বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
‘আরে গাধা, নেমে গেলো তো! হা মেলে দেখছিস কী?’
নিজেই নিজেকে কথাগুলো বলছিলো এখন কিছুটা বিচলিত এরন। এমন তন্ময় হয়ে খুবই অদ্ভূত একটা কাজ করছিলো যেটা তার সাতাশ বসন্তের কেয়ারফ্রী জীবনে খুব কমই করেছে। হ্যাঁ, কথাটা মোটেই অসত্য নয়! বাসে করে দীর্ঘযাত্রায় প্রায় ঢুলুনি এসে গেছিল। হঠাত কেমন জানি মনে হলো, মনে হলো কেউ যেনো এসেছে। বাসের সামনের সারিতে নিশ্চিত কেউ একজন বসে আছে যাকে কোনো এক অজানা কারণে মনে হচ্ছে জন্ম জন্মান্তরের চেনা। নিজের ওপর চটে উঠলো – কী যন্ত্রণা! সবে মাত্র ঘুমটা জেঁকে বসছিলো। গতরাতের অনিয়মের ফলাফল এই দিব্যি দুপুরে বিশ্রী ঢুলুনি। সে যাক, চোখ সরু করে উঁকি-ঝুঁকি মেরে দেখবার একটা চেষ্টা করতে থাকে, কিন্তু একেবারে পেছনের সারিতে বসার কারণে ঠিক দেখা যাচ্ছে না। অনেক কসরত করে অল্প স্বল্প যা দেখতে পেলো, তাতে ওর ঝিমুনি নিমেষে উড়ে গেলো। ‘নাহ, এ কী করে সম্ভব?’
‘হেই ড্রাইভার, ওয়ান্ট টু গেট অফ হিয়ার, নাও প্লীজ!’ বাস ড্রাইভার যার-পর-নাই বিরক্ত হয়ে খেঁকিয়ে উঠে দরজা খুলে দিতে দিতে কী একটা আপত্তিকর কিছু বলল হয়তো! কে শোনে? এরনের চোখ শুধু খানিক আগে নেমে যাওয়া মেয়েটিকে খুঁজছে। ‘গেলো কোথায়, ওদিকেই তো যাচ্ছিলো?’ গুগলের জরিপকারি গাড়িটার মাথায় লাগানো ক্যামেরাটার মত ঢুলুঢুলু চোখ দু’টিকে ১৮০ ডিগ্রী ঘুরিয়ে আনলো। ‘আহ! ব্যস্ত হচ্ছিস কেনো বেকুব! কোথায় আবার যাবে? ঐ সামনের শপিং মলটায় দেখতো...’ আবার নিজের সাথে কথপোকথনে ব্যস্ত হয়ে যায়। বেশিক্ষণ খুঁজতে হয় না, অদূরে সিঁড়ি ভাঙছে যে মেয়েটি – হ্যাঁ, ঐ তো! ঐ ফ্রেইম কী ভোলার মত? সেই রাতের কথা মনে পড়ে যায়। অনেক দিন আগের সেই বিশেষ একটা রাত। মনটা কেমন দ্রব হয়ে যায়!
