বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুজন পার্কের একটি ব্রেঞ্চে পাশাপাশি বসে আছে । ছেলেটি বাদামের কাগজটি খুলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে আর মেয়েটি একটা কিছু বলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে । অতঃপর....
ছেলে- বাদাম খাবে ?
মেয়ে- না ।
(আর কিছু না বলে ছেলেটি বাদাম খাওয়া শুরু করে দিল)
মেয়ে- একটা কথা বলার ছিল ।
ছেলে- বলে ফেলো ।
মেয়ে- কালকে একটি ছেলে আমাকে প্রপোজ করেছে । (সিরিয়াস মুডে)
ছেলে- তো । (স্বাভাবিক মুডে)
মেয়ে- তো কি ?
ছেলে- তুমি কিছু বলেছো ? (বাদাম চিবোতে চিবোতে)
মেয়ে- নাহ্, আমি কিছুই বলি নি ।
ছেলে- ভালো ।
মেয়ে- এখন কি করা উচিত ?
(ছেলেটি কিছু না বলে আবার বাদাম চিবোতে মন দিয়েছে)
মেয়ে- কি হলো, কিছু একটা বলো । (ভীষণ সিরিয়াস হয়ে)
ছেলে- আমি আবার কি বলবো ? (বেখেয়ালিভাবে)
মেয়ে- কীভাবে বিষয়টা মেনেজ করা যায়, সাহায্য করো । নয়ত এটা আমাদের রিলেশনের জন্যও সমস্যা আনতে পারে ।
ছেলে- আমিতো এ ক্ষেত্রে তোমাকে কোনো সাহায্য করতে পারব না ।
মেয়ে- কেনো ? (আশ্চর্য হয়ে)
ছেলে- কিন্তু অন্যভাবে সাহায্য করতে পারব ।
মেয়ে- সেটা আবার কীভাবে ?
ছেলে- আমি উঠে গিয়ে ।
মেয়ে- উঠে গিয়ে মানে !
ছেলে- রিলেশন থেকে উঠে গিয়ে ।
(কথাটা শুনে মেয়েটি অনেকটা হতবম্ভ হয়ে গেলো । সে এই কথাটা হয়তো এসময় আশা করে নি)
মেয়ে- এটা বলার কারণ ?
ছেলে- তুমিও হয়তো এটাই চাও ।
মেয়ে- আজব, আমি কেন এটা চাইতে যাবো । আমিতো তোমাকেই ভালোবাসি ।
ছেলে- নাহ্, একসময় সত্যিই পুরপুরি ভালোবাসতে কিন্তু এখন পুরপুরি না । আসলে তুমি এখন দোটানায় ভুগতেছ ।
মেয়ে- কেনো তোমার এমন মনে হচ্ছে ? একজন শুধু হঠাৎ করে আমাকে প্রপোজ করেছে, এর থেকে তো আর বেশি কিছু হয়নি । আমি শুধু ভাবতেছি এই বিষয়টি মেনেজ কীভাবে করব, বাছ্ এটুকুই ।(রাগান্নিত হয়ে)
ছেলে- এই বিষয়টা যদি সত্যিই হঠাৎ করে হয়ে থাকত, তবে আসলেই বেশি কিছু হতো না । তুমি নিশ্চয়ই বাসা থেকে বের হওয়ার সময় গলায় কোনো সাইনবোর্ড লাগিয়ে বের হওনা যাতে লেখা থাকে তোমার কোনো বয়ফেন্ড আছে বা তুমি কোনো রিলেশনের মধ্যে আছো । তাই এমন দুই একটি ঘটনা ঘটতেই পারে । আর এমন ঘটনা কীভাবে মেনেজ করতে হয় তা নিশ্চয়ই তোমার মত মেচোওর কাউকে অন্য কারো কাছ থেকে শিখে নেওয়ার প্রয়োজন হবে বলে আমি মনে করি না । এটা একটি সাধারণ ব্যাপার । আর এই ব্যাপারটি যদি তোমার কাছেও সাধারণ হতো তাহলে তুমি এখানে বসে আমার সাথে বিষয়টি নিয়ে হাঁসি-ঠাট্টা ও মজা করে উড়িয়ে দিতে এমন সিরিয়াস মোড নিয়ে কথাগুলো বলতে না । তার মানে বোঝাই যায় ব্যাপারটা হঠাৎ না । তাহলে এটাও পরিষ্কার হয়ে যায় তুমি তাকে বেশকিছুদিন হতেই জানো । (কথাটা শোনার পর মেয়েটি চমকে উঠে)
