বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
আমার জীবনের প্রথম প্রেমপত্র পাওয়া আবার নিজে সেই প্রেম পত্র চুরি করার গল্প.................
X
আমি তখন ক্লাস সিক্স কি সেভেনে পরি।
আমরা নতুন এক যায়গায় জমি কিনে বাড়ি করছি।
এলাকা নতুন তেমন পরিচিত কেউ ছিল না।
সবাই অপরিচিত মুখ।
প্রতিদিন স্কুল,আর বাসা আর প্রাইভেট স্যার এই নিয়ে দিন কাটছিল।
এলাকার একটা মেয়ে আমার থেকে বয়সে অনেক বড় ছিল আমাদের বাসায় আসত,আম্মুর কাছে।
আসলে আমি আপু বলে ডাকতাম।
মাঝে মাঝে কথা হত।
সেই আপুটার বাসার কাছের একটা মেয়ে আমায় লাইক করত আমি জানতাম কিন্তু কোন দিন কথা হয়নি।
দেখতে দেখতে ঈদ চলে আসল।
সেই সময় ঈদ কাের্ডর খুব প্রচলন ছিল।
এসএমএস বা ফেসবুকে তেমন শুভেচ্ছা জানালেও বাসার কাছা কাছি যারা পরিচিত সবাই ঈদ কার্ড এ শুভেচ্ছা জানাত।
তো একদিন আমি বিকাল বেলা বাসায় ঘুম আম্মু ইফতারি বানাচ্ছিল।
রান্না ঘরে থাকার কারনে এদিকে খেয়াল ছিল না।
সেই আপু আমার রুমে এসে আমায় ডাকল আমি ঘুম ছিলাম তাই উঠতে চাইনি।
আপু কয়বার রুমে ঘুরাঘুরি করে একটু পর এসে আমার খাটের এক সাইডে তোসোক উঠিয়ে কি রেখে গেল আর বলল যাবার সময় তুই একলা দেখিস আর আমারে কালকে উত্তর জানাবি।
আমি উত্তর এর কথা শুনে একটু ভাবলাম কি জিনিষ?
আপু যাবার পর দেখলাম একটা ঈদ কার্ড । আমি তখনি ভয় পাইছি কারন ভাবলাম আপু আমায় লুকিয়ে দিল কেন।
ভয়ে ভয়ে নিয়ে আবার রেখে দিলাম।
ভাবলাম কেউ দেখার আগে এর কিছু করতে হবে।
কিন্তু কই নিয়ে দেখব,বা ফেলে দিব।
ভাবলাম ওয়াসরুমে নিয়ে দেখি।
যেই চিন্তা সেই কাজ,দরজা লক করলাম।
ঈদ কাড খুলে দেখলাম ভিতরে একটা কাগজ আছে হয়ত..........
কাগজ খুলে দেখি সুন্দর হাতের লেখায় চেষ্টা করা একটা প্রেম পত্র।
হাতের লেখা গুলি পরতে অনেক কষ্ট হচ্ছিল,কিন্তু চিঠিটা পরে বুঝলাম এইটা আপুর সেই পাসের বাসার মেয়ে লিখছে।
আর চিঠির শুরুতে আমার নাম শেষে তার নাম।
কেউ পাইলে আমার ১২টা যে বাজত আমি বুজচ্ছি।
এখন ঈদ কার্ড টা ছিরে কুটি কুটি করে ফেলে দিয়ে পানি দিয়ে ফুল ফ্রেস,কিন্তু জীবনের প্রথম প্রেম পত্র পাইলাম বন্ধু মহলে না দেখাইলে হয়। তাই পকেটে রেখে দিলাম।
সন্ধ্যা প্রায় হবে তার আগে আগে হাল্কা মেঘ করে আসছে আমি বাইরে গিয়ে বাদাম কিনে নিয়ে আসলাম আর আমাদের নতুন বাড়ির সিরিতে বসে বাদাম খাচ্ছি।
আকাশ প্রায় সন্ধ্যা এর দিকে মেঘ করে আসছিল। আমি জিন্স এর পকেট থেকে বাদাম বের করে খাচ্ছিলাম আর ওই পকেটে ছিল চিঠিটা।
কোন সময় চিঠিটা বাদাম বের করতে গিয়ে বের হয়ে নিচে পরে ছিল আমি দেখি নাই।
বাতাস হচ্ছিল তাই কাগজ টা উরে পুকুর পারে পরে ছিল।
আমার আবার একটা পিচ্চি মামাতো ভাই ছিল ও ওইখানে আসল ও চিঠিটা পেয়ে হাতে নিছে।
এর মধ্যে আমার বড় ভাই চলে আসে পুকুর পাড়ে।
মামাতো ভাই এর কাছে চিঠিটা দেখে নিল। যখন জানতে চাইল মামাত ভাই এর কাছে তোর হাতে ওই কাগজ কিসের আমি তখন তাকিয়ে দেখি চিঠি বড় ভাই হাতে নিয়ে ফেলছে।
আসলে বড়দের অভ্যাস আছে তো চিঠি দেখেই বুঝে ফেলছে হয়ত।
আমি নিজের পকেট খুজে চিঠি না পেয়ে,বড় ভাই আমাকে কিছু জানতে চাওয়ার আগে রুমে গিয়ে জানালা দিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছিলাম কি করে।
ভাইয়া দেখলাম চোখ লাল করে রুমের দিকে আসছিল। আমি সাথে সাথে অন্য রুমে চলে যাই।
পরে ভাবি এখন কি হবে। বাসায় সবাইকে বলে দিলে।
ভাইয়াকে তার রুমে যেতে দেখছি।
এখন চিন্তা নিজের প্রেম পত্র নিজে চুরি করব। ভাইয়া কখন রুম থেকে বের হয় দেখতে লাগলাম।
একটু পর খেয়াল করলাম ভাইয়া বাইরে বের হল আম্মু ডাকতে ছিল তাই।
আমি চুপি চুপি ভাইয়ার রুমে গিয়ে সব বই এর ভিতর,টেবিলের ড্রয়ার এর ভিতর খুঁজতে লাগলাম কিন্তু কোথায় ও নাই।
শেষে ভাইয়ার মানিব্যাগ এ খুঁজে পেলাম।
চিঠি নিয়েই বাইরে আমি আর আমার খালাত ভাই দৌড়, একবারে আমাদের এলাকার ব্রিজের উপর.............
পরে চিঠিটা আর একবার পরে ছিড়ে নদীতে ফেলে দিলাম।
এর পর কেমন জানি খুশি খুশি লাগছিল।
জীবনে প্রেম পত্র পাইলে যে এত কষ্ট আগে বুজিনাই।
এর পর বাসার দিকে গিয়ে শুনতে পেলাম ভাইয়ার মানিব্যাগ থেকে নাকি কি হারাইছে।
কিন্তু ভাইয়া ভাল এখনো বলে নাই আমার প্রেম পত্রের কথা আম্মুর কাছে।
পরে আম্মু আরো ভাইয়া কে রাগ করছে কিন্তু আমি তো জানি কি হারাইছে।
এই আমার জীবনের প্রথম প্রেমপত্র পাওয়া আর নিজেই সেই প্রেম পত্র চুরি করা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now