বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক.তুহিন(দুস্টু বয়)
আজকের রাতটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় একটা অংশ। আসলে প্রতিটি মানুষেরই জীবনে এমন কিছু মূহুর্ত থাকে যেগুলো দাগকেটে থেকে যায় মনে যা কখনো মোছা যায় না। আজকের রাতটিও আমার জন্য ঠিক তেমনি।
৫ বছর আগের ঠিক এই রাতেই বউ সেজে বসে ছিলাম বাসর ঘরে। আর অপেক্ষা করছিলাম সেই গাধাটার জন্য..মেঘের জন্য। সত্যিই গাধা একটা। সবসময় সব কিছুতেই লেইট,
>> ওই এত দেরী করে আসলা কেনো?(আমি)
> না মানে...কেমন জানি ভয় লাগছে। (মেঘ)
>> ভয় লাগছে...কেনো?
> না মানে এমনিই।
>> আচ্ছা বিয়ের আগের দিনে দেয়া আমার শর্তের কথা মনে আছে তো?
> ঐ যে তোমার সাথে সারা রাত গল্প করে কাটাতে হবে?
>> হুমম...
> ঘুম পাচ্ছে খুব। আমি ঘুমাতে গেলাম তুমি একা একা গল্প করো।
এই বলেই লাইটটা অফ করে শুয়ে পড়ে মেঘ।
>> এই মেঘ উঠো। অন্ধকারে আমার খুব ভয় লাগে...প্লিজ উঠো।
কোন সাড়া নেই। নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছে। আর আমি ভয়ে চুপটি করে বসে ছিলাম খাটের এক কোনে। খুব কান্না পাচ্ছিলো। কিছুক্ষন পরে দেখি ঘরের লাইট জ্বেলে উঠলো।
>> ঘুমাও নি?(আমি)
> তুমি ভয় পাচ্ছো আমি কিভাবে ঘুমাই বলো।(মেঘ)
>> লাইটে না তোমার অসুবিধা হয়।
> তুমি কাছে থাকলে কিসের অসুবিধা। আজ রাত গল্প করে না...তোমায় দেখে কাটাবো।
প্রথমে ভেবেছিলাম মজা করছে। কিন্তু সত্যিই মেঘ সারা রাত কাটিয়ে দিয়েছিলো আমাকে দেখে। চোখে চোখ রেখে চেয়ে ছিলো। যে চোখ গুলি যেনো হাজারো কথা বলে দিচ্ছিলো।
.
মেঘ আর আমার প্রথম দেখা হয়েছিলো ভার্সিটিতে। খুব মায়া ভরা একটি মুখ ছিলো মেঘের হয়তো যে কারো দেখলেই মায়া জন্মে যাবে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে কোন মায়াই জন্মে নি। কারন তার সেই মায়াভরা মুখ দেখে আমার মনে জন্মেছিলো ভালবাসা। স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম ওকে নিয়ে। কিন্তু বুঝতে দিতাম না। প্রথম যে দিন দেখা সেদিন একদৃষ্টিতে চেয়ে ছিলো আমার দিকে। খুব রাগ হচ্ছিলো। অনেক বকাও দিয়েছিলাম আর সেই বকা দেয়া থেকেই বন্ধুত্ত্ব শুরু। মেঘ রোজ আমার জন্য একটা করে কবিতা লিখতো আর পড়ে শোনাতো। কারন কবিতা আমার খুব প্রিয়ো। আর আমার প্রতি যে মেঘের ছিলো এত্তগুলা কেয়ার। কখনো একা হতে দিতো না আমায়। আমাকে দেখার ইচ্ছা হলে রাত হলেও ঠিক চলে আসতো আমার বাসার সামনে। দাঁড়িয়ে থেকে আমাকে জানালা দিয়ে দেখেই আবার চলে যেতো।
সেদিন ছিলো আমার জন্ম দিন। এমন একটা রাতেই আমাকে ছুটে নিয়ে গিয়েছিলো নদীর পাড়ে...
>> কি ব্যাপার এখানে কেনো নিয়ে আসলে?(আমি)
> অনেক কিছু বলবো আজ তোমাকে।(মেঘ)
>> বলো কি বলবে।
> চোখ বন্ধ করো। আমি না বলার আগে খুলবে না।
আমি চোখ বন্ধ করেছিলাম। যখন সে চোখ খুলতে বললো চোখ খুলে দেখি আমার সামনে এক হাতে গোলাপ আর এক হাতে একটা আংটি নিয়ে হাটুগেড়ে বসে আছে।
> ওত ছন্দ জানা নেই আমার। শুধুই জানা আছে একটি কথা। ভালবাসি তোমায়।
দুটা থাপ্পড় খুব জোড়ে বসিয়ে দিয়েছিলাম মেঘের গালে। মেঘ শুধু মাথা নিচু করে ছিলো।
>> গাধা এই কথাটা বলতে এত লেইট করলা।
মেঘের মুখে তখন যেনো রাজ্য বিজয়ের হাসী লেগে ছিলো।
.
