বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কয়েক দিন আগের কথা। আমার এক মামাতো ভাইয়ের ডিভোর্স হল।
মেয়ে শহরের মেয়ে ছিলো। বিয়ের আগে মেয়ের পরিবার বেশ বার কয়েক সেই মামার বাড়ি গিয়েছে, সবার থেকে খোজ খবর নিয়েছিলো।
তখন তাদের সব কিছু ভালোই লেগেছে তাই হয়তো বিয়ে হয়েছিলো।
বলে রাখা ভালো, আমার মামাতো ভাই শহরে চাকুরী করে। মাসিক ইনকাম যথেষ্ট ভালো। কিন্তু কথা হচ্ছে যে বিয়ের পর মেয়েকে শ্বশুরঘরে থাকতে হবে, তাদের সেবা যত্ন করতে হবে।
বিয়ে হয়। দিন কাল ভালোই কাটছিলো।
হঠাৎ কি হলো কারণ সবার অজানা।
কিছুদিন পর মেয়েটি বললো সে আর স্বামীর সংসার করবে না।
অনেক বোঝানো হলো কিন্তু সে তার সিদ্ধান্তে অটল।
.
এর মাঝে একদিন মামা এসে আব্বুকে সব জানালো। যদিও সে আমার আপন মামা নয় তবুও সে আমার নানা, নানুর অতীব স্নেহের এক জন।
আব্বুকে সব জানানোর পর আব্বু সেই মেয়ের বাসায় যায়।
এলাকা তে যথেষ্ট পরিমাণ শ্রদ্ধার সাথে মানুষ আব্বুর কথা শোনে। হতে পারে সেই শ্রদ্ধা কিছু ক্ষমতার কারণে তবুও আমার মনে হয় আমার আব্বু যথেষ্ট ধৈর্য্য নিয়ে সব বিষয় সামলানোর চেষ্টা করে।
পর পর কয়েক বার আব্বু নিজে সেই মেয়েকে বার বার বোঝানোর চেষ্টা করে।
কারণ আব্বুর মতে মেয়েটি নিছক বয়সেই আমার ছোট। অবশ্যই মেয়ের মত। একটি মেয়ের সংসার ভেংগে দেওয়া ঠিক নয়।
.
কয়েকদিন আগে মেয়ের বাবা মানে আমার কাজিনের শ্বশুর বিদেশ থেকে এসেছে।
তারপর একদিন সময় করে আব্বুর সাথে কাজিনের শ্বশুর -শ্বাশুড়ি দেখা করতে আসে। কথা বার্তার একসময় মেয়ের মা বলে উঠে......
.
>> দেখেন ভাই, এলাকাতে আপনাদের যথেষ্ট বল -শক্তি আছে। আপনারা চাইলে অনেক কিছু করতে পারেন। কিন্তু আপনারা ভালো ঘরের মানুষ, ঝামেলা পছন্দ করেন না, আমরাও করি না। আমার মেয়েকে কালকে দেখতে এসেছিলো। তারা তো নিয়েই যাবে, শুধু এই ঝামেলার জন্য দেই নাই।
>> এটা কি বললেন আপনি? আপনার মেয়ের তো ডিভোর্স ই হয়নি। তাহলে অন্য জাগয়া থেকে দেখতে আসে কিভাবে? আর শোনেন...
এই যে গাছ দেখতেছেন? মাশ্আল্লাহ্, কত পেঁপে ধরছে তাই না?
কাল সকালে বাজারে পাঠাবো। ঐ যে বড় সুন্দর পেঁপে গুলো দেখতেছেন না? ঐ পেঁপে গুলো সবাই কিনতে যাবে না কারণ দূর থেকে দেখেই তারা বলবে যে পেঁপে গুলো দেখতে ভালো, দাম অবশ্যই বেশি হবে। মানুষ কেনার সাহস পাবে না, কিনবে কে বড় লোকেরা এসে একবার দেখে দাম করে নিয়ে যাবে। বাজারে কোন গুলো চলবে জানেন? যে পেঁপে গুলো ভালো না, খাওকা, বাদুড়ে খেয়েছে সেগুলোর দিকে মানুষ ভিড় দেবে এবং কেনার জন্য হৈচৈ করবে। ভালো গুলোর ধারে কাছে যাওয়ার সাহস করবে না।
>> ভাই এভাবে বলবেন না। মেয়ে কিন্তু আপনারো আছে।
>> দয়া করে এ কথা আর বলবেন না। আমার মেয়ের সাথে আপনার মেয়ের তুলনা নয়। আমার মেয়ে কে ছোট বেলা থেকেই সেভাবে মানুষ করেছি। ঝিনুকে যেমন মুক্তো কে পবিত্র রাখে সেভাবে রেখেছি।
.
আব্বু সেদিন আরো কথা বলেছে। জানি এখন যে কথা গুলো বলবো সেগুলো অনেকের খারাপ লাগবে তবুও বলতে বাধ্য।
উচ্চ শিক্ষার জন্য মা,বাবা বিশ্বাস করে মেয়েদের তাদের থেকে দূরে পাঠায়। কিন্তু কয় জন পারে বিশ্বাস কে টিকিয়ে রাখতে?
প্রেমের নামে জলাঞ্জলি দেয় সতীত্ব।
এখানে পরিবারের অনেক বড় ভুমিকা থাকে। হয়তো তাদের শিক্ষার মধ্যে কোন কমতি থাকে তাই এমন।
নিজের সন্তানের খেয়াল রাখুন। বড় ভাই হোক অথবা ছোট ভাই উচিৎ নিজের বোনের খেয়াল রাখা। এবং মনে রাখা উচিৎ আবেগ যখন অনিয়ন্ত্রিত বিবেক তখন কলঙ্কিত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now