বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অচেনা ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অচেনা ভালোবাসা --------মাহমুদ -তোমার নাম কী? -রুদ্র। -আমি শিশির, আচ্ছা আমরা এর ভিতর থেকে বের হব কী করে? - বলতে পারছিনা, তুমি আমার পিছন-পিছন আস দেখি কী করা যায়। রুদ্র আমাকে ঐ ফুলদু’টা পেরে দিবে। আমার খুব পছন্দ হয়েছে। এটা ফুল পাড়ার সময় না, এখন চিন্তা কর কিভাবে এই বনের মধ্যে বাড়ি যাওয়ার রাস্তা খুঁজে পাব। কিন্তু নাছোড় বান্দার মত হয়ে শিশির আমার পিছনে লেগে থাকে যে তার ফুলদু’টা চাইই চাই। অবশেষে ফুলদু’টা নামিয়ে ওর শ্বেতশুভ্র মুখের সামনে ধরে বলে উঠি “ বাসায় পৌঁছানোর আগে যদি তোমার মুখে কোন অপ্রয়োজনীয় কথা শুনি, তাহলে এই বনের মধ্যে তোমাকে একা ফেলে রেখে আমি চলে যাব।” আমার কথা শুনে ও ওর স্বভাব সুলভ হাসি দিয়ে বলে উঠল “ তুমি কখনোই আমাকে ফেলে যেতে পারবেনা। কারন কোন ছেলেই বনের মধ্যে একটা মেয়েকে একা ফেলে চলে যেতে পারেনা।” বাহ, দার্শনিকের মত ব্যাখ্যাও দিতে পার নাকি তুমি। অবশ্যই, কেন তোমার কি আমাকে বোকা মেয়ে মনে হয়। না ঠিক বোকা না তার চেয়ে দুই ডিগ্রি বেশী বলে মনে হয়। কী আমি বোকা। এই বলে ও আমাকে মারতে থাকে। তখন বুঝিনি এই মারের মধ্যেও একটা তৃপ্তি আছে, আছে একটা ছোট্ট আনান্দ। যার মধ্যে সারা জীবন যদি কেউ ডুবেও থাকে তবে সে আর যাই হোক শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যাবে না। এর পর আমি আর শিশির সন্ধ্যা নামার আগেই বাসাই পোঁছে যাই। আমাদের দুজনকে দেখে বাসার মানুষ হাফ ছেড়ে বাঁচল বলে মনে হল। তাদের একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বুঝলাম বাসার মানুষ জন মনে করেছে যে আমরা হারিয়ে গেছি। তাই ছোট মামা থানায় গেছে। আমাদের দেখে মামার কাছে খবর পাঠানো হয়েছে। বাসায় ফিরেই মামা আমার উপর চম্পট নিতে শুরু করে। “রুদ্র, নতুন জায়গায় তোর একা একা ঘুরতে বেড়ানো ঠিক হয়নি, আর শিশিরকে সঙ্গে নিয়েছিলি কেন।” আমিত শিশিরকে সঙ্গে নিইনি। আমি যখন বনের মধ্যে হাঁটছি তখন দেখি শিশির পিছন থেকে এসে বলছে, তুমি নাকি আমাকে খুঁজছ। তখনি বাড়িতে ফিরে আসছিলাম কিন্তু ততোক্ষণে বনের অনেক ভিতরে চলে যাওয়াতে বাড়ির রাস্তা খুঁজে পেতে দেরি হয়। ঠিক আছে এখন আমার সামনে থেকে দূরহ। তোকে দেখলেই মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। মামার সামনে থেকে সরে এসে আমি টিভি দেখছি। শিশির আমার সামনে এসে বলল কী কেমন লাগল। আমি বললাম দেখ তোমার জন্যই এই প্যাচের মধ্যে পড়েছিলাম। তাই চুপ থাক। ঠিক আছে আমি যাই বলে ও চলে গেল