বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমেরিকার চিঠি - ১
(বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে অন্যমাত্রায় নিয়ে যাওয়ার পিছনে যিনি নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন তিনি হলেন Tourism consultant এবং Travel Maniac শ্রদ্ধেয় বড় ভাই মাহমুদ হাসান খান। সম্প্রতি তিনি আমেরিকায় আছেন ২৬ দিনের সফরে। আমরা তার ভ্রমণ কাহিনী নিয়মিত প্রকাশ করবো। ভ্রমণপিয়াসী হলে এবং ভ্রমণ কাহিনী পড়তে চাইলে এই পোস্ট আপনার জন্য। উল্লেখ্য, প্রতিটি পর্বের ছবি নিচে দেয়া আছে।)
হ্যাল্লো, দুবাই
দুবাই নিয়ে আমার সবচে যে স্মৃতিটা মনে পরে সেটা হলো ছোটবেলায় দেখা সম্ববত আমজাদ হোসেন এর ফরিদ আলি টিভি সিরিজের কাজের ছেলের দেয়া সেই ডায়লগটা- টাকা দ্যান, দুবাই যামু। এরপর বড় হয়ে জেনেছি দুবাই স্বর্ণের শহর। আমাদের দেশে যেমন জামা কাপড়ের শপিংমল হয়, দুবাইতে হয় স্বর্ণের। আর সেভেন স্টার হোটেল আর আকাশচুম্বী ভবনেরতো কথাই নেই।
তো এসে গেছি সেই দুবাই। কিন্তু হায়! আমার জাত ভাইদের কিছু কর্মকান্ডের কারনে ভেতরে ঢুকার অনুমতি নেই। ৯ ঘন্টার ট্রানজিট, পুরাটাই এয়ারপোর্ট এ কাটাতে হবে। এমিরেট্স হোটেলও দিবেনা। বলে- বেজ ফেয়ার ১০০০ ডলারের নীচে হলে হোটেল দেয়া হয়না। তাই এয়ারপোর্ট এ ঘুরে ঘুরেই সময় কাটাতে হবে। ট্রানজিট আরো কম নিতে পারতাম। কিন্তু ভাবলাম এত বড় এত নামকরা একটা এয়ারপোর্ট একটু রসিয়ে দেখে নেই। আর সে কারনেই ৯ ঘন্টার এ ট্রানজিট।
মাত্রতো নামলাম, ফন্দি ফিকির বের করে ফেলবো সময় কাটাবার। এখানে তো সবই পয়সার খেলা, মসজিদ এ নিশ্চয়ই পয়সা নেবেনা। ওই জায়গায় গিয়ে ঘন্টাদুয়েক কাটাতে হবে। উইন্ডো শপিং ২ ঘন্টা, রেস্টুরেন্টগুলোতে ঢু মেরে ২ ঘন্টা আর পড়েছিলাম ৫ ডলারের নাকি সুইমিংপুল ইউজ করা যায়। সে টায় ঘন্টাখানেক। কত ইচ্ছে ছিলো দুবাই ২-৩ টা দিন থাকবে, জর্জ ভাই এর বাসায় থাকার আমন্ত্রন পেয়েছিলাম কিন্তু হলনা।
আপাতত এয়ারপোর্ট এর দিকে নজড় দেই। বিশাল এয়ারপোর্ট। বিশাল মানে বিশাল। এতক্ষনে প্রায় কাজিপাড়া থেকে ১০ নম্বর হাটা হয়ে গেছে, এখোনো সামনে আরো আছে। এটা ৩ নম্বর টার্মিনাল, এমন নাকি আরো আছে। মানষজন এর ভীড় নেই, কিছু জায়গায়তো মানুষই নেই।
