বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সেই চোখ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X সেই চোখ --- আসাদুজ্জামান (আসাদ) সবুজ নামের ছেলেটি খুব ভদ্র কোনদিন কোন মেয়ের দিকে তাকানোর সাহষ পায়নি। বাবামায়ের অতি আদরের ছেলে। কোন দিন ও কারো সঙ্গে খারাপ ব্যাবহার করেনি আর মারাপিট তো দুরের কথা কারো সাথে দু কথায় হয়নি। ছেলেটি আর দশটা ছেলের থেকে আলাদা । কারন সে সর্বদা একা ঘুরতে ভালোবাসত। তার একটা ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল রাসেল সে একটা মেয়েকে খুব ভালোবাসত। রাসেলের কাছথেকে ও তার ভালোবাসার মানুষের প্রসংসা শুনতে শুনতে সবুজের একদিন ভালোবাসার ইচ্ছে জাগে। সবুজ মাঝে মাঝেই ঘুমের মাঝে একটা মেয়ের অপরুপ দুই চোখ দেখতে পেত। কিন্তু মেয়েটিকে সে দেখতে পেত না। একদিন সকালে সে প্রাইভেট পড়তে গেল। কিছুকক্ষন পরে একটা মেয়ে এসে তার সামনে বসল। মেয়েটিকে সবুজ আগে থেকেই চিনত কিন্তু মেয়েটির চোখ যে তার স্বপ্নের মেয়েটির সঙ্গে পুরো মিল আছে সে আজ জানতে পারল। কেন যেম মনে হচ্ছে সবুজ মেয়েটির দিকে তাকালে তার বুকের মাঝে একটা ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এমন তো কোনদিন ও হয়নি সবুজ তো কোন মেয়ের দিকে তাকাতেই পারত না তাহলে আজ কি হচ্ছে। সবুজ বাসায় চলে আসে। ঐ দিন রাতে সে স্বপ্নের মেয়েটিকে পুরোপুরি দেখতে পেল। আসলে যে মেয়েটির চোখ সে স্বপ্নে দেখত সেই প্রাইভেটে পড়া মেয়েটিই ছিল এটি। পরের দিন সবুজ আগে ভাগেই প্রাইভেটে চলে গেল কিছুক্ষন পরে মেয়েটি আসল। মেয়েটির নাম আসলে সাথী ।সবুজ এক নজরে সাথীর দিকে তাকিয়ে আছে। সাথীও কিন্তু মাঝে মাঝে তার দিকে তাকাতছে। এভাবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেল দুজনের ই বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল। পরীক্ষা সব শেষ সবুজ আগে ভাগেই প্রাইভেট শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু সাথী দুই মাস যাবত্‍ প্রাইভেটে আসে না। সবুজ চিন্তা করল যে মেয়েটির অসুখ করল না তো ? তাই পরেরদিন সবুজ তার বন্ধুকে নিয়ে মেয়েটির বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দিল সে কিন্তু মেয়েটির বাড়ি চিনত না। সবুজ অনেক ঘুরে ঘুরে মেয়েটির বাড়ি কিছুতেই পেল না । কিছুদিন পরে মেয়েটি আবার প্রাইভেট পড়তে আসল। এবার মেয়েটিকে অনেক সুন্দর দেখাতছে এরকম সুন্দর রুপ সবুজ আগে কখনোও সাথীর মধ্যে দেখেনি। মনের অজান্তে সে সাথীকে কখনযে ভালোবেসে ফেলেছে তা নিজেও জানেনা। সেই রাতে সবুজ একটা ছবি আঁকল যা একে বারে সাথীর মতো হল। এবং মেয়েটিকে নিয়ে ডাইরির পাতাতে