বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রথম গল্প : ‘কাবিলা’ আর ‘হুরমাতুন’-এর বিয়ে
‘ক’ গ্রামের বিয়ে রেকর্ডধারী পুরুষ ‘কাবিলা’ কোন নারীকে বিয়ে করার পর বাসর যাপনের রাতেই স্ত্রী মারা যেত ভোর হওয়ার আগেই। বহুদূরের ‘খ’ গাঁয়ের নারী ‘হুরমাতুন’ও ছিল ভীষণ অপয়া। সোহাগ রাত ভোর হওয়ার আগেই স্বামী বেচারা মরে পড়ে থাকতো বাসর-বিছানাতেই। ‘ক’ ও ‘খ’ গাঁয়ের বর্ণিত নারী ও পুরুষ অনেকবার বিয়ে করেও স্বামী-স্ত্রী নিয়ে ২-দিনও ঘর করতে পারেনি একত্রে। বদনাম কুড়িয়েছে দু’গাঁয়ে প্রচুর। এখন কেউ-ই আর তাদের কাছে বিয়ে বসতে বা করতে চায়না মৃত্যু ভয়ে। দু’জনেই মারাত্মক অসুখি ও কষ্টে যাপন করছে স্ত্রী-স্বামীহীন জীবন। খবর রটলো বাতাসে দূরবর্তী দু’গাঁয়ে। ‘ক’ আর ‘খ’ গাঁয়ের আগ্রহী তরুণ-তরুণিরা প্রতিজ্ঞা করলো ‘কাবিলা’ আর ‘হুরমাতুন’-এর বিয়ে দেবেন তারা। দেখবেন কে মরে আর কে বাঁচে! কোন্ গাঁ হারে আর জয়লাভ করে কোন্ গাঁয়ের নারী বা পুরুষ।
অনেক ঝক্কি ঝামেলার পর সম্পন্ন হলো ‘কাবিলা’ আর ‘হুরমাতুন’-এর বিয়ে। দু’জনকে ঢোকানো হলো বাসর ঘরে। এলাকাবাসী ভোরের আলো ফোটার আগেই সবাই জমায়েত হলো ‘কাবিলা’ আর ‘হুরমাতুন’-এর বাসর-কক্ষের সামনে, কে মরে তা দেখার জন্য। কিন্তু সবাইকে বিস্ময়াভিভূত করে ‘কাবিলা’ আর ‘হুরমাতুন’ বেড়িয়ে এলো রুম থেকে। খবর এলো, মারা গেছে বিয়ের কাজী ও বিয়ে পড়ানোর মৌলভী ঐ রাতেই একত্রে!
দ্বিতীয় গল্প : রেড ইন্ডিয়ানরা যেভাবে আবহাওয়ার খবর জানে
রেড ইন্ডিয়ানদের এক নতুন তরুণ নেতা নির্বাচিত হয়েছে সম্প্রতি। গোত্রের সবাই এলো নেতার পরামর্শ নিতে যে,পরবর্তী শীত কেমন হবে এবং কি রকম কাঠ সংগ্রহ করবে তারা? প্রথমে নতুন তরুণ নেতা কিছু না বুঝেই‘মাঝারি মানের’ শীত পড়বে ও মাঝারি রকমের কাঠ সংগ্রহ করতে বললো। পরবর্তীতে চিন্তা করে দেখলো যে,যদি বেশি শীত পড়ে তবে গোত্রের লোকেরা তাকে আর নেতা নাও মানতে পারে, ভবিষ্যত কথা সত্য না হওয়ার কারণে। তাই সে বুদ্ধি খাটিয়ে সবাইকে ডেকে খুব ‘বেশি শীত পড়বে’ ও বেশি কাঠ সংগ্রহের পরামর্শ দিল।নেতার নির্দেশ বলে গোত্রের সবাই ধুমছে কাঠ কেটে বন উজার করতে লাগল। প্রকৃতপক্ষে নেতা জানেনা যে শীত কত পড়বে বা পড়বে না। তাই সে কনফার্ম হওয়ার জন্য আমেরিকান আবহাওয়া বিভাগে ফোন করে জিজ্ঞেস করলো,
‘আগামী শীতে কেমন ঠান্ডা পড়বে’?
