বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
" হঠাৎ বৃষ্টি "
লিখেছেন- ফাতিউর রহমান রাকিব
আমার মত টিউশনি করে যাদের মাসিক খরচ জোটাতে হয়
ডজনখানেক বই কিনে রুমে বসে নোট করা আর তাদের হয় না .........তাই ক্যাম্পাস থেকে ফিরে সারাবিকালটাই লাইব্রেরীতে কাটাতে হয় । সন্ধ্যা থেকে আবার
দুটো টিউশানি করে হোষ্টেলে ফিরতে ফিরতে রাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পার হয়ে যায়।
এরপর রুমে ফিরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ফেসবুকিং............¬. কখনো কখনো মুভি দেখতে দেখতে রাত প্রায় পার করে দেয়া...... সকালে আবার চোখ
ডলতে ডলতে ক্যাম্পাসে ছোঁটা। সারাদিনের
ব্যস্ততা শেষে রাতে অন্তত শান্তির ঘুম...... ভালই কাটছিল সিঙ্গেল দিনগুলি।
এরই মাঝে হঠাৎ ই একদিন ফেসবুকে একটা মেসেজ আসলো:"এত রাত
না জাগলে কি হয়? চোখের
নিচে কালি পড়ে যাচ্ছে খেয়াল করেছেন?"
পরদিন
আবারো মেয়েটা ম্যাসেজ করল:"কালই
একটা ছাতা কিনবেন, এভাবে প্রতিদিন বৃষ্টিতে ভিজবেন না। "
-"আজীব তো, কে আপনি ?
আপনি আমাকে চিনেন? "
-আশ্চর্য?
-কিসের আশ্চর্য?
-যার জন্মই হয়েছে আমার জন্য তাকে চিনবো না?
-আপনি কি বলছেন
আমি বুঝতে পারছি না,সরি ।
-এত বুঝে কাজ নাই আপনি ঘুমান বলে সে অদৃশ্য হয়ে গেল। মেয়েটা আমার ফ্রেন্ড ছিল না,এরপর তাকে রিকোয়েস্ট পাঠাই,সে একসেপ্ট করে,প্রতিদিন কথাও হয় কিন্তু পরিচয় দেয় না .... সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো,
আমি প্রতিদিন কোথায় যায়.....কি করি....কি খাই সব
সে ঠিক ঠিক বলে দেয়।
এভাবে প্রায় মাসখানেক কেটে গেল.....একসময়
ফোনে কথা বলা শুরু করলাম আমরা।ও শুধু ওর নামটা বলেছিল বৃষ্টি।
কথার
ফাঁকে আপনি থেকে দুজনেই তুমি তে চলে এসেছি তবু
কখনো ভালবাসি কথাটা কেউ বলিনি কিন্তু হাসি-দু:খ, প্রিয় - অপ্রিয় ইত্যাদি সব বিষয় ওর সাথে শেয়ার করতাম।অব্যক্ত এক ভালবাসায় দুজনেই মত্ত থাকতাম..............¬.... একদিন
কথা না বলে থাকতে পারতাম না। একসময় আবিষ্কার করলাম
আমি ওকে ভালবেসে ফেলছি । না........ এভাবে হয়
না,দিনে দিনে নিজের
কাছে নিজেই ছোট
হয়ে যাচ্ছিলাম। এবার বৃষ্টির আসল পরিচয়টা জানতেই হবে। মনোস্থির করলাম আজ
যদি বৃষ্টি পরিচয়
না বলে তাহলে আর কথাই
বলবো না।
কেন পরিচয়
ছাড়া কাউকে ভালবাসা যায় না? তারমানে আমি কেউ না? ইত্যাদি নানা কথা বলে শেষমেশ একটা শর্তে ও আসল পরিচয় দিতে রাজি হল!
-আরে কি বলো তুমি এক হাজার শর্ত দাও মাথা পেতে নেব। -সত্যি বলছো?