সবার অাগে শিকাগো যাবার গেট নম্বরটা জানা দরকার। কারো কাছে জিজ্ঞেস করার কিছু নেই। মেশিন অাছে, বোর্ডিং পাস স্ক্যান করলেই বলে দেয় কত নম্বর গেট। প্রায় ১ কিমি: এর মত পথ ঘুরে উপরে অাসতেই অাক্কেল গুরুম। এয়ারপোর্ট এর মধ্যেই বিশাল একটা মার্কেট বানাইছে। কি নাই সেখানে। নানা মানের, মানা দামের বিলাশ সামগ্রী। এবার ফ্রি খাবারে ব্যবস্থাটা করা দরকার। ৪ ঘন্টার বেশী ট্রানজিট হলেই এমিরেটস থেকে ফ্রি মিল কুপন দেয়। ৮/১০ টা সিলেক্টেড রেষ্টুরেন্ট এ গিয়ে খেতে হয়। তবে এটা কোথাও লেখা নেই।
যাই খাবারটা নিয়ে নেই। তাছাড়া, ফ্রি ওয়াই ফাই এর মেয়াদ মাত্র ১ ঘন্টা। শেষ হয়ে এল বলে। এরপরই টাকা দিয়ে কিনতে হবে।
ফ্লাইট নং- ইকে ২৩৫ :
এমিরেটস এর যে ফ্লাইটতে দুবাই থেকে শিকাগো এসেছি তার নম্বর এটা। পুরো ১৫ ঘন্টার একটানা ফ্লাইট। এক জায়গায় বসে থাকা যে কি ক্লান্তিকর হতে পারে সেটা বুঝে ফেলি প্রথম ৫ ঘন্টাতেই বুঝে যাই। এরপর পাশের কয়েকজন সমবয়সী ইন্ডিয়ানকে নিয়ে অাড্ডার অাসর বসাই প্যান্ট্রির পাশের খোলা যায়গাটায়। প্লেন দু চারবার ওয়েদার টারবুলেন্স এ পরলে এয়ার হোষ্টেসরা ঠেলে পাঠায় সিট এ। দুলুনি শান্ত হলে অাবার সেই জায়গাটায়। ভারত বাংলাদেশ নিয়ে নানান গল্প করি খাবারও খাই সেই অাড্ডাখানায় দাড়িয়ে।
অার খাবারের কথা কি বলবো। মোট তিনটি খাবার পর্ব ছিলো। নাস্তায় দেয় অালু মেথির একটা কারি, চপ, পরাটা, ওমলেট অার গাজরের হালুয়া। সাথে জ্যুস ও কফি। দুপুরে মাটন, রাইস, ভেজিটআল, নানান ফলমুল অার সালাদ। সাথে জ্যুস অার কফি। বিকেলে ছিলো পিজা অার জ্যুস। একটু পরপর ছিল জ্যুস বা পানির অফার।
এসব খাবার অার অাড্ডাবাজির কারনে বিকেলে শিকাগো ফ্লাইট পৌছার পর খারাপ লাগছিল এটিকে ছেড়ে অাসতে।
অাবার দেখা হবে কোনদিন ইকে ২৩৫!
শিকাগোর চিঠি-১ :
শিকাগোর ওহারা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এ এমিরেটস এর বোয়িং এর দরজা দিয়ে বের হতেই হিমেল হাওয়ায় শরীর কেপে উঠলো। ঢাকায় বসে জানতে চেয়েছিলাম ঠান্ডা কেমন? ওরা বলেছিল- না, চাচা ঠান্ডা নেই। সামার চলে অাসছে। ওদের ঠান্ডা নেই মানেই অামার হাচ্চো। অাজকের টেম্পারেচার ৯ ডিগ্রি, অামাদের দেশের চরম শীত। গরম কাপড় অানিনি, ভোগাবে মনে হয়।
ইমিগ্রেশানের লম্বা লাইনে দাড়ালাম। অামেরিকান ইমিগ্রেশন এর নানা ভীতিকর গল্প শুনেছি, বিশেষ করে ৯/১১ এর পর। অার অামার নামের শেষে অাছে 'খান'। তাই নানান অপমানকর প্রশ্নের জন্য প্রস্তুুত হলাম। তবে তেমন কিছুই হলনা। খান বলে একবার তাকালো। অামি হেসে বলি অামি গুড খান। ইমিগ্রেশন অফিসার ভিসার পাতাটা একটা মেশিন এ ধরে, হাতের ছাপ নিয়ে ছ মাস থাকার সিল মেরে দিল।
