বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এক নাপিত। তার সঙ্গে এক তাঁতীর খুব ভাব। নাপিত লোককে কামাইয়া বেশি পয়সা উপার্যন করিতে পারে না। তাঁতি কাপড় বুনিয়া বেশি লাভ করিতে পারে না। দুই জনেরই খুব টানাটানি। আর টানাটানি বলিয়া কাহারও বউ কাহাকে দেখিতে পারে না। এটা কিনিয়া আন নাই, ওটা কিনয়িা আন নাই বলিয়া বউরা দিনরাই কেবল মিটির মিটির করে। কাতই আর ইহা সহ্য করা যায়।
একদিন তাঁতি যাইয়া নাপিতকে বলিল, ‘বউ এর জ্বালায় আর ত বাড়িতে টিকিতে পারি না’। নাপিত জবাব দিল, ‘ভাইরে ! আমারও সেই কথা। দেখনা আজ পিছার (ঝাড়ু) বাড়ি দিয়া আমার পিঠের ছাল আর রাখে নাই’। তাঁতি জিজ্ঞাসা করে, ‘ আচ্ছা ভাই, ইহার কোন বিহিত কারা যায় না?’। নাপিত বলে, ‘চল ভাই, আমরা দেশ ছাড়িয়া বিদেশে চলিয়া যাই। যেখানে বউরা আমাদের খুজিয়াও পাইবে না; আর জ্বালাতনও করিতে পারিবে না’।
সত্যি সত্যিই একদিন তাহারা দেশ ছাড়িয়া পালাইয়া চলিল। এদেশ ছাড়াইয়া ওদেশ ছাড়াইয়া যাইতে যাইতে তাহারা এক বিজন বন-জঙ্গলের মধ্যে আসিয়া পড়িল। এমন সময় হালুম হালুম করিয়া এক বাঘ আসিয়া তাদের সামনে খাড়া। ভয়ে তাঁতি ত ঠির ঠির করিয়া কাপিতেছে। নাপিত তাড়াতাড়ি তার ঝুলি হইতে একখানা আয়না বাহির করিয়া বাঘের মুখের সামনে ধরিয়া বলিল, ‘এই বাঘটা ত আগেই ধরিয়াছি। তাঁতী ! তুই দড়ি বাহির কর- সমনের বাঘটাকেও বাঁধিয়া ফেলি’।
বাঘ আয়নার মধ্যে তার নিজের ছবি দেখিয়া ভাবিল, ‘এরা না জানি কতবড় পালোয়ান। একটা বাঘকে ধরিয়া রাখিয়াছে। আবার আমাকেও বাঁধিয়া রাখিতে দড়ি বাহির করিতেছে’। এই না ভাবিয়া বাঘ লেজ উঠাইয়া দে চম্পট। তাঁতি তখনো ঠির ঠির করিয়া কাঁপিতেছে। বনের মধ্যে আঁধার করিয়া রাত আসিল। ধারে কাছে কোন ঘর বাড়ি নাই। সেখানে দাঁড়াইয়া থাকিলে বাঘের পেটে যাইতে হবে। সামনে ছিল এক বড় গাছ। দউজনে যুক্তি করিয়া সেই গাঠে উঠিয়া পড়িল।
এদিকে হইয়াছে কি? সেই যে বাঘ ভয় পাইয়া পালাইয়া গিয়াছিল, সে যাইয়া আর বাঘদের বলিল, ‘অমুক গাছের তলায় দুইজন পালোয়ান আসিয়াছে। তাহারা একটা বাঘকে ধরিয়া রাখিয়াছে। আমাকেও বাঁধিতে দড়ি বাহির করিতেছিল। এই অবসরে আমি পালাইয়া আসিয়াছি। তোমরা কেহ ওপথ দিয়া যাইও না’। বাঘদের মধ্যে যে মোড়ল- সেই জাঁদরেল বাঘ বলিল, ‘কিসের