বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আবেগ

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Jewel (০ পয়েন্ট)

X (ছোট্ট রিতু) আমি আকাশ। মা বাবার একমাত্র ছেলে। গ্রামের এক ধনী পরিবারের ছেলে , তাই শহরে থেকে পড়াশুনা করছি। গ্রামে মা বাবা কে রেখে শহরে একা থাকা এটা পুরোটাই মনের উপর নির্ভর করে। অনেক কষ্ট হলেও তাদের সপ্ন পূর্ণ করার জন্য আমি ঢাকা শহরে থেকে পড়াশুনা করছি। এখানে আমি মেসে থাকি না একটা বাসা ভাড়া করে নিয়েছি সেখানেই থাকি। মেসে কেমন যেন বোরিং লাগে , যথেষ্ট টাকা পয়সা থাকার জন্য বাসায় থাকি একা একা। অনেক সময় মন খারাপ লাগে গ্রামের জন্য তখন একটু বাইরে ঘুরতে যাই। আমি এবার অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে। কলেজে সবসময় বন্ধুদের সাথেই কাটে কিন্তু বাসায় এসে নিজেকে খুব একা মনে হয়। এরকম ভাবেই চলছে আমার শহর জীবন। একদিন শুক্রবার। কলেজ বন্ধ, তাই বাসায় একা বসে আছি আর মোবাইলএ গেম খেলছি। কতখন আর বসে থাকা যায় তাই ভাবলাম বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসি। যেই বলা সেই কাজ বাইরে ঘুরতে বের হলাম। হাটতে হাটতে এক পার্কে চলে আসলাম। পার্কে এসে এক ব্রেঞ্চে বসে পড়লাম। আমার পাশেই একজোড়া কাপল বসে রইছে আমার পাশে না ঠিক আমার থেকে সামান্য একটু দূরে। বসে বসে ওদের টুকিটাকি কথা শুনছি। হটাৎ তখনই তাদের কাছে একটা ৭ থেকে ৮ বছরের ছোট্ট মেয়ে আসলো। এসে কি বলছে আমি ঠিক ভালভাবে শুনতে পাই নাই তারপর দেখি কাপলদের মাঝে ছেলেটা সেই ছোট্ট মেয়েটাকে মারল আর কিছু গালিগালাজ করে তারা দুজন চলে গেল আর মেয়েটি ওখানে বসে কাঁদছে। এ ঘটনা দেখে আমি আর স্থির থাকতে পারলাম না, মেয়েটির কাছে গেলাম। গিয়ে দেখি খুব সুন্দর ফুটফুটে একদম পুতুলের মতো। দেখে মনে হয় খুব ভদ্র ঘরের। আমি জিগেস করলাম! আমি : এই মেয়ে কি হইছে ওরা তোমাকে মারল কেন? মেয়ে : চুপ করে কাঁদছে! কিছু বলছে না। আমি : কি হলো কিছু বলো। মেয়ে : তখনও কাঁদছে। তাই আমি কোনো কিছু না ভেবে কোলে তুলে নিলাম তারপর ওকে নিয়ে পার্কের এক ব্রেঞ্চে বসে পড়লাম। আমি : তোমার নাম কি? রিতু : রিতু (কাদতেঁ কাদতেঁ বলল) আমি : ওরা তোমাকে মারছিল কেন? রিতু : আজ দুদিন ধরে কিছু খাইনি তাই ওদের কাছে ২০ টা টাকা চেয়েছিলাম। তাই মারছে। আমি : তোমার বাবা কই? রিতু : আমার কাকা বলছে, আমি যখন খুব ছোট তখন তারা আমাকে রেখে ওই তারার দেশে চলে গেছে। আমি : তাহলে তুমি তোমার কাকার কাছে যাও না কেন? রিতু : আমার কাকাই আমাকে এখানে রেখে চলে গেছে কাকী নাকি কাকাকে বলছে এই অপয়া মেয়েকে কোথায় দিয়ে আসো না হয় আমি চলে যাব এই কথা বলার পর আমাকে এখানে রেখে চলে গেছে। আমি : (আর কোনো কথা বলতে পারলাম না ওর কথা শুনে কখন যে চোখ ভিজে গেছে বুঝতে পারি নি। হায়রে