ছেলে- প্রথমে হয়তো তুমি তাকে কোনো গুরুত্ব দাও নি তবে বোঝেই হোক আর না বোঝেই হোক তুমি তাকে ছোট ছোট সুযোগ দিয়ে গিয়েছো, যার উপর ভর করে সে এতদূর আসতে পেরেছে । যার পেক্ষিতে আজ এই পরিণতি । এটাও তেমন কোনো বড় বিষয় না । বড় বিষয়টা হচ্ছে তুমি নিজেও নিজেকে সুযোগ দিয়ে ফেলেছ তার কাছে যাওয়ার জন্য । হয়তো নিজের অজান্তেই তবে দিয়ে ফেলেছ । যদি আমি অথবা আমাদের রিলেশনটা তোমার মনে অত্যন্ত গভীর হয়ে থাকতো তাহলে অনেক আগে তুমি নিজেই এই পরিণতিটি হওয়া থেকে আটকিয়ে ফেলতে পারতে । (মেয়েটির চোখ ছল ছল করছে)
ছেলে- কিন্তু তুমি তা পারো নি, যার জন্যে এখন দোটানায় আছো । আমি তোমাকে এই সমস্যা সমাধানের জন্য এই এক ভাবেই সাহায্য করতে পারি । আর তা হলো আমি নিজে সরে গিয়ে । তুমি আবার এটা ভেবো না যে, আমি কোনো দয়াবান চরিত্রের অধিকারী বা ব্যাপারটা আমার ইগোতে লেগেছে বলে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছি । হ্যাঁ, আমার ইগোতে লেগেছে কিন্তু অন্যভাবে । সেটা হলো, আমি আমার প্রাধান্য তোমার কাছে ধরে রাখতে পারি নি । যদি সত্যিই আমার প্রাধান্য তোমার কাছে বেশি থাকতো তাহলে এতোকিছুর পরও সে যখন তোমাকে প্রপোজ করল সাথে সাথে তোমার উত্তর হতো "না" বা এরকম কিছু । কিন্তু তুমি কিছুই বলোনি তার মানে তুমি নিজেকে তার জন্য ভাবার সময় দিতে চাও । যার ফলে সহজেই বোঝা যায় এসময় তোমার কাছে আমার থেকে তার প্রাধান্যই বেশি । আর যার প্রাধান্য বেশি থাকে তাকেই গ্রহণ করা উচিত বলে আমি মনে করি । (ছেলেটি কথা শেষ করে কাগজে থাকা শেষ বাদামটি মেয়েটির দিকে বাড়িয়ে দিল, মেয়েটির চোখ দিয়ে ইতিমধ্যে পানি পড়া শুরু হয়ে গিয়েছে)
মেয়ে- কোনোভাবেই কী আর তোমাকে ধরে রাখতে পারব না ? (পুরপুরি কান্নাজড়িত কণ্ঠে)
ছেলে- আমার এই ব্রেঞ্চে বসা থেকে উঠে দাঁড়াতে দুই থেকে তিন সেকেন্ড সময় লাগবে । এই কথাটি আমি এ জন্যই বললাম কারণ এখন যদি আমি তোমার পাশ থেকে উঠে যাই তাহলে আমি আর কখনোই চাবো না যে এভাবে আমরা দুজন আবার একসাথে বসি । তাই তোমার কাছে এই দুই থেকে তিন সেকেন্ড সময় আছে আমাকে আটকানোর জন্য । কিন্তু তা সম্ভব হয়ে উঠবে না, কারণ অন্ততপক্ষে আমার হাতটা শক্ত করে ধরে আমাকে আটকানোর জন্য এর থেকে বেশি সময়ের প্রয়োজন । (বাদামের কাগজটি মুচরিয়ে একটি বলের মতো করে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দেয় ছেলেটি আর মেয়েটি অনবরত কেঁদেই যাচ্ছে)
ছেলেটি শেষবার মেয়েটির দিকে হাঁসিমুখে তাকিয়ে বলল....
ছেলে- তাহলে এবার উঠি ।
লেখক:- Asibul Haque Nitol.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now