পালোয়ান? মানুষ কি বাঘের সাথে পারে? চল সকলে মিলিয়া দেখিয়া আসি’ জঙ্গী বাঘ-সিঙ্গিবাঘ-মামুদ বাঘ- খুতখুতে বাঘ-কুতকুতে বাঘ, সকল বাঘ তর্জন-গর্জণ করিয়া সেই গাছের তলায় আসিয়া পৌছিল। একে ত রাত অন্ধারী, তার উপর বাঘের হুঙ্কার- অন্ধকারে জোড়া জোড়া বাঘের চোখ জ্বলিতেছে। তাই না দেখিয়া তাঁতি ত ভয়ে কাঁপিয়া অস্থির। নাপিত যত বলে- ‘তাঁতী এক সাহসে ভর কর!’ তাঁতী ততই কাপেঁ। তখন নাপিত দড়ি দিয়া তাঁতীকে গাছেল ডালের সঙ্গে বাঁধিয়া রাখিল’। কিন্তু তাহারা গাছের আগডালে আছে বলিয়া বাঘ তাহাদের নাগাল পাইতেছে না।
তখন জাঁদরেল বাঘ আর সব বাঘদের বলিল, ‘দেখ তোরা একজন আমার পিঠে ওঠে-তার পিঠে আরেক জন ওঠ- তার পিঠে আরেক জন ওঠ-এমন কলিয়া উপরে উঠিয়া হাতের থাবা দিয়া এই লোক দু’টোকে নামাইয়া লইয়া আয়’। এই ভাবে একজনের ঠিঠে আর একজন তার পিঠে আর একজন করিয়া যেই উপরের বাঘটি তাঁতিকে ছুতে যাইবে, অমনি ভয়ে ঠির ঠির করিয়া কাঁপিতে কাঁপিতে দড়িসমতে তাঁতী ত মাটিতে পড়িয়া গিয়োছে। উপরের ডাল হইতে নাপিত বলিল- ‘তাঁতী তুই দড়ি দিয়া মাটির উপর হইতে জাঁদরেল বাঘটিকে আগে বাধ, আমি উপরের দিক হইতে একটা একটা করিয়া সবগুলি বাঘকে বাঁধিতেছি’। এই কথা শুনিয়া নিচের বাঘ ভবিল আমাকেই ত আগে বাঁধিতে আসিবে। তখন সে লেজ উঁচাইয়া দে দৌড়- তখন এ বাঘের উপর পড়ে ও বাঘ, সে বাঘের উপর পড়ে আরেক বাঘ। নাপিত উপর হইতে বলে, ‘ জোলা মজবুত করিয়া বাঁধ- মজবুত করিয়া বাঁধ। একটা বাঘও যেন পালাইতে না পারে’। সব বাঘ তখন পালাইয়া সাফ।
বাকি রাত টুকু কোনরকমে পাড় করিয়া পরদিন সকাল হইলে তাঁতী আর নাপিত বন ছাড়াইয়া আর এক রাজার রাজ্যে আসিয়া উপস্থিত হইল। রাজা রাজসভায় বসিয়া আছেন। এমন সময় নাপিত তাঁতীকে সঙ্গে লইয়া রাজার সামনে যাইয়া হজির। ‘মহারাজ প্রণাম হই’। রাজা বলিল, ‘ কি চাও তোমরা?’ নাপিত বলিল’ ‘আমরা দুইজন বীর পালোয়ান। আপনার এখানে চাকুরি চাই’। রাজা বলিলেন, ‘তেমারা কেমন বীর তা পরখ না করিলে ত চাকরি দিতে পারি না? আমার রাজবাড়িতে আছে দশজন কুস্তিগীর, তাহাদের যদি কুস্তিতে হারাইতে পার তবে চাকরি মিলিবে’। নাপিত বলিল, ‘মহারাজের আর্শিবাদে নিশ্চয় তাহাদের হারাইয়া দিব’। তখন রাজা কুস্তি পরখের একটি দিন স্থির কলিয়া দিলেন। নাপিত বলিল, ‘মাহারাজ ! কুস্তি দেখিবার জন্য