বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আছো তুমি হৃদয়জুড়ে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X ফোন বাজছে তো বাজছেই। একটার পর একটা ফোন দিয়েই যাচ্ছে ইশিতা। কিন্তু ফোন ধরতে ইচ্ছে করছে না আমার। মনে একটা অদ্ভুত বিষাদ কাজ করছে। কোন কিছুই ভাল লাগছে না। অনেকটা বিরক্ত হয়েই ফোন রিসিভ করলাম। তবে হ্যালো বললাম না, রিসিভ করে কানের কাছে ফোনটা ধরে রাখলাম। আমি চাই ওপাশ থেকেই সবার আগে হ্যালো শব্দটা ভেসে আসবে। কিন্তু আমার ধারনা ভূল, ওপাশ থেকেও ইশিতা হ্যালো বলছে না। ও হয়তো ভাবছে আমি সবার আগে হ্যালো বলবো। কিন্তু ও হয়তো জানেনা আমার জিদ সম্পর্কে। ও যদি সবার আগে আমাকে সরি না বলে তাহলে আমিও ওর সাথে কথা বলবো না। .. দুইদিন আগেই আমার আর ইশিতার মাঝে ব্র্যাকআপ নামক বোমা ফেটেছে। এই দুইদিন না আমি ওর সাথে কথা বলেছি না ও আমার সাথে কথা বলেছে। আমাদের ব্র্যাকআপ হয়েছে অতি তুচ্ছ একটা কারনে। - আরমান তোমাকে আজ এমন দেখাচ্ছে কেন? - জানিনা। - জানিনা মানে? - জানিনা মানে জানিনা। - কি হয়েছে বলো প্লীজ। - আহ বিরক্ত করো না। - বিরক্ত কই করলাম? আমি শুধু জানতে চাইলাম কি হয়েছে। - কানের সামনে ঘ্যানর ঘ্যানর করলে তাকে কি বিরক্ত করা বলে না? - (ঝাঁঝাঁলো কন্ঠে) কি আমি তোমার কানের সামনে ঘ্যানর ঘ্যানর করি? - এমন চেঁচিয়ে কথা বলছো কেন? - আমি চেঁচিয়ে কথা বলি? আসলে তোর সাথে প্রেম করাটাই আমার ভূল হয়েছে। - হ্যা আমার সাথে প্রেম করে তুমি আমার গুষ্ঠি উদ্ধার করেছো। - তুই থাক এখানে। আমি গেলাম, ভূলেও কোনদিন আমার সাথে যোগাযোগ করবি না। - আমাকে পাগলা কুত্তায় কামড়ায়নি। .. সেদিন দুপুরে আব্বুর সাথে তুমুল ঝগড়া হয়েছিল। যার ফলে গোসল এবং খাওয়া কোনটাই হয়নি। এই কারনে হয়তো আমাকে একটু অন্যরকম লাগছিল। ইশিতা হয়তো এ ব্যাপারটা আচঁ করতে পেরেছিল। তাই বারবার আমাকে জীজ্ঞেস করছিল। অন্য সময় হলে হয়তো আমি ব্যাপারটা ইশিতাকে খুলেই বলতাম। কিন্তু সেদিন মেজাজটা অনেকটাই খারাপ হয়েছিল। তাই ইশিতার কথাগুলো শুনতে বিরক্ত লাগছিল। তাই সব রাগ ঝেড়ে দিলাম ইশিতার উপর। ফলস্বরুপ ব্র্যাকআপ নামক তিক্ত খাবারের স্বাদ আস্বাদন করতে হলো। এই দুইদিনে ইশিতা আমাকে কয়েকবার ফোন দিয়েছিল কিন্তু কথা বলেনি। এমনকি হ্যালোও বলেনি। আর আমিও ছাড়ার পাত্র নই। আমিও নিরবতা পালন করেছি। .. আজ ছয়দিন হয়ে গেল ইশিতার সাথে কথা বলিনি। অনেকবার কথা বলতে চেয়েছি, কয়েকবার ফোন দিয়েছি। কিন্তু প্রতিবার আমরা দুজনেই নিরব ছিলাম। কেউ একটা টুঁ শব্দ পর্যন্ত করিনি। আমি কয়েকবার কথা বলতে চেয়েছি, কিন্তু ভেতর থেকে কেউ একজন আমাকে বলতে থাকে ' আরমান তুই কেন আগে কথা বলবি? ও তোকে যোগাযোগ করতে নিষেধ করেছে, তারপরও তুই বেহায়ার মত ওর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছিস। ছিঃ আরমান তুই পুরুষ সমাজের কলঙ্ক'। সত্যিই তো! আমি কেন ওর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি? ও একটা মেয়ে হয়ে এতটা দেমাক দেখাতে পারলে আমি কেন পারবো না? আমি তো একজন পুরুষ, আমার হৃদয় হতে হবে পাথরের মত শক্ত। নাহ আমি আর যোগাযোগ করবো না ওর সাথে। যদি ও নিজে সরি বলে তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। .. - কিরে মাম্মাহ কি খবর? (রিশাদ) - হুম ভাল। তোর কি খবর? (আমি) - ভাল আছি মামা। কিন্তু তোকে তো দেখে মনে হচ্ছে তুই ভাল নেই। - আরে নাহ মামা আমি ঠিক আছি। - নাহ ঠিক নেই। তোর চোখ দুটো কোটরে ঢুকে গেছে। চোখের নীচেও কালি পড়েছে দেখছি। রাতে কি ঘুম হয়না নাকি ঠিকমত? - সবকিছু ঠিকঠাক আছে মামা। তুই