-এক হাজার
সত্যি .....বলো বলো ।
-কাল
আমরা দেখা করবো,তারপর
আমাকে নিয়ে কাজী অফিসে যাবা। যেন এক
নিমিষে কথাটা বলে বৃষ্টি হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম !!! এখনি বিয়ের কথা কেন?তুমি সিরিয়াস
নাকি ফান করছ?
-আমি সিরিয়াস......গত একবছর ধরে তোমাকে আমার ভাল লাগে........
কিভাবে সামনাসামনি ভালবাসার কথা বলে জানি না, তাই এভাবে....... বাবা খুব
একরোখা মানুষ.....আমি কিছু জানার আগেই আগামী শুক্রবার আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। ছেলে প্রবাসী। আমি চিনিও না। -সরি বৃষ্টি ...
আমি শর্তটা রাখতে পারবোনা। পুরা মাস যার টিউশানির উপর নির্ভরশীল...........¬যার
বিকালে নাস্তার
টাকাটা বাঁচিয়ে ফোনের বিল মেটাতে হয়....দিনশেষ নিজের জন্য ডাল-ভাত জোগাড় করতেই যে হিমশিম খায়
সে বিয়ে করে তোমাকে খাওয়াবে কি? তোমার পরিচয়টা না হয় সারাজীবন গোঁপন-ই থাক। আজ থেকে মনে করবো কোন এক রাজকন্যা ভুলে আমার স্বপ্নে এসেছিল।
ভাল থেকো বলতেই ফোনের নাইনটা কেটে গেল।
সারারাত প্রচন্ড মানুষিক যন্ত্রনায় ছটফট
করতে লাগলাম...... নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করার মত বিরত্বপূর্ন কাজ পৃথিবীতে বোধহয় খুব কম- ই আছে।
ফোনটা বারবার হাতে নিয়েও কল করার মত শক্তি পাচ্ছিলাম না। পরদিন ক্যাম্পাসে যাওয়ার কোন মুড ছিল না..... পাঁচটা ঘুমের ঔষধ খেয়ে সারাদিন
রুমে ঘুমাচ্ছিলাম। সন্ধ্যা প্রায়
লেগে গেছে,রুমমেটের ডাকাডাকিতে ঘুমটা ভাঙল ..... আমি রেডি হয়ে টিউশনিতে গেলাম। আমার স্টুডেন্ট
'সাবরিনা সৃষ্টি'......
আমি ওকে সাবরিনা বলে ডাকি। সাবরিনা ক্লাস ফাইভে পড়ে। পড়াশোনা যতটা না করে গল্পটাই তার চেয়ে বেশি করে........ এত টকেটিভ আর
ইঁচড়েপাকা বাচ্চা আমার জীবনে আর দ্বিতীয়টি দেখিনি। চেয়ার টেনে ভিতরে বসতেই সাবরিনা একটা লাল কার্ড দিল। -কি এটা?
-আপুর বিয়ের কার্ড। স্যার আপনাকে কিন্তু আসতেই হবে, আর আমাকে সাতদিন
ছুটি দিতে হবে।
কার্ডটা খুলতেই পাত্রীর নাম 'তানজীলা বৃষ্টি'চোখে পড়ল। পাত্র
আমেরিকাপ্রবাসী দেখতেই আমার আর বুঝতে বাকি থাকল
না এই সেই
বৃষ্টি যে কিনা আষাঢ়ে বৃষ্টির মত বন্যা হয়ে আমার
জীবনটা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে !! ইচ্ছাকৃতভাবে কার্ডটা সাবরিনার খাতার নিচে লুকিয়ে আজ
ছুটি বলে চলে আসলাম।
বৃষ্টি আমার খুব প্রিয় কিন্তু সব বৃষ্টি মনে শিহরন জাগায় না....অসময়ের বৃষ্টি শুধুই যন্ত্রনার।
বৃষ্টির জলে নিজের চোখের জল মিশিয়ে ভিজতে ভিজতে হোষ্টেলের দিকে পা বাড়ালাম আর
মনে মনে বললাম শুধু সাতদিন নয়.....সারাজীবনের মত তোমাদের দুবোন কে বিদায় দিলাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now