বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আজও মনটা কাদে শুধু তারি বিরহে

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Raz Khan (০ পয়েন্ট)

X আইনুদ্দিন আল আজাদ রহঃনাটোরে আমার লালপুরে আমরা হারিয়ে ফেলি সঙ্গীতসম্রাট আইনুদ্দিন আল আজাদ রহঃ কে...আজ ১৮ই জুন।২০১০ সালের আজকের এই দিনে নাটোরেরলালপুর থানাধীন পালিদেহা নামক স্থানে বাদ ফজর গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিচলাকালীন সড়ক দূর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন তিনি ও ড্রাইভার আসলাম শেখ।আইনুদ্দীন আল আজাদ রহঃ গাড়ীর ড্রাইভিং করছিলেন। কার গাড়িটিরস্টিয়ারিং আইনুদ্দীন আল আজাদ-এর বুকের উপরে চেপেলেগেছিল।প্রায় দুই ঘণ্টা বাসের নিচে তাদের গাড়ীর মধ্যে চাপা লেগেছিলেন তারা। আইনুদ্দিন আল আজাদ প্রথমে সম্পূর্ণ সুস্থছিলেন। কুরআন তেলাওয়াতে মশগুল ছিলেন তিনি। উক্ত স্থানেএক্সিডেন্টের স্থানে একটি মাত্র বাড়ি ছিল এক স্কুলের টিচারবিকট শব্দ শুনে ফজরের নামাজ আদায় শেষে বেরিয়ে এসেদেখেন এই অবস্থা। লালপুরের স্থানীয় লোকজন জড় হতেথাকে। স্থানীয় লোকজন সাবল কোদাল দিয়ে গাড়ি কেটেতাদের বের করার ব্যর্থ চেষ্টা করে। এরপর খবর দেয়া হয়লালপুর ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনে। তারা আসেন। ইতিমধ্যেআইনুদ্দীন আল আজাদ আস্তে আস্তে অসুস্থ হয়েপড়তে থাকেন।লালপুরের টিম এসে বাসের নিচ থেকে কার গাড়িটি বের করতেনা পেরে খবর দেন ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনে। দুই টিমএক সাথে কাজ করে গাড়িটি কেটে প্রথমে উদ্ধার করেনড্রাইভার আসলাম শেখ ভাইকে। উনার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনকছিল। উনাকে সবাই মিলে সেবা করার সময় উনি বলে উঠেন,আমাকে নয় আপনারা গাড়ীর মধ্যে যিনি আছেন তাকে উদ্ধারকরেন। উনি বাংলাদেশের অনেক বড় ইসলামী সঙ্গীত শিল্পীও বক্তা। উনি অনেক ভাল মানুষ। উনাকে বাঁচান। কিছুক্ষন পর আসলাম শেখ ইন্তেকাল করেন।গাড়ি কেটে উদ্ধার করা হয় আমাদের নয়ন মণি আইনুদ্দীন আলআজাদ ভাইকে। প্রথমে নেয়া হয় লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে। খবর ছড়িয়ে পড়ে নাটোর জেলা ইসলামীআন্দোলন বাংলাদেশের দায়িত্বশীল সহ লালপুরের মুজাহিদভাইদের কানে। খবর পেয়ে ছুটে আসেন রওজাতুস সুন্নাহকওমি মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব মাওলানা শাখাওয়াত হুসাইন।উনি এসেআইনুদ্দীন আল আজাদ ভাইকে চিনতে পেরে হাও মাও করেকেঁদে ফেলেন। উনার সাথে স্থানীয় লোকজন কেঁদেফেলেন। উনি পরিচয় করিয়ে দেন এই ব্যক্তিটি কে, কি তাঁরপরিচয়? আমাদের হুজুর যখন যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসায় পড়াশোনাকরতেন তখন থেকে চিনতেন এই আইনুদ্দীন আল আজাদভাইকে। স্থানীয় মুজাহিদ ভাই ও ইসলামী আন্দোলনবাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ চলে আসেন। তাকে নিয়ে দ্রুত রওনাদেন এ্যাম্বুলেন্স যোগে রাজশাহী মেডিক্যালেরউদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে কয়েকবার খিচুনি দিয়ে উঠে কুরআন পাকতেলাওয়াত করে উঠেন।রাজশাহী পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক স্যালাইন পুশ করলেন।স্যালাইন শরীরে প্রবেশ করলো না। কিছুক্ষন পর চিকিৎসকঘোষণা করলেন, আমাদের কলিজার টুকরো আইনুদ্দীন আলআজাদ আর আমাদের মাঝে ফিরে আসবে না।উনি মহান মালিকআল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেছেন।মহান প্রভূর ডাকে সাড়া দিয়ে ইহকাল ত্যাগ করেন ইসলামী সঙ্গিতজগতের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা আইনুদ্দীন আল আজাদ.......খুব আগ্রহেরসাথে তাকে নিয়ে তাঁর মৃত্যু নিয়ে গবেষণা করি। জানতে পারিঅনেক অজানা রহস্য।আসুন জেনে নেই উনার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃআইনুদ্দীন আল আজাদ ইসলামী রাজনীতির চর্চা জোরালোভাবে করতেন। ছাত্র জীবনে ১৯৯৪ সালে তিনি ইসলামীশাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের সদস্য হন। এক সময় তিনি ছাত্রআন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব প্রাপ্ত হন।ছাত্র জীবন শেষে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশেরএকজন নিষ্ঠাবান দায়িত্বশীল হন এবং তিনি ইসলামী আন্দোলনবাংলাদেশ ঢাকা মহানগর এর প্রশিক্ষন সম্পাদক হন।তিনি শুধু সংগীত শিল্পীই ছিলেন না, তিনি একাধারে গীতিকার,সুরকার, ক্যালিওগ্রাফিকার, ওয়ায়েজ ও ছিলেন।তিনি ২০০৪ সালে জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন কলরব প্রতিষ্ঠা করেন।তাঁর প্রথম প্রকাশিত এলবাম হলো ''দূর্নিবার" আর এই এলবামেরপ্রথম সংগীত "আয় মুজাহিদ আয় ছুটে আয় দ্বীনের পথেজীবন বিলায়".এব তাঁর শেষ এলবাম ছিল "বন্ধু".তার কণ্ঠে গাওয়াসর্ব শেষ গানটি ছিল "রঙিন এই পৃথিবী ছাড়িতে হইবে সাধের এইদেহ মাটিতে খাইবে..."।ইত্যাদি………… .আসুন রমজানের এই দিনে তাঁর জন্য বিশেষ দোয়া করি:- ইয়াআল্লাহ তুমি তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন।আমিন...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আজও মনটা কাদে শুধু তারি বিরহে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now