ত কত লোক আসবে, কত মজা হইবে। মাঠের মধ্যে একখানা ঘর তৈরী করিয়া দেন। যদি বৃষ্টি-বাদল হয়, লোকজন সেখানে যাইয়া আশ্রয় লাইবে’। রাজার আদেশে মাঠের মধ্যে প্রকান্ড খড়ের ঘর তৈরী হইল। রাতে নাপিত চুপি চুপি যাইয়া তাহার ক্ষুর দিয়া ঘরের সমস্ত বাঁধন কাটিয়া দিল। প্রকান্ড খড়ের ঘর কোনরকমে খামের উপর খাড়া হইয়া রহিল।
পরের দিন কুস্তি দেখিতে হাজার হাজার লোক জমা জইয়াছে। রাজা আসিয়াছেন- রানী আসিয়াছেন- মন্ত্রী, কোটাল, পাত্রমিত্র কেহ কোথাও বাদ নাই। মঠের মধ্যখানে রাজাবাড়ির বড় বড় কুস্তিগীরেরা গায়ে মাটি মাখাইয়া লড়াইয়ের সমস্ত কায়দাগুলি ইস্তেমাল করিতেছে। এমন সময় কুস্তিগীরের পোশাক পরিয়া নাপিত আর তাঁতী মাঠের মধ্যখানে উপস্থিত। চারিদিকে লোক তাহাদের দেখিয়া হাততালি দিয়া উঠিল। নাপিত তখন তাঁতীকে সঙ্গে করিয়া লাফাইয়া একবার একদিকে যায় আবার ওদিকে যায়। আর ঘরের এক একখানা চালা ধরিয়া টান দেয়। হুমড়ি খাইয়া ঘর পড়িয়া যায়। সভার সব লোক অবাক। রাজবাড়ির কুস্তিগীরেরা ভাবে ‘হায় হায় না জানি ইহারা কত বড় পালোয়ান। হাতের এক ঝাঁকুনি দিয়া এত বড় আটচালা ঘরখানা ভাঙ্গিয়া ফেলিল। ইহাদের সঙ্গে লড়িতে গেলে ঘরেরই মত উহারা আমাদের হাত-পাগুলো ভাঙ্গিয়া ফেলিবে। চল আমরা পালাইয়া যাই’। তাহারা পালাইয়া গেলে নাপিত তখন মাঠের মধ্যখানে দাঁড়াইয়া বুক ফুলাইয়া রাজাকে বলিল, ‘মহারাজ ! জলদি করিয়া আপনার পালোয়ানদের ডাকুন দেখি ! তাগাদের কার গায়ে কত জোর’। কিন্তু কে কার সঙ্গে কুস্তি করে? তাহারা ত আগেই পালাইয়াছে। রাজা তখন নাপিত আর তাঁতীকে তাঁর রাজ্যের সেনাপতি নিযুক্ত করিলেন। সেনাপতির চাকরি পাইয়া তাঁতী আর নাপিত ত বেশ সুখেই আছে।
এর মধ্যে কোথা হইতে এক বাঘ আসিয়া রাজ্যে মহা উৎপাত লাগাইয়াছে। কাল এর ছাগল লইয়া যায়, পরশু ওর গরু লইয়া যায়, তারপর মানুষও লইয়া যাইতে লাগিল। রাজা তখন নাপিত আর তাঁতীকে বলিল, ‘ তোমরা যদি এই বাঘ মারিতে পার তবে আমার দুই মেয়ের সঙ্গে তোমাদের দুই জনের বিবাহ দিব’। নাপিত বলিল, এর আর এমন কঠিন কাজ কি? অবে আমাকে পাঁচ মন ওজনের একটি বড়শি আর গোটা অস্টেক পাঁঠা দিতে হইবে। রাজার আদেশে পাঁচমন ওজনের একটি লোহার বড়শি তৈরি হইল। নাপিত তখন লোকজনের নিকট হইতে জানিয়া লইল. কোথায় বাঘের উপদ্রব বেশি, আর