বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এ গল্পের ছোট্ট ছেলেটির নাম ইমরান আর এই ছোট্ট মেয়েটির নাম নিশি। তাদের দুজনের বাবাই সরকারী চাকরিজীবী তারা অনেক আগে থেকেই এক সাথে সরকারী কোয়াটারে থাকে। ইমরান দের ঠিক বিপরীত দিখের রুমটাই থাকে নিশি। হুট করেই এক দিন তাদের পরিচয় তা'ও আবার ঝগড়া দিয়ে।
.
ইমরান ছেলেটা একটু মটু তাই সে কখনো গাছে চরতো না কিন্তু সেদিন তার ঘুড়ি টা গাছে আটকে যাই আর তা পারতেই থাকে কষ্ট করে গাছে উঠতে হয়। ইমরান সেদিন গাছ থেকে পরে গেলো। এদিকে গাছের নিছে পুতুল নিয়ে খেলা করতে নিশি আসে। নিশি ইমরান কে মাটিতে পরে কাঁদতে দেখে নিশি হেসে ফেলে। নিশির হাসি দেখে ইমরানের অনেক রাগ হয়।
.
আর সেখান থেকেই তাদের ঝগড়া শুরু। পরদিন ইমরান ক্লাসে এসে দেখে তার বসার বেঞ্চে অই মেয়েটা আগেই বসে পড়েছে। তা দেখেই নিশির সাথে ইমরানের ঝগড়া শুরু তাদের এই ঝগড়া এক সময় প্রায় প্রতিদিন লেগেই থাকতো, অবশেষে প্রিন্সিপ্যাল তাদের বাবা মাকে স্কুলে ডাকিয়ে আনে তাদের বিচার করার জন্য।
.
সেদিন তাদের বাবা মা অনেক কষ্ট করে নিশি আর ইমরান কে এক সাথে বন্ধুত্ব করিয়ে দিলো। আজ তারা বড় হয়েছে ইমরান আর নিশি এখন কলেজে পড়ে। তাদের এখনো ঝগড়া হয় তবে এখন তার ভালো বন্ধু। একে অপরকে ছাড়া এক মুহুর্ত চলে না। নিশিকে না দেখলে ইমরানের ভালো লাগেনা, এদিকে নিশিরো একি অবস্তা নিশিও ইমরান কে না দেখে থাকতে পারেনা।
.
এটাকি শুধু বন্ধুত্ব নাকি প্রেম তারাও বলতে পারেনা। তারা একে অপরকে ভালোবাসে কিন্তু কিছু বলতে পারেনা কারন যদি বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাই সেই ভয়ে।
নিশি আর ইমরান আজ তারা অনেক বড় হয়েছে। কিন্তু তাদের দেখলে মনে হয় তারা যেনো সেই ছুট টি রয়ে গেছে। তারা আজ কলেজ ছেড়ে ভার্সিটিতে পড়ে। হটাৎ একদিন নিশির বিয়ের জন্য নিশিকে দেখতে এলো।
.
- এই ইমরান উঠ আমি একটু নিশিদের বাসায় যাচ্ছি [ইমরানের মা]
- আচ্ছা যাও আমি ঘুমাচ্ছি [ইমরান]
.
একটু পর হঠাৎ দরজাই সজোরে আঘাত।
.
- অই তুই এখনো শুয়ে আছিস? তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠ। [নিশি]
- যা তো এখন আমি ঘুমাবো। [ইমরান]
- তুই উঠবি না তো?
.
এই বলে সে আরো জোরে আঘাত করতে লাগলো
অসজ্জ হয়ে ইমরান কে ঘুম থেকে উঠতে হলো।
ঘুম থেকে উঠার পর ইমরানের চোখটা সরাসরি পরলো নিশির উপর। নিশি আজ কে এভাবে সেজেছে কোনো তার মনে হঠাৎ কথাটা বলে উঠলো। নিশি কে দেখতে যেনো আজ ঠিক পরীর মতো লাগছে বাহিরের আলো নিশিকে বেধ করে তার ঘরে আসতে পারছেনা।
.
