বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

A relationship

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ⓜⓨⓝⓤⓛ ⓘⓢⓛⓐⓜ ⓡⓐⓕⓘ (০ পয়েন্ট)

X (Last part) হেনা মুখ গম্ভীর করে বলল,"শোন আবির আমি তোমার সাথে প্রেম করতে পারব না"।কথাটা শুনেই আমার মুখ কাল হয়ে গেল।খুব কষ্ট হতে লাগল।জীবনে দুইজনকে ভালবেসেছিলাম দুইজনই আমাকে পছন্দ করছে না।আমি মাথা নিচে করে ফেললাম।হেনা হেসে বলল,"এই মাথা উপরে কর।আমি তোমার সাথে প্রেম করব না বলেছি।বিয়ে করব না তা কিন্তু বলি নি।আমি তোমাকে সরাসরি বিয়ে করতে চাই।তুমি কি রাজি।"?আমি এবার মাথা নেড়ে লজ্জার সাথে হ্যা বললাম।সত্যি আমার সৌভাগ্য হেনাকে পেয়ে।হেনা হেসে বলল,"ওহ!কি লজ্জা!আমি তোমাকে প্রথম দেখতেই ভালবেসে ফেলেছিলাম।আমি ছেলেদের সাথে তেমন কথা বলি না।শুধু মাত্র তোমার সাথে আগ বাড়িয়ে কথা বলেছিলাম।তুমি মেয়েদের সাথে কথা বলতে যে লজ্জা পাও তা আমার খুব ভাল লাগে।আমি তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তোমাকেই বিয়ে করব।আমি বাবা-মাকে অনেক আগেই বলে রেখেছি আমি তোমাকেই বিয়ে করব।বাবা-মাও অনেক আগে থেকে তোমাকে চেনে।তুমি নিজেও জান না আমার বাবা ভার্সিটিতে এসে তোমাকে দেখে গেছে।আমার বাবা-মা ও তোমাকে পছন্দ করেছে।এখন তো তুমিও রাজি।এখন তো তোমার বাবা-মা কেও খবর দিতে হবে।"হেনা একসাথে কথাগুলো বলে গেল।আব্বু-আম্মুর কথা তোলাতে আমার খুব কষ্ট হল।আমার চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গেল।আমি দাতে দাত চেপে বললাম,"আমার কেউ নেই"। হেনা বলল,"আমাকে সত্যি করে বল কি হয়েছে।আমার কাছে কিছু লুকিয়ো না।"আমি আমার জীবনে ঘটা সবকিছু হেনাকে বললাম।হেনা কষ্ট পেয়ে বলল,"তোমার সাথে যা হয়েছে তা খুব খারাপ হয়েছে।তবুও তারা তোমার বাবা-মা।তাহলে তোমার বাবা-মাকে রাজি করানোর পর বিয়ে করব"।আমি বললাম,"এখন যদি বিয়ে না করে যাই তবে বাবা-মা মেনে নিবে না।তারা বলবে আমার বিয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিব তাদের বলার কি।কিন্তু বিয়ে করার পর তুমি গিয়ে বুঝিয়ে বলতে পারবে"।মিরা হেসে বলল,"আচ্ছা,আমি বাবা-মা কে বলব"।আমি হেনার কথা আংকেল আর আন্টিকে বললাম।তারা আমার চেয়ে বেশি এক্সাইটেড।আমার আর হেনার বিয়ে হয়ে গেল।দুই বন্ধু ভিসা না থাকার কারণে আসতে পারল না।আমি তাদের কথা দিলাম হেনাকে বাংলাদেশ নিয়ে গিয়ে তাদের দেখাব।বিয়ে হলো খুব ছোট আয়োজন করে কারণ হেনার বাবা-মা খুব ধার্মিক।হেনা তাদের একমাত্র মেয়ে।হেনার প্রতি তাদের বিশ্বাস আছে তাই খুব সহজে বিয়ে দিয়ে দিল আমাদের।আমরা পড়ালেখা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আলাদা থাকি।আমি যুক্তরাজ্যের সিটিজেনশিপের জন্যও আবেদন করলাম।হেনা এখন একটু একটু বাংলা জানে।দেখতে দেখতে বাংলাদেশে যাবার একটা সুযোগ পেলাম তাও ইউনিভার্সিটি থেকে।আমাদের একটা প্রজেক্ট আছে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নিয়ে।সেখানে গিয়ে কিছু গবেষণা করতে হবে এবং দেশ ঘুরে দেখতে হবে।আর এসব নিয়ে একটা প্রতিবেদন লিখতে হবে।যে যেদেশ থেকে এসেছে তাকে সে দেশের গ্রুপের নেতৃত্ব ভার দেওয়া হচ্ছে।আমি বাংলাদেশে গবেষণার নেতৃত্ব পেলাম।আমাকে ছয়জন বেছে নিতে বলা হল।আমি হেনাসহ ছয়জন আগ্রহীকে আমার দলে নিলাম।তিনজন মেয়ে আর আমরা তিনজন ছেলে।সবাইকে ভিসাও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হল।আজ আমাদের ফ্লাইট।সবাই এয়ারপোর্ট পৌছালাম।হেনা আর আমি একসাথেই গেলাম।আমি আর হেনা পাশাপাশি সিট নিলাম।অন্যরাও জানে আমরা বিবাহিত।বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করল।দুই বন্ধু বিমান বন্দরে আমাদের রিসিভ করার জন্য আসল।