সমাজের মানুষ কতটা পাষাণ হলে এমন করতে পারে এমন একটি নিষ্পাপ বাচ্চা মেয়ে একেও এখন একটা বোঝা মনে হয় আর আমাদের আশেপাশের লোক গুলোই কেমন নিজের গফের পিছনে হাজার হাজার টাকা ভাঙতে পারে আর এই মেয়েটিকে সামান্য বিশ টা টাকা দিলে কি এমন ক্ষতি হতো। আর নয় টাকা দিবি না নাইবা দিলি মারার কি দরকার ছিল। ধিক্কার জানাই আমি আমাদের সমাজের এমন মানুষদের) এমন কথা ভাবছি আর তখনই রিতুর ডাকে ঘোর কাটলো। রিতু : আমার না খুব ক্ষিধে লাগছে একটু খেতে দাও না। আমি gjএমন ফুটফুটে একটি মেয়ের কথা শুনে আর থাকতে পারলাম না ওকে কোলে তুলে নিয়ে তাড়াতাড়ি এক রেস্টুরেন্টে গেলাম সেখানে গিয়ে ওকে পেটভরে খাওয়ালাম রিতু যেটা খেতে চাইলো। এখন আমি রিতুকে কোলে তুলে নিয়ে হাটছি আর রিতু আমার কাধেঁ ঘুমিয়ে পড়ছে। গন্তব্য স্থান সেই পার্ক। পার্কে এসে একটা ব্রেঞ্চে বসলাম আর রিতু এখনও আমার কোলে গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে পড়ছে আমারও খুব ভালো লাগছে এই পুতুলের মতো বাচ্চা মেয়েকে আমার কাছে রাখতে। এখন আমি ভাবছি, কি করি এখন রিতুকে নিয়ে। ওর তো কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। ওকে এখানে রেখে যাব না কি করব কিছু বুঝতে পারছি না। তারপরেই ভাবলাম রিতুকে আমার সাথে নিয়ে গেলে কেমন হয় আমার এই একলা শহরের জীবনে আরেক টা সঙ্গী পাব আর যদি আমি এখানে ওকে এভাবে রেখে যাই তাহলে আমি আমার নিজের কাছেই ছোট হয়ে যাব। কিন্তু রিতু কি যাবে আমার সাথে? বিশ্বাস করবে কি এই অচেনা অজানা এক ছেলেকে। তাই ভাবলাম যা হবার হবে ওকে আগে জিগেস করে নিই ও যাবে কিনা। এখনও রিতু আমার কোলে ঘুমিয়ে আছে তাই আর ওকে জাগালাম না কোলে নিয়েই হাটতে লাগলাম গন্তব্য হলো বাসা। কিছুদূর হাঁটার পরেই নড়াচড়া দিয়ে ওঠলো, বুঝতে পারলাম ঘুম ভাঙছে। রিতু : আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো (ঘুম ঘুম চোখে বলল) আমি : আমার বাসায় নিয়ে যাব। যাবি আমার সাথে? রিতু : সত্যি নিয়ে যাবে? আমি : একদম সত্যি বলছি। রিতু : তাড়িয়ে দিবে না তো কখনও? আমি : আরে দূর পাগলী তাড়াবো কেন তোকে তো সারাজীবনই রেখে দিব আর অনেক আদর করব (যদিও ওকে সারাজীবন রাখতে পারব না যখন বিয়ে হয়ে যাবে তখন তো আর আমার সাথে থাকবে না) রিতু : মারবে না তো? আমি : একদম না। রিতু : তুমি জানো আমার কাকী না আমাকে প্রতিদিন খুব মারতো। আমি : কেন মারতো? রিতু : আমি যখন এটা ওটা খেলনা চাইতাম তখন মারতো কিন্তু ওনি আবার ঠিকই ওনার ছেলে মেয়েদের এনে দিত আর আমি চাইলেও আমাকে মারতো। আমি gjকিছু বললাম না) রিতু : আমাকে খেলনা আর পুতুল এনে দিবা। আমি : হ্যাঁ, দিব, অনেক গুলো খেলনা এনে দিব। রিতু : সত্যি। তুমি অনেক ভালো তোমাকে একটা পাপ্পি দেই, উম্মা। আমি gjবাচ্চার এরকমই অল্প জিনিসেই অনেক খুশি হয় আর