নিশির খুলা চুল ঘুলি বাতাসে উড়ছে। আজ নিশিকে দেখতে কেনো জানি অন্য রকম লাগছে। নিশির ভেজা চুলের গন্ধ যেনো ইমরান কে পাগল করে দিচ্ছে। কেনো যানি নিশিকে আজ বউ বউ মনে হচ্ছে। কেনো জানি আজ গলা ফাটিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে নিশি আই লাভ ইউ।
.
- কিরে এভাবে কি দেখছিস? [নিশি]
- শুধু দেখিছি নারে ভাবছিও।[ইমরান]
- কি ভাবছিস?
- ভাবছি তোর মতো যদি একটা বউ থাকতো আমার। এভাবে প্রতিদিন ঘুম থেকে তুলে এক কাপ চা ধরিয়ে দিতো হাতে।
- অহ্ তাই তাহলে আমাকে বিয়ে করে ফেলনা?
- এসব কি বলছিস নিশি কেউ যদি শুনে ফেলে তখন কি হবে?
- শোনোক আজ আমি বলতে চাই আমি তোকে ভালোবাসি।
.
- কিরে কি হইছে তোর আজ বলতো আমাকে?
- দেখ ইমরান আজ আমাকে দেখতে ছেলের বাড়ি থেকে মানুষ আসছে। আমি তোকে ছাড়া বাঁচবো না।
- তোই কি পাগল হয়ে গেছিস? কি বলছিস এসব একবার বুঝার চেষ্টা করছিস। আমরা ভালো বন্ধু তাই বলে বিয়ে না এটা হতে পারে না।
.
এই কথা গুলি এক নিশ্বাসে সহজেই বলে দিলো সাগর কিন্তু ভেতরে মনের পাহার টা এক ভুমিকম্পে ধুমড়ে মুচড়ে ভেঙে দিতে লাগলো। সে চিন্তা করলো তাদের এত দিনের বন্ধুত্ব তার একটা কারণে নষ্ট হয়ে যাবে সেটা হতে পারে না। সাগর আগে থেকেই ভালো করে যানে নিশির বাবা তাদের এই ভালোবাসা কোনো দিন মেনে নেবেনা তার মেয়েকে কখনো একটা বেকার ছেলের কাছে বিয়ে দেবে না।
.
মাঝ থেকে তাদের দুই পরিবারের মাঝে সৃষ্টি হবে একটা ঝগড়া তা ইমরান কখনোই চায়না। নিশির কথা গুলি সেদিন কোনো প্রাধান্য না দিয়ে সে একটু মিথ্যে অভিনয় করে গেলো তার বুকের মাজারে সেদিন নিরবে তার ভালোবাসার কবর দিয়ে দিলো।সেদিন নিশি কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো। নিশি চলে যাবার পর ইমরান ও অনেক কান্না করলো। সেদিনের মতো কান্না মনে হয় সে আর কখনো কাঁদেনি।
.
আজ দুই দিন হয়ে গেলো নিশি রাগ করে ইমরান কে কোনো এসএমএস দেয় না। কোনো ফোন করে না এমন কি ফোন বন্ধ করে রেখেছে। এই দুই দিনেই মনে হচ্ছে ইমরানের জীবন থেকে সব কিছু কে জেনো কেড়ে নিয়ে চলে গেছে। ইমরান বেলকনিতে বসে আছে এমন সময় নিশি আসলো।
.
- দুস্ত ভাালো থাকিস।
.
ইমরান কথা বলতে পারছিলো না শুধু কথা গুলি শুনতেছিলো। ইমরান মনে হচ্ছিলো তার বুকের আকাশে যেনো ঝড় উঠেছে সেই ঝড় কোনো মতেই
থামতে চাইছেনা। ওদিকে নিশি শত কষ্ট ভুলে একটু অভিমান নিয়ে বলছে।
.
