার কথাই ভাবায়। তাদের মস্তিষ্কে
নাস্তিক্যবাদের বীজ কেউ বুনে দেয়
নি। আল্লাহর প্রতি এক অপরিসীম
ভালবাসা রয়েছে যা হয়তো
কোনদিনের জন্য কমতি হবে না .
.
আল্লাহকে চিনতে, জানতে বিস্তর
পড়াশোনা লাগে না, বড় বড় ইসলামিক
ইউনিভার্সিটি থেকে বড় বড় ডিগ্রী
লাগে না, লাগে শুধু শিশুদের মত স্বচ্ছ
কাচের মতন মন। যে কাচে তার
নিদর্শনসমূহ প্রতিফলিত হয়। একমাত্র
তার ছায়ায় প্রতিফলিত হয়। এ সুন্দর
প্রকৃতি, পাখপাখালি, গাছগাছালি,
আমাদের শরীর আর কত নিদর্শনের
দরকার??
.
নাস্তিক্যবাদ পড়াশোনা করা এক
ইউনিভার্সিটির লেকচারারকে
আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে বোঝাতে
যাবেন, এ প্রকৃতি, গাছগাছালি
কোনকিছুই তার অন্ধ চোখে দেখে না।
.
কিন্তু গ্রামের একজন কৃষককে আল্লাহর
অস্তিত্ব সম্পর্কে বোঝাতে যান,
উত্তরে বলবে "বাবা আল্লাহ যদি নাই
থাকে তাহলে প্রচণ্ড খরার মধ্যে যখন
আকাশের দিকে এক খণ্ড মেঘের জন্য
প্রতিক্ষা করি, যখন ভবিষ্যতে পরিবার
সহ অনাহারে থাকার অজানা আতংকে
থাকি। এ কথা ভাবতে ভাবতে যখন
উপরের দিকে চেয়ে দুই হাত তুলে দোয়া
করি। তখন কে আমাদের দোয়ায় সাড়া
দিয়ে ঝমঝম করে বৃষ্টি নামিয়ে
আমাদের মুখে হাসি ফোটায় বাবা??.
তিনিই হচ্ছেন রাহমানির রহিম
আল্লাহ রব্বুল আলামিন।
.
আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে বিস্তর
পড়াশোনা নেই তার। তার জানা নেই
চোখের মত এক যন্ত্র কেউ এ পর্যন্ত
আবিষ্কার করতে পারি নি। কিভাবেই
বা মস্তিষ্কে প্রতিফলিত উলটো
প্রতিবিম্ব আমরা সোজা দেখি।
.
মস্তিষ্ক নিয়ে কখনো তিনি চিন্তা
করে নি। ছোট্ট এক মস্তিষ্ক অথচ তার
তুলনায় অন্য কোনকিছুই হয় না। তার
জানা নেই কিভাবেই বা হৃদপিণ্ডের
মতো ছোট্ট মাংসপেশী আজীবন রক্ত
সঞ্চালনে সাহায্য করে। তার জানা
নেই কিভাবেই বা আমাদের শরীরে
লক্ষ লক্ষ রাসায়নিক ক্রিয়া বিক্রিয়া
সমপন্ন হয়।
.
রাসুল সা: একবার বললেন " তোমরা তো
একসময় উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না "
এরপর পুরো ইয়াসীন সূরা পাঠ করলেন।
তারপর বললেন আল্লাহর কসম "আমি যা
জানি তোমরা যদি তা জানতে তাহলে
খুব স্বল্পই হাসতে এবং অধিক কাঁদতে।
আকাশ মড়মড় করে গর্জন করে এবং তা
করা তার শোভা পায় কারন আসমানে
এমন চার আঙ্গুল স্থান পর্যন্ত ফাঁকা
নেই যেখানে কোন ফেরেশতা সিজদায়
লুটিয়ে নেই। "
.
আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে আপনি যতই
জানবেন আপনি তার মহত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব
সম্পর্কে ততই আশ্চর্যিত হবেন। দুনিয়ার
সামান্য এক ব্যক্তির সম্মানে আপনি
আপনার মাথা নিচু করেন। আল্লাহর
কসম তার শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে
আপনি যদি জানতেন তাহলে
সারাজীবন আপনি সিজদায় লুটিয়ে
থাকতেন এবং শুধু তারই শ্রেষ্ঠত্ব
ঘোষণা করতেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now