প্রতিদিন সে অনেক কিছু লিখেছে। কিছুদিন পর সবুজ মনে করল যে সাথীকে তার মনের কথা খুলে বলবে। তাই সে রাস্তায় গিয়ে সাথীর জন্য অপেক্ষা করতে লাগল একটু পড়েই সাথী আসল। সবুজ গিয়ে ভয়ে ভয়ে নরম গলায় সাথীকে সব খুলে বলল এবং ভাবার জন্য একদিন সময় ও দিল। সাথী যাবার সময় মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে চলে গেল। সবুজ বাসায় এসে সাথীর সে মিষ্টি হাসির কথা ভাবতে ভাবতে রাতে আর ঘুমাতেই পারল না। পরের দিন সবুজ মেয়েটির সে উত্তর পাবার আশায় আবার রাস্তায় গেল। কিন্তু আজ সাথীর মুকে কোন হাসি সে দেখতে পেলনা । সবুজ জানতে চাইল তার মনের কথা সাথী বলল যে সে কোনদিন ও প্রেম করবে না। সবুজ বলল যে সে তাকে বিয়ে করবে সাথী তাতেও রাজী নয়। সবুজ অনেক বোঝাল কিন্তু সাথী কিছুতেই বুঝল না তার মনের কথা। সবুজ বাসায় গিয়ে খাবার দাবার একেবারেই ছেড়ে দিল । তার বাবা মা জানতে চাইল যে কি হয়েছে তার । সে বাবা মাকে কিছু বলল না । সবুজের মা হঠাত্‍ সেই ডাইরিটি খুলে সব পড়ে বুঝল কেন সবুজ এমন করছে। তিনি সবুজকে বললেন যে মেয়েটি কে কোথায় থাকে সবুজ মাকে সবকিছু বলল। সবুজের মা তাকে এরকম পাগলামি করতে বারন করল । সবুজ চিন্তা করল যে মেয়েরা সহজে ছেলেদের ভালোবাসার কথা বলতে চায়না । তাই আবার ও সবুজ মেয়েটির কাছে গেল আজ দেখল মেয়েটি সবুজকে দেখে খুব খুশি । সেই খুশির মাঝে লুকিয়ে বুকভরা ভালোবাসা । আসলে মেয়েটি সবুজকে ভালোবেসে ফেলেছে। মেয়েটি সবুজকে তার মনের কথা খুলে বলল । একটু পরেই মেয়েটির বাসার পার্শবতী একটি লোক তাদের দুজন কে দেখতে পেল এবং গিয়ে মেয়েটির বড় ভাইকে সব বলল। পরের দিন মেয়েটির ভাই অনেক বখাটে ছেলে নিয়ে সবুজকে মারতে সবুজের কলেজে আসল এতে সবুজের Friends রা রেগে গিয়ে মেয়েটির ভাইকে প্রচুর মারল । মেয়েটির ভাইকে মারার প্রতি সবুজের কোন হাত ছিল না। এর পর থেকে মেয়েটি মানে সাথী আর সবুজের সাথে কথা বলেনা । সাথীর একটাই রাগ যে তার ভাইকে সবুজ কেন মারল। সবুজ অনেক বুঝিয়েছে কিন্তু সাথী কিছুতেই আর সবুজকে বুঝতে চায়নি। সবুজ একসময় নিজের জীবন শেষ করে দিতে চাইল কিন্তু বাবা মায়ের দিকে তাঁকিয়ে তা আর করতে পারেনি। কারন তার বাবা মা তো কোন দোষ করেনি তাদের সে কেন কাঁদাবে? সবুজ আজ আর সেখানে নেই লেখাপড়ার জন্য সে শহরে এসেছে। শহরে অনেক সুন্দরী মেয়ে দেখেছে কিন্তু সেই চোখ ও সেই মেয়েকে এখন ও সবুজ ভুলতে পারেনি। ভালোবাসা এমনি হয় বেশি ভালোবাসলে সাড়া জীবন কাঁদতে হয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সেই চোখে
→ অন্ধকার চোখের সেই ভয়ংকর বালক!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now