ওদের মনটা খুব সুন্দর আর অনেক নরম গলতে সময় লাগে না। হেটে হেটেই বাসায় চলে এলাম। রিতুকে যখন কোল থেকে নামিয়ে দিলাম তখন দৌড়ে গিয়ে আমার বিছানার পাশে বড় পুতুল টাকে জড়িয়ে ধরল আর তখন সেটা কে নিয়ে খেলা করতে লাগল। আমি : এই শুন তোকে আমি এখন এতকিছু দিলাম তুই আমাকে একটা জিনিস দে। রিতু : কি দেব? আমার কাছে তো এখন কিছুই নাই। আমি : আমাকে এখন থেকে দাদা বলে ডাকবি পারবি না? রিতু : ( এই পিচ্চিটার যে এতো আবেগ আগে জানতাম না আমাকে গলা ধরে জড়িয়ে ধরে ভ্যা ভ্যা করে কেদে দিল। আমার কিন্তু তখন খুব হাসি পাচ্ছিল। এখন এই পিচ্চিটাকে নিয়েই আমার পুরো পৃথিবী। সবসময় আমার আশেপাশে থাকে খেলনা কিনে দিছি অনেক। তবুও সেই আমার সাথেই লেগে থাকে একটুও দূরে রাখা যায় না খেলা করার সময় আমি যদি ওর সঙ্গ না দেই তাহলে আমার সাথে মারপিট শুরু করে দেয়। এভাবেই কেটে গেল ৬ মাস। রিতুকে এখন আমি ঢাকার এক স্কুলে টুতে ভর্তি করে দিছি। ওর মাথা টা অনেক ভালো খুব সহজে একটা কিছু বুঝতে পারে আর মনেও রাখতে পারে। আমার তো এখন রিতুকে ছাড়া চলেই না, সবসময় পাগলীটাকে আমার পাশে রেখে দেই কোনো সময় একটু দূরে যেতে দেই না। এই ফুটফুটে মেয়েটার কথা মা বাবাকে অনেক আগেই বলে দিছি তারাও খুব খুশি হয়েছে আর রিতুকে দেখার জন্য তারাও ব্যকুল হয় পড়ছে। ভাবছি সামনে পরীক্ষার পর ছুটি হবে কলেজ তখন দুজন মিলে গ্রামে যাব। এভাবে পুতুল খেলার মতো চলছে আমাদের দুই ভাইবোনের জীবন। এখন আর আমার মনেই হয় না যে আমার এই পুচকি বোন টাকে পার্কে পেয়েছিলাম এখন আমার মনে হয় ও আমার আপন বোনের থেকেও বেশী কিছু আমার পুরোটা মন প্রাণ জুরে এই পুচকি টা রয়েছে। একদিন " রিতু : দাদা ওই দাদা এদিকে একটু আসো না। আমি : (অন্য রুম থেকে) কেন কি হইছে? রিতু gjকোনো শব্দ) আমি : দৌড়ে গেলাম কি হইছে জানার জন্য কোনো কথা আসছে না কেন? উফফফ, গিয়ে দেখি সামনে আমার আইফোন টা দু টুকরো হয়ে পড়ে আছে আর রিতু এই বুঝি কেদে দিব, আমি ওর দেখি তাকাতেই আবার সেই ভ্যা ভ্যা শুরু হলো, কেমনডা লাগে ওর চোখে জল আমার একদম সয্য হয় না আর ও বসে বসে কাঁদছে। আমি : ওই কি হইছে কাঁদছিস কেন? রিতু : তোমার এতো দামী মোবাইল টা ভেঙে গেছে। ভ্যা ভ্যা আমি : হাসি আর ধরে রাখতে পারলাম না জোরে জোরে হেসে দিলাম। তারপর পুচকি টাকে কোলে তুলে নিলাম। আমি : কান্না থামা তো ফোন ভাঙছে ভাঙছেই তাই বলে কাদতেঁ হয় নাকি বোকা কোথাকার? রিতু : (বোধ হয় ভাবছিল বকা বা মার বোধ হয় দিব কিন্তু আমার এধরনের কথা শুনে আমাকে জড়িয়ে ধরে আরো জুরে কেদে দিল। উফফফ কি করি এখন, তাই ওকে নিয়ে একটু ঘুরতে গেলাম। আর কয়েক দিন পর আমার পরীক্ষা। ধীরে ধীরে পরীক্ষার দিন এগিয়ে আসলো, এখন আমি পরীক্ষার জন্য ব্যস্ত পুচকি টাকে একদম সময় দিতে পারি না সবসময় পড়াশোনা নিয়েই থাকি। আর ওর