কোন সময় বাঘ আসে। তারপর নাপিত সেই বড়শির সঙ্গে সাত-আটটা পাঁঠা গাঁথিয়া এক গাছির লোহার শিকলে সেই বড়শি আটকাইয়া এক গাছের সঙ্গে বাঁধিয়া রাখিল। তারপর তাঁতীকে সঙ্গে লইয়া গাছের আগ ডালে উঠিয়া বসিয়া রহিল। অনেক রাতে বাঘ আসিয়া সেই বড়শি সমতে পাঠা গিলিতে লাগিল। গিলিতে গিলিতে গলায় বড়শি আটকাইয়া গিয়া তর্জন-গর্জন করিতে লাগিল। সকাল হইলে লোকজন ডাকাইয়া নাপিত আর তাঁতি লাঠির আঘাতে মাঘটিকে মারিয়া ফেলিল।
এ খবর শুনিয়া রাজা ভারী খুশী। তারপর ঢোল-ডগর বাজাইয়া নাপিত আর তাঁতীর সঙ্গে দুই মেয়ের বিবাহ দিয়া দিল। বিবাহের পরে বউ লইয়া বাসর ঘরে যাইতে হয়। তাঁতী একা বাসর ঘরে যাইতে ভয় পায়। নাপিতকে সঙ্গে যাইতে অনুরোধ করে। নাপিত বলে, ‘বেটা তাঁতী! তোর বাসর ঘর আমি যাইব কেমন করিয়া ? আমাকে ত আমার বউ এর সঙ্গে ভিন্ন বাসর ঘরে যাইতে হইবে। তুই কোন ভয় করিস না। খুব সাহসের সঙ্গে থাকবি’। এই বলিয়া তাহাকে বাসর ঘরের মধ্যে ঠেলিয়া দিল। বাসর ঘরে যাইয়া তাঁতী এদিক চায়-ওদিক চায়। আহা হা কত ঝাড়-কত লণ্ঠন ঝিকিমিকি জ্বলিতেছে। আর বিছানা ভরিয়া কত রঙ্গের ফুল। তাঁতী কোথায় বসিবে তাহাই ঠিক করিতে পারে না। তখন অতি শরমে পাপোশখানার উপর কুচিমুচি হইয়া বসিয়া তাঁতী ঘামিতে লাগিল। কিছুক্ষণ পরে পানের বাটা লইয়া, পায়ে সোনার নুপুর ঝুমুর ঝুমুর বাজাইয়া পঞ্চসখী সঙ্গে করিয়া রাজকন্যা আসিয়া উপস্থিত। তাঁতী তখন ভয়ে জড়সড় । সে মনে করিল, হিন্দুদের কোন দেবতা যেন তাহাকে কাটিতে অসিয়াছে। সে তখন তাড়াতাড়ি উঠিয়া রাজকন্যার পায়ে পড়িয়া বলিল, ‘মা ঠাকরুন ! আমার কোন অপরাধ নাই। সকলই নাপিত বেটার কারসাজি’। রাজকন্যা সকলই বুঝিতে পারিল। কথা রাজার কানেও গেল। রাজা তখন তাঁতী আর নাপিতকে তাড়াইয়া দিলেন। নাপিত রাগিয়া বলে, ‘বোকা তাঁতী। তোর বোকামীর জন্য অমন চাকুরিটাত গেলই- সেই সঙ্গে রাজকন্যাও গেল। তাঁতী নাপিতকে জড়াই ধরিয়া বলিল, ‘তা গেল ! চল ভাই , দেশে যাইয়া বউদের লাথি গুতা খাই। সেত গা সওয়া হইয়া গিয়াছে। এমন সন্দেহ আর ভয়ের মধ্যে থাকার চাইতে সেই ভাল’।
মূলঃ বাঙ্গালীর হাসির গল্প-পল্লীকবি জসীমউদ্দীন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now
X
ভ্রমণ পিপাসুরা বিরত থাকুন সেইসব ভূতুড়ে স্টেশন থেকে যেখানে সত্যিই রয়েছে অদৃশ্য ছায়ামূর্তির আনাগোনা।