আর আমি টিভি দেখতে লাগলাম। পরদিন সকালে শিশিরের ডাকেই ঘুম ভাঙ্গে। বাইরে এসে দেখি দু’টা রক্ত লাল গোলাপ হাতে বাড়ির উঠানে দাড়িয়ে আছে। আমি কাছে গিয়ে বললাম “ফুলগুলো কী আমার জন্য এনেছ।” ও বলল হ্যাঁ। আমি শিশিরের হাত থেকে ফুলগুলো নিতে নিতে বললাম “বাহ, খুব সুন্দর।” তারপর সকালে তার সাথে আমার আর দেখা হয় না। বিকালে যখন আমি ছবি তুলতে বাইরে যাব ঠিক তখনই আমার সামনে এসে ও বলে উঠল “আমিও তোমার সাথে যাব।” আমিতো ওকে কখনোই নিব না। কিন্তু নাছোড়বান্দা মামাকে দিয়ে বলালে ওকে নিয়েই আমি বের হই। বাইরে বের হবার পর থেকেই বুঝতে পারি আমার মনোযোগ আজ প্রকৃতির দিকে নাই। আমার সমস্ত মনোযোগ আমার পাশের শিশির নামক কোন রূপসীকে ঘিরে। আমি ওকে নিয়ে নদীর পাড়ে গিয়ে বসি। শান্ত নদীর দিকে তাকিয়ে আমি শিশিরকে প্রশ্ন করি “ এই ভাবে তুমি আমার পাশে সারা জীবন হাঁটতে পাড়বে। ও বলে উঠে, যদি তুমি আমাকে সারা জীবন তোমার সাথে রাখ, তবে আমি তোমার সাথে সারা জীবন হাঁটতে প্রস্তুত। তখন আমি ওকে বলি, যদি কখনও হারিয়ে যায়। তখন ও বলে উঠে, “চোখের আড়ালে যদি ভালোবাসা নাই হয় তবে তাকে ভালোবাসা না বলে কপটতাই বলা ভাল। ঠিক তখনি সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যা তারা উঁকি দেয়। শিশিরকে নিয়ে আমি বাড়ির পথ ধরি। পরদিন শিশির তার বাসায় চলে যায়। দুদিন পর আমিও মামার বাড়ি থেকে বিদায় নিই। শিশিরের সাথে আমার পত্র মাধ্যেমে যোগাযোগ ছিল। আমাদের চিঠিগুলো ছিল ছোট ছোট কিন্তু তা জীবনে বাঁচার গতিকে সঞ্চার করত। হঠাৎ করেই শিশিরের চিঠি আসা বন্ধ হয়ে যায়। মামার কাছ থেকে জানতে পারি শিশির খুব অসুস্থ। খবরটা পাওয়া মাত্র আমি শিশিরকে দেখতে যায়। ও আমাকে দেখে এক চিলতি হাসি ওর ঠোঁটের কোনে ফুটিয়ে তুলে কিন্তু কোন কথা বলতে পারেনা। আমি ওর হাতটা ধরে বলি “তোমার জন্য আমি অপেক্ষা করব ঠিক তেমনি করে যেমন করে শুকতারার জন্য প্রতিটা সকাল অপেক্ষা করে।” তারপর আমি ওর সামনে থেকে চলে আসি কারন ওকে দেখার মত শক্তি আমি ততোক্ষণে হারিয়ে ফেলেছিলাম। তার ঠিক দুই মাস পর খবর আসে শিশির মারা গেছে। আমি খবর পেয়েও শিশিরকে দেখতে যায়নি কারন শিশিরই আমাকে শিখিয়েছে চোখের আড়ালেও ভালোবাসা হয়। তাইতো আজও আমি শিশিরকে আড়াল থেকেই ভালবেসে যায়। কেননা ভালোবাসা কখন কপটতা করতে শিখায় না............


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এক অচেনা গাদীর ভালোবাসা
→ অচেনা গভির ভালোবাসা
→ ভালোবাসার অচেনা গাধী (পর্ব : ২)
→ অচেনা গাধীর ভালোবাসা (পর্ব : ১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now