সন্ধ্যা প্রায় হয়ে এসেছে। ভাতিজা অাকাশ নিতে এসেছে স্বপরিবারে। অামরা শহরতলী স্কুকির পথ ধরলাম। শিকাগোবাসিরা সারাদিন ব্যস্ত শহরে শশব্যস্ত সময় কাটায় কিন্তু রাতের বেলায় শহরতলীর নিরব নিভৃত বাড়িতে থাকতে পছন্দ করে। ওরা বলে সাবার্ব। অাকাশদের বাসাও এমনি এক সুন্দর ছিমছাম এলাকায়। ছবিতে অনেকবার দেখেছি। প্রসস্থ রাস্তা ধরে ছুটে চলেছি অনেকটা অস্বস্থি নিয়ে। কারন গাড়ি চলছে রাস্তার বা দিক দিয়ে যাতে মোটেও অভ্যস্ত নই অামরা।
শিকাগো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শহর গুলোর মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম শহর। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত শহরটি অফিসিয়ালি প্রতিষ্ঠিত হয় ৪ মার্চ ১৮৩৭ সালে। শিকাগোর অন্য নাম Windy city বা বাতাসের শহর। শিকাগো শহরটি সৌম্য অার অাভিজত্যে মিশেল একটি শহর। এখানে অনেক সুউচ্চ ভবন কিন্তু কনক্রিটের জঞ্জাল বলা যাবেনা মোটেও। শিল্প সাহিত্যে অনন্য এক শহর। এখানেই অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বের সবচে' বড় ফ্রি জ্যাজ সম্মেলন। সেটাও জুন মাসে। সময় পেলে এটেন্ড করা যাবে।
মিনিট তিরিশেক লাগলো পৌছাতে বাসায়। হাতমুখ ধুয়েই খাবার টেবিলে চলে এলাম। পুরো বাঙালি খাবার। শোল মাছ, গরুর মাংশ, লাল শাক অার অাম ডাল। নাহ, লেখা পরে হবে। অাগে খেয়ে নেই।
শিকাগোর চিঠি-২ :
অাগেই বলেছি অামেরিকার অন্য অনেক শহরের মত শিকাগোর বাসিন্দারাও থাকার জন্য নিরিবিলি কোন এলাকা বেছে নেয় যেগুলোকে সাবার্ব বলে। যারা হৈ হুল্লোর এভয়েড করে নীরবে নিভৃতে থাকতে চায় তাদের জন্য এ সাবার্ব। এসব জায়গার বাড়িগুলো হয় অালাদা, সামনে পেছনে জায়গা থাকে। এছাড়া এসব এলাকায় স্কুলগুলোর গ্রেডিংও ভাল থাকে ডাউনটাউন এর স্কুলগুলো থেকে। এসব কারনে সাবার্ব এ বাড়ির দাম বা ভাড়া ডাউনটাউন বা মুল শহর থেকে একটু বেশী হয়।
অামি যে এলাকায় উঠেছি সেটার নাম স্কুকি ভিলেজ। ভারতের মৌলনং নাকি পৃথিবীর সবচে পরিচ্ছন্ন গ্রাম। তো সেটা যদি ১০ এ ৬ পায়, স্কুকি পাবে ১০ এ ১০। এতটাই পরিচ্ছন্ন চারদিকটা। ময়লা অাবর্জনা বাইরে ফেলার জো নেই, ক্যামেরা দেয়া অাছে চারদিকে জরিমানা করে দেবে। বাইরে কোন গাছ কাটা বা নষ্ট করলেও একই অবস্থা। এমনকি নিজের বাসায় কোন কনষ্ট্রাকশন কাজ করতে হলেও কতৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। তারা এসে দেখে যদি অনুমতি দেয় তবেই কাজ করা যাবে।
কাল গিয়েছিলাম ওয়ালমার্ট এ। বিশাল সুপার ষ্টোর। বাড়ির নিত্যব্যবহার্য সব জিনিষ পাওয়া যায়। অামার নজড় অন্য দিকে। অামি সোজা চলে এলাম গার্মেন্টস অাইটেম সেকশন এ। যা খুজছি, এক নজরেই চোখে পড়ল। Made in Bangladesh লেখা অনেকগুলা জামাকাপড় দেখলাম। একটা জামা কদিন অাগে অামার ছোট বাবুটার জন্য কিনেছি বসুন্ধরা থেকে। দাম নিয়েছিল ৬০০ টাকা। এখানে সেটার দাম ৮ ডলার মানে ৬৪০ টাকা।