শুনশান নির্জন রাত। অফিসের কাজ শেষ করতে দেরী
হয়ে গেল আপনার। সন্ধ্যার ট্রেনটি অল্পের জন্য মিস
হয়ে গেল। কি আর করার। যে করেই হোক শেষ ট্রেনটি
ধরার জন্য ছুটলেন স্টেশনের দিকে। আজকের রাতের
শেষ ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছতে এখনও বেশ কিছুটা
সময় রয়েছে। শেষ ট্রেনের অপেক্ষায় আপনি
প্লাটফর্মে একা। ইতস্তত:ভাবে কিছু লোক এদিক
সেদিক ঘুরোঘুরি করলেও নির্জনতা বেশ স্পষ্ট।
চারদিকের যেন এক অদ্ভুত নির্জনতা। হয়তো অনুভব
করছেন অদৃশ্য কিছু ছায়ামূর্তির । আপনার মনে ফিরে
এল সাম্প্রতিক কিছু খবর। গত হপ্তার পত্রিকার
পাতায় স্টেশনে এক মহিলার আত্মহত্যার কথা
পড়েছিলেন বোধ হয়। এই স্টেশনেরই কি? না বোধহয়।
এই স্টেশন নিয়ে বিপিন বাবু কি একটা কথা
বলছিলেন যেন সেদিন । কোন এক সাদা শাড়ি পড়া
বিধবা মহিলার কান্না জড়িত কন্ঠে ভিক্ষা চাওয়ার
কথা। ভিক্ষা দিতে গেলে যে অদৃশ্য হয়ে যায়।
আজকেই এই বাজে গল্প মনে পড়তে হলো আপনার।
হঠাৎ মনে হতে থাকলো দূরে কোন কান্নার শব্দ।
আপনার যৌক্তিক মন আর কাজ করছে না। সেখানে
গ্রাস করছে ভয়। ভয়ে অস্থির হয়ে উঠলেন। কখন আসবে
ট্রেন! যারা ট্রেনে ভ্রমণ করেন এবং মাঝে মধ্যে
শেষ লোকালের জন্য প্লাটফর্মে অপেক্ষা করেন
তারা এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতেই পারেন।
কিন্তু জানেন কি পৃথিবীতে এমন অনেক রেল স্টেশন
আছে যেখানে যাত্রীরা প্রায় সময় নানা অদ্ভুত সব
ভুতূড়ে উপদ্রবের সম্মুখীন হন। আসুন আজ বিশ্বের ১০
অদ্ভূত ভুতূড়ে স্টেশনের গল্প শুনবো, যেখানে কর্মরত
নিরাপত্তারক্ষী হতে শুরু করে যাত্রীর অভিযোগ
এখানে সত্যিই ভূত আছে।
১। ওয়াটারফ্রন্ট স্টেশন, কানাডা
কানাডার ভেনক্যুবেরে অবস্থিত ওয়াটারফ্রন্ট
রেলস্টেশন তৈরি হয় ১৯১৫ সালে। তখন থেকেই এটি
ভুতুড়ে স্টেশন নামে সকলের কাছে খুবই পরিচিত এক
নাম। রাতে এই স্টেশনে নানা অদ্ভূতুড়ে কান্ড
কারখানা হয় বলে স্টেশনের বহু নিরাপত্তারক্ষীর
অভিযোগ। তারা দাবী করেন যেসব
নিরাপত্তারক্ষীরা রাত্রে ডিউটি করেন তারা
মাঝে মধ্যেই ভূত দেখতে পান। এক নিরাপত্তাকর্মীর
ভাষ্যমতে, ‘ সেদিন রাতে প্রতিদিনের মতো ডিউটি
দিচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখতে পায় ১৯২০ সালের সময়কার