দোতলা সুইস ট্রেনটি তীরবেগে ছুটে চলছিলো জুরিখের দিকে। বেড়াতে আসা লোকের তাড়া থাকার কথা না। এরনেরও কোনো তাড়া ছিলো না। আয়েশ করেই সব দেখছিলো – নদী, পাহাড়, জনপদ, মানুষ – নারী! একটাই সমস্যা – একাই বেড়িয়েছে। তাই বড় একঘেঁয়ে লাগছে। সবচে’ অবাক লাগলো এই দেশে এত কম মানুষ। দোতলা কামরায় উঠে আরো ভালো উপলব্ধি হলো - সেই একমাত্র প্রাণী! কী আর করা? সবচে’ আরামদায়ক আসনটিতে দু’পা তুলে দিয়ে চোখ বুজে ফেললো। সন্ধ্যা হয়ে আসছে...বাইরে দেখার কিছু নাই। কানে মৃদু স্বরে আইপডটি বিশ্বস্ততার সাথে সুরেলা একটা গান শুনিয়ে যাচ্ছিল। আহ, আর জেগে থাকা যাচ্ছে না। ট্রেন কিংবা বাস যাই হোক, চলতে থাকলে এরন ঘুমিয়ে পড়বেই – এ যেন নিয়তির লিখন। কী একটা ভাবতে ভাবতে এরন তলিয়ে গেলো।
ঘুমটা কি কেটে গেলো? একটা মৃদু মদির সুগন্ধি প্রাণ ঢেলে সুঘ্রাণ বিলোচ্ছে। নাক টানতেই মনে হলো সে যেনো একটা চুলের সমুদ্রে নাক ডুবিয়ে আছে। আশ্চর্য! আরো মনে হলো তার বুকের খুব কাছে আরো একটা স্পন্দন – কোমল, পেলব তুলতুলে একটা সর্বনাশী উত্তাপ! জানা নেই কোন্ ধর্মবলে নিঃসঙ্গ সে রাতে কোনো কিছুই তেমন অদ্ভুত মনে হলো না। চোখজোড়া খুলতে গিয়েও খুল্লো না কিংবা হয়তো পারলো না। রাতের কালো প্রগাঢ় কোনো মাতোয়ারা রঙ্গে রঙ্গীন হয়ে উঠলো।
ধাতস্থ হলে আলতো করে শুধাল, কে তুমি? উত্তরে বিজাতীয় ভাষায় সে যা বলল তার এক বর্ণও সে উদ্ধার করতে পারলো না! এরন হাত বাড়িয়ে আলোটা জ্বালিয়ে দিতে চাইল। কিন্তু মেয়েটা ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজিতে অনুনয় করে বলল বাতিটা যেন সে না জ্বালে। সে বড় একা, দয়া করে এরন যেনো আর ক’টা অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ওকে দান করে? কী বলবে ভেবে পেলো না এরন। হঠাত ফোঁপানোর শব্দে সচকিত হয়ে ওঠে। এরনের কী হয়...সে এবার নিজে থেকেই ওকে আকর্ষণ করে টেনে আনে। ক’টা অমূল্য ক্ষণের বোঝাপড়া কোন এক নাম না জানা সূত্রের স্বর্গীয় পাথরে খোদাই হয়ে যায়। ট্রেনটা হুস করে থেমে গেলো।
অচেনা ভিনদেশি তরুণী লাফিয়ে উঠে ছুটে নামতে থাকলো ট্রেনের নীচতলায়। হতভম্ভ এরন পড়িমড়ি ছুটতে ছুটতে বলল, এই তোমার নামটা তো অন্তত বলে যাও? আর হয়তো কোনোদিনই দেখা হবে না। আমি এরন, এরন ইরেশ।কিন্তু রহস্যময়ি কোনো জবাব না দিয়েই নেমে গেলো। ধীরে ধীরে বন্ধ হতে থাকা স্বয়ংক্রিয় দরজার সামনে দাঁড়িয়ে এরন দেখতে পেলো, অসামান্য রুপবতী স্বর্ণকেশি এক তরুণী মুহূর্তের জন্য হয়তো কী মনে করে ঘুরে দাঁড়ালো। সেই থেকে গাঢ় নীল বিষাদে ভরা গভীর সে চোখ আজন্মের হন্তাকারক হয়ে জেগে রইল এরনের বুকে।
স্মৃতি রোমন্থন শেষ হলে এরন ফিরে আসে বাস্তবে। শপিং মলটায় ঢুকতে ঢুকতে ভাবে, কোনো ভুল হচ্ছে না তো? নিজের সাথে কাটাকুটি খেলতে খেলতে সিদ্ধান্তে পৌঁছে – ভুল হবার কী আছে? কিছু কিছু জিনিস যে চাইলেও ভোলা যায় না! আনমনে হাসতে থাকে – এবার পালাবে কোথায়, হ্যাঁ? তবে, সমস্যা একটাই - মল টা বিশ্রী রকমের বড়। এই সমুদ্রে কোথায় খুঁজবে সেই নীলনয়নাকে?
কিন্তু এরন কে যে খুঁজে পেতেই হবে। যে কোন মূল্যে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now