অন্যন্য জিনিষের দামও বেশ কম। তবে দেশে বসে এদের অনেক সুনাম শুনেছি কিন্তু এখানে শুনলাম ওয়ালমার্ট থেকে কিছু কাপড় কিননে দুবার ধোয়ার পর নাকি নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য অামার ভাতিজারা ওয়ালমার্ট থেকে কাপড় চোপড় কেনেনা।
অাজ সকালে ঘুম ভাঙ্গে ৭ টার সময়। মুখ ধুয়ে হাটতে বের হয়ে যাই। এত ভোরপও ব্যস্ত রাস্তাঘাট। এত গাড়ি কিন্তু শো শো শব্দ ছাড়া হর্ন এর কোন শব্দ নেই। শিকাগো নামার পর থেকে গাড়ির হর্ন শুনিনি। এরা অকারনে হর্ন বাজায় না। রাস্তা পার হবো, দেখলাম রাস্তার পাশে একটা সুইচ দেয়া অাছে। ওটায় চাপ দিলাম। একটু পরই গাড়ি থেমে গেলো অার অামাকে রাস্তা পার হবার সবুজ অালোর সংকেত দিল। রাস্তা পার হতেই হাতের ডান এ পেলাম ন্যাচারাল পার্ক। বিশাল এলাকা জুড়ে অনেক বড় বড় গাছপালা। মানুষজন নেই। একটু ঘুরে ফিরে এলাম বাসায়। নাসতায় বানানো হল পরাটা, সবজি, ডিমভাজি অার নানা ফলমুল।
দুপুরে খাবার পর হালকা ঘুম দিলাম। এরপর উঠে চামেলি অার ওদের মেয়ে পৃথাকে নিয়ে চলে গেলাম চামেলির ভাই এর বাসায়। ওদের ৩ ভাইই শিকাগো থাকে। মেজ ভাই মানে অানিস চাচার বউও কাল এয়ারপোর্ট গিয়েছিল অামাকে অানতে। তখন থেকেই চাচায় বাসায় যাবার জন্য বলে অাসছে ফোন এ।
বাসা শিকাগোর ডেভোন এলাকায়। জায়গাটায় ইন্ডিয়ানদের রাজত্ব। দোকান পাঠ এ ইনডিয়ান জিনিষ ভর্তি। মালিকও ইন্ডিয়ান। দু তিনটা বাংলাদেশি মালিকানার দোকানও দেখলাম। সেখানে নানান বাংলাদেশী জিনিষ পাওয়া যায়। একটা পটেটো ক্রাকারস এর দাম ৯৯ সেন্ট বা প্রায় ৮০ টাকা। যাবার পথে লেক মিশিগান এ একটা ঢু মেরে গেলাম। বিশাল নীল জলের হ্রদ।
কাল যাবো শিকাগো ডাউন টাউন এ ইনশা অাল্লাহ।
সারমেয় সমাচার :
অামেরিকানদের কুকুর প্রীতি জানতাম, তবে এতটা জানতাম না। অাজ ডাউন টাউনে থেকে ফেরার পথে লেক মিশিগান এর এক জায়গায় থামি। অার সেখানেই দেখা পাই 'ডগ বীচ' এর। বীচ এর বেশ বড় একটা অংশ ঘেরাও দিয়ে কুকুরদের জন্য অালাদা বীচ করে দেয়া হয়েছে। অামেরিকানরা সেখানে নিজেদের কুকুর নিয়ে এসে খেলাধুলা করছে, গোছল করাচ্ছে, ট্রেনিং দিচ্ছে।
এরপর গেলাম সুপারমল Menards এ। সেখানে বিশাল একটি অংশ জুড়ে অাছে কুকুরের খাবার, খেলনা, ঘর, প্রসাধন সামগ্রী এসব। এমনকি 'কুকুরকে সুখী করার ৮৫ উপায়' জাতীয় বই। '
মানুষের সুখের খবর নাই, কুত্তার সুখ!