বিয়ের পর আমার প্রতিটি আবদার,জেদ এর সব গুলোই পূরন করতো মেঘ। রাত জেগে আমার সেই বকবকানি গুলো শোনা...শত ব্যাস্ততার মাঝেও আমার জন্য রোজ রোজ কবিতা লেখা...পাশাপাশি বসে রাতের আকাশের চাঁদ দেখা...বিকেল বেলায় একসাথে আইসক্রিম খাওয়া...। সব মিলিয়ে কতটা যে ভালবাসতো মেঘ হয়তো সেটা প্রকাশ করে শেষ করতে পারবো না। শুধু বলবো খুব ভালবাসে ছেলেটা আমায়।
একদিন ভাবলাম মেঘকে একটা সারপ্রাইজ দিবো। আর সেদিনই হঠাৎ মেঘ অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে এসে পিছিন থেকে আমার চোখ চেপে ধরে...
>> এই কি হয়েছে?(আমি)
> অনেক কিছু।(মেঘ)
>> কি অনেক কিছু?
> একটা সারপ্রাইজ দিবো তোমায়।
>> আমিও দিবো একটা সারপ্রাইজ তোমায়।
> আচ্ছা আগে তুমিই দাও।
>> না আগে তুমি বলছো তাই তুমিই দাও।
মেঘ পকেট থেকে একটা লকেট বেড় করে গলায় পড়িয়ে দেয়। সেই লকেটের ভেতর ছিলো আমার আর মেঘের ছবি।
>> যখন আমি থাকবো না তোমার পাশে এই লকেটটাই মনে করিয়ে দিবে আমাকে...আর আমাকে তোমার কাছেই মনে হবে।
মেঘের এমন কথায় অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম...কেদেই দিয়েছিলাম। মেঘ আমাকে কাছে টেনে চোখ মুছে দেয়,
> এই মেয়ে কাদছো কেনো? আমি বললাম বলেই কি চলে যাবো দূরে? তোমার ভালবাসার মাঝেই লুকিয়ে থাকবো সবসময়। আচ্ছা তোমার সারপ্রাইজটা দিলে না?
মেঘের কথায় সব কষ্ট দূর হয়ে গিয়েছিলো। সারপ্রাইজটা দিতে হবে। তাই মেঘের কাছে গিয়ে আস্তে করে বললাম আজ থেকে আমাদের পরিবারে দুজন নয়...তিন জন সদস্য। মেঘ যেনো অবাক হয়ে জড়িয়ে ধরেছিলো আমাকে। ভালবাসার আলতো স্পর্শগুলি সত্যিই অনেক সুখের হয়।
> এখন দেখছি এই লকেটের ভেতরের ছবি ইডিট করে আরো একজনের ছবি বসাতে হবে।
মেঘের কথা শুনে দুজনই হাসছিলাম...বাধ ভাঙ্গা সুখের হাসী।
.
ভালই চলছিলো আমাদের দিনগুলি কিন্তু সেই গাধাটা ছিলো খুব স্বার্থপর। সেদিনের মেঘের কথা গুলি মিথ্যা ছিলো না...ছিলো সত্যিই। ও ঠিক আমাকে একা রেখে চলে গিয়েছে অনেক দূরে।
মেঘের ব্রেইন ক্যান্সার ছিলো যেটা সে কখনো আমাকে বলেনি বুঝতে দেয় নি। আমাদের বিয়ের দুবছর পর ধরা পড়েছিলো। আস্তে আস্তে মেঘ সরে যাচ্ছিলো আমার জীবনের অনেক দূরে। একবছর আগে ঠিক এই রাতেই মেঘ আমাকে একা রেখে চলে যায় এক অদ্ভুত জগৎ এ। যেখেনে কেউ একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। সেদিন মেঘকে জড়িয়ে ধরে খুব কেদেছিলাম। আমার প্রতিটি চোখের অশ্রু মেঘকে ফিরে আসতে বলছিলো। কিন্তু স্বার্থপরটা আর ফিরে আসে নি। সে দিন বুঝতে পেরেছিলাম মেঘ কেনো রোজ গভীর রাতে উঠে কপালে চুমু দিয়ে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকতো। বুঝতে পেরে মেঘকে জিজ্ঞাস করলেও সে এড়িয়ে গেছে বারবার।
আর সেদিন সে স্বার্থপরের মত আমাকে একা করে দিয়ে চলে গেলো...কিন্তু আমাকে দিয়ে গেছে এই পৃথিবীর সবচেয়ে দামী একটা উপহার...অদ্রিতা কে। অদ্রিতা আমার মেয়ে। এখন তার ৩ বছর বয়স।
সেই রাতেরই সব সৃতির গল্প গুলি অদ্রিতাকে এতক্ষন বলছিলো মিতু। আর বলতে বলতেই অঝোর ধারায় কাদতে থাকে। তখনি অদ্রিতা এসে মিতুর চোখের পানিগুলি মুছে দেয়। মিতু তার মেয়ে অদ্রিতাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে কাদতে থাকে...জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদটা হারানোর কান্না। এখন এই অদ্রিতাই তার সঙ্গি। যাকে বুকে জড়িয়েই হয়তো ভেজা চোখে কাটিয়ে দিবে মিতুর বাকি জীবনটা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now