ড্রেস পরিহিত এক সুন্দর নারী সেময়ের এক জনপ্রিয়
গানের সুরে নাচছে। যেই কাছে গেলাম অন্ধকারে
মিলিয়ে গেল। এরকম নানা অদ্ভুত সব ঘটনা নাকি এই
স্টেশনে প্রতিনিয়ত ঘটে, কোন না কোন
নিরাপত্তাকর্মী যার সাক্ষী।
২। বি সান এমটিআর স্টেশন, সিঙ্গাপুর
সিঙ্গাপুরের বেশ কয়েকটি এমটিআর (মাস র্যাপিড
ট্রান্সপোর্ট) স্টেশনে ভুতের অস্তিত্ব রয়েছে বলে
অনেকের অভিমত। এর মধ্যে বি সান এমটিআর স্টেশন
অধিক পরিচিত। তেঙ্গ সিমেট্রির উপর তেরি করা হয়
এই স্টেশনটি। চালু হয় ১৯৮৭ সালে। এরপর শুরু হয় একের
পর এক ভুতের ট্রেলার। কখনো যাত্রীর দিকে এগিয়ে
আসে অদৃশ্য হাত। আবার কখনো মুন্ডহীন যাত্রীকে
দেখতে পাওয়া যায় মেট্রোর ভিতর। যাত্রীরা প্রায়
অনভব করেন কোন আবছায়া মুর্তির সারা প্লাটফর্ম
জুড়ে ছুটে বেড়ানো। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ভুতুড়ে ঘটনা
দেখতে পান রেললাইন রক্ষনাবেক্ষণের এক কর্মী।
তিনি দেখেন কবরখানা থেকেউঠে আসা এক শবদেহ
চলন্ত ট্রেনের পাশ দিয়ে দৌড়ে ছুটে যাচ্ছে।
৩। কাওবাও রোড সাবওয়ে স্টেশন, চিন
চিনের সাঙঘায়ে অবস্থিত কাওবাও মেট্রো
স্টেশনের নাম কি শুনেছেন। বিশ্বের সবচেয়ে ভূতুড়ে
স্টেশন হিসেবে এর বেশ নামডাক রয়েছে। এই
স্টেশনের ১ নম্বর লাইনটিতে ঘটে অদৃশ্য সব ভয়ার্ত
ঘটনা। হঠাৎই ট্রেনের কোন ব্রেকে সমস্যা দেখা
দেয়। এই মেট্রো স্টেশনেই নাকি বিশ্বের সবচেয়ে
ভয়ার্ত মেট্রো স্টেশন৷ এই মেট্রো স্টেশনে এলেই
ট্রেনের ব্রেকে সমস্যা দেখা যায়৷ রাতের দিতে
যাত্রীরা অদৃশ্য কোনও ব্যক্তির উপস্থিতি অনুভব
করতে থাকেন। এই যেমন কোন লাল পোশাক পরিহিত
বালিকাকে স্টেশনের প্লাটফর্মে বসে থাকতে
দেখা যায়। শোনা যায় বালিকাটি ঐ জায়গায়
আত্মহত্যা করে। এছাড়া অন্ধকার প্লাটফর্মে
মহিলার তীব্র চিৎকার শোনা যায়। কয়েকদিন আগে
বালকাটিপারেন৷ এমনকী প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা
যাত্রীদের ধাক্কা মেরে রেললাইনে ফেলে দেয়ার
মত ভূতুড়ে ঘটনাও ঘটেছে এই স্টেশনে যার ফলে মৃত্যু
হয়েছে অনেকের৷
৪। বেগুনকোদোর স্টেশন, পুরুলিয়া
পুরুলিয়ায় শহরে অবস্থিত বেগুনকোদোর একটি ছোট
গ্রাম। কোলকাতা থেকে যার দূরত্ব ১৬১ মাইল। আজ
থেকে ৫০ বছর আগের একটি ঘটনার কারনে এই
স্টেশনটি পরিত্যক্ত হয়েছিল। কি ঘটেছিল সেসময়?