শিকাগোর চিঠি- ৩
অাজ অামেরিকায় অাসার তিন দিন হল। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম অালোর ওয়েব পেজটা খুলতেই বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, মংলায় ৪ নম্বর বিপদ সংকেত। ঢাকা থাকলে একটু পরপর নিউজ দেখতাম, ঝড়ের সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য। এখানে সারাদিন থাকি বাইরে, তাই সে সুযোগ কম। কাল রাত থেকেই দেশের জন্য পেট পুরা শুরু হয়েছে, খবরটা দেখার পর অারো খারাপ লাগছে। ইচ্ছে করছে ফিরে অাসি ঢাকা। অামেরিকা অাসার শখ ছিলো, এসে গেছি। এবার ফিরে যাই।
হাত মুখ ধুয়ে ডাইনিং টেবিলে বসলাম। পাশের বাড়িটাও এক বাংলাদেশী ভদ্রলোকের, খিলগাও মাটির মসজিদ এর কাছে বাসা। সেই ওপি ১ অামলের ভিসা পাবার পরে অাসা। এখন গুছিয়ে নিয়েছেন এখানে। ডুপ্লেক্স বাড়ি কিনেছেন সাবার্ব এ। শ্বাশুরিও থাকেন সাথে। শ্বাশুরী ভদ্রমহিলা বাগানে ঘুরে ঘুরে পানি দিচ্ছেন।
নাস্তা রেডি হয়ে গেছে। পরাটা, অালু-বেগুন ভাজি, ডাল এবং চা। নাস্তা করে রেডি হয়ে তিনজন বের হয়ে গেলাম। I-94 হাইওয়ে ধরে এগুতে থাকলাম ডাউন টাউনের দিকে। মিনি বিশেক যাবার পরেই শিকাগোর বিখ্যাত স্কাই লাইনের দেখা মিললো।
এই সেই বিখ্যাত শিকাগো ডাউনটাউন। অসংখ্য গগনচুম্বী ভবনের শহর। শুধু উচ্চতা নয় শিকাগোর ভবনগুলো স্থাপত্য সৌন্দর্যও অসাধারন। প্রতিটি বিল্ডং এর ডিজাইন এ কিছু না কিছু ইউনিক বৈশিষ্ট অাছে। এ শহরেই অাছে বাংলাদেশী স্থপতি এফ অার খান এর ডিজাইন করা উইলিস টাওয়ার যা অাগে সিয়ার্স টাওয়ার নামে পরিচিত ছিল। ১৪৫১ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ১০৮ তলা ভবনটি ১৯৭৩ সালে তৈরী হয়। তখন থেকে পরবর্তী ২৫ বছর পর্যন্ত এটি ছিল পৃথিবীর সবচে উচু ভবন। প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রতি বছর এ ভবনটি পরিদর্শন করে। তবে অামরা উঠলাম না। অারেকদিন যাবো বলে। ভুট্টার মত দুটি বিল্ডিং দেখলাম। এ দুটো বিল্ডিং এর নীচে কতগুলো ফ্লোর গাড়ি পার্কিং এর জন্য বানানো।
শিকাগো শহরটিতে জৌলুস অাছে কিন্তু তার প্রকাশ সুরুচির সাথে ঘটানো হয়েছে। শহর দিয়ে বয়ে গেছে লেক মিশিগান এর শাখা। পার্কিং এর অভাবে অামরা গাড়ি থেকেই শিকাগোর সৌন্দর্য দেখতে লাগলাম। অারেকদিন ট্রেনে এসে সব হেটে হেটে দেখবো।
এরপর বের হয়ে গেলাম লেক মিশিগান এ। লেক মিশিগান উত্তর অামেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম লেক। ৩০৭ মাইল লম্বা লেকটির পানি সবুজ। অসাধরন সুন্দর এ লেকটি শিকাগোর সৌন্দর্য বহুগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। অামরা একটি বীচ এ নেমে দেখি সেটি ডগ বীচ মানে কুকুরদের সৈকত। এখানে অামেরিকানরা কুকুর নিয়ে অাসে। কুকর নিয়ে খেলাধুলা করে, কুকুরকে গোছল করায়, ট্রেনিং দেয়।
অামরা ডগ বীচ পার হয়ে পাশের বীচ এ গেলাম। দুরে অসংখ্য ছোট ছোট বোট বাধা। এগুলো প্রাইভেট বোট। শিকাগো বাসিরা এসব বোট এ লেক মিশিগান এ ভ্রমণ করে থাকে। অাবারো গাড়িতে উঠলাম। একটু সামনে যেতেই দেখলাম বিশাল এক কম্পাউন্ড এ কিছু গাড়ি রাখা। লেখা দেখলাম পোর্শে। তার মানে বিশ্ববিখ্যাত পোর্শে গাড়ির সেলস সেন্টার এটি। ঠিক পাশেই মার্সিডিস বেঞ্জ এর শোরুম। মহামুল্যবান এসব গাড়িগুলো বাইরে রোদ বৃষ্টিতে রেখে দেয়া হয়েছে।
দুপুর হয়ে এসেছে। কিছু খাওয়া দরজার। চলে এলাম ম্যাগডোনালল্ডস এ। তিনজন তিনটা ফিস বার্গার অার কফি নিয়ে বসলাম। সত্যি বলতে
কি ফিস বার্গারটায় মজা পাইনি মোটেও। তবু ম্যাগডোনাল্ডস বলে কথা। চোখ বন্ধ করে খেয়ে নিলাম।
চলবে.........
- Mahmud Hasan Khan
Chief Executive Officer | Trip to Bangladesh
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now