‘প্রচুর ঠান্ডা পড়বে’, দপ্তরের উত্তর-
‘কিভাবে বোঝেন আপনারা ঠান্ডার খবর’? উৎসুক নেতার প্রশ্ন-
‘আরে উজবুক দেখছো না, রেড ইন্ডিয়ানরা কিভাবে কাঠ কাটছে’? প্রচন্ড ঠান্ডা না পড়লে কি তারা এতো কাঠ কাটতো? ওদের কাঠ কাটা দেখেইতো আমরা আবহাওয়ার খবর বলি’! নির্ভিক জবাব আবহাওয়া দপ্তরের!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now
X
কিছু দিন কাজের জন্য মোহাম্মদপুর টু রায়ের বাজার যাতায়াত করতে হয়েছে। রায়ের বাজার টু ধানমণ্ডি, সেখান থেকে মোহাম্মদপুর। এভাবে যাতায়াত করতে জ্যামে পরে অনেক সময় লাগত। একদিন হুট্ করেই আবিষ্কার করি বেড়িবাধ রোড।
এরকম জ্যাম ফ্রি নিরিবিলি পথ পেয়ে ভালোই লাগছিল। যেখানে ঐ রোডে এক ঘন্টা লাগে সেখানে এদিকে মাত্র মিনিট সাতেক।
.
রাত সাড়ে ন’টা।
মোহাম্মদপুর হাউজিং এর পেছন দিয়ে ৫ মিনিট
পায়ে হাঁটার গলি পেরিয়ে বেড়িবাধ রোডে এসে দাঁড়াই। ….কয়েক মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছি মিনিবাস, লেগুনা দূরে থাক একটা রিকশাও চোখে পড়লো না। বোকা বোকা লাগছিল নিজেকে, এইদিক আসাটা ঠিক হয়নি।
ভাবতে ভাবতেই একটা বাস আসলো। দৌঁড়ে উঠে জানালার পাশে একটা সিটও পেয়ে গেলাম। বাসে খুব বেশি যাত্রী নেই। আমার সিটের ওপাশের সিটে সাদা দাড়ির বুড়ো লোক আর উনার পাশেই মোটা করে কাঁচাপাকা মধ্য বয়সী ভদ্রলোক। উনাদের দিকে তাকিয়ে কেমন যেনো মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো।
বুড়ো লোকটা পান খাওয়া লাল দাঁত বের কর হাসছে আর উনার পাশের কাঁচাপাকা লোকটাও মুচকি মুচকি হেসে কি জানি বলছে। ভয় ভয় লাগছিল ; তারপরেও মুখ বাঁকা করে সাহসী ভঙ্গিতে অন্য দিকে তাকিয়ে রইলাম। আড়চোখে তাকাচ্ছিলাম.. উনাদের দিকে।
হঠাৎ খেয়াল করলাম কে যেনো ডাকছে, একজন না কয়েক জন! জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি ছোটো জটলা বেধে গেছে।
সবাই আমাকে দেখছে। তাদের মধ্যে এক জন উঁচু গলায় বলল, কি ভাই আপনে কি পাগল নাকি? এই পোড়া বাসে উইঠা কি করেন?
…মানে ??
তাকিয়ে দেখি আমি সিটের পোড়া স্টিলের উপর বসে আছি আর কেউ নেই। তাড়াতাড়ি নেমে পড়ি।
সব কিছু ঝাপসা ঝাপসা লাগছিল।
ভিড়ের মধ্যে কেউ একজন বলছিলো,
এই বাস হরতালে পোড়ানো হয়েছিল..
আর বাসে থাকা দুজন লোক পুড়ে মারা যায়। যাদের একজন বৃদ্ধ আর অন্য জন ছিল মাঝ বয়সী…!!