- কাল আমার বিয়ে আর আজ গায়ে হলুদ আসিস কিন্তু তোর নিমন্ত্রণ রইলো।
.
কথা টা বলার সাথে সাথে নিশি কেঁদে দিলো আর এক দৌড়ে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো। ইমরানের চোখ দিয়ে শুধু অঝরে পানি ঝরতে লাগলো। সে কি করবে বুঝতে পারছিলো না। তার বুকের হাহাকার যেনো তার বাকশক্তি কে বন্ধ করে দিচ্ছিলো।
.
সেদিন আস্তে আস্তে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলো। ইমরানের পাশের ফ্ল্যাটে নিশির গায়ে হলুদ হচ্ছে এদিকে সাগর একা একা কান্না করচ্ছে শুধু দুই চোখ বেয়ে পানি পরছে। নিশির ফ্ল্যাটে গান বাজানো হচ্ছে একেকটা গান যেনো সাগরে বুকে ত্রিশুলের মত বিঁধছে। তার গলা চিরে কান্না করতে ইচ্ছে করছে। বলতে ইচ্ছে করছে নিশি আমি তোকে ভালোবাসি।
.
কিন্তু সে এ কথাটা বলার অধিকার টাই বুধহয় হারিয়ে ফেলেছে। তাই কি করবে বুঝতে না পেরে সে বাবার ড্রয়ার থেকে ঘুমের সব গুলি ট্যাবলেট আনলো। সেদিনি প্রথম সে দোকান থেকে দুই প্যাকেট সিগারেট আনলো। রুমে এসে সব গুলি ট্যাবলেট খাবার পর দুই প্যাক সিগারেট সব খেতে লাগলো আর ফোনে শুনতে লাগলো।রিদয় খানের ফিরেতো পাবো না গানটি।
.
পর দিন নিশির বিয়ে।
.
- অই ইমরান দরজা খুল। নিশির বিয়ের কাজ কে করবে এখনো তুই শুয়ে আছিস। মা একের পর এক ডেকেই যাচ্ছে। ভিতর থেকে কোনো উত্তর আসছে না। কয়েক মিনিট পর বাহির থেকে ডুব্লিগেট চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখে ইমরান ফ্লোরে শুয়ে আছে তার পাশের অনেক সিগারেট পরে আছে,আর ঘুমের ট্যাবলেটের সেই কাভারটা। অনেক ডাকাডাকির পর ইমরান কে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়।
.
- ইমরান তুই নিজেকে কি মনে করিস। তুই কি শুধু ভালোবাতে জানিস ?
- নিশি তুই যা ভাবছিস আসলে কিন্তু তা না।
- কি তাহলে, তুই মরে গিয়ে কি প্রমাণ করতে চেয়েছিলি ?
- বাদ দে এসব আগে বল তোর না আজ বিয়ে তুই এখানে কি করছিস।
- আর একটা কথা বলবি না। আমি তোকে ছাড়া অন্যকাউকে বিয়ে করলেতো।
- নিশি চুপ কর দেখ সবাই এদিকেই আসছে শুনে ফেলবে।
.
- শুনুক সবাই আমি আজ সবাই কে বলে দেবো
- আর কিছু বলতে হবে না মা[ইমরানের বাবা]
- তোরা নিজেদের কি মনে করিস বলতো। [নিশির বাবা]
-একজন আমাদের জন্য ভালোবাসাকে কবর দিয়ে দেবে।আরেক জন মজনু হয়ে নিজে আত্মহত্যা করবে।[ইমরানের বাবা]
- বাহ্ বাহ্ ভালোতো অরা একে'ক জন এ যুগের লাইলি মজনু হয়ে গেছে [নিশির বাবা]
- তোরা আমাদের একবার বলেতো দেখতে পারতি।
তোরা নিজেরা আমাদের জন্য সব করতে পারবি আর আমরা বুঝি কিছু করতে পারবো না।[ ইমরানের বাবা]
এদিকে দুই বাবার কথা শুনে নিশি আর সাগর আবুল হয়ে গেলো।
.
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now