১৯৬৭ সালে এই স্টেশনেরই এক কর্মী সাদা শাড়ি
পরিহিত এক মহিলার ভুত স্টেশনের প্লাটফরমে হেঁটে
যেতে দেখেন এবং এর কিছু সময় পর মৃত্যু হয় ঐ কর্মীর।
তারপর থেকেই এই স্টেশনে রেল থামতে দেখা যায়
না এবং স্টেশনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
২০০৯ সালে এই স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হয়। কিন্তু
রেল কর্তৃপক্ষ জানায় রেল লাইনটি সরু যার কারনে
বর্তমান দ্রুত রেল চলাচল করতে পারবে না। এছাড়াও
রেলকর্মীদের এই স্টেশনে কাজ করার অনীহা ।
মানুষজন এখনও পারতপক্ষে ওই স্টেশনের দিকে যায়
না।
৫। প্যান্টেওনেস মেট্রো স্টেশন, মেক্সিকো
প্যান্টেওনেস মেক্সিকোর সবচেয়ে কুখ্যাত মেট্রো
স্টেশনের একটি। এই স্টেশন ঘিরে তৈরি হয়েছে
নানা ভুতূড়ে গল্প। স্টেশনের পুরনো নথি হতে জানা
যায়, মেট্রো স্টেশন হওয়ার আগে ওই এলাকায় দুটি
সমাধিক্ষেত্র ছিল৷ এই মেট্রো স্টেশনের ২ নম্বর
ট্র্যাক নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত আছে। প্রতি রাতে
স্টেশন চত্বরে শোনা যায় চিৎকার ৷ মাঝ মধ্যে
টানেলে ছায়ামূর্তিও দেখতে পাওয়া যায় বলে কথিত
রয়েছে ৷ দেয়ালে কান পাতলে শানা যায় অশরীরির
পায়ে হেঁটে চলার শব্দ। আর ওই টানেলের অন্ধকার
কোনায় বেশিক্ষণ না তাকানোই ভাল।
চোঁখ না রাখায় কোনটার দিকে বেশিক্ষণ না
তাকানোই ভাল।
এছাড়াও স্টেশনেও কোনও অন্ধকার কোনায় ভূত
দাঁড়িয়ে থাকতেই পারে৷
মেক্সিকোর এই মেট্রো স্টেশনের ২ নম্বর ট্র্যাক
নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত আছে। স্টেশনের টানেলে
প্রায়ই শোনা যায় আর্তনাদ। আর ছায়ামূর্তির
ঘোরাফেরা তো আছেই। দেওয়াল থেকে শোনা যায়
পায়ে হেঁটে চলার শব্দ। আর ওই টানেলের অন্ধকার
কোনটার দিকে বেশিক্ষণ না তাকানোই ভাল। ২০০৯
সালে স্টেশনটিকে নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করা
হয়। যেখানে রেল প্রকৌশলীরা ভিন্ন ভিন্ন গলার
ভয়ার্ত আর্তনাদ শুনতে পান।
৬। গ্লেন ইডেন রেলওয়ে স্টেশন, নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডের পশ্চিম অকল্যান্ডের গ্লেন ইডেন
রেল স্টেশনটির সাথেও একটি কবরখানার সম্পর্ক
রয়েছে। ওয়েকুমিতি নামক কবরখানায় মৃতদেহ এবং
তাদের পরিবারের লোকজনকে আনা নেওয়ার করার
কাজে স্টেশনটি তৈরি করা হয়। ২০০১ স্টেশনটির
পুনর্নির্মান করা হয়। সেখানেই তৈরি করা হয় একটি
ক্যাফেটেরিয়া । এই ক্যাফেটেরিয়াতে একজনের ভুত
প্রায় সময় ঘুড়ে বেড়ায় । শোনা যায় অ্যালেক
ম্যাকফারলেন নামক ঐ ব্যক্তি ছিলেন এখানকার
রেল কর্মী। ১৯২৪ সালের এক দুর্ঘটনায় তিনি মারা
যান। এছাড়াও ঐ স্টেশনে যাতায়াতকারী অনেক
যাত্রীই নাকি ভূত দেখেছেন বলে দাবি করেন৷
৭। ইউনিয়ন স্টেশন, ফোনেক্স, আমেরিকা
ফোনেক্স ইউনিয়ন স্টেশনটি যুক্তরাষ্ট্রের
অ্যারিজোনা রাজ্যে অবস্থিত। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত
শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন ছিল। কাছাকাছি
একটি বিমান বন্দর তৈরি হওয়ার পর থেকেই এর গুরত্ব
কমতে থাকে এবং ১৯৯৫ সালে স্টেশনটি পুরোপুরি
বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানে এটি বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠানের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অফিসের
কর্মীরাই এই স্টেশনে ভুতের উপস্থিতি অনুভব করে।
তাদের দাবী এই রেলওয়ে স্টেশনে এক রেল কর্মীর
অতৃপ্ত আত্মা ঘুরে বেড়ায় ৷ সকলে তাকে ফ্রেড নামে
ডাকতো। স্টেশনের অফিসে তাকে মাঝে মধ্যে
দেখা যায়৷ স্টেশনে তার জন্য নির্দিষ্ট একটি ঘরও
রয়েছে বলে কথিত আছে। সে নাকি ঐ ঘরে এখনও
থাকে এবং সেই ঘরে অন্য কর্মীরা ঢোকার সাহস
করেন না। তাকে মাঝেমধ্যে স্টেশনও দৌঁড়ে
বেড়াতে দেখা যায়৷
৮। রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশন, কলকাতা
কলকাতার স্টেশনে ভুতূড়ে উপদ্রব, ভাবা যায়!
কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনটিতে ভুতের
অস্তিত্ব আছে বলে অনেকের মত। তবে ভুত সবসময়
দেখা দেয় না। সে অপেক্ষা করতে থাকে রাতেরশেষ
ট্রেনটির জন্য। রাতের শেষ মেট্রোতে মেট্রোর
চালক ও যাত্রীরা প্রায়ই স্টেশনে কোন এক অদৃশ্য
ছায়ামূর্তিকে রেল লাইনের উপর দিয়ে চলে যাওয়ার
দৃশ্য দেখতে পান।
৯। কনোলি স্টেশন, আয়ারল্যান্ড
আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরে অবস্থিত দেশের
অন্যতম এবং দীর্ঘতম রেল স্টেশনের নাম কনোলি
স্টেশন । ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় এই
এলাকায় বেশ বোমা বিস্ফোরন হয়। এই বিস্ফোরনে
প্রচুর মানুষ মারা যান। তখন থেকেই এই এলাকাটি
ভুতূড়ে স্টেশন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। যদ্ধে
মারা যাওয়া মৃত মানুষের আত্মাদের নাকি এই
স্টেশনে ঘুরে বেড়াতে দেখেছেন বলে
নিরাপত্তারক্ষীসহ অনেক যাত্রীরই অভিমত।
১০। ম্যাককোয়ারি ফিল্ডস ট্রেন স্টেশন, অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার সিডনীর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নিউ
সাউথ ওয়েলস শহরের এই স্টেশনটি বেশ শান্ত ও
নিরিবিলি। কোনো উটকো ঝুট ঝামেলা নেই বললেই
চলে। তবে মাঝ রাত্রিরে শুরু হয় অদ্ভূত সব ভুতূড়ে
ঘটনা। এই সময় এক নাবালিকার ভুতকে স্টেশনে হেঁটে
বেড়াতে দেখা যায় ৷ ওই নাবালিকার শরীর রক্তে
ভেসে যাচ্ছে৷ রক্তমাখা কাটা হাত নিয়ে
প্লাটফর্মে তাকে ঘুরতে দেখা যায় । সে ক্রমাগত
কাঁদতে থাকে এবং সেই কান্নার চিৎকার ধীরে
ধীরে বাড়তে থাকে ৷ মাঝে মাঝে তাকে রেল
লাইনের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়।
পোস্টটি ভাল লাগলে লাইক কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করে বন্ধুদেরকে জানার সুযোগ দিন।
????????অশুভ আত্মা