বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কুদ্দুস নতুন বিয়ে করেছে। পেশায় সে রেলওয়ে গেটম্যান। বউ বায়না ধরেছে স্বামীর অফিস দেখে তাই কুদ্দুস তার বউকে নিয়ে এসেছে কর্মস্থল দেখাতে।
স্বামীর অফিস দেখে বউ মহা বিরক্ত। এটা কোনো অফিস হলো? ছোট্ট একটা ঘরে কোনো মতে বসার মতো একটা চেয়ার, ছোট্ট একটা টেবিল আর আছে একটা রেললাইন অার বাঁশ দিয়ে বানানো গেট। আরেকজন বসানোর মতো কোনো ব্যবস্থা নেই।
কুদ্দুস তার বউকে শান্তভাবে নিজের চেয়ারে বসালো এবং এক দৌড়ে ঠান্ডা ম্যাঙ্গো জুস এনে তাকে মাথা ঠান্ডা করতে বলো। তারপর বউকে পটানোর জন্য বলতে লাগলো, ‘আমার অফিস ছোট হলে কি হবে, আমার কিন্তু অনেক ক্ষমতা। আমি ইশারা ছাড়া ট্রেন এক পাও এগোয় না। আমি যদি বলি চলতে তবে চলে আর যদি বলি থাম তবে থেমে থাকে’।
কুদ্দুসের কথা শুনে বউ তো বেশ অবাক। সে খুশি হয়ে উঠলো তার স্বামীর ক্ষমতার কথা শুনে।
তার ক্ষমতার প্রমাণ হাতেনাতে দেয়ার জন্য সে কিছুক্ষণ পর তার রেলগেটের দিকে আগত এক ট্রেন থামিয়ে দিল লাল পতাকা দেখিয়ে।
তারপর খুবই গর্ব নিয়ে কুদ্দুস তার বউকে বলল, দেখেছো আমার ক্ষমতা? কত বড় একটা ট্রেন থামিয়ে দিলাম।
বউ এবার মহাখুশি। এদিকে ট্রেন থেকে নেমে এলো ট্রেনের ড্রাইভার। যখন সে শুনলো গেটম্যান অযথা ট্রেন থামানোর সিগন্যাল দিয়েছে। শুনে তার মেজাজ সপ্তমে চড়ে গেলো তাই সে কুদ্দুসের দুই গালে কষে দুইটা চড় মারলেন।
স্বামীকে চড় খেতে দেখে কুদ্দুসের বউ ড্রাইভারকে বলে উঠল, ‘আপনি আমার স্বামীকে মারলেন কেনো’?
ড্রাইভার বললো, ‘ট্রেন থামিয়ে ও নিজের ক্ষমতা দেখাল। আর অযথা ট্রেন থামালে আমি কি করতে পারি সে ক্ষমতা দেখিয়ে দিলাম’।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now
X
১৩ অক্টোবর, ১৯৭২: ওল্ড ক্রিশ্চিয়ান্স রাগবি ক্লাব, উরুগুয়ে
বিমান বাহিনীর বিশেষ বিমানে করে চিলিতে খেলতে যাচ্ছিলেন ওল্ড ক্রিশ্চিয়ান্স রাগবি ক্লাবের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং তাদের সমর্থকরা। ভারী কুয়াশার মধ্যে পথ হারিয়ে আন্দিজ পর্বতমালার আর্জেন্টিনা অংশে ৪১ যাত্রী নিয়ে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি। এরপরই রচিত হয় বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বিখ্যাত বেঁচে থাকার রোহমোর্ষক গল্পের।
ফটোগ্রাফঃ দুর্ঘটনার পর বেঁচে যাওয়া খেলোয়াড়দের ছবি
দুর্ঘটনায় মারা যান ১৪ জন আর কমবেশি আহত অবস্থায় বেঁচে যান ২৭ জন। তবে ২ সপ্তাহ পর বিমানের ভগ্নাংশে ঘুমন্ত অবস্থায় তুষারঝড়ে মারা যান ৮ জন। শেষ পর্যন্ত দলের ২ জন খেলোয়াড় ১০ দিন ধরে তেমন কোন প্রয়োজনীয় উপকরণ ছাড়াই ট্রেকিং করে লোকসমাজে পৌঁছান। পরে সাহায্য পাঠান বাকিদের জন্য।
ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১,০০০ ফুট উচ্চতায় কণকণে শীতের মধ্যেও আটকা পড়ার ৭২ দিন পর উদ্ধার করা হয় ১৬ জনকে। ক্ষুধা মিটিয়েছিলেন তুষার গলানো পানি আর মৃত সহযাত্রীদের শরীরের বিভিন্ন অংশ খেয়ে!
বেঁচে যাওয়ার এই সত্যিকার ঘটনা নিয়ে “Alive: The Story of the Andes Survivors,” নামে বই লেখেন পিয়ার্স পল রীড। পরে ১৯৯৩ সালে এই বই অবলম্বনে নির্মিত হয় ‘Alive’ চলচ্চিত্র। এছাড়া অনেক উপন্যাস এবং চলচ্চিত্রেই নানাভাবে রূপায়ন হয়েছে এই ঘটনা। সেবা প্রকাশনী থেকেও প্রকাশিত হয়েছে সুধাময় কর রচিত 'আন্দেজের বন্দী' নামক বই।