বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুপুর ১২.৩০
হঠাৎ আম্মু
এসে বললেন,
দেখতো দরজায় কে নক
করছেন। অনেক্ষণ
ধরে নক হচ্ছে।
লুকিং গ্লাস এ দেখলাম
একজন বৃদ্ধ। কি চায়
দেখতো।
আমার মা সাধারণত
কোনো পর পুরুষের
সামনে যান্না। কারন
উনি পর্দার
ব্যাপারে অনেক
বেশি কড়া। তাই
আমাকেই বললেন
ব্যাপারটা।
আমি ঘুম ঘুম
চোখে দরজা খুলে দেখি,
এক বৃদ্ধ, বয়স ৭০
বছরের বেশি হবে।
একটা হাত নাই।
ওনাকে বললাম কি চান
উনি।
উনি বললেন, অনেক
কস্টে উপরে উইঠা আসছি বাবা।
অনেক
খিদা লাগসে বাবা। এত
টুকু বলেই
উনি থামলেন।
আমি বললাম, একটু
দাঁড়ান।
ভিতরে যেয়ে আম্মু
কে জিজ্ঞাসা করলাম,
ভাত আছে কিনা।
উনি খুদার্ত। আম্মু
বললো ভাত তো চুলায়
মাত্র দিলাম।
ওনাকে বল কিছুক্ষণ
বসতে।
আমি বললাম,
চাচা আপনি কিছুক্ষণ
বসতে পারবেন? ভাত
মাত্র চুলায় দিয়েছেত
তাই।
উনি কিছু
না বলে বসে পরেন
ওখানেই।
ওনাকে ভিতরে আসতে বললাম।
উনি বললেন না বাবা,
আমি এখানেই বসি।
ভাবলাম ওনার
সাথে কিছুক্ষণ
কথা বলা যাক।
ওনাকে বললাম,
চাচা আপনার
কে কে আছেন?
উনি বললেন কেও নাই
বাবা। সব মইরা গেসে।
আমি বললাম বুঝলাম
না? মারা গেছে মানে?
উনি বললেন, বিরাট
ইতিহাস বাবা।
আমি বললাম
সংখেপে বলেন?
উনি কিছুক্ষণ চুপ
থেকে বললেন, ৭১ এর
যুদ্ধে সব
মইরা গেসে বাবা।
আমি আছিলাম যুদ্ধে,
যুদ্ধে থাকা অবস্থায়
শুনি আমার
২টা পলা ২টা মাইয়া ওদের
মা সহ
আগুনে পুইড়া মইরা গেসে।
ওরা ঘর থেকে বাইর
হইতে পারেনাই।
আমি কোনো জবাব
খুজে পেলাম না। বলার
ভাষা নেই আমার।
একটু পর উনি আবার
বললেন। এই দেশ এর
জন্য
আমি কি করিনাই?
আমার বউ, পোলা,
মাঁইয়া সবাইরে হারাইছি।
আমার হাতের এই
কনুই টা তে বুলেটের
আঘাতে ঝুইলা যায়,
পরে কাইটা ফালায়া দেয়।
এই কাটা পঙ্গু হাত
নিয়াও বেন্ডিজ
থাকা অবস্থায় যুদ্ধ
করসি।
কিন্তু তার বদলে এই
দেশ
আমারে কি দিসে জানেন?
ভিক্ষার থালা।
কোনো আর্থিক
সহায়তা পাইনাই।
কোনো ভাতা পাইনি।
সরকার
কোনো খোজি নেইনাই।
ভাতা পাইতাছে তারাই,
যারা যুদ্ধ করেনাই।
আমি পঙ্গু
বইলা আমারে কেও
কামেও নেই নাই। অথচ
এই দেশের লাইগাই
হাত টা হারাইসি।
তারপর একটা সময়
লাজ
লজ্জা ভুইলা ভিক্ষার
থালা নিয়া পথে নামছি বাবা।
কি করমু বাবা?
খুদা তো কিছুই
মান্তাসেনা।
আমি যে বাবা একজন
মুক্তি যোদ্ধা আছিলাম,
এই কথা টা আমি আর
কেওরে কখনই কমুনা।
আমি বলার
মতো কোনো ভাষা খুজে পেলাম
না। ওনার
দিকে তাকিয়ে দেখলাম,
এই কথাটা বলার পর
উনি অঝর ধারায়
কাঁদছেন। তার চোখের
সেই পানিতে তার
সাদা দাঁড়ি ভিজে যাচ্ছে।
আম্মু আমাকে ডাক
দিলেন। ওনাকে খাবার
দেয়ার জন্য,
উনি খাবারটা খেয়ে দোয়া করে সালাম
দিয়ে চলে গেলেন।
আমি তখনো ওনাকে বলার
মতো কোনো ভাষা খুজে পাচ্ছিলাম
না।
এখন জাতির বিবেক
এর কাছে আমার
প্রশ্ন, কি দোষ
করেছেন এই পঙ্গু
মুক্তি যোদ্ধা? কেন
আজ তাকে রাস্তায়
ভিক্ষার
থালা নিয়ে ভিক্ষা করতে হচ্ছে?
কেনো উনাকে আজ
বলতে হচ্ছে যে উনি একজন
মুক্তি যোদ্ধা ছিলেন
তা আর কেওকেই
বলবেন্না।
কেন???
উনি দেশের জন্য,
আপনার , আমার, সবার
জন্য যুদ্ধ করেছেন,
এটাইকি তার বড়ও
দোষ?
আশে পাশে হয়ত
খেয়াল করলে এরকম
হাজারও
মুক্তি যোদ্ধা দেখবেন,
যাদের মধ্যে কেও
রিকশা, ভেন গাড়ি,
ঠেলা গাড়ি চালিয়ে,
কেও
ভিক্ষা করে জীবন
যুদ্ধে টিকে আছেন।
কিন্তু কেনো?
জানি, জাতির বিবেক
এর কাছে এই কেনর
কোনো উত্তর
পাওয়া যাবেনা। কিন্তু
এই জাতি কি জানে? ঐ
মুক্তি যোদ্ধার মতও
হাজারও
মুক্তি যোদ্ধার চোখের
জলের এক এক
টা ফোটা এক একটা বড়
অভিশাপ? আমার
তো মনে হচ্ছে, ওদের
অভিশাপেই
জাতি আজ পঙ্গু।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now