কাছে গেলে মেরে তাড়িয়ে দেয় আর বড়দের মতো শাসন করে। আমি নাকি পরীক্ষায় রেসাল্ট খারাপ করলে খেতে দিব না তাই সবসময় পড়তে বলে আর আমার বিছানায় বসে বসে আমার ওপর নজরদারি করে আমি পড়াশুনা করছি নাকি। একদিন আমি টেবিলে বসে পড়ছি ওর দিকে চেয়ে দেখে বসে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়ছে। তাই ভাবলাম বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসি। চুরের মতো লুকিয়ে বাইরে চলে গেলাম। হি হি হি ১৫ মিনিট পর ঘুরেফিরে বাসায় এসে দেখি পুচকি টা লাঠি হাতে দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে, এইরে সেরেছে এবার, কি করি এখন? আমি : চুপ করে দাড়িয়ে আছি, রিতু : এইযে, সাহেব কই গেছিলেন? আমি : একটু বাইরে গেছিলাম, ঘুরতে। রিতু : পড়াশুনা ছেড়ে ঘুরতে যাওয়া, হমমমম, পরীক্ষার আলু পেলে তখন কি হবে, হ্যাঁ. আমি : (পুচকি টার কথা শুনে কোনো মতে হাসি চেপে রাখছি। হাসলেই বিপদ কি যে করবে) রিতু gjমাজায় হাত দিয়ে) আজকে প্রথম বলে ছেড়ে দিলাম আরেক বার এমন হলে কিন্তু শাস্তি পেতেই হবে। আমি : আচ্ছা, মহারাণী ঠিক আছে। (এই বলে রিতুকে কোলে তুলে এনে খাওয়ার জন্য বসে পড়লাম) এখন আবার পড়লাম আরেক ঝামেলায়, পুচকি টা খাইয়ে দিতে বলছে, বায়না যখন ধরছে তখন আমার হাতে খাবেই। তাই আমি আর কি করব খাইয়ে দিলাম পুচকিকে। পরীক্ষা শেষে ওকে নিয়ে গেলাম গ্রামের বাড়ি। মা বাবা তো ওকে পেয়ে খুব খুশি। আমাকে বোধ হয় ভুলেই গেছে সবসময় ওই পুচকি টাকে নিয়েই ব্যস্ত থাকি। ওনাদের মনেই হয়না ওনাদের একটা ছেলে আছে। আমরা এখন একটা হ্যাপি ফ্যামিলি। এই পুচকি টাকে নিয়েই আমাদের হাসিখুশিময় পরিবার। . পৃথিবীর এমন কোনো মানুষ আছে যারা নিজের আপনকেউ পর করে দূরে ঠেলে দেয় আবার এমন কেউ আছে যারা পরকেও নিজের আপনের হতে বেশি কিছু ভাবে। হয়তো এই পুচকিটাকে পেয়ে আমিও আমার আপন কাউকে পেয়েছি। আর পৃথিবীতে সব সম্পর্ক রক্তের দিক থেকে বিচার করা যায় না, রক্ত দিয়ে সব সম্পর্ক হয় না। মনের সম্পর্ক হলো আসল সম্পর্ক। যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক থেকেও তাদের দূরে ঠেলে দেয় তারাই পর আর যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও ভালবেসে আপন করে কাছে টেনে নেয় তারাই প্রকৃত আপনজন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ “আবেগের বারান্দায় দাঁড়ানো একটি ঘর”
→ আবেগী ভালোবাসা
→ আবেগীয় স্যার
→ আবেগি ভালোবাসা
→ ধনীমেয়েদের আবেগ
→ আবেগি প্রেম
→ নষ্ট আবেগ ও একটি ভালোবাসা
→ জটিল আবেগের নেই প্রয়োজন
→ আবেগী মন
→ সবাই রাতে বসে আবেগ প্রকাশ করছি"
→ আবেগময় ভালবাসা-৪
→ আবেগময় ভালবাসা-৩
→ আবেগময় ভালবাসা-২
→ আবেগময় ভালবাসা-১
→ আবেগী মন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now