হুদাই বকছিস। চল চা খাই। - না মামা চা খাব না। - তাহলে কি খাবি? - কফি খাবো। - চল তোকে কফির মগে চুবিয়ে আনি। - তাহলে সাবান নিয়ে আসি। একসাথে কফি খাওয়া আর কফি দিয়ে গোসল করাটাও হয়ে যাবে। - হা হা হা হা হা। .. সত্যি এই কয়েকদিনে আমার অনেক কিছুই বদলে গেছে। আয়নায় তাকালে মনে হয় বয়স বিশ বছর বেড়ে গেছে। চুলগুলোও কেমন যেন হয়ে গেছে। দুই তিনটা চুল পেকেও গেছে। রাতে ঘুম হয়না ভালমত। আসলে ইশিতার সাথে ব্র্যাকআপের পর থেকেই নিজেকে কেমন যেন ছন্নছাড়া মনে হচ্ছে। ইশিতা ছিল আমার অক্সিজেনের মত। অক্সিজেন ছাড়া এখনো কিভাবে বেঁচে আছি জানিনা। মনে একপ্রকার অধম্য টান অনূভব করছি। বারবার ইশিতার নাম্বারে ডায়াল করছি আর পরমূহুর্তেই কেটে দিচ্ছি। মনে বারবার একটা কথাই উদয় হয় ' আমি কেন আগে কথা বলবো? ' .. নাহ আমার পক্ষে আর ইশিতা ছাড়া থাকা সম্ভব নয়। মোবাইলটা হাতে নিয়ে খুবই দ্রুততার সাথে টাইপ করলাম, ' সরি ইশিতা তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য। কালকে কি আমরা দেখা করতে পারি প্লীজ? ' মেসেজ পাঠিয়ে দিয়ে উত্তরের অপেক্ষায় আছি। কিছুক্ষনের মধ্যেই উত্তর চলে আসলো। ' বাবু আমিও সরি। আমিও দেখা করতে চাই তোমার সাথে। বিকালে চলে এসো পার্কে।' এই উত্তর দেখে মনটা অানন্দে নেচে উঠলো। এখন শুধু কালকের দিনের অপেক্ষা। .. বিকাল বেলা তৈরি হয়ে বের হলাম পার্কের উদ্দেশ্যে। কিছুক্ষন পর পৌছে গেলাম সেখানে। দূর থেকে দেখলাম ইশিতা বসে আছে। আমি হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলাম। আমাকে দেখেই ইশিতা বেঞ্চের একপাশে সরে আমাকে জায়গা করে দিল। আমি আস্তে করে বসে পড়লাম। তারপর দুজনেই নিরব। ইশিতা তাকিয়ে আছে ঘাসের দিকে। আমিও তাকিয়ে আছি ঘাসের দিকে। কারো মুখে কোন কথা নেই। হঠাৎ বিনা মেঘে বৃষ্টির মতই ইশিতা আমাকে জড়িয়ে ধরলো। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি প্রথমে কিছুটা হতভম্ব হয়ে গেলেও পরমূহুর্তে বুঝতে পারলাম ইশিতা কাঁদছে। আমিও ইশিতাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে বললাম, - আরে পাগলী কাঁদছো কেন? আমার কথা শুনে ইশিতা আরো জোরে কেঁদে উঠলো। আমি আস্তে করে ইশিতার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম। ভাগ্য ভাল পার্কের এদিকটা এখন একদম ফাঁকা। নয়তো কি হতে পারতো আল্লাহই জানে। - এই পাগলীটা ছাড়বে আমায়? মানুষ দেখে ফেললে সমস্য আছে। - আমি সরি বাবু। আর কখনো তেমার সাথে রাগ করবো না তোমার সাথে। - আরে সরি তো আমার বলা উচিত। সেদিন আমার ওরকম ব্যবহার করাটা ঠিক হয়নি। আমি তোমাকে সরি বলছি। - জানো এইকয়দিন আমার খুব কষ্ট হয়েছে। তুমি ফোন দিয়েও আমার সাথে কথা বলোনি কেন? - তুমিও তো আমাকে ফোন দিয়ে কথা বলোনি। - আমি ভেবেছিলাম তুমি আগে কথা বলবে। তাই বলিনি। - আমিও তাই ভেবেছিলাম। - আর কখনো আমাকে এভাবে ছেড়ে যাবেনা। প্রমিজ করো। - করলাম প্রমিজ। তুমিও প্রমিজ করো। - প্রমিজ প্রমিজ প্রমিজ। .. সম্পর্কের মাঝে ঝগড়া হতেই পারে। আসলে ঝগড়া, রাগারাগি না হলে সম্পর্কের মূল্যটা বোঝা যায় না। কিন্তু অনেক সম্পর্ক অতলে হারিয়ে যায়, কারন নিজেদের জেদ। আমি কেন আগে সরি বলবো? এই একটা চিন্তাই শতশত মিষ্টি সম্পর্ককে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। আমাদের উচিত সম্পর্ককে ধরে রাখা। জেদের বশে সম্পর্ককে নষ্ট না করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। ..


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আছো তুমি হৃদয়জুড়ে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now