আমাকে দেখেই দুই জন আমার দিকে ঝাপিয়ে পড়ল।সবাই অবাক হয়ে আমাদের তিন বন্ধুর খুনশুটি দেখতে লাগল।আমি হেনাকে দেখিয়ে দেওয়ার আগেই তারা দুইজন হেনাকে দেখিয়ে দিয়ে বলল,"এটাই কি আমাদের ভাবি"।হেনা বাংলায় বলল,"আমিই টোমাদের বাবি"?হেনার বাংলা বলার ধরণ দেখে আমরা হাসতে লাগলাম।আমি ছাড়া সবাইকে ফাইভ স্টার হোটেলে তোলে দিলাম।আমি আমার বন্ধুদের সাথেই থাকছি।প্রথমদিন সকলে রেস্ট নিল।পরদিন সন্ধ্যাই আমরা সবাই ঘুরতে বের হলাম অর্থাৎ আমরা তিন বন্ধু,হেনা আর বিদেশি চার বন্ধু।প্রথমদিন বসুন্ধরা সিটিতে গেলাম।আমি আর হেনা একসাথে আর বাকিরা একসাথে ঘুরছে।ওরাই আমাদের একসাথে ঘোরার জন্য বলে আরেকদিকে চলে গেল।এদিক ওদিক ঘুরার সময় একজনের সাথে ধাক্কা খেলাম।আমি সরি বলতে গিয়ে বড় ধরণের ধাক্কা খেলাম।এযে আর কেউ নয় আমার বাবা-মা সাথে বড় চাচাও আছে।হেনা আমাকে বারবার কি হল থেমে গেছি কেন জিজ্ঞেস করে যাচ্ছে।আমি কিচ্ছুক্ষণ তাদের দিকে দেখে থাকলাম।তারাও আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আমি নিজেকে সামলে নিয়ে সরি আংকেল।আমি দেখিনি,বলে চলে আসলাম।তাদের চোখে কিছুটা বিস্ময় ও কষ্ট ছিল।আমি এইসব দেখেও না দেখার মত করে চলে আসলাম।আজ আমরা চলে যাচ্ছি।আমাদের গবেষণা সফল হলো ও আমরা আবার যুক্তরাজ্যে চলে এলাম।বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হল।আজ আমি সফল।আমি যুক্তরাজ্যের সিটিজেনশিপও পেয়ে গেলাম।আমার নিজস্ব অনেক আইটি ফার্ম আছে।আমার আইটি ফার্মের কয়েকটি শাখা বাংলাদেশেও আছে।আমার আইটি ফার্মের সদর দপ্তর যুক্তরাজ্যে।আজ আমি যুক্তরাজ্যের একশ ধনী ও প্রভাবশালীদের একজন।আমার আর হেনার সংসার বেশ চলছে।আমাদের একটা ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম নিয়েছে।আমরা আজ বেশ সুখি। পরিশিষ্টঃ মিরা তার কর্মের ফল পৃথিবীতেই পেয়ে গেছে।তাকে তার প্রেমিক ভালবাসার নামে ধোকা দিয়ে ধর্ষণ করেছে আর তার ভিডিও নেটে ছেড়ে দিয়েছে।সে ধর্ষিত হয়ে অনুতপ্ত হয়ে আমার আব্বু-আম্মু আর বড় চাচাকে বলে দিয়েছে।আমি আজ আব্বু আম্মুকে দেখার জন্য হেনাকে নিয়ে মাঝে মাঝে বাংলাদেশে যাই।তবুও কেন জানি না এখন আর আব্বু-আম্মুর সাথে আগের মত সহজ হতে পারি না।তারা বিষয়টা বুঝে আর তারা খুব অনুতপ্ত।মিরাকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি।কারণ তার জন্যই আমি আজ সফল।তার দেয়া কষ্টের জন্য আমি হেনাকে পেয়েছি।আর তাছাড়া মিরা তার শাস্তি পৃথিবীতেই পেয়ে গেছে।আমার বন্ধু জুবায়েরের নিজস্ব কোম্পানি আছে।সে এখন বিয়ে করেনি কিন্তু কিছুদিন পর তার বিয়ে।আর ফারাবী আমার আইটি ফার্মের বাংলাদেশ শাখাগুলোর সর্বোচ্চ কর্মকর্তা।আমি তাকে আমার বিপদের সময় সাহায্য করার জন্য না বরং তার যোগ্যতার জন্য তাকে চাকরি দিয়েছি।আমার অনুরোধে সে মিরাকে বিয়ে করেছে।তারাও আজ বড় সুখি।কিন্তু মিরা আমার সামনে লজ্জার কারণে আসে না তাই আমি দেশে আসলে ফারাবীর সাথে ওদের ঘরে না গিয়ে বাইরে কোথাও দেখা করি। কিছু কথাঃ এটা গল্প তাই আবির এত সহজে সফল হতে পেরেছে।কিন্তু জীবন এত সহজ না।বাস্তব জীবনে এমন হলে আবিররা সফল হয় না।বরং এইসব থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যার পথ বেচে নেয়।এখন আর ফারাবী ও জুবায়ের এর মত দুখের সময় পাশে থাকে এমন বন্ধু পাওয়া যায় না।কেউ যদি পেয়ে থাকে সে সৌভাগ্যবান।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ A relationship
→ A relationship
→ A relationship
→ A relationship
→ A relationship
→ A relationship
→ A relationship
→ A relationship
→ A relationship

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now